খুঁজুন
                               
, ,
           

ঢাকার ট্রাফিক জ্যাম: সমস্যা নয়, এক ব্যবস্থাগত বিপর্যয়

লে. কর্নেল খন্দকার মাহমুদ হোসেন, এসপিপি, ‍পিএসসি (অব.)
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
ঢাকার ট্রাফিক জ্যাম: সমস্যা নয়, এক ব্যবস্থাগত বিপর্যয়

ঢাকা মহানগরীর যানজট আজ বাংলাদেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি এবং নগর ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে জটিল সমস্যাগুলোর একটি। এটি কেবল একটি ট্রাফিক সমস্যা নয়; বরং এটি একটি বহুমাত্রিক সংকট, যা অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং নাগরিক জীবনের মানকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। ঢাকা বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শহর এবং দ্রুত নগরায়ণের ফলে এটি এক গুরুতর পরিবহন সংকটে নিমজ্জিত। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ কর্মঘণ্টা হারাচ্ছে, জ্বালানির অপচয় হচ্ছে এবং পরিবেশদূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ঢাকার যানজটের ইতিহাস প্রায় ছয় দশকব্যাপী একটি ধীর কিন্তু ধারাবাহিক অবনতির প্রতিচ্ছবি। ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে ঢাকা ছিল একটি সীমিত পরিসরের শহর, যেখানে জনসংখ্যা এবং যানবাহনের সংখ্যা উভয়ই কম ছিল। কিন্তু এই সময়েই ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনার যে ভিত্তি স্থাপন করা প্রয়োজন ছিল, তা করা হয়নি।

১৯৯০–২০১০ সময়কাল ঢাকার যানজট সমস্যার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, কিন্তু সড়ক অবকাঠামো সেই হারে বাড়েনি। ফলে একটি সুস্পষ্ট demand–supply imbalance তৈরি হয়। ২০১০ সালের পর ঢাকা একটি পূর্ণাঙ্গ মেগাসিটিতে পরিণত হলে এই সমস্যা জাতীয় সংকটে রূপ নেয়। বর্তমানে ঢাকার মেট্রোপলিটন এলাকার জনসংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ এবং বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চল (গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভারসহ) মিলিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ, যা জনঘনত্বের বিচারে বিশ্বের সর্বোচ্চ নগর অঞ্চলগুলোর একটি। এই বিপুল জনসংখ্যা প্রতিদিন বিশাল পরিবহন চাহিদা তৈরি করছে, যা বিদ্যমান অবকাঠামো দিয়ে সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

একই সঙ্গে ঢাকার ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনসংখ্যাগত চাপ এই সমস্যাকে আরও জটিল করেছে। নদীবেষ্টিত হওয়ায় শহরের সম্প্রসারণ সীমিত এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার রাস্তার সংখ্যাও কম। একই সঙ্গে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভারসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ ও যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ করে, যা শহরের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এই “inbound–outbound traffic pressure” ঢাকার যানজটকে একটি আঞ্চলিক সমস্যায় পরিণত করেছে। শহরের চারপাশে কার্যকর রিং রোড বা বাইপাস না থাকায় এসব যানবাহন শহরের ভেতর দিয়েই চলাচল করে, যা যানজটকে আরও তীব্র করে তোলে।

ঢাকা শহরের ট্রাফিক জ্যামের মূল কারণসমূহ

ঢাকার যানজট কেবল রাস্তার সংখ্যা কম হওয়ার কারণে নয়; বরং রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, বিমানবন্দর, নদীসেতু, অসমন্বিত সড়ক নেটওয়ার্ক, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং অপর্যাপ্ত গণপরিবহন—সব মিলিয়ে এটি একটি বহুমাত্রিক সমস্যা। এসব উপাদান সম্মিলিতভাবে ঢাকার ট্রাফিক জ্যাম বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

১. রেলওয়ে স্টেশনসমূহ ও ট্রাফিক জ্যাম

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন দেশের বৃহত্তম ও ব্যস্ততম রেলস্টেশন। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এখানে আসা-যাওয়া করে। স্টেশন ঘিরে অতিরিক্ত রিকশা, সিএনজি, বাস ও প্রাইভেট কারের জমায়েত হয়। যাত্রী ওঠানামার জন্য রাস্তার পাশে গাড়ি দাঁড় করানো হয়। ফলে আশপাশের সড়ক—যেমন মতিঝিল, আরামবাগ ও কমলাপুর এলাকায় যানবাহনের গতি কমে যায়।

ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন ঢাকার দ্বিতীয় ব্যস্ততম স্টেশন, যা আন্তঃনগর, লোকাল ও কমিউটার ট্রেনসেবা প্রদান করে। বিমানবন্দর এলাকায় আগে থেকেই যানজট থাকে। ট্রেনযাত্রী, বিমানযাত্রী, কর্মজীবী ও অফিসগামী মানুষের চাপ একই করিডোরে পড়ে। এ ছাড়া এয়ারপোর্ট রোডে বাস, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের মিশ্র চলাচল জট সৃষ্টি করে।

ঢাকার বহু এলাকায় রাস্তা কার্যত পার্কিংয়ে পরিণত হয়েছে। রাস্তার এক পাশ দখল করে পার্কিং করার ফলে দুই লেনের রাস্তা এক লেনে নেমে আসে। অনেক বাণিজ্যিক ভবনে পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা নেই। ফলে শপিংমল, হাসপাতাল ও অফিসের গাড়ি বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রী নামিয়ে গাড়ি চলে না গিয়ে সড়কেই অপেক্ষা করে, যা যানজট আরও বাড়িয়ে তোলে।

গেন্ডারিয়া রেলওয়ে স্টেশন নারায়ণগঞ্জ ও পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-যশোর লাইনের সঙ্গে যুক্ত। এটি পুরান ঢাকার সরু ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। যাত্রী ও পণ্য পরিবহন একসঙ্গে চলাচল করায় স্থানীয় যানজট আরও বৃদ্ধি পায়।

তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশন লোকাল ট্রেন ও পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল হওয়ায় সেখানে ট্রাক, লরি ও পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচল বেশি। একই এলাকায় অফিসগামী ও মালবাহী যানবাহনের চাপ একত্রে পড়লে সড়ক অচল হয়ে পড়ে এবং তার প্রভাব শহরের অন্যান্য সড়কেও বিস্তার লাভ করে।

২. বাস টার্মিনালসমূহ ও ট্রাফিক জ্যাম

সায়েদাবাদ, মহাখালী এবং গাবতলী বাস টার্মিনাল যথাক্রমে ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান সংযোগকেন্দ্র। এসব এলাকায় আন্তঃজেলা বাস শহরের কেন্দ্রের কাছাকাছি প্রবেশ করে। যাত্রী ওঠানামা, টিকিটিং, বাস পার্কিং, হকারদের দখল এবং অনিয়মিত লেন ব্যবহারের কারণে যানজট বাড়ে। দূরপাল্লার বাস শহরের ভেতরে প্রবেশ করে স্থানীয় যানবাহনের সঙ্গে মিশে গিয়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

এ ছাড়া ফুলবাড়িয়া ও বাবুবাজার টার্মিনাল পুরান ঢাকার সংকীর্ণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় ট্রাফিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। এসব টার্মিনালকে মূল শহরের বাইরে স্থানান্তর করা অত্যন্ত জরুরি।

৩. অসমন্বিত সড়ক নেটওয়ার্ক

ঢাকার অন্যতম বড় সমস্যা হলো পরিকল্পিত সড়ক কাঠামোর অভাব। শহরের সরু ও বিচ্ছিন্ন রাস্তা, জরুরি যানবাহনের প্রবেশে সমস্যা, বড় সড়কের সঙ্গে পর্যাপ্ত ফিডার রোডের অভাব এবং রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে সব যানবাহন একই সড়কে জমা হয়। বিকল্প রুট কম থাকায় কোনো এক স্থানে দুর্ঘটনা ঘটলে পুরো এলাকা অচল হয়ে পড়ে, যা “chain effect” সৃষ্টি করে। সীমিত সড়ক নেটওয়ার্কের মধ্যে আবার প্রায় ৮৫ শতাংশ রাস্তা দ্বিমুখী চলাচলের জন্য উপযুক্ত নয়।

৪. সেতুসমূহ ও যানজট

ঢাকা শহরে পোস্তাগোলা, বাবুবাজার ও বাসিলা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু রয়েছে, যা রাজধানীকে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করেছে। দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকায় প্রবেশকারী বিপুল সংখ্যক যানবাহন এসব সেতু ব্যবহার করে। ফলে সেতুর দুই প্রান্তে ট্রাফিকের “bottleneck” তৈরি হয় এবং যানজট বৃদ্ধি পায়।

৫. বিমানবন্দরকেন্দ্রিক যানজট

ঢাকা বিমানবন্দর সড়ক সবসময়ই চাপপূর্ণ থাকে। এই সড়ক একাধারে বিমানবন্দরের প্রবেশপথ এবং উত্তরাঞ্চলের প্রধান সড়ক করিডোর। বিমানবন্দরে আসা-যাওয়ার কারণে যাত্রীবাহী গাড়ি, ট্যাক্সি, রাইডশেয়ার, কর্মচারী পরিবহন ও মালবাহী যানবাহন একই করিডোর ব্যবহার করে। ভিআইপি চলাচল ও নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধও অনেক সময় যান চলাচলে বিলম্ব সৃষ্টি করে।

৬. স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক যানজট

ঢাকা শহরের অনেক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান সড়কের পাশে বা আবাসিক এলাকার মধ্যে অবস্থিত। এসব এলাকায় পিক আওয়ারে তীব্র যানজট তৈরি হয়। প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একই সময়ে শুরু ও ছুটি হওয়ায় সকালে নির্দিষ্ট সময়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবক একসঙ্গে প্রবেশ ও বের হন।

অনেক অভিভাবক সন্তানকে ব্যক্তিগত গাড়িতে আনা-নেওয়া করেন। একজন শিক্ষার্থীর জন্য একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের ফলে রাস্তার কার্যকর ধারণক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পায়। অনেক গাড়ি স্কুলগেট বা আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকে, ফলে কার্যত একটি লেন অচল হয়ে পড়ে। এ ছাড়া স্কুলভ্যান, মাইক্রোবাস, সিএনজি ও রিকশার মিশ্র চলাচল পরিস্থিতিকে আরও বিশৃঙ্খল করে তোলে।

৭. শহর ও রাস্তা-কেন্দ্রিক বাজার

ঢাকার অনেক বাজার ও বাণিজ্যকেন্দ্র প্রধান সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে। ফলে ক্রেতা ও পণ্যবাহী যানবাহনের ওঠানামার কারণে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। রাস্তা ও ফুটপথের ওপর দোকান সম্প্রসারণের ফলে চলাচলের পথ সংকুচিত হয়। ঢাকার অধিকাংশ ফুটপথই ব্যবহার অনুপযোগী। এ ছাড়া রাস্তায় দোকানের পণ্য অনিয়ন্ত্রিতভাবে লোডিং-আনলোডিং করার কারণেও যানজট বৃদ্ধি পায়।

৮. যত্রতত্র গাড়ি দাঁড়ানো ও অবৈধ পার্কিং

ঢাকার বহু এলাকায় রাস্তা কার্যত পার্কিংয়ে পরিণত হয়েছে। রাস্তার এক পাশ দখল করে পার্কিং করার ফলে দুই লেনের রাস্তা এক লেনে নেমে আসে। অনেক বাণিজ্যিক ভবনে পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা নেই। ফলে শপিংমল, হাসপাতাল ও অফিসের গাড়ি বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রী নামিয়ে গাড়ি চলে না গিয়ে সড়কেই অপেক্ষা করে, যা যানজট আরও বাড়িয়ে তোলে।

(ধারাবাহিক চলবে)

লেখক: আরবান ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ, রেজিস্ট্রার ও খণ্ডকালীন ফ্যাকাল্টি, BAIUST।

সকালের মধ্যে যেসব অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সকালের মধ্যে যেসব অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

সকাল ৯টার মধ্যে দেশের ৮টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে আবহাওয়া অধিদফতরের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া বিশেষ পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের সই করা আবহাওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে– খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলে অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর (পুন. ১ নম্বর) নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার (৫ দিন) আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করেছে।

এটি বর্তমানে উত্তর ওড়িশা এবং তৎসংলগ্ন বিহার-গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে।

এর প্রভাবে আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

উন্নয়নকাজে অনিয়মে ঠিকাদারকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করা হবে: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ২:৫১ পূর্বাহ্ণ
উন্নয়নকাজে অনিয়মে ঠিকাদারকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করা হবে: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। তিনি বলেছেন, প্রকল্পে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্ল্যাকলিস্টেড (কালো তালিকাভুক্ত) করা হবে এবং প্রয়োজনে টেন্ডারও বাতিল করা হবে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত উন্নয়নমূলক কাজ ও বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সততা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কাজ শেষ করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সময়মতো কাজ শেষ না হলে কিংবা প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট টেন্ডার বাতিল করা হবে।

তিনি জানান, প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা শুধু জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব প্রতিনিধিদলই নয়, একটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমেও যাচাই করা হবে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও নিশ্চিত হবে।

আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে উন্নয়ন প্রকল্পে অস্বাভাবিক মুনাফার প্রবণতা পরিহার করে কম মুনাফায় সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প হস্তান্তরের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় ঠিকাদারি ও নির্মাণকাজে যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি না ঘটে, সে বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নিবন্ধিত ঠিকাদারদের সতর্ক করা হয়।

মতবিনিময় সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম, সদস্য মো. আব্দুল গোফফার, প্রকৌশলী আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহজালাল মজুমদার, পরিচালক ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন, মো. মেহেদী হাসানসহ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী এবং নিবন্ধিত ঠিকাদারদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

পাবনায় ৫০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ

পাবনা(বেড়া) প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
পাবনায় ৫০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ

শিক্ষার্থীদের মৌলিক স্বাক্ষরতা ও সংখ্যা জ্ঞান (এফএলএন) কর্মসূচির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতার অভিযোগে পাবনার বেড়া উপজেলার ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব প্রধান ও সহকারী শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

গত রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত এ নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এতে বলা হয়েছে, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় গত ৩০ জুনের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা রিডিং, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিতের চারটি মৌলিক নিয়ম (যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাবলীল ইংরেজি রিডিং নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, একাধিক নির্দেশনা ও তদারকির পরও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এ অবস্থায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখন দক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার এফএলএন কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শোকজপ্রাপ্ত স্কুলগুলোর মধ্যে রয়েছে– রূপগঞ্জ, আকনাই, কোমরপুর, শ্যামপুর, চর নতিবপুর, পুরান মাসুমদিয়া, নতুন মীরপুর, রতনগঞ্জ, ঢালারচর, খাস ঢালারচর, রামনারায়ণপুর, মাসুমদিয়া কাজীপাড়া, মহিষাখোলা, দুর্গাপুর, সিন্দুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রমুখ।

তবে এ বিষয়ে শোকজপ্রাপ্ত কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট, অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজ, প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্কুল হওয়ায় যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকা, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং অভিভাবকদের পর্যাপ্ত সহযোগিতার অভাব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তারা লিখিত ব্যাখ্যা দেবেন বলে জানান।

সার্বিক বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন,  এই উপজেলার ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কতজন শিক্ষক এই নোটিশের আওতায় আছেন, তা অফিসের ডকুমেন্টস দেখে বলতে হবে।

তবে কোনো স্কুলে চারজন শিক্ষক, কোনো স্কুলে তিনজন আছেন। আবার অনেক স্কুলে এর চেয়ে বেশিও শিক্ষক আছেন। নোটিশের জবাব সঠিকভাবে না দেওয়া হলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি