খুঁজুন
                               
, ,
           

আশা পুতিনের

বাবার কাজ ‘মর্যাদার সঙ্গে’ এগিয়ে নিয়ে যাবেন মোজতবা খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ
বাবার কাজ ‘মর্যাদার সঙ্গে’ এগিয়ে নিয়ে যাবেন মোজতবা খামেনি

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতে তেহরানের প্রতি মস্কোর ‘অটল’ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সোমবার ক্রেমলিনের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পুতিন বলেন, “তিনি আত্মবিশ্বাসী যে, মোজতবা খামেনি তার বাবার (আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি) কাজ ‘মর্যাদার সঙ্গে’ এগিয়ে নিয়ে যাবেন এবং ‘কঠিন পরিস্থিতির মুখে’ ইরানি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখবেন”।

তেহরানের প্রতি রাশিয়ার ‘অবিচল সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করে রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘রাশিয়া তেহরানের পাশে থাকবে। আমরা আমাদের ইরানি বন্ধুদের সাথে সংহতি নিশ্চিত করতে চাই’।

এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নিয়োগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘সন্তুষ্ট নন’ বলে জানিয়েছেন। ট্রাম্পের বরাত দিয়ে রক্ষণশীল মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলা হয়।

ফক্স নিউজের উপস্থাপক ব্রায়ান কিলমিড বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণার পর তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। ট্রাম্প তাঁকে বলেছেন, ‘আমি সন্তুষ্ট নই।’

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা যে-ই হোন— তাকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন নিতে হবে। নাহলে তিনি বেশিদিন টিকে থাকতে পারবেন না।

এছাড়াও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘আয়াতুল্লাহ খামেনি উত্তরসূরি যেই হবে তাকে নির্মূল করা হবে’।

এরআগে রোববার ইরানের ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস (ধর্মীয় নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত সংস্থা) ভোটের মাধ্যমে ইরানের সদ্য প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে নির্বাচিত করে। এর ফলে তিনি ইরানের ইসলামিক বিপ্লবের পর তৃতীয় সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। দেশটির প্রথম সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন- আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি (১৯৭৯-১৯৮৯), দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা সদ্য প্রয়াত আয়াতুল্লা আলী খামেনি (১৯৮৯-২০২৬)।

মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করার মাধ্যমে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পিতা-পুত্রের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরকে চিহ্নিত করেছে, যা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর রাজতন্ত্র উল্টে দেওয়ার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অনেকে মনে করেন।

যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে মোজতবা খামেনির নেতৃত্ব ইরানের ভবিষ্যৎ ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার উপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ মোজতবা এখন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং আঞ্চলিক ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’ (হিজবুল্লাহ, হুথি, হামাসসহ)-এর নেতৃত্বও পাবেন।

অনেকের ধারণা, মোজতবা তার বাবার কঠোর নীতিগুলোই অব্যাহত রাখবেন। কেউ কেউ এটাও মনে করেন যে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় যিনি তার বাবা, মা ও স্ত্রীকে হারিয়েছেন, তিনি পশ্চিমা চাপের কাছে সহজে নতি স্বীকার করবেন না।

সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি
কালের আলো/এসআর/এএএন

টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা, বাসাবাড়িতে পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা, বাসাবাড়িতে পানি

টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা ও কুয়াইশসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় বাসাবাড়ি ও দোকানে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী, বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে নগরীর অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ভারী বৃষ্টির পর নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমতে শুরু করে। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও আবার এর চেয়েও বেশি পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, কাজির হাট, হালিশহর, চান্দগাঁও, সুন্নিয়া মাদ্রাসা রোড, আকমল আলী রোড, পতেঙ্গা ও কুয়াইশ এলাকার বাসিন্দারা। এসব এলাকার অনেক বাসা ও দোকানে পানি ঢুকে গৃহস্থালির জিনিসপত্র ও ব্যবসায়িক মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়। চকবাজারের বিভিন্ন অলিগলিও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়।

জলাবদ্ধতার কারণে অফিসগামী মানুষের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন মোড়ে যানজট দেখা দেয়। অনেককে প্যান্ট গুটিয়ে, জুতা হাতে নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকটও দেখা দেয়। ফলে অনেক কর্মজীবী নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেননি।

চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, সকালে অফিসে বের হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

বাকলিয়ার বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, সকালে বৃষ্টির পর বাসার নিচতলায় পানি ঢুকে যায়। আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখতে হয়েছে। এত প্রকল্পের পরও জলাবদ্ধতার কোনো স্থায়ী সমাধান দেখছি না।

আগ্রাবাদের ব্যবসায়ী আবদুল কাদের বলেন, দোকানে পানি ঢুকে কিছু মালামাল নষ্ট হয়েছে। বৃষ্টি হলেই ব্যবসায় লোকসান গুনতে হয়।

আকমল আলী রোড এলাকার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে অলিগলিতে পানি আর পানি। অনেকে ঘরবন্দী হয়ে পড়েছেন। অনেক বাসায় পানি ঢুকেছে। মানুষের ভোগান্তি কখন শেষ হবে জানি না।

মুরাদপুর সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, সকালের বৃষ্টিতে বাসার নিচতলায় পানি। এখন ঘরবন্দি হয়ে পড়েছি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে শুধু চলাচলই ব্যাহত হয় না, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নগরীর পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, গতকাল সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

আমবাগান আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ বিজন রায়  বলেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী দুই থেকে তিনদিন বৃষ্টিপাত হতে পারে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হলেন ড. ফাহমিদা খানম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:০২ পূর্বাহ্ণ
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হলেন ড. ফাহমিদা খানম

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমকে মন্ত্রণালয়টির ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।

একইসঙ্গে বর্তমান সচিব মোহা. রায়হান কাওছারকে ওই পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার(৬ জুলাই)  এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ড. ফাহমিদা খানম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। কর্মজীবনে তিনি পরিবেশ, বন, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন।

এর আগে তিনি জাতীয় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন ইনস্টিটিউটের (ন্যাকসিআই) নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাত এবং সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবান জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। একই সময়ের জন্য জেলার সব ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যটক, ট্যুর অপারেটর এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও ভ্রমণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টানা ভারী বর্ষণের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিদ্যমান আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পর্যটক ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১০ জুলাই (শুক্রবার) পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ সময় জেলার সব পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটর এবং সর্বসাধারণের ভ্রমণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি