খুঁজুন
                               
, ,
           

কাজের ছুটি, জীবনের নয়: অবসরে শুরু হোক নতুন পথ চলা

ড. রাধেশ্যাম সরকার
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
কাজের ছুটি, জীবনের নয়: অবসরে শুরু হোক নতুন পথ চলা

চাকরিজীবীদের অধিকাংশই অবসরগ্রহণের পর হতাশা, বিষাদ, একাকিত্বতা ও পুঞ্জিভূত ক্ষোভ বুকে ধারণ করে দিনাতিপাত করেন। বাস্তবতা হলো, আমাদের সমাজে অবসরকে এখনো অনেকেই জীবনের শেষ অধ্যায় হিসেবে দেখে থাকেন। ফলে অবসরজীবনের সূচনালগ্নেই বহু মানুষের জীবন কষ্ট, অনিশ্চয়তা ও হতাশার এক অদৃশ্য আবরণে ঢাকা পড়ে যায়। এই হতাশা মূলত বাসা বাঁধে মানুষের মনোজগতে।

শারীরিক সক্ষমতা কিছুটা কমে যাওয়া যতটা না মানুষকে দুর্বল করে, তার চেয়ে বেশি দুর্বল করে তোলে মানসিক অস্থিরতা, অতীতের হিসাব নিকাশ এবং অপূর্ণতার বোধ। অথচ অবসর জীবনের কোনো ব্যতিক্রমী বা অস্বাভাবিক অধ্যায় নয়। এটি জীবনচক্রের একটি স্বাভাবিক ও অবধারিত ধাপ, যা সময়ের নিয়মেই আসে। জীবনের অন্য সব পর্যায়ের মতো এটিকেও নেতিবাচক দৃষ্টিতে না দেখে বরং নতুন বাস্তবতায় নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

অবসরগ্রহণের পর অনেকেই নিজের সঙ্গে নিজের ভেতর দীর্ঘ এক সংলাপে লিপ্ত হয়ে পড়েন। মনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে। ভাবতে থাকেন, জীবনে আসলে কী পেলাম। কত কষ্ট করলাম, কোনো কাজে ফাঁকি দিইনি, মিথ্যার আশ্রয় নিইনি। একটি টাকাও ঘুষ খাইনি। সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমকে পুঁজি করে সারাজীবন দায়িত্ব পালন করেছি। অথচ অমুক তো সারা জীবন ফাঁকি দিয়ে, ঘুষ খেয়ে, অসৎ পথ অবলম্বন করে গাড়ি বাড়ি আর কত কী করে ফেলেছে। আমিও তো পারতাম, না করে ভুলই করেছি। এ ধরনের ভাবনা অনেকের মনেই আসে এবং আসাটাই স্বাভাবিক।

হ্যাঁ, আপনিও হয়তো অনেক কিছু করতে পারতেন। কিন্তু একবার শান্তভাবে নিজেকে প্রশ্ন করুন, অবৈধ ও ফাঁকিবাজ সেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো করার যোগ্য করে কি আপনি নিজেকে গড়ে তুলতে পেরেছিলেন। পারেননি, কারণ আপনার বিবেক আপনাকে বারবার বাধা দিয়েছে। সেই বিবেকই আপনাকে সারাজীবন সঠিক পথে রেখেছে এবং একজন আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে। যা আপনার নেই, অথবা করতে পারলেও যা আপনি করেননি, ভাবুন সেগুলো আপনার জন্য বরাদ্দ ছিল না। যা আছে, তাতেই কৃতজ্ঞ থাকার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। প্রাপ্তির পরিসর ছোট হোক বা বড়, তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে শেখাই হলো মানসিক শান্তির প্রথম শর্ত। বাড়তি অর্থ, ক্ষমতা বা ভোগবিলাসের পেছনে অকারণে ছুটে নিজের মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করা কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে না।

অনেকে আবার সহকর্মী বা বন্ধুবান্ধবের সাফল্য দেখে গভীর হতাশায় ভোগেন। প্রায়ই শোনা যায়, অমুক তো আমার চেয়ে খারাপ ছাত্র ছিল। কোনোরকমে পাশ করে মামার জোরে চাকরি পেয়েছে। আমার ডিগ্রি ও ফলাফল ছিল অনেক ভালো, অথচ আমি পদোন্নতি পেলাম না। আমার ভাগ্যটাই খারাপ। বাস্তবে দেখা যায়, কোনো কোনো সহকর্মী মেধা তালিকায় নিচে থেকেও পদোন্নতি পেয়ে গেছেন। এর পেছনে নানা কারণ কাজ করতে পারে।

সারা জীবন চাকরির ব্যস্ততায় হয়তো নিজেকেই সময় দেওয়া হয়নি। প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে উৎসবগুলোও ঠিকভাবে উপভোগ করা হয়নি। আপনার স্ত্রী হয়তো চাকরি করতেন কিংবা ছিলেন গৃহিণী। তার প্রতি প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া হয়নি, এমনকি মন দিয়ে তাকানোও হয়নি হয়তো। কত শত অভিযোগ আর অভিমান জমে আছে মনে। সেই জমে থাকা অভিযোগগুলো মিটিয়ে দেওয়ার সুযোগই তো এই অবসর। তাই ঘরে বসে অবান্তর চিন্তায় ডুবে না থেকে কারুকার্য করা হলুদ ফতুয়াটা পরে প্রিয় মানুষটিকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন।

কেউ হয়তো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় ভালোভাবে করতে পেরেছেন, কেউবা কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের ধরনে ছিলেন বেশি কৌশলী ও সময়োপযোগী। মনে রাখতে হবে, ভালো ছাত্র হওয়া আর কর্মজীবনে ভালো করা এক বিষয় নয়। চাকরিজীবনে দক্ষতা, যোগাযোগ, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা, বাস্তবতা বোঝার শক্তি এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও বড় ভূমিকা রাখে। তাই অবসরে অন্যের সাফল্য দেখে আফসোস করা বা নিজেকে ব্যথিত করা একেবারেই অর্থহীন। মনে রাখা উচিত, অন্যের সাফল্য কখনোই নিজের ব্যর্থতার সমার্থক নয়। অন্যদের সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার সঙ্গে নিজেকে তুলনা করে নিজেকে হারিয়ে ফেলা মানসিকভাবে আরও দুর্বল হয়ে পড়ার শামিল।

তবে বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ মানুষই অবসরগ্রহণের পর প্রথম দিকে খুব বেশি গভীর চিন্তাভাবনায় যান না। অবসরের শুরুটা অনেকের কাছে যেন উৎসবের মতোই আসে। সময় কেটে যায় আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ, আড্ডা, ভ্রমণ আর নানা আনন্দ ফুর্তিতে। কিন্তু বয়স যত বাড়তে থাকে, শারীরিক সক্ষমতা কমার পাশাপাশি মানসিক একাকিত্বও ধীরে ধীরে মানুষের জীবনে প্রবেশ করে। তখন হতাশা, নিঃসঙ্গতা, বিষাদ এবং অন্যের প্রতি অভিযোগ অনুযোগ বাড়তে থাকে। এই সময়েই মানুষ জীবনের অর্থ ও উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। দীর্ঘ চাকরি জীবনের লাভ ক্ষতির হিসাব কষেন।

কেউ কেউ মনে করেন, তখন তো চাকরির এত সংকট ছিল না। এই চাকরিটা না করে অন্য চাকরিটা নিলে হয়তো ভালো হতো। আবার অনেকের ধারণা, চাকরির বদলে ব্যবসা বাণিজ্যে গেলে জীবন আরও সচ্ছল হতো, থাকত টাকা পয়সা, বাড়ি গাড়ি আর সামাজিক প্রতিপত্তি। এভাবে অতীতের ভুল বা সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলার বদলে বরং এটাই ভাবা উচিত যে, যা আপনার জন্য উপযুক্ত ছিল এবং যা আপনার ভাগ্যে বরাদ্দ ছিল, সেটাই আপনি পেয়েছেন। তাতেই সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করুন। অতীতকে সামনে টেনে এনে নিজেকে বারবার কষ্ট দেওয়ার কোনো মানে নেই। অতীতকে তার জায়গায় রেখে নতুন সময়কে বরণ করুন এবং বর্তমানের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখুন। দেখবেন, মন ধীরে ধীরে হালকা হচ্ছে, চিন্তার ভার কমছে।

ইতিবাচকভাবে ভাবতে শেখার সঙ্গে সঙ্গেই মানুষের ভেতরে এক ধরনের নতুন মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাসের জন্ম নেয়, যা অবসরজীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হয়ে ওঠে। তখন অবসর আর দায় বা বোঝা বলে মনে হয় না; বরং এটি নিজের জন্য সময় দেওয়ার, নিজেকে নতুন করে বোঝার এবং দীর্ঘদিনের অবহেলিত অনুভূতিগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার এক মূল্যবান সুযোগে পরিণত হয়। এই সময়টিকে অর্থবহ করে তুলতে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়া অত্যন্ত প্রয়োজন।

সামর্থ্য অনুযায়ী ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজে দান ও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। এর মাধ্যমে শুধু সমাজই উপকৃত হয় না, ব্যক্তিগত জীবনেও এক ধরনের আত্মতৃপ্তি, মানসিক প্রশান্তি ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়, যা অবসরজীবনকে করে তোলে সম্মানজনক ও অর্থপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, অবসর কখনোই হতাশা, বিষাদ, নিঃসঙ্গতা, মৃত্যু কিংবা জীবনের সমাপ্তির প্রতীক নয়। বরং অবসর হলো দীর্ঘ ও কর্মব্যস্ত চাকরিজীবনের একটি স্বাভাবিক পরিণতি, যেখানে মানুষ পেছনে ফেলে আসা জীবনের পথচলার দিকে ফিরে তাকানোর সুযোগ পায়। সেই দীর্ঘ পথে সঞ্চিত অভিজ্ঞতা, অর্জন ও সুখস্মৃতিগুলোকে ধীরে ধীরে নতুন করে অনুভব করার মধ্যেই লুকিয়ে আছে অবসরজীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য। সচেতন মানসিকতায় অবসরকে গ্রহণ করতে পারলে এই সময় জীবনকে নতুন অর্থ, গভীরতা ও প্রশান্তিতে ভরিয়ে দিতে পারে।

সারা জীবন চাকরির ব্যস্ততায় হয়তো নিজেকেই সময় দেওয়া হয়নি। প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে উৎসবগুলোও ঠিকভাবে উপভোগ করা হয়নি। আপনার স্ত্রী হয়তো চাকরি করতেন কিংবা ছিলেন গৃহিণী। তার প্রতি প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া হয়নি, এমনকি মন দিয়ে তাকানোও হয়নি হয়তো। কত শত অভিযোগ আর অভিমান জমে আছে মনে। সেই জমে থাকা অভিযোগগুলো মিটিয়ে দেওয়ার সুযোগই তো এই অবসর। তাই ঘরে বসে অবান্তর চিন্তায় ডুবে না থেকে কারুকার্য করা হলুদ ফতুয়াটা পরে প্রিয় মানুষটিকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। ঘুরে আসুন রমনা পার্ক, বলধা গার্ডেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ধানমন্ডি লেক, বোটানিক্যাল গার্ডেন, বনানী লেক কিংবা হাতিরঝিলে। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকলে মন আপনাতেই শান্ত হয়ে আসে। ক্লান্ত হয়ে চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় বসে সুরের মূর্ছনায় ফিরে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের তারুণ্যে। নিয়ম করে প্রতি সপ্তাহে এভাবে অবসরের সময়কে বর্ণিল করে তোলা একেবারেই সম্ভব।

তাই পেছন ফিরে নয়, সবসময় সামনের দিকে তাকান। দেখবেন, আপনার জীবনকে রাঙিয়ে দিতে সামনে অপেক্ষা করছে প্রচুর ঝলমলে আলো। অবসরজীবন শেষ নয়, বরং সচেতন মানসিকতায় গ্রহণ করতে পারলে এ জীবনও হতে পারে নতুন রঙে রাঙানো এক সুন্দর অধ্যায়।

লেখক: সিনিয়র কৃষিবিদ, কলামিস্ট ও চেয়ারম্যান, ডিআরপি ফাউন্ডেশন।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপির নাম, তদন্তের আশ্বাস আমিনুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপির নাম, তদন্তের আশ্বাস আমিনুলের

রাজধানীর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নাম এসেছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, কারও সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভাঙচুরের শিকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আমিনুল হক বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কোনোভাবেই ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। আগামীকাল থেকেই কেন্দ্রটির সংস্কারকাজ শুরু হবে। শিশুদের টিকাদানসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাতের অন্ধকারে বুলডোজার এনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

তিনি জানান, ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ক্লোজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা নিয়ে কোনো আইনি দাবি থাকলে আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা উত্থাপনের আহ্বান জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, রাতের অন্ধকারে বুলডোজার দিয়ে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে ফেলার অধিকার কারও নেই। জায়গাটি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দলের কেউ নেই এবং তাদের সঙ্গে দলের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তে ভবিষ্যতে কোনো দলীয় ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নাম এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শতভাগ স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনা হবে। পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জামায়াত নিয়ে বিএনপিকে সতর্ক করলেন ফজলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
জামায়াত নিয়ে বিএনপিকে সতর্ক করলেন ফজলুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীকে বিশ্বাস করলে বিএনপি ভুল করবে বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। একই সঙ্গে জামায়াতের বিষয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মহানগর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘আপনার গলায় আপনি সাপ পেঁচিয়ে রাখছেন, বিএনপি। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, যারা আমাদের মা-বোনের ইজ্জত নিয়েছিল এবং সোনার বাংলাকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিল, যারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল—আপনারা যদি আবার সেই জামায়াতে ইসলামকে বিশ্বাস করেন, তবে ভুল করবেন।’

জামায়াতের রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা যখন সংসদে যায়, তখন এক ধরনের অবস্থান নেয়; আবার সংসদ থেকে বের হয়ে ভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেয়। এমনকি এক দফার মাধ্যমে বিএনপিকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার কথাও তারা বলে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে বিএনপিকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে বলে জানান ফজলুর রহমান।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সবচেয়ে বেশি খর্ব করা হয়েছে। ছাত্রদের নেতৃত্বে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে আসার পর শেখ হাসিনাসহ তার সহযোগীদের দেশ ছাড়তে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে ফজলুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি যে দিকনির্দেশনা নিয়ে এগোচ্ছে, তাতে সহজে বিএনপিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া সম্ভব নয়।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজলসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

শান্তি চাই, তবে নিরাপত্তায় আপস নয়: রাজনাথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
শান্তি চাই, তবে নিরাপত্তায় আপস নয়: রাজনাথ

ভারত যুদ্ধ চায় না, শান্তিতে বিশ্বাস করে। তবে শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভি ডিফেন্স সামিট ২০২৬-এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে দেশটির সামরিক কর্মকর্তা ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

রাজনাথ সিং বলেন, ভারত শান্তি চায়, তবে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। কোনো প্রতিবেশী দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দিয়ে গেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযান চালাতে ভারত প্রস্তুত থাকবে।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ভারত সংলাপে বিশ্বাসী। তবে কোনো দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দিলে সেই সংলাপ সেখানেই শেষ হবে। ভারত সহযোগিতা চায়, কিন্তু জাতীয় স্বার্থের বিনিময়ে নয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনাথ সিং ‘প্রতিবেশী দেশ’ বলতে পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করেছেন।

যুদ্ধের ধরন বদলাচ্ছে

সম্মেলনে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও তথ্যযুদ্ধের প্রভাব নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি সরাসরি লড়াইয়ের সময় কমিয়ে আনলেও পুরো যুদ্ধের মেয়াদ কমছে না।

তার মতে, যুদ্ধ জয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হলো ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ। ভূখণ্ড দখলে রাখা, সুরক্ষিত করা ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অপরিহার্য।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধ নিয়ে নানা তথ্য ও বিশ্লেষণ ছড়িয়ে পড়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি অনেক সময় আড়ালে পড়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন জেনারেল ধীরাজ। তার ভাষায়, বর্তমান সময়ের যুদ্ধকে অনেক ক্ষেত্রে ‘বিরতি দিয়ে চলা যুদ্ধ’ হিসেবে দেখা যায়। সংঘাতের বিরতিও সামরিক কৌশলের অংশ হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী সংকটে আত্মনির্ভরতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি নিজস্ব সক্ষমতা ও সম্পদের ওপর নির্ভরতা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি