খুঁজুন
                               
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

ঢাকার ট্রাফিক জ্যাম: সমস্যা নয়, এক ব্যবস্থাগত বিপর্যয়

লে. কর্নেল খন্দকার মাহমুদ হোসেন, এসপিপি, ‍পিএসসি (অব.)
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
ঢাকার ট্রাফিক জ্যাম: সমস্যা নয়, এক ব্যবস্থাগত বিপর্যয়

ঢাকা মহানগরীর যানজট আজ বাংলাদেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি এবং নগর ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে জটিল সমস্যাগুলোর একটি। এটি কেবল একটি ট্রাফিক সমস্যা নয়; বরং এটি একটি বহুমাত্রিক সংকট, যা অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং নাগরিক জীবনের মানকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। ঢাকা বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শহর এবং দ্রুত নগরায়ণের ফলে এটি এক গুরুতর পরিবহন সংকটে নিমজ্জিত। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ কর্মঘণ্টা হারাচ্ছে, জ্বালানির অপচয় হচ্ছে এবং পরিবেশদূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ঢাকার যানজটের ইতিহাস প্রায় ছয় দশকব্যাপী একটি ধীর কিন্তু ধারাবাহিক অবনতির প্রতিচ্ছবি। ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে ঢাকা ছিল একটি সীমিত পরিসরের শহর, যেখানে জনসংখ্যা এবং যানবাহনের সংখ্যা উভয়ই কম ছিল। কিন্তু এই সময়েই ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনার যে ভিত্তি স্থাপন করা প্রয়োজন ছিল, তা করা হয়নি।

১৯৯০–২০১০ সময়কাল ঢাকার যানজট সমস্যার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, কিন্তু সড়ক অবকাঠামো সেই হারে বাড়েনি। ফলে একটি সুস্পষ্ট demand–supply imbalance তৈরি হয়। ২০১০ সালের পর ঢাকা একটি পূর্ণাঙ্গ মেগাসিটিতে পরিণত হলে এই সমস্যা জাতীয় সংকটে রূপ নেয়। বর্তমানে ঢাকার মেট্রোপলিটন এলাকার জনসংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ এবং বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চল (গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভারসহ) মিলিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ, যা জনঘনত্বের বিচারে বিশ্বের সর্বোচ্চ নগর অঞ্চলগুলোর একটি। এই বিপুল জনসংখ্যা প্রতিদিন বিশাল পরিবহন চাহিদা তৈরি করছে, যা বিদ্যমান অবকাঠামো দিয়ে সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

একই সঙ্গে ঢাকার ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনসংখ্যাগত চাপ এই সমস্যাকে আরও জটিল করেছে। নদীবেষ্টিত হওয়ায় শহরের সম্প্রসারণ সীমিত এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার রাস্তার সংখ্যাও কম। একই সঙ্গে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভারসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ ও যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ করে, যা শহরের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এই “inbound–outbound traffic pressure” ঢাকার যানজটকে একটি আঞ্চলিক সমস্যায় পরিণত করেছে। শহরের চারপাশে কার্যকর রিং রোড বা বাইপাস না থাকায় এসব যানবাহন শহরের ভেতর দিয়েই চলাচল করে, যা যানজটকে আরও তীব্র করে তোলে।

ঢাকা শহরের ট্রাফিক জ্যামের মূল কারণসমূহ

ঢাকার যানজট কেবল রাস্তার সংখ্যা কম হওয়ার কারণে নয়; বরং রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, বিমানবন্দর, নদীসেতু, অসমন্বিত সড়ক নেটওয়ার্ক, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং অপর্যাপ্ত গণপরিবহন—সব মিলিয়ে এটি একটি বহুমাত্রিক সমস্যা। এসব উপাদান সম্মিলিতভাবে ঢাকার ট্রাফিক জ্যাম বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

১. রেলওয়ে স্টেশনসমূহ ও ট্রাফিক জ্যাম

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন দেশের বৃহত্তম ও ব্যস্ততম রেলস্টেশন। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এখানে আসা-যাওয়া করে। স্টেশন ঘিরে অতিরিক্ত রিকশা, সিএনজি, বাস ও প্রাইভেট কারের জমায়েত হয়। যাত্রী ওঠানামার জন্য রাস্তার পাশে গাড়ি দাঁড় করানো হয়। ফলে আশপাশের সড়ক—যেমন মতিঝিল, আরামবাগ ও কমলাপুর এলাকায় যানবাহনের গতি কমে যায়।

ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন ঢাকার দ্বিতীয় ব্যস্ততম স্টেশন, যা আন্তঃনগর, লোকাল ও কমিউটার ট্রেনসেবা প্রদান করে। বিমানবন্দর এলাকায় আগে থেকেই যানজট থাকে। ট্রেনযাত্রী, বিমানযাত্রী, কর্মজীবী ও অফিসগামী মানুষের চাপ একই করিডোরে পড়ে। এ ছাড়া এয়ারপোর্ট রোডে বাস, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের মিশ্র চলাচল জট সৃষ্টি করে।

ঢাকার বহু এলাকায় রাস্তা কার্যত পার্কিংয়ে পরিণত হয়েছে। রাস্তার এক পাশ দখল করে পার্কিং করার ফলে দুই লেনের রাস্তা এক লেনে নেমে আসে। অনেক বাণিজ্যিক ভবনে পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা নেই। ফলে শপিংমল, হাসপাতাল ও অফিসের গাড়ি বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রী নামিয়ে গাড়ি চলে না গিয়ে সড়কেই অপেক্ষা করে, যা যানজট আরও বাড়িয়ে তোলে।

গেন্ডারিয়া রেলওয়ে স্টেশন নারায়ণগঞ্জ ও পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-যশোর লাইনের সঙ্গে যুক্ত। এটি পুরান ঢাকার সরু ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। যাত্রী ও পণ্য পরিবহন একসঙ্গে চলাচল করায় স্থানীয় যানজট আরও বৃদ্ধি পায়।

তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশন লোকাল ট্রেন ও পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল হওয়ায় সেখানে ট্রাক, লরি ও পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচল বেশি। একই এলাকায় অফিসগামী ও মালবাহী যানবাহনের চাপ একত্রে পড়লে সড়ক অচল হয়ে পড়ে এবং তার প্রভাব শহরের অন্যান্য সড়কেও বিস্তার লাভ করে।

২. বাস টার্মিনালসমূহ ও ট্রাফিক জ্যাম

সায়েদাবাদ, মহাখালী এবং গাবতলী বাস টার্মিনাল যথাক্রমে ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান সংযোগকেন্দ্র। এসব এলাকায় আন্তঃজেলা বাস শহরের কেন্দ্রের কাছাকাছি প্রবেশ করে। যাত্রী ওঠানামা, টিকিটিং, বাস পার্কিং, হকারদের দখল এবং অনিয়মিত লেন ব্যবহারের কারণে যানজট বাড়ে। দূরপাল্লার বাস শহরের ভেতরে প্রবেশ করে স্থানীয় যানবাহনের সঙ্গে মিশে গিয়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

এ ছাড়া ফুলবাড়িয়া ও বাবুবাজার টার্মিনাল পুরান ঢাকার সংকীর্ণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় ট্রাফিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। এসব টার্মিনালকে মূল শহরের বাইরে স্থানান্তর করা অত্যন্ত জরুরি।

৩. অসমন্বিত সড়ক নেটওয়ার্ক

ঢাকার অন্যতম বড় সমস্যা হলো পরিকল্পিত সড়ক কাঠামোর অভাব। শহরের সরু ও বিচ্ছিন্ন রাস্তা, জরুরি যানবাহনের প্রবেশে সমস্যা, বড় সড়কের সঙ্গে পর্যাপ্ত ফিডার রোডের অভাব এবং রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে সব যানবাহন একই সড়কে জমা হয়। বিকল্প রুট কম থাকায় কোনো এক স্থানে দুর্ঘটনা ঘটলে পুরো এলাকা অচল হয়ে পড়ে, যা “chain effect” সৃষ্টি করে। সীমিত সড়ক নেটওয়ার্কের মধ্যে আবার প্রায় ৮৫ শতাংশ রাস্তা দ্বিমুখী চলাচলের জন্য উপযুক্ত নয়।

৪. সেতুসমূহ ও যানজট

ঢাকা শহরে পোস্তাগোলা, বাবুবাজার ও বাসিলা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু রয়েছে, যা রাজধানীকে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করেছে। দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকায় প্রবেশকারী বিপুল সংখ্যক যানবাহন এসব সেতু ব্যবহার করে। ফলে সেতুর দুই প্রান্তে ট্রাফিকের “bottleneck” তৈরি হয় এবং যানজট বৃদ্ধি পায়।

৫. বিমানবন্দরকেন্দ্রিক যানজট

ঢাকা বিমানবন্দর সড়ক সবসময়ই চাপপূর্ণ থাকে। এই সড়ক একাধারে বিমানবন্দরের প্রবেশপথ এবং উত্তরাঞ্চলের প্রধান সড়ক করিডোর। বিমানবন্দরে আসা-যাওয়ার কারণে যাত্রীবাহী গাড়ি, ট্যাক্সি, রাইডশেয়ার, কর্মচারী পরিবহন ও মালবাহী যানবাহন একই করিডোর ব্যবহার করে। ভিআইপি চলাচল ও নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধও অনেক সময় যান চলাচলে বিলম্ব সৃষ্টি করে।

৬. স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক যানজট

ঢাকা শহরের অনেক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান সড়কের পাশে বা আবাসিক এলাকার মধ্যে অবস্থিত। এসব এলাকায় পিক আওয়ারে তীব্র যানজট তৈরি হয়। প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একই সময়ে শুরু ও ছুটি হওয়ায় সকালে নির্দিষ্ট সময়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবক একসঙ্গে প্রবেশ ও বের হন।

অনেক অভিভাবক সন্তানকে ব্যক্তিগত গাড়িতে আনা-নেওয়া করেন। একজন শিক্ষার্থীর জন্য একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের ফলে রাস্তার কার্যকর ধারণক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পায়। অনেক গাড়ি স্কুলগেট বা আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকে, ফলে কার্যত একটি লেন অচল হয়ে পড়ে। এ ছাড়া স্কুলভ্যান, মাইক্রোবাস, সিএনজি ও রিকশার মিশ্র চলাচল পরিস্থিতিকে আরও বিশৃঙ্খল করে তোলে।

৭. শহর ও রাস্তা-কেন্দ্রিক বাজার

ঢাকার অনেক বাজার ও বাণিজ্যকেন্দ্র প্রধান সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে। ফলে ক্রেতা ও পণ্যবাহী যানবাহনের ওঠানামার কারণে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। রাস্তা ও ফুটপথের ওপর দোকান সম্প্রসারণের ফলে চলাচলের পথ সংকুচিত হয়। ঢাকার অধিকাংশ ফুটপথই ব্যবহার অনুপযোগী। এ ছাড়া রাস্তায় দোকানের পণ্য অনিয়ন্ত্রিতভাবে লোডিং-আনলোডিং করার কারণেও যানজট বৃদ্ধি পায়।

৮. যত্রতত্র গাড়ি দাঁড়ানো ও অবৈধ পার্কিং

ঢাকার বহু এলাকায় রাস্তা কার্যত পার্কিংয়ে পরিণত হয়েছে। রাস্তার এক পাশ দখল করে পার্কিং করার ফলে দুই লেনের রাস্তা এক লেনে নেমে আসে। অনেক বাণিজ্যিক ভবনে পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা নেই। ফলে শপিংমল, হাসপাতাল ও অফিসের গাড়ি বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রী নামিয়ে গাড়ি চলে না গিয়ে সড়কেই অপেক্ষা করে, যা যানজট আরও বাড়িয়ে তোলে।

(ধারাবাহিক চলবে)

লেখক: আরবান ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ, রেজিস্ট্রার ও খণ্ডকালীন ফ্যাকাল্টি, BAIUST।

জীবন কোনোদিনই সরল ছিল না— নতুন সিনেমার ট্রেলার শেয়ার করে জয়া

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
জীবন কোনোদিনই সরল ছিল না— নতুন সিনেমার ট্রেলার শেয়ার করে জয়া

শুক্রবার (২৬ জুন) প্রকাশ পেয়েছে জয়া আহসান অভিনীত আলোচিত চলচ্চিত্র ‘অর্ধাঙ্গিনী’র দ্বিতীয় কিস্তি ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’র ট্রেলার। সেটি সামাজিক মাধ্যমে নিজেও প্রকাশ করেন জয়া। সঙ্গে জীবনের জটিল সমীকরণ নিয়ে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

পোস্টে জয়া আহসান লিখেছেন, জীবন কোনোদিনই সরল ছিলো না, হবেও না। তবু সমীকরণ বদলে বদলে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে চায় মানুষ।

সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, এই অনন্ত খোঁজের খেলায় কোনও প্রাক্তন বা বর্তমানের ভেদাভেদ থাকে না। সব গণ্ডি মুছে যায়! এরকমই সামনে চলার কঠিন একটা দলিল ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’।

আগামী ১০ জুলাই কলকাতার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে গুণী নির্মাতা কৌশিক গাঙ্গুলী পরিচালিত এই সিনেমাটি। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অর্ধাঙ্গিনী’ ছিল সম্পর্কের সূক্ষ্ম টানাপোড়েনের এক মর্মস্পর্শী গল্প, যা দর্শকদের ভাবতে শিখিয়েছিল সম্পর্কের ভাঙন, ভালোবাসা, অভিমান এবং ক্ষমার মতো গভীর বিষয়গুলো নিয়ে।

এর আগে সিনেমাটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জয়া আহসান বলেছিলেন, অর্ধাঙ্গিনী ছিল অত্যন্ত পরিণত ও সংবেদনশীল একটি গল্প। সেই গল্পের পরবর্তী অংশে কাজ করতে পারাটা আমার জন্য আনন্দের।

সুরিন্দর ফিল্মসের প্রযোজনায় নির্মিত ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমায় আগের কিস্তির কৌশিক সেন, চূর্ণী গাঙ্গুলী ও জয়া আহসানের পাশাপাশি এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছেন অভিনেতা ইন্দ্রাশিস রায় ও অম্বরীশ ভট্টাচার্য। আগামী ১০ জুলাই সিনেমাটি মুক্তির পরই জানা যাবে প্রথম সিনেমার আবেগময় যাত্রাকে নতুন এই অধ্যায় কতটা এগিয়ে নিতে পারে

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

‘কওমী মাদরাসা থেকে ১০ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেবে সরকার’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
‘কওমী মাদরাসা থেকে ১০ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেবে সরকার’

সরকার প্রাথমিকভাবে কওমী মাদরাসা থেকে প্রায় ১০ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। তিনি বলেন, সরকার কওমী শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করছে। মাদরাসার প্রচলিত ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি কওমী শিক্ষার্থীদের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও আধুনিক শিক্ষায় দক্ষ হয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।

শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে পটিয়ার আল-জামিয়াতুল আরাবিয়াতুল ইসলামিয়া জিরি মাদরাসায় দাওয়াহ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের নবনির্মিত একাডেমিক ও আবাসিক ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এনামুল হক এনাম বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর কারিগরি শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সরকার কারিগরি শিক্ষার প্রসারে জোর দিচ্ছে। তিনি পটিয়ায় একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও দেন।

মাদরাসার প্রধান পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ খোবাইবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মীর গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম, শিল্পপতি শামসুল আলম, সালমা গ্রুপের চেয়ারম্যান শামসুল আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম, নুরুল আবছার, মোহাম্মদ আলী, বদিউল আলম, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, ইমতিয়াজ হোসেন বেলাল, আবু তাহের সওদাগর, শফিকুল আলম চেয়ারম্যান, মঈনুল আলম ছোটন, মাওলানা লুৎফুর রহমান, মুফতি এমদাদ উল্লাহ, কারী মো. লোকমান, মুফতি শোয়াইব, বিএনপি নেতা মনজুর আলম এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব অহিদুল আলম চৌধুরী পিবলুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে নবনির্মিত একাডেমিক ও আবাসিক ভবনের উদ্বোধনের পাশাপাশি কওমী শিক্ষার মানোন্নয়ন, আধুনিক শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে কারিগরি ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

চীনে ১০৯ তলা ভবনে বিমান বিধ্বস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১:১৭ পূর্বাহ্ণ
চীনে ১০৯ তলা ভবনে বিমান বিধ্বস্ত

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সবচেয়ে উঁচু ভবন সিটিক টাওয়ারে আছড়ে পড়েছে একটি হালকা স্পোর্টস বিমান। ১০৯ তলাবিশিষ্ট এই ভবনে বিমান আছড়ে পড়ার পর বেইজিংয়ের সেন্ট্রাল বিজনেস ডিসট্রিক্টে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই ভবনটি খালি করা হয়। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের।

দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, কিংবা বিমানে কতজন আরোহী ছিলেন–তাৎক্ষণিকভাবে এসব তথ্য জানা যায়নি। বিমানটির উৎস এবং কী পরিস্থিতিতে এটি ভবনটিতে আঘাত করে, সে বিষয়েও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানটি ৫২৮ মিটার (১ হাজার ৭৩২ ফুট) উঁচু টাওয়ারটির ওপরের দিকে আঘাত করছে। ভবন এবং বিমানের ভেঙে পড়া অংশ আশপাশের ফুটপাতে ছড়িয়ে পড়ছে। অন্য কিছু ভিডিওতে ভবন থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়ার দৃশ্য দেখা যায়।

লিন নামের এক নারী সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে জানান, স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে জরুরি ভিত্তিতে ভবনটি থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। তিনি বলেন, ‘আমি পরিচয়পত্র বা ব্যাগ নেয়ারও সুযোগ পাইনি, দৌড়ে বেরিয়ে এসেছি।’

কাছের একটি ভবনে কর্মরত এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিকেল প্রায় ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি একটি বিকট শব্দ শুনেছিলেন, তবে দুর্ঘটনার দৃশ্য দেখেননি তিনি। পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের সড়কগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া ভবনের কাছে বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষের ছবিতে দেখা যায়, বিমানের নিবন্ধন নম্বর বি-১২পিপি। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি ছিল সানওয়ার্ড এসএ৬০এল অরোরা মডেলের দুই আসনের এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট হালকা স্পোর্টস বিমান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টে দাবি করা হয়, বিমানটি একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় ছিল। প্রতিষ্ঠানতি প্রাইভেট পাইলট প্রশিক্ষণ, আকাশ ভ্রমণ এবং বিমান ব্যবস্থাপনা সেবা দিয়ে থাকে।

এখন পর্যন্ত চীনা কর্তৃপক্ষ এ ঘটনা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত পোস্টগুলো দ্রুত চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলা হয় বলে জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। এর ফলে এটি স্রেফ দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে হামলা বা অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে–তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা দেখা দিয়েছে।

বেইজিংয়ে যেকোনও হালকা স্পোর্টস বিমান ওড়ানোর জন্য চীনের বেসামরিক বিমান চলাচল প্রশাসন এবং পিপল’স লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্সের (পিএলএএএফ) অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

গত মাসেই আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক নতুন বিধিনিষেধ জারি করে বেইজিং কর্তৃপক্ষ। যার ফলে বিনোদনমূলক উড্ডয়ন এবং ভোক্তা পর্যায়ের ড্রোন কার্যত নিষিদ্ধ হয়ে যায়।

সব ধরনের উড্ডয়নের জন্য আগাম সরকারি ও এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি ড্রোন বা এর মূল যন্ত্রাংশ উড়ানো, বিক্রি, ভাড়া দেয়া বা বহন করাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি