খুঁজুন
                               
, ,
           

ঈদ যাত্রায় কথিত ১৪৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়: বাস্তব নাকি ষড়যন্ত্র?

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
ঈদ যাত্রায় কথিত ১৪৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়: বাস্তব নাকি ষড়যন্ত্র?

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে এলেই বাংলাদেশের সামাজিক জীবনে এক বিশেষ আবেগের সঞ্চার হয়। বছরের এই সময়টিতে রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষ ছুটে যায় আপনজনের কাছে। এই বিশাল জনস্রোত সামাল দেওয়া যেমন একটি প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ, তেমনি এটি দেশের পরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতারও একটি বড় পরীক্ষা। প্রতি বছরই ঈদযাত্রাকে ঘিরে কিছু অভিযোগ, কিছু বাস্তব সমস্যা এবং কিছু অতিরঞ্জন সামনে আসে। তবে এবারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ দাবি—ঈদযাত্রায় নাকি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হয়েছে ১৪৮ কোটি টাকা, যা গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এই দাবিটি শুনতে যতটা নাটকীয়, বাস্তবতার সঙ্গে তার সংযোগ ততটাই দুর্বল বলে প্রতীয়মান হয়। কারণ, কোনো গুরুতর অভিযোগকে গ্রহণযোগ্য করতে হলে তার পেছনে থাকতে হয় সুস্পষ্ট তথ্য, পরিসংখ্যান, গবেষণা এবং নির্ভরযোগ্য উৎস। কিন্তু ‘বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি’ নামের সংগঠনটি যে অভিযোগ তুলেছে, তার পক্ষে তারা কোনো নির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। কোথায়, কখন, কোন রুটে, কোন পরিবহন কত অতিরিক্ত ভাড়া নিয়েছে—এসব মৌলিক প্রশ্নের উত্তর অনুপস্থিত। এমনকি ভুক্তভোগী যাত্রীর নাম-পরিচয় বা কোনো যাচাইযোগ্য ডাটাও তারা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—এই ১৪৮ কোটি টাকার হিসাব এল কোথা থেকে?

একজন সংবাদকর্মী ও পর্যবেক্ষক হিসেবে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, ঈদযাত্রায় কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার ঘটনা ঘটেই থাকে। এটিকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তবে সেই বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোকে একটি জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে উপস্থাপন করা, কিংবা এটিকে ২০ বছরের রেকর্ড ভাঙার মতো পরিস্থিতি হিসেবে চিত্রিত করা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বরং এতে একটি ইচ্ছাকৃত অতিরঞ্জনের গন্ধ পাওয়া যায়।

বাস্তব চিত্রটি অনেক বেশি জটিল। এর কারণ হলো, সাধারণ সময়ে যে রুটে ভাড়া কম থাকে, ঈদের সময় সেখানে যাত্রী চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া নির্ধারিত পর্যায়ে ফিরে আসে। আবার অনেক যাত্রী দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য নিজেরাই দূরবর্তী গন্তব্যের টিকিট কিনে মাঝপথে নেমে যায়। এতে ভাড়া বেশি মনে হলেও সেটি সবসময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের আওতায় পড়ে না। বরং এটি বাজার চাহিদা ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের একটি স্বাভাবিক প্রতিফলন। এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে একপাক্ষিক অভিযোগ তোলা শুধু বিভ্রান্তিকরই নয়, এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বলেও মনে হতে পারে।

বর্তমান সরকারের আমলে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার জন্য যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, তা মাঠপর্যায়ে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। পরিবহন খাতেও এর প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলোতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং মালিক-শ্রমিকদের সমন্বিত উদ্যোগ—সব মিলিয়ে একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ তৈরির চেষ্টা স্পষ্ট।

এই বাস্তবতার মাঝেই যখন বলা হয় যে “২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভাড়া আদায় হয়েছে”, তখন সেটি শুধু অতিরঞ্জনই নয়, বরং বাস্তবতাকে বিকৃত করার একটি প্রচেষ্টা বলেই মনে হয়। কারণ,পতিত স্বৈরাচার সরকার আমলের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, পরিবহন খাতে দীর্ঘদিন ধরে যে অনিয়ন্ত্রিত চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট ব্যবস্থা ছিল, তা অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে আদার চেষ্টা অব্যাহত আছে।  পুরোপুরি নির্মূল না হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে—এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

১৪৮ কোটি টাকার যে অঙ্কটি প্রচার করা হয়েছে, সেটিও গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এই ধরনের একটি অঙ্ক নির্ধারণ করতে হলে প্রয়োজন বিস্তৃত তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ, যা এখানে অনুপস্থিত। বরং এটি একটি আকর্ষণীয় সংখ্যা, যা সহজেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। কিন্তু তথ্যবিহীন এই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ছাড়া আর কোনো গঠনমূলক ভূমিকা রাখে না।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অভিযোগকারী সংগঠনটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাদের কার্যক্রম, গবেষণার সক্ষমতা এবং তথ্য উপস্থাপনের পদ্ধতি—সবকিছুই অস্পষ্ট। একটি স্বাক্ষরবিহীন প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এমন গুরুতর অভিযোগ তোলা দায়িত্বজ্ঞানহীনতার শামিল। এতে মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয় যে, বিষয়টি কেবল একটি তথ্যগত ভুল নয়, বরং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

ঈদের মতো একটি সংবেদনশীল সময়ে এ ধরনের তথ্য প্রচার জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। এটি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। ফলে বিষয়টি কেবল একটি পরিবহন ইস্যুতে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়। এই প্রেক্ষাপটে অনেকেই মনে করছেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রচারের অংশ হতে পারে। তবে এটাও সত্য যে, সবকিছুই নিখুঁত নয়। কিছু ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে, কিছু যাত্রী ভোগান্তির শিকার হয়েছেন—এগুলো বাস্তবতা। কিন্তু এই সমস্যাগুলো মোকাবিলায় যে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সেটিও সমানভাবে সত্য। তাই বাস্তব সমস্যাকে স্বীকার করে তার সমাধান খোঁজা যেমন জরুরি, তেমনি অতিরঞ্জিত ও ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকে বিরত থাকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে প্রয়োজন একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত। অভিযোগটি কতটা সত্য, এর পেছনে কী তথ্য রয়েছে, এবং কারা এর জন্য দায়ী—এসব বিষয় স্পষ্ট হওয়া দরকার। যদি অভিযোগের ভিত্তি থাকে, তবে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর যদি এটি মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত হয়, তবে যারা এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। কারণ বাংলাদেশের বাস্তবতায় ১৪৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রশ্নটি খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। কিন্তু ২০ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে বলে যে প্রচার-এটা বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলেই মনে হচ্ছে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ঢাকা।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপির নাম, তদন্তের আশ্বাস আমিনুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপির নাম, তদন্তের আশ্বাস আমিনুলের

রাজধানীর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নাম এসেছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, কারও সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভাঙচুরের শিকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আমিনুল হক বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কোনোভাবেই ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। আগামীকাল থেকেই কেন্দ্রটির সংস্কারকাজ শুরু হবে। শিশুদের টিকাদানসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাতের অন্ধকারে বুলডোজার এনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

তিনি জানান, ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ক্লোজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গা নিয়ে কোনো আইনি দাবি থাকলে আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা উত্থাপনের আহ্বান জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, রাতের অন্ধকারে বুলডোজার দিয়ে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে ফেলার অধিকার কারও নেই। জায়গাটি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দলের কেউ নেই এবং তাদের সঙ্গে দলের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তে ভবিষ্যতে কোনো দলীয় ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নাম এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শতভাগ স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনা হবে। পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জামায়াত নিয়ে বিএনপিকে সতর্ক করলেন ফজলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
জামায়াত নিয়ে বিএনপিকে সতর্ক করলেন ফজলুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীকে বিশ্বাস করলে বিএনপি ভুল করবে বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। একই সঙ্গে জামায়াতের বিষয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মহানগর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘আপনার গলায় আপনি সাপ পেঁচিয়ে রাখছেন, বিএনপি। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, যারা আমাদের মা-বোনের ইজ্জত নিয়েছিল এবং সোনার বাংলাকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিল, যারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল—আপনারা যদি আবার সেই জামায়াতে ইসলামকে বিশ্বাস করেন, তবে ভুল করবেন।’

জামায়াতের রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা যখন সংসদে যায়, তখন এক ধরনের অবস্থান নেয়; আবার সংসদ থেকে বের হয়ে ভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেয়। এমনকি এক দফার মাধ্যমে বিএনপিকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার কথাও তারা বলে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে বিএনপিকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে বলে জানান ফজলুর রহমান।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সবচেয়ে বেশি খর্ব করা হয়েছে। ছাত্রদের নেতৃত্বে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে আসার পর শেখ হাসিনাসহ তার সহযোগীদের দেশ ছাড়তে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে ফজলুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি যে দিকনির্দেশনা নিয়ে এগোচ্ছে, তাতে সহজে বিএনপিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া সম্ভব নয়।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজলসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

শান্তি চাই, তবে নিরাপত্তায় আপস নয়: রাজনাথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
শান্তি চাই, তবে নিরাপত্তায় আপস নয়: রাজনাথ

ভারত যুদ্ধ চায় না, শান্তিতে বিশ্বাস করে। তবে শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভি ডিফেন্স সামিট ২০২৬-এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে দেশটির সামরিক কর্মকর্তা ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

রাজনাথ সিং বলেন, ভারত শান্তি চায়, তবে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। কোনো প্রতিবেশী দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দিয়ে গেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযান চালাতে ভারত প্রস্তুত থাকবে।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ভারত সংলাপে বিশ্বাসী। তবে কোনো দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দিলে সেই সংলাপ সেখানেই শেষ হবে। ভারত সহযোগিতা চায়, কিন্তু জাতীয় স্বার্থের বিনিময়ে নয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনাথ সিং ‘প্রতিবেশী দেশ’ বলতে পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করেছেন।

যুদ্ধের ধরন বদলাচ্ছে

সম্মেলনে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও তথ্যযুদ্ধের প্রভাব নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি সরাসরি লড়াইয়ের সময় কমিয়ে আনলেও পুরো যুদ্ধের মেয়াদ কমছে না।

তার মতে, যুদ্ধ জয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হলো ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ। ভূখণ্ড দখলে রাখা, সুরক্ষিত করা ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অপরিহার্য।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধ নিয়ে নানা তথ্য ও বিশ্লেষণ ছড়িয়ে পড়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি অনেক সময় আড়ালে পড়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন জেনারেল ধীরাজ। তার ভাষায়, বর্তমান সময়ের যুদ্ধকে অনেক ক্ষেত্রে ‘বিরতি দিয়ে চলা যুদ্ধ’ হিসেবে দেখা যায়। সংঘাতের বিরতিও সামরিক কৌশলের অংশ হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী সংকটে আত্মনির্ভরতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি নিজস্ব সক্ষমতা ও সম্পদের ওপর নির্ভরতা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি