খুঁজুন
                               
, ,
           

কাজের ছুটি, জীবনের নয়: অবসরে শুরু হোক নতুন পথ চলা

ড. রাধেশ্যাম সরকার
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
কাজের ছুটি, জীবনের নয়: অবসরে শুরু হোক নতুন পথ চলা

চাকরিজীবীদের অধিকাংশই অবসরগ্রহণের পর হতাশা, বিষাদ, একাকিত্বতা ও পুঞ্জিভূত ক্ষোভ বুকে ধারণ করে দিনাতিপাত করেন। বাস্তবতা হলো, আমাদের সমাজে অবসরকে এখনো অনেকেই জীবনের শেষ অধ্যায় হিসেবে দেখে থাকেন। ফলে অবসরজীবনের সূচনালগ্নেই বহু মানুষের জীবন কষ্ট, অনিশ্চয়তা ও হতাশার এক অদৃশ্য আবরণে ঢাকা পড়ে যায়। এই হতাশা মূলত বাসা বাঁধে মানুষের মনোজগতে।

শারীরিক সক্ষমতা কিছুটা কমে যাওয়া যতটা না মানুষকে দুর্বল করে, তার চেয়ে বেশি দুর্বল করে তোলে মানসিক অস্থিরতা, অতীতের হিসাব নিকাশ এবং অপূর্ণতার বোধ। অথচ অবসর জীবনের কোনো ব্যতিক্রমী বা অস্বাভাবিক অধ্যায় নয়। এটি জীবনচক্রের একটি স্বাভাবিক ও অবধারিত ধাপ, যা সময়ের নিয়মেই আসে। জীবনের অন্য সব পর্যায়ের মতো এটিকেও নেতিবাচক দৃষ্টিতে না দেখে বরং নতুন বাস্তবতায় নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

অবসরগ্রহণের পর অনেকেই নিজের সঙ্গে নিজের ভেতর দীর্ঘ এক সংলাপে লিপ্ত হয়ে পড়েন। মনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে। ভাবতে থাকেন, জীবনে আসলে কী পেলাম। কত কষ্ট করলাম, কোনো কাজে ফাঁকি দিইনি, মিথ্যার আশ্রয় নিইনি। একটি টাকাও ঘুষ খাইনি। সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমকে পুঁজি করে সারাজীবন দায়িত্ব পালন করেছি। অথচ অমুক তো সারা জীবন ফাঁকি দিয়ে, ঘুষ খেয়ে, অসৎ পথ অবলম্বন করে গাড়ি বাড়ি আর কত কী করে ফেলেছে। আমিও তো পারতাম, না করে ভুলই করেছি। এ ধরনের ভাবনা অনেকের মনেই আসে এবং আসাটাই স্বাভাবিক।

হ্যাঁ, আপনিও হয়তো অনেক কিছু করতে পারতেন। কিন্তু একবার শান্তভাবে নিজেকে প্রশ্ন করুন, অবৈধ ও ফাঁকিবাজ সেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো করার যোগ্য করে কি আপনি নিজেকে গড়ে তুলতে পেরেছিলেন। পারেননি, কারণ আপনার বিবেক আপনাকে বারবার বাধা দিয়েছে। সেই বিবেকই আপনাকে সারাজীবন সঠিক পথে রেখেছে এবং একজন আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে। যা আপনার নেই, অথবা করতে পারলেও যা আপনি করেননি, ভাবুন সেগুলো আপনার জন্য বরাদ্দ ছিল না। যা আছে, তাতেই কৃতজ্ঞ থাকার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। প্রাপ্তির পরিসর ছোট হোক বা বড়, তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে শেখাই হলো মানসিক শান্তির প্রথম শর্ত। বাড়তি অর্থ, ক্ষমতা বা ভোগবিলাসের পেছনে অকারণে ছুটে নিজের মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করা কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে না।

অনেকে আবার সহকর্মী বা বন্ধুবান্ধবের সাফল্য দেখে গভীর হতাশায় ভোগেন। প্রায়ই শোনা যায়, অমুক তো আমার চেয়ে খারাপ ছাত্র ছিল। কোনোরকমে পাশ করে মামার জোরে চাকরি পেয়েছে। আমার ডিগ্রি ও ফলাফল ছিল অনেক ভালো, অথচ আমি পদোন্নতি পেলাম না। আমার ভাগ্যটাই খারাপ। বাস্তবে দেখা যায়, কোনো কোনো সহকর্মী মেধা তালিকায় নিচে থেকেও পদোন্নতি পেয়ে গেছেন। এর পেছনে নানা কারণ কাজ করতে পারে।

সারা জীবন চাকরির ব্যস্ততায় হয়তো নিজেকেই সময় দেওয়া হয়নি। প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে উৎসবগুলোও ঠিকভাবে উপভোগ করা হয়নি। আপনার স্ত্রী হয়তো চাকরি করতেন কিংবা ছিলেন গৃহিণী। তার প্রতি প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া হয়নি, এমনকি মন দিয়ে তাকানোও হয়নি হয়তো। কত শত অভিযোগ আর অভিমান জমে আছে মনে। সেই জমে থাকা অভিযোগগুলো মিটিয়ে দেওয়ার সুযোগই তো এই অবসর। তাই ঘরে বসে অবান্তর চিন্তায় ডুবে না থেকে কারুকার্য করা হলুদ ফতুয়াটা পরে প্রিয় মানুষটিকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন।

কেউ হয়তো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় ভালোভাবে করতে পেরেছেন, কেউবা কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের ধরনে ছিলেন বেশি কৌশলী ও সময়োপযোগী। মনে রাখতে হবে, ভালো ছাত্র হওয়া আর কর্মজীবনে ভালো করা এক বিষয় নয়। চাকরিজীবনে দক্ষতা, যোগাযোগ, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা, বাস্তবতা বোঝার শক্তি এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও বড় ভূমিকা রাখে। তাই অবসরে অন্যের সাফল্য দেখে আফসোস করা বা নিজেকে ব্যথিত করা একেবারেই অর্থহীন। মনে রাখা উচিত, অন্যের সাফল্য কখনোই নিজের ব্যর্থতার সমার্থক নয়। অন্যদের সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার সঙ্গে নিজেকে তুলনা করে নিজেকে হারিয়ে ফেলা মানসিকভাবে আরও দুর্বল হয়ে পড়ার শামিল।

তবে বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ মানুষই অবসরগ্রহণের পর প্রথম দিকে খুব বেশি গভীর চিন্তাভাবনায় যান না। অবসরের শুরুটা অনেকের কাছে যেন উৎসবের মতোই আসে। সময় কেটে যায় আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ, আড্ডা, ভ্রমণ আর নানা আনন্দ ফুর্তিতে। কিন্তু বয়স যত বাড়তে থাকে, শারীরিক সক্ষমতা কমার পাশাপাশি মানসিক একাকিত্বও ধীরে ধীরে মানুষের জীবনে প্রবেশ করে। তখন হতাশা, নিঃসঙ্গতা, বিষাদ এবং অন্যের প্রতি অভিযোগ অনুযোগ বাড়তে থাকে। এই সময়েই মানুষ জীবনের অর্থ ও উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। দীর্ঘ চাকরি জীবনের লাভ ক্ষতির হিসাব কষেন।

কেউ কেউ মনে করেন, তখন তো চাকরির এত সংকট ছিল না। এই চাকরিটা না করে অন্য চাকরিটা নিলে হয়তো ভালো হতো। আবার অনেকের ধারণা, চাকরির বদলে ব্যবসা বাণিজ্যে গেলে জীবন আরও সচ্ছল হতো, থাকত টাকা পয়সা, বাড়ি গাড়ি আর সামাজিক প্রতিপত্তি। এভাবে অতীতের ভুল বা সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলার বদলে বরং এটাই ভাবা উচিত যে, যা আপনার জন্য উপযুক্ত ছিল এবং যা আপনার ভাগ্যে বরাদ্দ ছিল, সেটাই আপনি পেয়েছেন। তাতেই সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করুন। অতীতকে সামনে টেনে এনে নিজেকে বারবার কষ্ট দেওয়ার কোনো মানে নেই। অতীতকে তার জায়গায় রেখে নতুন সময়কে বরণ করুন এবং বর্তমানের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখুন। দেখবেন, মন ধীরে ধীরে হালকা হচ্ছে, চিন্তার ভার কমছে।

ইতিবাচকভাবে ভাবতে শেখার সঙ্গে সঙ্গেই মানুষের ভেতরে এক ধরনের নতুন মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাসের জন্ম নেয়, যা অবসরজীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হয়ে ওঠে। তখন অবসর আর দায় বা বোঝা বলে মনে হয় না; বরং এটি নিজের জন্য সময় দেওয়ার, নিজেকে নতুন করে বোঝার এবং দীর্ঘদিনের অবহেলিত অনুভূতিগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার এক মূল্যবান সুযোগে পরিণত হয়। এই সময়টিকে অর্থবহ করে তুলতে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়া অত্যন্ত প্রয়োজন।

সামর্থ্য অনুযায়ী ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজে দান ও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। এর মাধ্যমে শুধু সমাজই উপকৃত হয় না, ব্যক্তিগত জীবনেও এক ধরনের আত্মতৃপ্তি, মানসিক প্রশান্তি ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়, যা অবসরজীবনকে করে তোলে সম্মানজনক ও অর্থপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, অবসর কখনোই হতাশা, বিষাদ, নিঃসঙ্গতা, মৃত্যু কিংবা জীবনের সমাপ্তির প্রতীক নয়। বরং অবসর হলো দীর্ঘ ও কর্মব্যস্ত চাকরিজীবনের একটি স্বাভাবিক পরিণতি, যেখানে মানুষ পেছনে ফেলে আসা জীবনের পথচলার দিকে ফিরে তাকানোর সুযোগ পায়। সেই দীর্ঘ পথে সঞ্চিত অভিজ্ঞতা, অর্জন ও সুখস্মৃতিগুলোকে ধীরে ধীরে নতুন করে অনুভব করার মধ্যেই লুকিয়ে আছে অবসরজীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য। সচেতন মানসিকতায় অবসরকে গ্রহণ করতে পারলে এই সময় জীবনকে নতুন অর্থ, গভীরতা ও প্রশান্তিতে ভরিয়ে দিতে পারে।

সারা জীবন চাকরির ব্যস্ততায় হয়তো নিজেকেই সময় দেওয়া হয়নি। প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে উৎসবগুলোও ঠিকভাবে উপভোগ করা হয়নি। আপনার স্ত্রী হয়তো চাকরি করতেন কিংবা ছিলেন গৃহিণী। তার প্রতি প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া হয়নি, এমনকি মন দিয়ে তাকানোও হয়নি হয়তো। কত শত অভিযোগ আর অভিমান জমে আছে মনে। সেই জমে থাকা অভিযোগগুলো মিটিয়ে দেওয়ার সুযোগই তো এই অবসর। তাই ঘরে বসে অবান্তর চিন্তায় ডুবে না থেকে কারুকার্য করা হলুদ ফতুয়াটা পরে প্রিয় মানুষটিকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। ঘুরে আসুন রমনা পার্ক, বলধা গার্ডেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ধানমন্ডি লেক, বোটানিক্যাল গার্ডেন, বনানী লেক কিংবা হাতিরঝিলে। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকলে মন আপনাতেই শান্ত হয়ে আসে। ক্লান্ত হয়ে চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় বসে সুরের মূর্ছনায় ফিরে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের তারুণ্যে। নিয়ম করে প্রতি সপ্তাহে এভাবে অবসরের সময়কে বর্ণিল করে তোলা একেবারেই সম্ভব।

তাই পেছন ফিরে নয়, সবসময় সামনের দিকে তাকান। দেখবেন, আপনার জীবনকে রাঙিয়ে দিতে সামনে অপেক্ষা করছে প্রচুর ঝলমলে আলো। অবসরজীবন শেষ নয়, বরং সচেতন মানসিকতায় গ্রহণ করতে পারলে এ জীবনও হতে পারে নতুন রঙে রাঙানো এক সুন্দর অধ্যায়।

লেখক: সিনিয়র কৃষিবিদ, কলামিস্ট ও চেয়ারম্যান, ডিআরপি ফাউন্ডেশন।

সকালের মধ্যে যেসব অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সকালের মধ্যে যেসব অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

সকাল ৯টার মধ্যে দেশের ৮টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে আবহাওয়া অধিদফতরের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া বিশেষ পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের সই করা আবহাওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে– খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলে অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর (পুন. ১ নম্বর) নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার (৫ দিন) আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করেছে।

এটি বর্তমানে উত্তর ওড়িশা এবং তৎসংলগ্ন বিহার-গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে।

এর প্রভাবে আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

উন্নয়নকাজে অনিয়মে ঠিকাদারকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করা হবে: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ২:৫১ পূর্বাহ্ণ
উন্নয়নকাজে অনিয়মে ঠিকাদারকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করা হবে: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। তিনি বলেছেন, প্রকল্পে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্ল্যাকলিস্টেড (কালো তালিকাভুক্ত) করা হবে এবং প্রয়োজনে টেন্ডারও বাতিল করা হবে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত উন্নয়নমূলক কাজ ও বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সততা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কাজ শেষ করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সময়মতো কাজ শেষ না হলে কিংবা প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট টেন্ডার বাতিল করা হবে।

তিনি জানান, প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা শুধু জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব প্রতিনিধিদলই নয়, একটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমেও যাচাই করা হবে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও নিশ্চিত হবে।

আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে উন্নয়ন প্রকল্পে অস্বাভাবিক মুনাফার প্রবণতা পরিহার করে কম মুনাফায় সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প হস্তান্তরের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় ঠিকাদারি ও নির্মাণকাজে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি না ঘটে, সে বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নিবন্ধিত ঠিকাদারদের সতর্ক করা হয়।

মতবিনিময় সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম, সদস্য মো. আব্দুল গোফফার, প্রকৌশলী আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহজালাল মজুমদার, পরিচালক ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন, মো. মেহেদী হাসানসহ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী এবং নিবন্ধিত ঠিকাদারদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

পাবনায় ৫০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ

পাবনা(বেড়া) প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
পাবনায় ৫০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ

শিক্ষার্থীদের মৌলিক স্বাক্ষরতা ও সংখ্যা জ্ঞান (এফএলএন) কর্মসূচির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতার অভিযোগে পাবনার বেড়া উপজেলার ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব প্রধান ও সহকারী শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

গত রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত এ নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এতে বলা হয়েছে, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় গত ৩০ জুনের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা রিডিং, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিতের চারটি মৌলিক নিয়ম (যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাবলীল ইংরেজি রিডিং নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, একাধিক নির্দেশনা ও তদারকির পরও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এ অবস্থায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখন দক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার এফএলএন কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শোকজপ্রাপ্ত স্কুলগুলোর মধ্যে রয়েছে– রূপগঞ্জ, আকনাই, কোমরপুর, শ্যামপুর, চর নতিবপুর, পুরান মাসুমদিয়া, নতুন মীরপুর, রতনগঞ্জ, ঢালারচর, খাস ঢালারচর, রামনারায়ণপুর, মাসুমদিয়া কাজীপাড়া, মহিষাখোলা, দুর্গাপুর, সিন্দুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রমুখ।

তবে এ বিষয়ে শোকজপ্রাপ্ত কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট, অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজ, প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্কুল হওয়ায় যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকা, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং অভিভাবকদের পর্যাপ্ত সহযোগিতার অভাব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তারা লিখিত ব্যাখ্যা দেবেন বলে জানান।

সার্বিক বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন,  এই উপজেলার ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কতজন শিক্ষক এই নোটিশের আওতায় আছেন, তা অফিসের ডকুমেন্টস দেখে বলতে হবে।

তবে কোনো স্কুলে চারজন শিক্ষক, কোনো স্কুলে তিনজন আছেন। আবার অনেক স্কুলে এর চেয়ে বেশিও শিক্ষক আছেন। নোটিশের জবাব সঠিকভাবে না দেওয়া হলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি