খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩: ঐতিহ্য, পরিচয় এবং বাঙালি কল্পনার পুনর্জাগরণ

ড. মতিউর রহমান:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩: ঐতিহ্য, পরিচয় এবং বাঙালি কল্পনার পুনর্জাগরণ

পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনে আবারও ফিরে এসেছে এক চিরচেনা অথচ নবতর অনুরণন নিয়ে। এটি কেবল একটি পঞ্জিকা পরিবর্তনের গাণিতিক দিন নয়; এটি এক সভ্যতাগত মুহূর্ত, যা আমাদের পরিচয়, সম্মিলিত স্মৃতি এবং জাতীয় অস্তিত্বকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করে। দ্রুত প্রযুক্তিগত রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার এবং বৈশ্বিক মূল্যবোধের পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ মনে করিয়ে দেয় যে, সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতাই একটি জাতির সামাজিক সংহতির অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাঙালির কাছে পহেলা বৈশাখ এক অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ উৎসব, যা শ্রেণি, ধর্ম ও ভূগোলের সীমা অতিক্রম করে এক অনন্য মহাজাগতিক মেলবন্ধন তৈরি করে। এই দিনটি বাঙালির আত্মোপলব্ধির দিন, নিজের শিকড়কে খুঁজে পাওয়ার দিন এবং বিশ্বমঞ্চে নিজের স্বকীয়তা তুলে ধরার দিন।

বাংলা সনের উদ্ভব মূলত কৃষিভিত্তিক সমাজের বাস্তব প্রয়োজনে। মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে ফসল তোলার সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যে ‘ফসলি সন’ বা পঞ্জিকার সংস্কার করা হয়েছিল, তা আজ বাঙালির আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সম্রাট আকবরের নির্দেশে রাজজ্যোতিষী ফতুল্লাহ শিরাজী হিজরি চন্দ্রসন এবং সৌরসনের সমন্বয়ে যে নতুন পঞ্জিকা তৈরি করেছিলেন, তার মূলে ছিল প্রজার কল্যাণ। কৃষকরা ফসল সংগ্রহের পর স্বচ্ছন্দে খাজনা পরিশোধ করতে পারতেন বলেই এই সনটি দ্রুতই বাংলার ঘরে ঘরে সমাদৃত হয়। মুঘলদের সেই প্রশাসনিক ব্যবস্থা সময়ের পরিক্রমায় একটি নিছক কর আদায়ের মাধ্যম থেকে বিবর্তিত হয়ে একটি সাংস্কৃতিক চিহ্নে পরিণত হয়েছে।

পহেলা বৈশাখ মানেই নবায়ন—অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্কের নতুন সূচনা। ব্যবসায়ীদের ‘হালখাতা’ প্রথা আজও সেই আস্থার সম্পর্কের সাক্ষ্য দেয়, যেখানে মিষ্টিমুখের মাধ্যমে পুরোনো পাওনা চুকিয়ে নতুন খাতা খোলার মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করা হয়। ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পহেলা বৈশাখ পালন কেবল একটি উৎসব ছিল না, বরং তা ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের সাম্প্রদায়িক ও একপেশে রাজনীতির বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ। ১৯৬৭ সালে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান কেবল একটি সংগীত আয়োজন ছিল না, তা ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের এক শৈল্পিক বহিঃপ্রকাশ। আজও রমনার সেই আয়োজন বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার আলোকবর্তিকা হিসেবে সগৌরবে টিকে আছে।

পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ কেবল একটি উৎসবের দিন নয়, এটি বাঙালির অস্তিত্বের মহাকাব্যিক জয়গান। এটি আমাদের স্থিতিশীলতা, সহনশীলতা এবং সৃজনশীলতার প্রতীক। প্রতিটি বছর পহেলা বৈশাখ আমাদের অতীতের গৌরব স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভবিষ্যতের এক সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।

পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ এমন এক সময়ে এসেছে যখন বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে সাংস্কৃতিক নেতৃত্বের আসনে আসীন। ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর ‘অস্পৃশ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ (Intangible Cultural Heritage of Humanity) হিসেবে স্বীকৃত ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আজ বিশ্ববিখ্যাত। চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিপুণ হাতের কারুকাজে তৈরি বিশাল বিশাল সব শিল্পকাঠামো (যেমন: পাখি, সূর্য, বাঘের মুখ, লোকজ পুতুল) কেবল শিল্পের প্রদর্শনী নয়, বরং অশুভ শক্তির বিনাশ এবং মঙ্গলের আবাহনের প্রতীক। এই শোভাযাত্রা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সম্মিলিত প্রতিরোধের মাধ্যমেই অন্ধকারের শক্তিকে পরাজিত করা সম্ভব।

শহর ও গ্রামে এই উৎসবের রূপ ভিন্ন হলেও মূল সুরটি এক। শহরগুলোতে দিনটি শুরু হয় ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় রবীন্দ্রসংগীতের মূর্ছনায়, আর গ্রামবাংলায় এটি এখনো সেই চিরচেনা মেলা, লোকজ বাদ্য আর গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু। লাল-সাদা পোশাক, আলপনা, মাটির সরা এবং লক্ষ্মীপেঁচার মতো লোকজ কারুশিল্পের প্রতি মানুষের এই তীব্র আকর্ষণ প্রমাণ করে যে, আধুনিকতার চাকচিক্য আমাদের শিকড়ের টানকে মুছে দিতে পারেনি। এই সাংস্কৃতিক সমন্বয় পহেলা বৈশাখকে আধুনিক সমাজেও অপরিহার্য ও প্রাসঙ্গিক করে রেখেছে।

পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩-এর বিস্তারে প্রযুক্তি আজ এক বিশাল অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অগমেন্টেড রিয়ালিটি (AR) ফিল্টারের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় উৎসবের রঙ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। প্রবাসী বাঙালিরা, যারা সুদূর নিউ ইয়র্ক, লন্ডন, সিডনি বা টোকিওতে বসবাস করছেন, তারা অনলাইন লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে ঢাকার রমনা বা চারুকলার আনন্দের সরাসরি অংশীদার হচ্ছেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো এখন উৎসবের আর্কাইভ বা স্মৃতির ভাণ্ডার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিচ্ছে।

তবে এই ডিজিটাল বিস্তার কিছু নতুন সমাজতাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জও সামনে নিয়ে এসেছে। উৎসবের ‘ভার্চুয়ালাইজেশন’ কি মানুষের সরাসরি সান্নিধ্যের আনন্দকে কমিয়ে দিচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমরা দেখি যে, প্রযুক্তি আসলে উৎসবের পরিধি বাড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু মানুষের ব্যক্তিগত উপস্থিতি এবং স্পর্শের আকাঙ্ক্ষাকে পুরোপুরি মেটাতে পারেনি। বরং দেখা যাচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারণার ফলে উৎসবে মানুষের সশরীরে অংশগ্রহণের হার আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। অর্থাৎ, ডিজিটাল জগত এখন বাস্তব জগতের উৎসবকে আরও বেশি প্রাণবন্ত করে তুলছে।

পহেলা বৈশাখের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বর্তমানে অপরিসীম। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বছরে এক বিশাল উদ্দীপনা বা ‘ইকোনমিক স্টিমুলাস’ সৃষ্টি করে। পোশাক শিল্প, বিশেষ করে হস্তচালিত তাঁত, জামদানি এবং বুটিক শিল্প এই সময়ে সবচেয়ে বেশি কর্মচঞ্চল থাকে। শাড়ি, পাঞ্জাবি এবং শিশুদের পোশাকের এক বিশাল বাজার তৈরি হয় যা কয়েক হাজার কোটি টাকার লেনদেনে পৌঁছায়। হস্তশিল্প, মৃৎশিল্প এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের উদ্যোক্তারা এই একটি উৎসবকে কেন্দ্র করে সারা বছরের আয়ের একটি বড় অংশ নিশ্চিত করেন।

গ্রামীণ মেলাগুলো কেবল চিত্তবিনোদনের জায়গা নয়, বরং এগুলো স্থানীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। নাগরদোলা থেকে শুরু করে মাটির হাঁড়ি-পাতিল, কাঠের খেলনা এবং লোকজ মিষ্টান্ন—সবকিছুর পেছনে জড়িয়ে আছে হাজার হাজার গ্রামীণ কারিগরের শ্রম। যারা আধুনিক যান্ত্রিক শিল্পায়নের যুগে কিছুটা পিছিয়ে পড়ছিলেন, পহেলা বৈশাখের এই মৌসুম তাদের শিল্পকর্মকে মূলধারার বাজারে নিয়ে আসার সুযোগ করে দেয়। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন হারিয়ে যাওয়া লোকশিল্প রক্ষা পাচ্ছে, অন্যদিকে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত হচ্ছে।

বাঙালির উৎসবে খাদ্য এক অপরিহার্য বিষয়। পান্তা-ইলিশের বিতর্ক ছাপিয়ে পহেলা বৈশাখের খাবারের টেবিলে থাকে বাংলার চিরায়ত বৈচিত্র্য। পিঠা-পুলি, খৈ-মুড়কি, নাড়ু, মোয়া এবং বিভিন্ন ধরনের ভর্তা আমাদের কৃষিভিত্তিক খাবারের ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। খাদ্য এখানে কেবল পেট ভরার মাধ্যম নয়, বরং এটি পারিবারিক বন্ধন এবং শৈশবের স্মৃতির ধারক।

আধুনিক ডায়েট সচেতন প্রজন্মের কাছে গুড়, চিঁড়া বা দইয়ের মতো প্রাকৃতিক খাবারের পুষ্টিগুণ নতুনভাবে আদৃত হচ্ছে। রিফাইন্ড চিনির বদলে প্রাকৃতিক মিষ্টান্নের ব্যবহার বাড়ছে, যা একটি স্বাস্থ্যকর সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। উৎসবের বিশেষ দিনগুলোতে মা-চাচিদের হাতের রান্নার যে সুবাস, তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বাঙালির হৃদয়ে এক অদৃশ্য সুতোর টান তৈরি করে রাখে। রেস্তোরাঁগুলোতে ঐতিহ্যবাহী খাবারের ‘ফিউশন’ তরুণদের কাছে আমাদের পুরোনো খাদ্যাভ্যাসকে আকর্ষণীয় করে তুলছে।

পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩-এর সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী বার্তা হলো সম্প্রীতি। এটি এমন একটি উৎসব যা কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। যখন বিশ্বে অসহিষ্ণুতা, উগ্রবাদ ও মেরুকরণ বাড়ছে, তখন পহেলা বৈশাখ আমাদের শেখায় কীভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি অভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিচয় ধারণ করতে হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রায় হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের ও সব মতের মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, আমাদের জাতীয় সত্তা আমাদের ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়েও বড়।

এই অসাম্প্রদায়িক চেতনাই বাংলাদেশের মূল শক্তি। পহেলা বৈশাখ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমরা প্রথমত বাঙালি, তারপর অন্য কিছু। এই ঐক্যবোধই আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রেরণা জুগিয়েছিল এবং আজও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে এটিই আমাদের প্রধান হাতিয়ার। সামাজিক টানাপড়েনের সময়েও পহেলা বৈশাখ এক পরম শান্তির ও ঐক্যের স্মারক হয়ে দাঁড়ায়।

পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩-কে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে আজকের ‘জেন-জি’ এবং তরুণ প্রজন্ম। তারা কেবল প্রথাগতভাবে উৎসব পালন করছে না, বরং তারা ঐতিহ্যের সাথে আধুনিক ফ্যাশনের এক চমৎকার ফিউশন ঘটাচ্ছে। তারা লোকমোটিফ নিয়ে ডিজিটাল আর্ট করছে, পডকাস্টের মাধ্যমে লোকসংগীত ও লোকগাথা প্রচার করছে এবং ইউটিউব বা টিকটকের মাধ্যমে বিশ্ব-দরবারে বাঙালির নববর্ষকে তুলে ধরছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চারুকলা ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রগুলোর ভূমিকা এই উৎসবের প্রাণশক্তি বজায় রাখছে। তরুণদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, বাঙালি সংস্কৃতি কোনো স্থবির বা মৃত বিষয় নয়, বরং এটি একটি গতিশীল খরস্রোতা নদী যা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ধারাকে গ্রহণ করে নিজেকে সমৃদ্ধ করে এগিয়ে চলে। তাদের হাতেই বাঙালির উত্তরাধিকার নিরাপদ।

বর্তমান বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের যুগে পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনে পরিবেশ সচেতনতা এখন এক অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের উৎসবের আলোচনায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্লাস্টিকমুক্ত সাজসজ্জার বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাধান্য পাচ্ছে। মৃৎশিল্প, পাট, খড় এবং বাঁশের সামগ্রীর ব্যবহার বাড়িয়ে পরিবেশবান্ধব উদ্যাপন নিশ্চিত করার দিকে সবার নজর বাড়ছে।

প্রকৃতি-নির্ভর বাংলা সংস্কৃতির মূল দর্শনই হলো প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে থাকা। ঋতুচক্রের এই আবর্তন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমরা প্রকৃতিরই অংশ। উৎসবের নামে আমরা যেন পরিবেশের ক্ষতি না করি, সেই শিক্ষা এখন মঙ্গল শোভাযাত্রার থিমগুলোতেও ফুটে উঠছে। পরিবেশ সচেতন এই নতুন ধারার উদ্যাপন পহেলা বৈশাখকে আরও অর্থবহ ও টেকসই করে তুলছে।

পহেলা বৈশাখ কেবল বাইরে দেখার উৎসব নয়, এটি বাঙালির মনের ভেতরেও এক বিশাল পরিবর্তনের ঢেউ তোলে। এটি শৈশব স্মৃতি, পারিবারিক মিলন এবং সম্প্রদায়ের আনন্দের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ। এই দিনে মানুষ পুরোনো ভেদাভেদ ভুলে শুভেচ্ছা বিনিময় করে, একে অপরের বাড়িতে যায় এবং নতুন বছরের জন্য শুভকামনা জানায়। এই সামাজিক মিথস্ক্রিয়া আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।

ব্যস্ত যান্ত্রিক জীবনে আমরা যখন ক্রমশ একা হয়ে পড়ছি, তখন পহেলা বৈশাখ আমাদের শেখায় ‘আমরা’ হওয়ার আনন্দ। এটি একটি সামাজিক পুনরারম্ভের অনুভূতি সৃষ্টি করে। মানুষ নতুন কাপড় পরে যখন রাস্তায় বের হয়, তখন তাদের চোখেমুখে যে আশা ও উদ্দীপনা দেখা যায়, তাই একটি জাতির জীবনীশক্তি। এই আনন্দই আমাদের সামনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার সাহস জোগায়।

বিশ্বের মানচিত্রে বাঙালির বিস্তৃতি আজ অভাবনীয়। লন্ডন থেকে ক্যানবেরা, টরন্টো থেকে দুবাই—প্রতিটি বড় শহরে আজ পহেলা বৈশাখ পালিত হয়। প্রবাসী বাঙালিরা তাদের নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের সংস্কৃতি পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই দিনটিকে বেছে নেন। বিদেশের মাটিতে লাল-সাদা শাড়ি ও পাঞ্জাবি পরে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করার দৃশ্য এখন সাধারণ। এইভাবে পহেলা বৈশাখ কেবল বাংলাদেশের উৎসব হিসেবে থাকেনি, এটি একটি বৈশ্বিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। এটি আমাদের জন্য এক বিশাল ‘সাফট পাওয়ার’ (Soft Power) যা বিশ্ববাসীর কাছে বাঙালির শান্তিপ্রিয় ও শিল্পমনস্ক ভাবমূর্তিকে তুলে ধরছে।

পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ কেবল একটি উৎসবের দিন নয়, এটি বাঙালির অস্তিত্বের মহাকাব্যিক জয়গান। এটি আমাদের স্থিতিশীলতা, সহনশীলতা এবং সৃজনশীলতার প্রতীক। প্রতিটি বছর পহেলা বৈশাখ আমাদের অতীতের গৌরব স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভবিষ্যতের এক সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।

রঙ, সংগীত, আনন্দ এবং ভ্রাতৃত্বের এই অমোঘ শক্তি আমাদের জাতীয় পরিচয়কে আরও উজ্জ্বল করুক। নববর্ষের এই আলোয় প্রতিটি বাঙালির মনে জাগ্রত হোক শুভবোধ এবং সম্মিলিত মঙ্গলের বাসনা। আমরা যেন আমাদের সংস্কৃতিকে বুকে ধারণ করে বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি—১৪৩৩ বঙ্গাব্দের এই মাহেন্দ্রক্ষণে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
শুভ নববর্ষ ১৪৩৩!

লেখক: গবেষক ও উন্নয়নকর্মী।

রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারের বাসায় গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষ করে রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর পল্লবীতে রামিসার বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী।

সেখানে নিহত রামিসার মা-বাবা ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন তিনি।

এরআগে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম হক রামিসাদের বাসায় গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন। আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন।

রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার আসামির দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ঘাতক সোহেল রানা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রধানমন্ত্রী ময়মনসিংহে যাচ্ছেন শনিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী ময়মনসিংহে যাচ্ছেন শনিবার

আগামী শনিবার (২৫ মে) ময়মনসিংহ জেলা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, শনিবার সকাল ৯ টায় ময়মনসিংহ ত্রিশালের উদ্দেশে যাত্রা (সড়ক পথে) শুরু করবেন। দুপুর ১২টায় ত্রিশালের বৈলর ইউনিয়নের ধরার খাল পুনঃখনন অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ও খাল খননের উদ্বোধন করবেন।

দুপুর ২টায় ত্রিশাল নজরুল ডাক বাংলোতে বিরতি শেষে বিকেল ৩টায় জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ত্রিশালের নজরুল মঞ্চে আয়োজিত নজরুল জন্মজয়ন্তীর জাতীয় অনুষ্ঠানে যোগদান ও তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন।

বিকেল ৫টায় ত্রিশাল নজরুল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ময়মনসিংহ উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগদান শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা (সড়ক পথে) করবেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হতে চান ট্রাম্প!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হতে চান ট্রাম্প!

মার্কিন প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষে ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ৯৯ শতাংশ ইসরায়েলি তাকে সমর্থন করে।

বুধবার (২০ মে) মার্কিন কোস্ট গার্ড একাডেমির স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ইসরায়েলে নিজের বিপুল জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘এই কাজ (মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব) শেষ করার পর হয়তো আমি ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি। আজ সকালে আমি একটি জনমত জরিপ করেছি। দেশটিতে আমার সমর্থন ৯৯ শতাংশ।’ তবে তিনি কোন জরিপের কথা বলছেন তা স্পষ্ট করেননি।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প আধিপত্যের সুরে বলেন, ‘তিনি খুব ভালো মানুষ এবং আমি যা বলব তিনি সেটাই করবেন। তিনি একজন অসাধারণ ব্যক্তি।’

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নেতানিয়াহুকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না অভিযোগ করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ভুলে যাবেন না যে তিনি একজন যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু তার সঙ্গে সঠিক আচরণ করা হয় না।’

এদিকে ইসরায়েলের গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তার এই বক্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটিকে ট্রাম্পের স্বভাবসুলভ রাজনৈতিক রসিকতা হিসেবে দেখা হলেও নেতানিয়াহুর ওপর তার মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রকাশের ধরনটি নিয়ে নানা মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

ট্রাম্পের সমর্থকরা এই মন্তব্যকে তার স্বভাবসুলভ কৌতুক ও আত্মবিশ্বাসের অংশ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং আব্রাহাম অ্যাকর্ডস চুক্তির মতো ঐতিহাসিক পদক্ষেপের কারণে ট্রাম্প আসলেই ইসরায়েলিদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

অন্যদিকে ট্রাম্পের সমালোচকরা এটিকে একটি ‘রাজনৈতিক থিয়েটার’ এবং মনোযোগ আকর্ষণের সস্তা কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, ‘ট্রাম্প এখনই হোয়াইট হাউস ছেড়ে ইসরায়েলে চলে যান না কেন?’

এছাড়াও ‘নেতানিয়াহুকে আমি যা বলব তিনি সেটাই করবেন’— ট্রাম্পের এমন মন্তব্যও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান ও গাজা সংকটের মধ্যে এই বক্তব্য ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুকে একজন স্বাধীন রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়ে ট্রাম্পের অনুগত হিসেবে উপস্থাপন করায় ইসরায়েলের ভেতরের অনেক ডানপন্থী নেতা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

সূত্র: ইউএস টুডে, এনডিটিভি

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ