খুঁজুন
                               
, ,
           

ঈদ যাত্রায় কথিত ১৪৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়: বাস্তব নাকি ষড়যন্ত্র?

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
ঈদ যাত্রায় কথিত ১৪৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়: বাস্তব নাকি ষড়যন্ত্র?

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে এলেই বাংলাদেশের সামাজিক জীবনে এক বিশেষ আবেগের সঞ্চার হয়। বছরের এই সময়টিতে রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষ ছুটে যায় আপনজনের কাছে। এই বিশাল জনস্রোত সামাল দেওয়া যেমন একটি প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ, তেমনি এটি দেশের পরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতারও একটি বড় পরীক্ষা। প্রতি বছরই ঈদযাত্রাকে ঘিরে কিছু অভিযোগ, কিছু বাস্তব সমস্যা এবং কিছু অতিরঞ্জন সামনে আসে। তবে এবারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ দাবি—ঈদযাত্রায় নাকি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হয়েছে ১৪৮ কোটি টাকা, যা গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এই দাবিটি শুনতে যতটা নাটকীয়, বাস্তবতার সঙ্গে তার সংযোগ ততটাই দুর্বল বলে প্রতীয়মান হয়। কারণ, কোনো গুরুতর অভিযোগকে গ্রহণযোগ্য করতে হলে তার পেছনে থাকতে হয় সুস্পষ্ট তথ্য, পরিসংখ্যান, গবেষণা এবং নির্ভরযোগ্য উৎস। কিন্তু ‘বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি’ নামের সংগঠনটি যে অভিযোগ তুলেছে, তার পক্ষে তারা কোনো নির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। কোথায়, কখন, কোন রুটে, কোন পরিবহন কত অতিরিক্ত ভাড়া নিয়েছে—এসব মৌলিক প্রশ্নের উত্তর অনুপস্থিত। এমনকি ভুক্তভোগী যাত্রীর নাম-পরিচয় বা কোনো যাচাইযোগ্য ডাটাও তারা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—এই ১৪৮ কোটি টাকার হিসাব এল কোথা থেকে?

একজন সংবাদকর্মী ও পর্যবেক্ষক হিসেবে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, ঈদযাত্রায় কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার ঘটনা ঘটেই থাকে। এটিকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তবে সেই বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোকে একটি জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে উপস্থাপন করা, কিংবা এটিকে ২০ বছরের রেকর্ড ভাঙার মতো পরিস্থিতি হিসেবে চিত্রিত করা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বরং এতে একটি ইচ্ছাকৃত অতিরঞ্জনের গন্ধ পাওয়া যায়।

বাস্তব চিত্রটি অনেক বেশি জটিল। এর কারণ হলো, সাধারণ সময়ে যে রুটে ভাড়া কম থাকে, ঈদের সময় সেখানে যাত্রী চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া নির্ধারিত পর্যায়ে ফিরে আসে। আবার অনেক যাত্রী দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য নিজেরাই দূরবর্তী গন্তব্যের টিকিট কিনে মাঝপথে নেমে যায়। এতে ভাড়া বেশি মনে হলেও সেটি সবসময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের আওতায় পড়ে না। বরং এটি বাজার চাহিদা ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের একটি স্বাভাবিক প্রতিফলন। এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে একপাক্ষিক অভিযোগ তোলা শুধু বিভ্রান্তিকরই নয়, এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বলেও মনে হতে পারে।

বর্তমান সরকারের আমলে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার জন্য যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, তা মাঠপর্যায়ে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। পরিবহন খাতেও এর প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলোতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং মালিক-শ্রমিকদের সমন্বিত উদ্যোগ—সব মিলিয়ে একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ তৈরির চেষ্টা স্পষ্ট।

এই বাস্তবতার মাঝেই যখন বলা হয় যে “২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভাড়া আদায় হয়েছে”, তখন সেটি শুধু অতিরঞ্জনই নয়, বরং বাস্তবতাকে বিকৃত করার একটি প্রচেষ্টা বলেই মনে হয়। কারণ,পতিত স্বৈরাচার সরকার আমলের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, পরিবহন খাতে দীর্ঘদিন ধরে যে অনিয়ন্ত্রিত চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট ব্যবস্থা ছিল, তা অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে আদার চেষ্টা অব্যাহত আছে।  পুরোপুরি নির্মূল না হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে—এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

১৪৮ কোটি টাকার যে অঙ্কটি প্রচার করা হয়েছে, সেটিও গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এই ধরনের একটি অঙ্ক নির্ধারণ করতে হলে প্রয়োজন বিস্তৃত তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ, যা এখানে অনুপস্থিত। বরং এটি একটি আকর্ষণীয় সংখ্যা, যা সহজেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। কিন্তু তথ্যবিহীন এই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ছাড়া আর কোনো গঠনমূলক ভূমিকা রাখে না।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অভিযোগকারী সংগঠনটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাদের কার্যক্রম, গবেষণার সক্ষমতা এবং তথ্য উপস্থাপনের পদ্ধতি—সবকিছুই অস্পষ্ট। একটি স্বাক্ষরবিহীন প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এমন গুরুতর অভিযোগ তোলা দায়িত্বজ্ঞানহীনতার শামিল। এতে মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয় যে, বিষয়টি কেবল একটি তথ্যগত ভুল নয়, বরং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

ঈদের মতো একটি সংবেদনশীল সময়ে এ ধরনের তথ্য প্রচার জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। এটি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। ফলে বিষয়টি কেবল একটি পরিবহন ইস্যুতে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়। এই প্রেক্ষাপটে অনেকেই মনে করছেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রচারের অংশ হতে পারে। তবে এটাও সত্য যে, সবকিছুই নিখুঁত নয়। কিছু ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে, কিছু যাত্রী ভোগান্তির শিকার হয়েছেন—এগুলো বাস্তবতা। কিন্তু এই সমস্যাগুলো মোকাবিলায় যে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সেটিও সমানভাবে সত্য। তাই বাস্তব সমস্যাকে স্বীকার করে তার সমাধান খোঁজা যেমন জরুরি, তেমনি অতিরঞ্জিত ও ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকে বিরত থাকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে প্রয়োজন একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত। অভিযোগটি কতটা সত্য, এর পেছনে কী তথ্য রয়েছে, এবং কারা এর জন্য দায়ী—এসব বিষয় স্পষ্ট হওয়া দরকার। যদি অভিযোগের ভিত্তি থাকে, তবে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর যদি এটি মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত হয়, তবে যারা এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। কারণ বাংলাদেশের বাস্তবতায় ১৪৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রশ্নটি খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। কিন্তু ২০ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে বলে যে প্রচার-এটা বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলেই মনে হচ্ছে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ঢাকা।

মার্কিন হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ
মার্কিন হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

মার্কিন আগ্রাসনের ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের ‘কঠোর জবাব’ দেবে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী। হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় ওয়াশিংটনকে হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না। বুধবার (৮ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আমেরিকান সন্ত্রাসবাদের’ কোনো জবাব না দিয়ে ছাড় দেওয়া হবে না। এই নৌপথের বিষয়ে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা ‘কোনো অবস্থাতেই’ মেনে নেওয়া হবে না।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর জন্য একমাত্র নিরাপদ পথ হলো ইসলামী প্রজাতন্ত্র কর্তৃক নির্ধারিত পথ।

এতে আরও বলা হয়েছে, ইরানে এ ধরনের হামলা গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অধীনে থাকা ‘যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের প্রতি সম্পূর্ণ অবজ্ঞা’ প্রকাশ করে।

এর আগে ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টি ও কেশম দ্বীপের কাছে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) জানিয়েছে, সিরিকের মৎস্য ও বাণিজ্যিক বন্দরে শত্রুপক্ষের হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সবশেষ দফায় অন্তত ৮০টি হামলা চালানো হয়েছে। এতে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা এবং জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে নিশানা করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা হ্রাসের লক্ষ্যে প্রণালির ভেতরে ও আশপাশে অবস্থানরত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৬০টিরও বেশি ছোট নৌকায়ও হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকম জানিয়েছে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

জিএমপিতে ছয় মাসে ১৮৫৪ মামলা, গ্রেফতার ৩২১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ
জিএমপিতে ছয় মাসে ১৮৫৪ মামলা, গ্রেফতার ৩২১৭

গাজীপুর মহানগর এলাকায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গত ছয় মাসে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মোট ১ হাজার ৮৫৪টি মামলা করা হয়েছে। একই সময়ে এসব মামলায় ৩ হাজার ২১৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে জিএমপি সদর দফতরের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।

পুলিশ কমিশনার জানান, গত ছয় মাসে রুজু হওয়া মামলার মধ্যে রয়েছে, হত্যা মামলা ২০টি, ডাকাতি ও ছিনতাই, ডাকাতি ৭টি এবং ছিনতাই ২৮টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ১৭৬টি, মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত মাদক ৮১২টি এবং অস্ত্র মামলা ৬০টি, অন্যান্য অপরাধ, সিঁধেল চুরি ১৬টি এবং অন্যান্য ধারায় ৭৩৫টি মামলা।

অভিযানে ১০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি, একটি গুলির খোসা, ৪টি ম্যাগাজিন এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া জব্দ করা হয়েছে ৫১,৫৬০ পিস ইয়াবা, ৩৫৭ কেজি ৩৬৫ গ্রাম গাঁজা, ১ কেজি ৯৬৫ গ্রাম হেরোইন, ৫৩০ পিস প্যাথেডিন, ৪৬ লিটার দেশীয় মদ, ১৫১ লিটার বিদেশি মদ এবং ২৭৬ বোতল ফেনসিডিল।

মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, সম্প্রতি মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিলের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সদর, বাসন, কোনাবাড়ী, গাছা ও টঙ্গী পশ্চিম থানায় মোট ৭টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় ইতোমধ্যে ৯৫ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মিছিলে অংশগ্রহণ, সহায়তা ও অর্থায়নের অভিযোগে আরও শতাধিক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ কমিশনার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের প্রকাশ্য বা গোপন কার্যক্রম, অর্থায়ন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পক্ষে প্রচারণা চালানোও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অপরাধ। যারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহানগরের মাজার বস্তি, কেরানীর টেক, ব্যাংকের মাঠ ও এরশাদ নগরসহ বিভিন্ন মাদকপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শীর্ষ মাদক কারবারিদের সম্পদের অনুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ছিনতাই প্রতিরোধে বিশেষ চেকপোস্ট, টহল এবং ব্লক রেইড পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রেফতার হওয়া অধিকাংশ ছিনতাইকারীই পুনরায় একই অপরাধে জড়ানোর কারণে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কিশোর গ্যাং দমনে সদস্যদের তালিকা প্রস্তুত করে তথ্যভিত্তিক সমন্বিত অভিযান পরিচালনার কথা জানানো হয়।

টঙ্গী পূর্ব থানার পাগাড় বিসিক মার্কেট এলাকায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মহড়ার ঘটনায় একটি মামলা করে এ পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া অন্যদের শনাক্তের কাজ চলছে।

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও পুলিশি তৎপরতায় অপহরণ ও ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মতো অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি বেওয়ারিশ মরদেহ ফেলে যাওয়ার ঘটনাও নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

খুনের মামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে পুলিশ কমিশনার জানান, ২০২৩ সালে ৯৪টি, ২০২৪ সালে ৯৬টি এবং ২০২৫ সালে ৮১টি হত্যা মামলা হলেও চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তা কমে ২০টিতে দাঁড়িয়েছে। যার মধ্যে মাত্র একটি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

তিনি বলেন, জিএমপি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদ হোসেন ভূঁইয়া (পিপিএম), এস এম আশরাফুল আলম (পিপিএম), মোহাম্মদ মহিউল ইসলাম, মো. শফিকুল ইসলাম, সাহেব আলী পাঠান, অশোক কুমার পাল (পিপিএম), অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ইয়াসমীন সাইকা পাশা, স্টাফ অফিসার খন্দকার জালাল উদ্দিন মাহমুদ এবং বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহা. হারুন-অর-রশিদসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি, হাতেনাতে গ্রেপ্তার সন্ত্রাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি, হাতেনাতে গ্রেপ্তার সন্ত্রাসী

রাজধানীর মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে গুলি করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৭জুলাই) রাত সোয়া ৯ টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বরের ফলপট্টি-সংলগ্ন চৌরঙ্গী মার্কেটের দক্ষিণ পাশের একটি গলিতে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ সাইফুল ইসলাম সিজু (৪০) মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী সাইদুল জানান, রাতে মুন্সি বাড়ি রোডে সাইফুল ইসলাম সিজু তার নিজ অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ জাকির হোসেনের শান্তর (২৭) নেতৃত্বে ৩/৫জন এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে সাইফুলের কোমরে এবং দুই পায়ে গুলি লাগে।

সিজু গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ​গোলাগুলির শব্দে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পথচারীরা দিকবিদিক ছুটোছুটি করতে থাকেন। তবে ঘটনার পরপরই পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় কিছু জনতা ধাওয়া করে এক যুবককে একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করে। পরবর্তীতে তাকে মিরপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, পূর্বশত্রুতার জেরে শান্ত ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে সাইফুল ইসলাম সিজুকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে শান্ত ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো হাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি