খুঁজুন
                               
, ,
           

পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩: ঐতিহ্য, পরিচয় এবং বাঙালি কল্পনার পুনর্জাগরণ

ড. মতিউর রহমান:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩: ঐতিহ্য, পরিচয় এবং বাঙালি কল্পনার পুনর্জাগরণ

পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনে আবারও ফিরে এসেছে এক চিরচেনা অথচ নবতর অনুরণন নিয়ে। এটি কেবল একটি পঞ্জিকা পরিবর্তনের গাণিতিক দিন নয়; এটি এক সভ্যতাগত মুহূর্ত, যা আমাদের পরিচয়, সম্মিলিত স্মৃতি এবং জাতীয় অস্তিত্বকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করে। দ্রুত প্রযুক্তিগত রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার এবং বৈশ্বিক মূল্যবোধের পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ মনে করিয়ে দেয় যে, সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতাই একটি জাতির সামাজিক সংহতির অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাঙালির কাছে পহেলা বৈশাখ এক অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ উৎসব, যা শ্রেণি, ধর্ম ও ভূগোলের সীমা অতিক্রম করে এক অনন্য মহাজাগতিক মেলবন্ধন তৈরি করে। এই দিনটি বাঙালির আত্মোপলব্ধির দিন, নিজের শিকড়কে খুঁজে পাওয়ার দিন এবং বিশ্বমঞ্চে নিজের স্বকীয়তা তুলে ধরার দিন।

বাংলা সনের উদ্ভব মূলত কৃষিভিত্তিক সমাজের বাস্তব প্রয়োজনে। মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে ফসল তোলার সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যে ‘ফসলি সন’ বা পঞ্জিকার সংস্কার করা হয়েছিল, তা আজ বাঙালির আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সম্রাট আকবরের নির্দেশে রাজজ্যোতিষী ফতুল্লাহ শিরাজী হিজরি চন্দ্রসন এবং সৌরসনের সমন্বয়ে যে নতুন পঞ্জিকা তৈরি করেছিলেন, তার মূলে ছিল প্রজার কল্যাণ। কৃষকরা ফসল সংগ্রহের পর স্বচ্ছন্দে খাজনা পরিশোধ করতে পারতেন বলেই এই সনটি দ্রুতই বাংলার ঘরে ঘরে সমাদৃত হয়। মুঘলদের সেই প্রশাসনিক ব্যবস্থা সময়ের পরিক্রমায় একটি নিছক কর আদায়ের মাধ্যম থেকে বিবর্তিত হয়ে একটি সাংস্কৃতিক চিহ্নে পরিণত হয়েছে।

পহেলা বৈশাখ মানেই নবায়ন—অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্কের নতুন সূচনা। ব্যবসায়ীদের ‘হালখাতা’ প্রথা আজও সেই আস্থার সম্পর্কের সাক্ষ্য দেয়, যেখানে মিষ্টিমুখের মাধ্যমে পুরোনো পাওনা চুকিয়ে নতুন খাতা খোলার মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করা হয়। ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পহেলা বৈশাখ পালন কেবল একটি উৎসব ছিল না, বরং তা ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের সাম্প্রদায়িক ও একপেশে রাজনীতির বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ। ১৯৬৭ সালে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান কেবল একটি সংগীত আয়োজন ছিল না, তা ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের এক শৈল্পিক বহিঃপ্রকাশ। আজও রমনার সেই আয়োজন বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার আলোকবর্তিকা হিসেবে সগৌরবে টিকে আছে।

পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ কেবল একটি উৎসবের দিন নয়, এটি বাঙালির অস্তিত্বের মহাকাব্যিক জয়গান। এটি আমাদের স্থিতিশীলতা, সহনশীলতা এবং সৃজনশীলতার প্রতীক। প্রতিটি বছর পহেলা বৈশাখ আমাদের অতীতের গৌরব স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভবিষ্যতের এক সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।

পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ এমন এক সময়ে এসেছে যখন বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে সাংস্কৃতিক নেতৃত্বের আসনে আসীন। ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর ‘অস্পৃশ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ (Intangible Cultural Heritage of Humanity) হিসেবে স্বীকৃত ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আজ বিশ্ববিখ্যাত। চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিপুণ হাতের কারুকাজে তৈরি বিশাল বিশাল সব শিল্পকাঠামো (যেমন: পাখি, সূর্য, বাঘের মুখ, লোকজ পুতুল) কেবল শিল্পের প্রদর্শনী নয়, বরং অশুভ শক্তির বিনাশ এবং মঙ্গলের আবাহনের প্রতীক। এই শোভাযাত্রা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সম্মিলিত প্রতিরোধের মাধ্যমেই অন্ধকারের শক্তিকে পরাজিত করা সম্ভব।

শহর ও গ্রামে এই উৎসবের রূপ ভিন্ন হলেও মূল সুরটি এক। শহরগুলোতে দিনটি শুরু হয় ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় রবীন্দ্রসংগীতের মূর্ছনায়, আর গ্রামবাংলায় এটি এখনো সেই চিরচেনা মেলা, লোকজ বাদ্য আর গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু। লাল-সাদা পোশাক, আলপনা, মাটির সরা এবং লক্ষ্মীপেঁচার মতো লোকজ কারুশিল্পের প্রতি মানুষের এই তীব্র আকর্ষণ প্রমাণ করে যে, আধুনিকতার চাকচিক্য আমাদের শিকড়ের টানকে মুছে দিতে পারেনি। এই সাংস্কৃতিক সমন্বয় পহেলা বৈশাখকে আধুনিক সমাজেও অপরিহার্য ও প্রাসঙ্গিক করে রেখেছে।

পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩-এর বিস্তারে প্রযুক্তি আজ এক বিশাল অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অগমেন্টেড রিয়ালিটি (AR) ফিল্টারের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় উৎসবের রঙ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। প্রবাসী বাঙালিরা, যারা সুদূর নিউ ইয়র্ক, লন্ডন, সিডনি বা টোকিওতে বসবাস করছেন, তারা অনলাইন লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে ঢাকার রমনা বা চারুকলার আনন্দের সরাসরি অংশীদার হচ্ছেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো এখন উৎসবের আর্কাইভ বা স্মৃতির ভাণ্ডার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিচ্ছে।

তবে এই ডিজিটাল বিস্তার কিছু নতুন সমাজতাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জও সামনে নিয়ে এসেছে। উৎসবের ‘ভার্চুয়ালাইজেশন’ কি মানুষের সরাসরি সান্নিধ্যের আনন্দকে কমিয়ে দিচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমরা দেখি যে, প্রযুক্তি আসলে উৎসবের পরিধি বাড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু মানুষের ব্যক্তিগত উপস্থিতি এবং স্পর্শের আকাঙ্ক্ষাকে পুরোপুরি মেটাতে পারেনি। বরং দেখা যাচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারণার ফলে উৎসবে মানুষের সশরীরে অংশগ্রহণের হার আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। অর্থাৎ, ডিজিটাল জগত এখন বাস্তব জগতের উৎসবকে আরও বেশি প্রাণবন্ত করে তুলছে।

পহেলা বৈশাখের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বর্তমানে অপরিসীম। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বছরে এক বিশাল উদ্দীপনা বা ‘ইকোনমিক স্টিমুলাস’ সৃষ্টি করে। পোশাক শিল্প, বিশেষ করে হস্তচালিত তাঁত, জামদানি এবং বুটিক শিল্প এই সময়ে সবচেয়ে বেশি কর্মচঞ্চল থাকে। শাড়ি, পাঞ্জাবি এবং শিশুদের পোশাকের এক বিশাল বাজার তৈরি হয় যা কয়েক হাজার কোটি টাকার লেনদেনে পৌঁছায়। হস্তশিল্প, মৃৎশিল্প এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের উদ্যোক্তারা এই একটি উৎসবকে কেন্দ্র করে সারা বছরের আয়ের একটি বড় অংশ নিশ্চিত করেন।

গ্রামীণ মেলাগুলো কেবল চিত্তবিনোদনের জায়গা নয়, বরং এগুলো স্থানীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। নাগরদোলা থেকে শুরু করে মাটির হাঁড়ি-পাতিল, কাঠের খেলনা এবং লোকজ মিষ্টান্ন—সবকিছুর পেছনে জড়িয়ে আছে হাজার হাজার গ্রামীণ কারিগরের শ্রম। যারা আধুনিক যান্ত্রিক শিল্পায়নের যুগে কিছুটা পিছিয়ে পড়ছিলেন, পহেলা বৈশাখের এই মৌসুম তাদের শিল্পকর্মকে মূলধারার বাজারে নিয়ে আসার সুযোগ করে দেয়। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন হারিয়ে যাওয়া লোকশিল্প রক্ষা পাচ্ছে, অন্যদিকে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত হচ্ছে।

বাঙালির উৎসবে খাদ্য এক অপরিহার্য বিষয়। পান্তা-ইলিশের বিতর্ক ছাপিয়ে পহেলা বৈশাখের খাবারের টেবিলে থাকে বাংলার চিরায়ত বৈচিত্র্য। পিঠা-পুলি, খৈ-মুড়কি, নাড়ু, মোয়া এবং বিভিন্ন ধরনের ভর্তা আমাদের কৃষিভিত্তিক খাবারের ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। খাদ্য এখানে কেবল পেট ভরার মাধ্যম নয়, বরং এটি পারিবারিক বন্ধন এবং শৈশবের স্মৃতির ধারক।

আধুনিক ডায়েট সচেতন প্রজন্মের কাছে গুড়, চিঁড়া বা দইয়ের মতো প্রাকৃতিক খাবারের পুষ্টিগুণ নতুনভাবে আদৃত হচ্ছে। রিফাইন্ড চিনির বদলে প্রাকৃতিক মিষ্টান্নের ব্যবহার বাড়ছে, যা একটি স্বাস্থ্যকর সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। উৎসবের বিশেষ দিনগুলোতে মা-চাচিদের হাতের রান্নার যে সুবাস, তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বাঙালির হৃদয়ে এক অদৃশ্য সুতোর টান তৈরি করে রাখে। রেস্তোরাঁগুলোতে ঐতিহ্যবাহী খাবারের ‘ফিউশন’ তরুণদের কাছে আমাদের পুরোনো খাদ্যাভ্যাসকে আকর্ষণীয় করে তুলছে।

পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩-এর সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী বার্তা হলো সম্প্রীতি। এটি এমন একটি উৎসব যা কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। যখন বিশ্বে অসহিষ্ণুতা, উগ্রবাদ ও মেরুকরণ বাড়ছে, তখন পহেলা বৈশাখ আমাদের শেখায় কীভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি অভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিচয় ধারণ করতে হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রায় হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের ও সব মতের মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, আমাদের জাতীয় সত্তা আমাদের ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়েও বড়।

এই অসাম্প্রদায়িক চেতনাই বাংলাদেশের মূল শক্তি। পহেলা বৈশাখ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমরা প্রথমত বাঙালি, তারপর অন্য কিছু। এই ঐক্যবোধই আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রেরণা জুগিয়েছিল এবং আজও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে এটিই আমাদের প্রধান হাতিয়ার। সামাজিক টানাপড়েনের সময়েও পহেলা বৈশাখ এক পরম শান্তির ও ঐক্যের স্মারক হয়ে দাঁড়ায়।

পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩-কে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে আজকের ‘জেন-জি’ এবং তরুণ প্রজন্ম। তারা কেবল প্রথাগতভাবে উৎসব পালন করছে না, বরং তারা ঐতিহ্যের সাথে আধুনিক ফ্যাশনের এক চমৎকার ফিউশন ঘটাচ্ছে। তারা লোকমোটিফ নিয়ে ডিজিটাল আর্ট করছে, পডকাস্টের মাধ্যমে লোকসংগীত ও লোকগাথা প্রচার করছে এবং ইউটিউব বা টিকটকের মাধ্যমে বিশ্ব-দরবারে বাঙালির নববর্ষকে তুলে ধরছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চারুকলা ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রগুলোর ভূমিকা এই উৎসবের প্রাণশক্তি বজায় রাখছে। তরুণদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, বাঙালি সংস্কৃতি কোনো স্থবির বা মৃত বিষয় নয়, বরং এটি একটি গতিশীল খরস্রোতা নদী যা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ধারাকে গ্রহণ করে নিজেকে সমৃদ্ধ করে এগিয়ে চলে। তাদের হাতেই বাঙালির উত্তরাধিকার নিরাপদ।

বর্তমান বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের যুগে পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনে পরিবেশ সচেতনতা এখন এক অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের উৎসবের আলোচনায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্লাস্টিকমুক্ত সাজসজ্জার বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাধান্য পাচ্ছে। মৃৎশিল্প, পাট, খড় এবং বাঁশের সামগ্রীর ব্যবহার বাড়িয়ে পরিবেশবান্ধব উদ্যাপন নিশ্চিত করার দিকে সবার নজর বাড়ছে।

প্রকৃতি-নির্ভর বাংলা সংস্কৃতির মূল দর্শনই হলো প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে থাকা। ঋতুচক্রের এই আবর্তন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমরা প্রকৃতিরই অংশ। উৎসবের নামে আমরা যেন পরিবেশের ক্ষতি না করি, সেই শিক্ষা এখন মঙ্গল শোভাযাত্রার থিমগুলোতেও ফুটে উঠছে। পরিবেশ সচেতন এই নতুন ধারার উদ্যাপন পহেলা বৈশাখকে আরও অর্থবহ ও টেকসই করে তুলছে।

পহেলা বৈশাখ কেবল বাইরে দেখার উৎসব নয়, এটি বাঙালির মনের ভেতরেও এক বিশাল পরিবর্তনের ঢেউ তোলে। এটি শৈশব স্মৃতি, পারিবারিক মিলন এবং সম্প্রদায়ের আনন্দের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ। এই দিনে মানুষ পুরোনো ভেদাভেদ ভুলে শুভেচ্ছা বিনিময় করে, একে অপরের বাড়িতে যায় এবং নতুন বছরের জন্য শুভকামনা জানায়। এই সামাজিক মিথস্ক্রিয়া আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।

ব্যস্ত যান্ত্রিক জীবনে আমরা যখন ক্রমশ একা হয়ে পড়ছি, তখন পহেলা বৈশাখ আমাদের শেখায় ‘আমরা’ হওয়ার আনন্দ। এটি একটি সামাজিক পুনরারম্ভের অনুভূতি সৃষ্টি করে। মানুষ নতুন কাপড় পরে যখন রাস্তায় বের হয়, তখন তাদের চোখেমুখে যে আশা ও উদ্দীপনা দেখা যায়, তাই একটি জাতির জীবনীশক্তি। এই আনন্দই আমাদের সামনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার সাহস জোগায়।

বিশ্বের মানচিত্রে বাঙালির বিস্তৃতি আজ অভাবনীয়। লন্ডন থেকে ক্যানবেরা, টরন্টো থেকে দুবাই—প্রতিটি বড় শহরে আজ পহেলা বৈশাখ পালিত হয়। প্রবাসী বাঙালিরা তাদের নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের সংস্কৃতি পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই দিনটিকে বেছে নেন। বিদেশের মাটিতে লাল-সাদা শাড়ি ও পাঞ্জাবি পরে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করার দৃশ্য এখন সাধারণ। এইভাবে পহেলা বৈশাখ কেবল বাংলাদেশের উৎসব হিসেবে থাকেনি, এটি একটি বৈশ্বিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। এটি আমাদের জন্য এক বিশাল ‘সাফট পাওয়ার’ (Soft Power) যা বিশ্ববাসীর কাছে বাঙালির শান্তিপ্রিয় ও শিল্পমনস্ক ভাবমূর্তিকে তুলে ধরছে।

পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ কেবল একটি উৎসবের দিন নয়, এটি বাঙালির অস্তিত্বের মহাকাব্যিক জয়গান। এটি আমাদের স্থিতিশীলতা, সহনশীলতা এবং সৃজনশীলতার প্রতীক। প্রতিটি বছর পহেলা বৈশাখ আমাদের অতীতের গৌরব স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভবিষ্যতের এক সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।

রঙ, সংগীত, আনন্দ এবং ভ্রাতৃত্বের এই অমোঘ শক্তি আমাদের জাতীয় পরিচয়কে আরও উজ্জ্বল করুক। নববর্ষের এই আলোয় প্রতিটি বাঙালির মনে জাগ্রত হোক শুভবোধ এবং সম্মিলিত মঙ্গলের বাসনা। আমরা যেন আমাদের সংস্কৃতিকে বুকে ধারণ করে বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি—১৪৩৩ বঙ্গাব্দের এই মাহেন্দ্রক্ষণে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
শুভ নববর্ষ ১৪৩৩!

লেখক: গবেষক ও উন্নয়নকর্মী।

মার্কিন হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ
মার্কিন হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

মার্কিন আগ্রাসনের ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের ‘কঠোর জবাব’ দেবে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী। হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় ওয়াশিংটনকে হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না। বুধবার (৮ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আমেরিকান সন্ত্রাসবাদের’ কোনো জবাব না দিয়ে ছাড় দেওয়া হবে না। এই নৌপথের বিষয়ে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা ‘কোনো অবস্থাতেই’ মেনে নেওয়া হবে না।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর জন্য একমাত্র নিরাপদ পথ হলো ইসলামী প্রজাতন্ত্র কর্তৃক নির্ধারিত পথ।

এতে আরও বলা হয়েছে, ইরানে এ ধরনের হামলা গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অধীনে থাকা ‘যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের প্রতি সম্পূর্ণ অবজ্ঞা’ প্রকাশ করে।

এর আগে ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টি ও কেশম দ্বীপের কাছে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) জানিয়েছে, সিরিকের মৎস্য ও বাণিজ্যিক বন্দরে শত্রুপক্ষের হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সবশেষ দফায় অন্তত ৮০টি হামলা চালানো হয়েছে। এতে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা এবং জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে নিশানা করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা হ্রাসের লক্ষ্যে প্রণালির ভেতরে ও আশপাশে অবস্থানরত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৬০টিরও বেশি ছোট নৌকায়ও হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকম জানিয়েছে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

জিএমপিতে ছয় মাসে ১৮৫৪ মামলা, গ্রেফতার ৩২১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ
জিএমপিতে ছয় মাসে ১৮৫৪ মামলা, গ্রেফতার ৩২১৭

গাজীপুর মহানগর এলাকায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গত ছয় মাসে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মোট ১ হাজার ৮৫৪টি মামলা করা হয়েছে। একই সময়ে এসব মামলায় ৩ হাজার ২১৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে জিএমপি সদর দফতরের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।

পুলিশ কমিশনার জানান, গত ছয় মাসে রুজু হওয়া মামলার মধ্যে রয়েছে, হত্যা মামলা ২০টি, ডাকাতি ও ছিনতাই, ডাকাতি ৭টি এবং ছিনতাই ২৮টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ১৭৬টি, মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত মাদক ৮১২টি এবং অস্ত্র মামলা ৬০টি, অন্যান্য অপরাধ, সিঁধেল চুরি ১৬টি এবং অন্যান্য ধারায় ৭৩৫টি মামলা।

অভিযানে ১০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি, একটি গুলির খোসা, ৪টি ম্যাগাজিন এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া জব্দ করা হয়েছে ৫১,৫৬০ পিস ইয়াবা, ৩৫৭ কেজি ৩৬৫ গ্রাম গাঁজা, ১ কেজি ৯৬৫ গ্রাম হেরোইন, ৫৩০ পিস প্যাথেডিন, ৪৬ লিটার দেশীয় মদ, ১৫১ লিটার বিদেশি মদ এবং ২৭৬ বোতল ফেনসিডিল।

মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, সম্প্রতি মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিলের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সদর, বাসন, কোনাবাড়ী, গাছা ও টঙ্গী পশ্চিম থানায় মোট ৭টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় ইতোমধ্যে ৯৫ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মিছিলে অংশগ্রহণ, সহায়তা ও অর্থায়নের অভিযোগে আরও শতাধিক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ কমিশনার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের প্রকাশ্য বা গোপন কার্যক্রম, অর্থায়ন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পক্ষে প্রচারণা চালানোও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অপরাধ। যারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহানগরের মাজার বস্তি, কেরানীর টেক, ব্যাংকের মাঠ ও এরশাদ নগরসহ বিভিন্ন মাদকপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শীর্ষ মাদক কারবারিদের সম্পদের অনুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ছিনতাই প্রতিরোধে বিশেষ চেকপোস্ট, টহল এবং ব্লক রেইড পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রেফতার হওয়া অধিকাংশ ছিনতাইকারীই পুনরায় একই অপরাধে জড়ানোর কারণে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কিশোর গ্যাং দমনে সদস্যদের তালিকা প্রস্তুত করে তথ্যভিত্তিক সমন্বিত অভিযান পরিচালনার কথা জানানো হয়।

টঙ্গী পূর্ব থানার পাগাড় বিসিক মার্কেট এলাকায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মহড়ার ঘটনায় একটি মামলা করে এ পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া অন্যদের শনাক্তের কাজ চলছে।

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও পুলিশি তৎপরতায় অপহরণ ও ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মতো অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি বেওয়ারিশ মরদেহ ফেলে যাওয়ার ঘটনাও নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

খুনের মামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে পুলিশ কমিশনার জানান, ২০২৩ সালে ৯৪টি, ২০২৪ সালে ৯৬টি এবং ২০২৫ সালে ৮১টি হত্যা মামলা হলেও চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তা কমে ২০টিতে দাঁড়িয়েছে। যার মধ্যে মাত্র একটি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

তিনি বলেন, জিএমপি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদ হোসেন ভূঁইয়া (পিপিএম), এস এম আশরাফুল আলম (পিপিএম), মোহাম্মদ মহিউল ইসলাম, মো. শফিকুল ইসলাম, সাহেব আলী পাঠান, অশোক কুমার পাল (পিপিএম), অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ইয়াসমীন সাইকা পাশা, স্টাফ অফিসার খন্দকার জালাল উদ্দিন মাহমুদ এবং বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহা. হারুন-অর-রশিদসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি, হাতেনাতে গ্রেপ্তার সন্ত্রাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি, হাতেনাতে গ্রেপ্তার সন্ত্রাসী

রাজধানীর মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে গুলি করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৭জুলাই) রাত সোয়া ৯ টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বরের ফলপট্টি-সংলগ্ন চৌরঙ্গী মার্কেটের দক্ষিণ পাশের একটি গলিতে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ সাইফুল ইসলাম সিজু (৪০) মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী সাইদুল জানান, রাতে মুন্সি বাড়ি রোডে সাইফুল ইসলাম সিজু তার নিজ অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ জাকির হোসেনের শান্তর (২৭) নেতৃত্বে ৩/৫জন এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে সাইফুলের কোমরে এবং দুই পায়ে গুলি লাগে।

সিজু গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ​গোলাগুলির শব্দে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পথচারীরা দিকবিদিক ছুটোছুটি করতে থাকেন। তবে ঘটনার পরপরই পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় কিছু জনতা ধাওয়া করে এক যুবককে একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করে। পরবর্তীতে তাকে মিরপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, পূর্বশত্রুতার জেরে শান্ত ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে সাইফুল ইসলাম সিজুকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে শান্ত ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো হাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি