জনআস্থা ফেরানোর চ্যালেঞ্জে নতুন আইজিপি, জেলা সদর থানাকে জিরো কমপ্লেইন থানা হিসেবে গড়ার ঘোষণা
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে নিয়োগের ১৩ দিনের মাথায় প্রথম প্রেস ব্রিফিং করলেন মো. আলী হোসেন ফকির। সরকারি চাকরি জীবনে বহু ঘটনাবহুল জীবনের স্বাক্ষী অভিজ্ঞ এই পুলিশ কর্মকর্তার কাঁধেই এখন বাংলাদেশ পুলিশের নেতৃত্ব। পুলিশকে পুরোদমে ঘুরে দাঁড় করানোর মিশন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ঘোষিত তিন অগ্রাধিকারের একটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বড় চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নেও তাঁর নেতৃত্বাধীন এই বাহিনীর ভূমিকাই গুরুত্বপূর্ণ। আইজিপি হিসেবে নিজের প্রথম প্রেস ব্রিফিংয়েও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ দমন এবং পুলিশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বললেন তিনি। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দিলেন। জনআস্থা ফেরানোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। এ কাজকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রতিটি জেলা সদর থানাকে জিরো কমপ্লেইন থানা হিসেবে গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সবার সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শকে অগ্রাধিকার দিতে চান। নিশ্চিত করতে চান একটি দক্ষ জনবান্ধব প্রযুক্তিনির্ভর জবাবদিহিমূলক পুলিশ গঠনের ব্যবস্থা। বাংলাদেশ পুলিশে সৎ, দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তারাই মূল্যায়িত হবেন বলে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীর আবদুল গণি রোডে পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে (ডিএমপির সেন্ট্রাল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ভবনের নিচতলা) আয়োজিত এই প্রেস ব্রিফিংয়ে নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘জেলা সদরের থানাকে জিরো কমপ্লেইন থানা হিসেবে আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। একজন সার্কেল অফিসার ওই থানার সার্বিক কার্যক্রম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবে। আমরা এমনভাবে জনগণকে সেবা দিতে চাই যাতে থানায় আগত মানুষ হাসি মুখে থানা থেকে ফিরে যেতে পারে।’ চাঁদাবাজ ধরতে দলীয় বিবেচনার কোন সুযোগ নেই বলেও মনে করেন আইজিপি। যেকোনো ঘটনা ঘটার পর তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক পদক্ষেপ নিতে পুলিশের জন্য প্রয়োজনীয় ‘রেসপন্স টাইম’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তি দিয়ে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, অতীতে গণমাধ্যমের অতিরিক্ত চাপের কারণেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় জজ মিয়া নাটকের মতো ঘটনা তৈরি হয়েছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানো ও ভারতে গ্রেপ্তার ওসমান হাদি হত্যার আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হবে বলে জানান পুলিশপ্রধান। সিআইডিকে আরও আধুনিকীকরণের মাধ্যমে মামলা তদন্তের গুণগত মান বাড়ানোর কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেছেন, ‘মামলার তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (অর্থ) আকরাম হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও সরদার নূরুল আমিন ও অতিরিক্ত আইজি (ডেভেলপমেন্ট) সরদার নূরুল আমিন উপস্থিত ছিলেন।
- পুলিশের রিঅ্যাকশন টাইম ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসার টার্গেট
- সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা
- মহাসড়কে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও দস্যুতা হতে দেওয়া হবে না
- গণঅভ্যুত্থান কারো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়
- পুলিশের কাজ সঠিকভাবে করতে হলে নির্দিষ্ট রেসপন্স টাইম প্রয়োজন
- ভারত থেকে আসামি ফেরানোর চেষ্টা
- অতি উৎসাহী ভূমিকা নেবে না পুলিশ
- মব সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং নিয়ে উদ্বেগ
- থানায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেয়ার প্রস্তাব
- পুলিশের বদলি ও পদায়নে সৎ কর্মকর্তারাই মূল্যায়িত হবেন
আইজিপি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের আগে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান ছিলেন মো. আলী হোসেন ফকির। বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্যের চাকরিতে পুনর্বহাল ও পদোন্নতি ঘটনাবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকেসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। সেই সময় তিনি পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কমান্ডিং অফিসার ছিলেন। ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতনের পর ২৭ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার আলী হোসেনসহ আরও ৪ কর্মকর্তাকে পুলিশ বাহিনীতে পুনর্বহাল করে। এরপর তিনি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হন এবং এপিবিএনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগেও তাকে রাজনৈতিক কারণে আওয়ামী লীগ শাসনামলে একবার চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। পরে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি চাকরি ফিরে পান। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে চাকরি জীবনে বারবার বঞ্চনার পর পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) হিসেবে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেয়েছেন আলী হোসেন ফকির। গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
পুলিশের রিঅ্যাকশন টাইম ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসার টার্গেট
পুলিশের রিঅ্যাকশন টাইম ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসার টার্গেটের কথা জানিয়ে নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘আমরা এমনভাবে জনগণকে সেবা দিতে চাই যাতে থানায় আগত মানুষ হাসি মুখে থানা থেকে ফিরে যেতে পারে। পুলিশের বিরুদ্ধে যাতে কোন ধরনের কমপ্লেইন না থাকে। পুলিশের রিঅ্যাকশন টাইম ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশ দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিয়োজিত ঐতিহ্যবাহী এক সেবাধর্ম প্রতিষ্ঠান। দেশের যে কোনো প্রয়োজনে সংকটকালীন মুহূর্তে এই বাহিনীর সদস্যরা সবসময় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। আমরা আমাদের ওপর অর্পিত সব দায়িত্ব আন্তরিকভাবে পালনে দৃঢ়ভাবে ভূমিকা করবো।’
সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা
গত ১২ ফেব্রুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা। সে লক্ষ্যে দেশের স্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে আমাদের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার বলে মন্তব্য করেন আইজিপি। তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দলীয় কোনো বিবেচনার সুযোগ নাই। ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ব্লক রেইড দিয়ে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং চলমান আছে। চাঞ্চল্যকর কোনো ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গণধর্ষণ, ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষিত চাঁদাবাজ ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আইজিপি বলেন, ‘বিভিন্ন সংস্থা থেকে পাওয়া তালিকা যাচাই করে দ্রুত অভিযান শুরু করা হবে।’ তার ভাষ্য, ‘আমরা বিভিন্ন সংস্থা থেকে তালিকা পেয়েছি। সেগুলো মিলিয়ে যেসব নাম একাধিক তালিকায় রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অচিরেই অভিযান চালানো হবে।’
মহাসড়কে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও দস্যুতা হতে দেওয়া হবে না
পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সম্পর্কে আইজিপি বলেন, ‘ঈদে সড়ক মহাসড়ক, নৌ ও রেলপথে ঘরমুখ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। মহাসড়কে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, দস্যুতা হতে দেওয়া হবে না। মহাসড়কে ডাকাতি রোধে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। র্যাবও মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছে। দেশের প্রধান প্রধান মার্কেটে নিরাপত্তা যোগদান করা হয়েছে। চুরি ছিনতাই রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’
ঈদকে সামনে রেখে পোশাক শিল্পের শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা নিয়ে প্রায়ই এক ধরনের অসন্তোষ তৈরি হয়। আইন শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফলে। আসন্ন ঈদে শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা নিয়ে অসন্তোষ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এমন গার্মেন্ট শিল্প চিহ্নিতকরণের পাশাপাশি শ্রমিক নেতা মালিক বিজিএমইএ বিকেএমইএ’র সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদে উগ্র মৌলবাদীদের উত্থান রোধে পুলিশের সজাগ ও নজরদারি বজায় থাকবে উল্লেখ করে পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, আমরা বিশ্বাস করি জনগণ রাষ্ট্রের মূল শক্তি। তাই আমরা সবসময় জনগণের পাশে থেকে তাদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি পারস্পরিক সৌহাদ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ উজ্জীবিত হয়ে আমরা সবাই একযোগে কাজ করে বাংলাদেশকে উন্নয়ন সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবো। জনগণ রাষ্ট্রের মূল শক্তি। আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে বদ্ধপরিকর। জনবান্ধব পুলিশ গড়তে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’
গণঅভ্যুত্থান কারো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়
গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, গণঅভ্যুত্থান কারো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়; এটি জনগণের সম্মিলিত আন্দোলন ও অধিকার। আমরাও এই আন্দোলনের অংশগ্রহণ করেছি। এই গণঅভ্যুত্থান ব্যবহার করে কেউ ফায়দা লুটার চেষ্টা করলে সেটা ঠিক নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার আড়ালে জুলাই আন্দোলনকে খাটো বা নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ এসব বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
পুলিশের কাজ সঠিকভাবে করতে হলে নির্দিষ্ট রেসপন্স টাইম প্রয়োজন
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় শেখ হাসিনার সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনায় পুলিশ জজ মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তাকে ১৭ দিন রিমান্ডে রেখে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে সাজানো স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ ওঠে। পরে তদন্তে দেখা যায়, ওই হামলার সঙ্গে জজ মিয়ার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। অভিযোগ ওঠে, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতেই ‘জজ মিয়া নাটক’ সাজানো হয়েছিল। ঘটনার ২১ বছর পর এক প্রশ্নের জবাবে প্রসঙ্গটি তোলেন আইজিপি। ঢাকার একটি সড়কে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুলিশের কাজ সঠিকভাবে করতে হলে একটি নির্দিষ্ট রেসপন্স টাইম প্রয়োজন।’ তার ভাষ্য মতে- ‘কোনো ঘটনা ঘটলেই অনেক সময় সংবাদমাধ্যম এমনভাবে প্রশ্ন তোলে যেন সঙ্গে সঙ্গেই তার বিচার শেষ করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে কোনো কোনো হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে ২০ থেকে ২৫ বছর সময়ও লেগে যায়।’ আইজিপি বলেন, ‘অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হলে পুলিশের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হয়। এতে অনেক সময় তড়িঘড়ি করে কাউকে আটক করে স্বীকারোক্তি নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘এর উদাহরণ আপনারা জজ মিয়া নাটকে দেখেছেন। আমার মনে হয়, মিডিয়ার চাপের কারণেই এমন ঘটনা তৈরি হয়েছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য তদন্তের ক্ষেত্রে পুলিশকে যথাযথ সময় দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।’
ভারত থেকে আসামি ফেরানোর চেষ্টা
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জানতে চান সাংবাদিকরা। শনিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে সেখানকার পুলিশ। এ বিষয়ে আইজিপি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। মিনিস্ট্রি থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। তারা এ বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করছে। আশা করছি খুব শিগগিরই আমরা তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবো।’
অতি উৎসাহী ভূমিকা নেবে না পুলিশ
সম্প্রতি ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তিনজনকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গও ওঠে প্রেস ব্রিফিংয়ে। এ বিষয়ে আইজিপি বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো অতি উৎসাহী ভূমিকা নেয়া হবে না।’ তিনি বলেন, ‘একটা বিষয় আশ্বস্ত করতে চাই, পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো অতি উৎসাহী ভূমিকা পালন করা হবে না। তবে নাগরিকদের আইন মানতে হবে, আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবে না। তা না হলে দেশ অকার্যকর হয়ে পড়বে।’ একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের সদস্যরা যদি বিভিন্ন অজুহাতে রাস্তায় নেমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় বা সন্ত্রাস উসকে দেয়, তা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।’

মব সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং নিয়ে উদ্বেগ
দেশে মব সন্ত্রাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইজিপি বলেন, ‘বেকারত্বের কারণে অনেক সময় যে কোনো কর্মসূচিতে সহজেই লোক জড়ো হয়ে যায়। কিশোর গ্যাং এবং মাদক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই এসব ঘটনার সঙ্গে বেশি জড়িত থাকে।’ তিনি বলেন, ‘অনেকে ফায়দা লোটার জন্য মব তৈরি করে লুটপাট বা অপকর্ম করে। আমরা যারা মূল মব তৈরিকারী, তাদের তালিকা তৈরি করছি। তারা যত ক্ষমতাবানই হোক, আইনের আওতায় আনা হবে।’
থানায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেয়ার প্রস্তাব
দেশে আইন মানা নাগরিকের সংখ্যা কমে যাওয়াকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন আইজিপি। তিনি বলেন, ‘যেকোনো ঘটনা ঘটলেই মানুষ রাতারাতি বিচার চায়, যা সব ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।’ স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য থানায় একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এতে জমি ও অর্থ সংক্রান্ত বিরোধসহ বিভিন্ন ছোটখাটো সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে বলে মনে করেন আইজিপি।
পুলিশের বদলি ও পদায়নে সৎ কর্মকর্তারাই মূল্যায়িত হবেন
পুলিশের বদলি ও পদায়নের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আইজিপি বলেন, ‘সৎ, দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তারা অবশ্যই মূল্যায়িত হবেন।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশের প্রায় দুই লাখ ১৫ হাজার সদস্য একটি পরিবারের মতো। যদি কেউ অসৎ হয়, সে বিদায় নেবে। আর যারা সৎ, দক্ষ ও যোগ্য, তারাই পুলিশের জন্য কাজ করবে।’
কালের আলো/এমএএএমকে


আপনার মতামত লিখুন
Array