খুঁজুন
                               
, ,
           

আল্লাহপাকের শাস্তি যখন অবধারিত হয়ে যায়

মাহমুদ আহমদ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৩ অপরাহ্ণ
আল্লাহপাকের শাস্তি যখন অবধারিত হয়ে যায়

আল্লাহপাক তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষকে বার বার সতর্ক করেন, তারা যেন অসৎ পথ ছেড়ে সহজ সরল পথ অবলম্বন করে। কিন্তু মানুষ তা গ্রহণ না করে অসৎ পথ অবলম্বন করে চলতেই যেন আগ্রহ বেশি।

আমি ব্যক্তি জীবনে চাকুরি বা যে কাজের সাথেই যুক্ত থাকি না কেন, তা যদি সততা ও বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করি তবেই না আমি নিজেকে সৎ মনে করতে পারি। আসলে আজ শতভাগ সৎ মানুষ খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন। মানুষ আজ ন্যায় অন্যায় বুঝে না। নিজ স্বার্থ ছাড়া অন্য কিছু বুঝতে নারাজ। মানুষ যখন একের পর এক অন্যায় কাজ করতে থাকে, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য শাস্তি অবধারিত হয়ে যায়।

বিষয়টিকে এভাবেও বলা যায়, সমাজ ও দেশের বেশির ভাগ মানুষ যখন পাপ, ব্যভিচার, অন্যায় এবং নিজ প্রভুকে ভুলতে বসে তখনই আল্লাহতায়ালা তার পক্ষ থেকে কোপগ্রস্ত হয়ে শাস্তির যোগ্য হয়ে যায়।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘আর তোমাদের কৃতকর্মের কারণই তোমাদের ওপর বিপদ নেমে আসে। অথচ তিনি অনেক কিছুই উপেক্ষা করে থাকেন।’ (সুরা আশ শুরা: আয়াত ৩০)

আজাবের এমন একটি দিক নেই, যেদিক দিয়ে আজ পৃথিবী আক্রান্ত হয়নি। পৃথিবীর এমন কোনো দেশ বা এমন কোনো জাতি নেই যার ওপর আজাব না এসেছে, সে যত বড়ো শক্তিধর রাষ্ট্রই হোক না কেন। সকল প্রকার আজাবের প্রবল আক্রমণ মানবের ওপর বারবার এসে আঘাত হানছে। মানব প্রকৃতি বিকৃত হয়েছে। তার কারণে আল্লাহর রুদ্র রূপও প্রকাশিত হচ্ছে। খোদার পক্ষ থেকে শাস্তিস্বরূপ যখন কোনো আজাব আসে, তখন তা থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো রাস্তা থাকে না।

যেভাবে পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘তুমি বল, আল্লাহর হাত থেকে কে তোমাদের রক্ষা করতে পারে, যদি তিনি তোমাদের কোনো শাস্তি দিতে চান? অথবা তিনি যদি তোমাদের প্রতি কৃপা করতে চান তবে কে এ থেকে তোমাদের বঞ্চিত করতে পারে? আর তারা নিজেদের জন্য আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো অভিভাবক বা কোনো সাহায্যকারীও খুঁজে পাবে না।’ (সুরা আহজাব: আয়াত ১৭)

পবিত্র কুরআনে আরো উল্লেখ রয়েছে ‘এসব জনপদের অধিবাসীরা কি এ ব্যাপারে নিরাপদ হয়ে গেছে যে, রাতের বেলায় ঘুমন্ত অবস্থায় তাদের ওপর আমাদের শাস্তি নেমে আসবে না? আর এসব জনপদের অধিবাসীরা কি এ বিষয়ে নিরাপদ হয়ে গেছে যে, দুপুর বেলায় খেলাধুলায় মত্ত থাকা অবস্থায় তাদের ওপর আমাদের শাস্তি নেমে আসবে না? (সুরা আরাফ: আয়াত ৯৯-১০০)

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার বান্দার দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখতে চান। তিনি চান, তার বান্দারা যেন নিজের ভুল বুঝতে পেরে নিজেকে পবিত্র করার চেষ্টা করে আর আল্লাহতায়ালার কাছে ক্ষমা চায়। আমাদের চলার পথে কিছু না কিছু ভুল-ত্রুটি হয়েই থাকে। আমাদের পাপ সমূহ ক্ষমার জন্য সর্বদা ইস্তেগফার ও দোয়া করা উচিত। আমরা যদি ইস্তেগফারে রত থাকি, তাহলে আল্লাহপাক হয়ত আমাদের এই দোষত্রুটি ক্ষমা করে দিবেন।

এ বিষয়ে একটি হাদিসে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ‘ইস্তেগফার’-এর সাথে আঁকড়ে থাকে অর্থাৎ ইস্তেগফারে সর্বদা নিয়োজিত থাকে, আল্লাহতায়ালা তাকে সর্ব প্রকার বিপদ-আপদ থেকে উদ্ধারের পথ সৃষ্টি করে দেন আর প্রত্যেক দুরবস্থা থেকে উত্তরণের রাস্তা বের করে দেন আর তাকে ঐ সমস্ত রাস্তায় দান করেন যা সে ধারণাও করতে পারে না।’ (সুনান আবি দাউদ, কিতাবুল বিতর, বাব ফিল ইস্তেগফার)

তাই আমাদেরও উচিত হবে সর্বদা ইস্তেগফারে রত থাকা। আমরা যখন যেই অবস্থাতেই থাকি না কেন, আমরা ইচ্ছা করলেই মহান আল্লাহকে স্মরণ করতে পারি। আমাদের কারো জানা নেই যে কখন, কোন অবস্থায় মৃত্যু ঘটবে।

আমরা যদি আমাদের দোষ-ত্রুটিকে ক্ষমা করাতে চাই তাহলে ইস্তেগফারের বিকল্প নেই। তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, আমি ভুল করেছি, তারপর আমার মাঝে উপলব্ধি হলো আর আমি এর জন্য আল্লাহর কাছে কাকুতি মিনতি করে ক্ষমা চাইলাম আর তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিলেন।

তাই বলে বার বার ভুল করবো আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকবো তা ঠিক নয়। মুমিন একই ভুল বার বার করেন না।

আমাদেরকে এমনভাবে ইস্তেগফার করতে হবে যেন আমার দ্বারা দ্বিতীয়বার এমন ভুল আর কখনও সংঘটিত না হয়।

এছাড়া সর্বদা মহান আল্লাহতায়ালার কাছে আমাদেরকে এই প্রার্থনাই করতে হবে, যেভাবে আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘রাব্বানা যালামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম-তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানা কুনান্না মিনাল খাসেরিন’ অর্থাৎ ‘হে আমাদের প্রভু-প্রতিপালক! নিশ্চয় আমরা নিজেদের প্রাণের ওপর জুলুম করেছি, আর তুমি আমাদের ক্ষমা না করলে এবং আমাদের ওপর কৃপা না করলে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ২৩)

আমরা যেন সর্বদা মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও তওবা করতে থাকি, এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আবার আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, ‘ওয়া আনেসতাগফিরু রাব্বাকুম সুম্মা তুবু ইলাইহে’ অর্থাৎ ‘তোমরা তোমাদের প্রভু-প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চাইবে, তার কাছে সবিনয়ে তওবা করবে।’ (সুরা হুদ, আয়াত: ৩)

তাই আমাদেরকে সব সময় আল্লাহপাকের কাছে আমাদের পাপ সমুহের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে আর তার শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে। তিনি আমাদেরকে না চাইতেও কত কিছুই না দান করছেন। আমরা যদি এসবের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন না করি, তাহলে আমরা অকৃতজ্ঞ হিসেবে পরিগণিত হব।

একটি হাদিসে এসেছে, হজরত নুমান বিন বশির (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘যে ব্যক্তি স্বল্পে তুষ্ট হয় না, সে অধিক পেলেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। আর যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে না, সে আল্লাহতায়ালার করুণারাজিরও কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারে না। আল্লাহতায়ালার অনুগ্রহরাজির উত্তম স্বীকারোক্তি প্রকাশ করাটাও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন। আর আল্লাহতায়ালার আশিস সমূহের উত্তম স্বীকারোক্তি প্রকাশ না করাটা অকৃতজ্ঞতা।’ (মুসনাদ আহমদ বিন হাম্বল)

অপর একটি হাদিসে হজরত মায়াজ বিন জিবল (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার হাত শক্ত করে ধরলেন আর বললেন, ‘হে মায়াজ! আল্লাহর কসম! সত্যিই আমি তোমাকে ভালোবাসি।’

অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘হে মায়াজ! আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি, তুমি প্রত্যেক নামাজের পরে এই দোয়া করতে ভুলে যেও না, ‘আল্লাহুম্মা আইন্নি আ’লা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ইবাদিকা’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে শক্তি-সামর্থ্য দান কর, যেন আমি তোমার যপগাঁথা আবৃত্তি করতে পারি, তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি আর তোমারই ইবাদত আরো উত্তম রূপে করতে সক্ষম হই।’ (সুনান আবি দাউদ)

আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে বিবেক দিন, আমরা যেন অন্যায়কে অন্যায় মনে করি আর সততার সাথে জীবন অতিবাহিত করি।

লেখক: প্রাবন্ধিক, ইসলামী চিন্তাবিদ।

ক্রিকেটকে বিদায় বললেন অজিঙ্কা রাহানে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ
ক্রিকেটকে বিদায় বললেন অজিঙ্কা রাহানে

দীর্ঘ ১৫ বছরের বর্ণাঢ্য ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ভারতের অভিজ্ঞ ব্যাটার অজিঙ্কা রাহানে। আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি সব ধরনের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি।

অবসরের ঘোষণায় ৩৮ বছর বয়সী রাহানে বলেন, “জীবনের সত্য এটাই যে, সবকিছুর শুরু এবং শেষ আছে। সময়কে মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। ব্যাটিংয়ের সময় সবসময় ‘টাইমিং’-এর ওপর ভরসা রেখেছি। আজ আমার মনে হচ্ছে, সামনে এগিয়ে যাওয়ার এটাই সঠিক সময়। তাই আন্তর্জাতিকসহ সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছি।”

ভারতের হয়ে রাহানের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত টেস্ট। সেটিই শেষ পর্যন্ত তার জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ হয়ে রইল।

২০১১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় রাহানের। পরে তিনি তিন সংস্করণেই ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন। ৮৫টি টেস্টে ১২টি সেঞ্চুরি ও ২৬টি হাফসেঞ্চুরিসহ ৫,০৭৭ রান করেন তিনি। এছাড়া ৯০টি ওয়ানডেতে ২,৯৬২ রান এবং ২০টি টি-টোয়েন্টিতে ৩৭৫ রান করেছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ায় তাকে আর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)-এও দেখা যাবে না। ফলে তার দল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে এখন নতুন অধিনায়কের সন্ধানে নামতে হবে।

ভারতীয় ক্রিকেটে নির্ভরযোগ্য ব্যাটার হিসেবে পরিচিত রাহানে বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে অসংখ্য স্মরণীয় ইনিংস উপহার দিয়েছেন। তার বিদায়ে ভারতীয় ক্রিকেটের একটি সফল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

কালের আলো/এসএ

ফরাসি ডিজে কাভিনস্কি আর নেই, মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
ফরাসি ডিজে কাভিনস্কি আর নেই, মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত

ফ্রান্সের জনপ্রিয় ইলেকট্রনিক সংগীতশিল্পী ও ডিজে ভিনসেন্ট বেলোরজে, যিনি ‘ডিজে কাভিনস্কি’ নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্যারিসে নিজ বাসভবনে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছেন। বুধবার দেশটির প্রসিকিউটররা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রসিকিউটরদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে প্রাথমিকভাবে কোনো সন্দেহজনক আলামত পাওয়া যায়নি। এর আগে প্যারিসভিত্তিক দৈনিক Le Parisien প্রথম তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে।

আগামী ৩১ জুলাই তার ৫১তম জন্মদিন ছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের সংস্কৃতিমন্ত্রী ক্যাথরিন পেগার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, “কাভিনস্কির মৃত্যুতে ফ্রান্স একজন ব্যতিক্রমী শিল্পীকে হারাল। তার সংগীত নাচের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি স্মৃতি ও আবেগকে জীবন্ত করে তুলত। তাই তার সৃষ্টি প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।”

প্যারিসের উপকণ্ঠ সাঁ-দেনিতে বেড়ে ওঠা ভিনসেন্ট বেলোরজে ছোটবেলায় নিজ উদ্যোগে পিয়ানো শেখেন। ২০০০-এর দশকের শুরুতে সংগীতজগতে তার যাত্রা শুরু হয়। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি ফরাসি ইলেকট্রনিক সংগীত জুটি ডাফট পাঙ্কসহ বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে মঞ্চে পারফর্ম করেন এবং পরবর্তীতে সেবাস্তিয়াঁসহ আরও অনেক সংগীতশিল্পীর সঙ্গে কাজ করেন।

২০১০ সালে প্রকাশিত তার জনপ্রিয় গান ‘Nightcall’ তাকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়। ২০১১ সালে হলিউডের আলোচিত চলচ্চিত্র Drive-এ গানটি ব্যবহারের পর বিশ্বজুড়ে নতুন শ্রোতাদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকের সমাপনী অনুষ্ঠানেও তিনি এই বিখ্যাত গান পরিবেশন করেন।

কাভিনস্কির সংগীতে ১৯৮০-এর দশকের সিনেমা, ভিডিও গেম এবং সিন্থ-ওয়েভ ঘরানার প্রভাব ছিল স্পষ্ট। ‘কাভিনস্কি’ ছিল তারই সৃষ্ট একটি কাল্পনিক চরিত্র, যার মাধ্যমে তিনি নিজের শিল্পীসত্তাকে উপস্থাপন করতেন। ২০০৭ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নিজের বাস্তব পরিচয়ের পরিবর্তে এই রহস্যময় চরিত্রের মাধ্যমে সংগীত ও গল্প তুলে ধরতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।

স্বতন্ত্র সংগীতধারা, সৃজনশীল চরিত্র নির্মাণ এবং অনন্য শিল্পীসত্তার জন্য কাভিনস্কি বিশ্ব ইলেকট্রনিক সংগীত অঙ্গনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

কালের আলো/এসএ

আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ফিফার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ফিফার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে পরাজয়ের পর খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষ ও টুর্নামেন্টজুড়ে বিভিন্ন শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল এবং ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ খেলোয়াড় ও আর্জেন্টিনা দলের ফুটবলার-কোচিং স্টাফদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনা খতিয়ে দেখতে একজন বিশেষ প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছিল ফিফা। সপ্তাহব্যাপী তদন্ত শেষে তার সুপারিশের ভিত্তিতে ফিফা শৃঙ্খলা কমিটির কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী অভিযুক্তদের নিজস্ব বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রক্রিয়া শেষে যথাসময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

তদন্ত ও অভিযোগের মুখে যাঁরা:

প্রসিকিউটরের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ফিফার শৃঙ্খলাবিধির ১৪ নম্বর ধারার আওতায় তদন্ত চলছে:

লিওনার্দো পারেদেস: তাঁর বিরুদ্ধে মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ফাইনাল শেষে স্পেনের বদলি খেলোয়াড়েরা মাঠে নামলে গাভিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে মুখে আঘাত করার পাশাপাশি স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়াকেও আঘাতের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

নাহুয়েল মলিনা: তাঁর বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার একটি খেলোয়াড়সুলভ আচরণবিরোধী অপরাধ।

রবার্তো আয়ালা (সহকারী কোচ): দানি ওলমোকে আঘাত করার দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

এছাড়া আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা এবং স্পেনের মিডফিল্ডার গাভির বিরুদ্ধেও খেলোয়াড়সুলভ আচরণবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্তাধীন।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সংঘর্ষের অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের অন্তত ১ থেকে ৩ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে হতে পারে।

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (AFA) ওপর অভিযোগ:

শুধু ব্যক্তিগতভাবে খেলোয়াড়দের ওপরই নয়, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধেও বেশ কয়েকটি ধারায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: খেলাধুলার চেতনাবিরোধী কার্যক্রম (ধারা ১৩),দলের অসদাচরণ (ধারা ১৪),বৈষম্য ও বর্ণবাদী আচরণ (ধারা ১৫),ম্যাচে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার নিয়ম ভঙ্গ (ধারা ১৭)

এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের পরে ম্যাচ শুরু করা, সমর্থকদের অনুপযুক্ত বার্তার ব্যানার প্রদর্শন এবং দর্শকদের মাঠে বস্তু নিক্ষেপের মতো অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়ের পর স্প্যানিশ ভাষায় “ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার” লেখা ব্যানার প্রদর্শনের বিষয়টিকে খেলাধুলার রাজনৈতিক ব্যবহারের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে ফিফা। এর আগে ২০১৪ সালেও একই ধরনের ব্যানার প্রদর্শনের কারণে আর্জেন্টিনাকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছিল।

কালের আলো/এসএ