খুঁজুন
                               
, ,
           

ইরান যুদ্ধে যেতে চান না মার্কিন সেনারা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
ইরান যুদ্ধে যেতে চান না মার্কিন সেনারা!

অনেক মার্কিন সেনা ইরানে যুদ্ধে যেতে চান না বলে সামরিক গোপন তথ্য প্রকাশ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সেনা সদস্য, যারা সংঘাতে যেতে চান না, তারা অনবরত কল দিয়ে যাচ্ছেন তাদের আপত্তির কথা জানানোর জন্য।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবেকবান আপত্তিকারীদের সহায়তা দেওয়া একটি অলাভজনক সংস্থা। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।

এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে চলা ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে অংশ নিতে আপত্তি জানানো মার্কিন সেনাসদস্যদের কলে তাদের ফোন ‘অবিরাম বেজে চলেছে’।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে বলেছেন, ইরান যুদ্ধের প্রতি তীব্র বিরোধিতা রয়েছে এবং মার্কিন সেনাদের এই সংহতিকে ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময়কার বিরোধিতার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।

‘সেন্টার অন কনসায়েন্স অ্যান্ড ওয়ার’-এর নির্বাহী পরিচালক মাইক প্রিসনার এক্সে লিখেছেন, ‘ফোন অবিরাম বাজছে। জনসম্মুখে যা জানানো হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি ইউনিটকে মোতায়েনের জন্য সক্রিয় করা হয়েছে।’

গত সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর কথা বিবেচনা করছে, তবে আরও ব্যাপক পরিসরে সেনা মোতায়েনের গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে।

এদিকে মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের (যা স্থল যুদ্ধে পারদর্শী) কিছু সেনার একটি বড় প্রশিক্ষণ মহড়া বাতিল করেছে।

অন্যদিকে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট যুক্তরাষ্ট্রে আবার বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা বা ‘ড্রাফট’ চালু করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে অস্বীকার করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে ভিয়েতনাম যুদ্ধের শেষ দিকে পুরুষদের বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করা হয়েছিল।

সেন্টার অন কনসায়েন্স অ্যান্ড ওয়ার একটি অলাভজনক গোষ্ঠী যারা ‘বিবেকবান আপত্তিকারীদের’ সহায়তা করে—অর্থাৎ যারা নৈতিক বা ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে সশস্ত্র বাহিনীতে কাজ করতে বা অস্ত্র ধরতে অস্বীকার করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ করে কোয়েকার এবং অ্যামিশদের মতো খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে বিদেশি যুদ্ধের বিরুদ্ধে আপত্তিকারী হওয়ার দীর্ঘ ঐতিহ্য আছে।

সংস্থাটি বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন উদ্বেগের মাঝে তারা প্রচুর ফোন কল পাচ্ছে এবং যুদ্ধের এই বিরোধিতা গণমাধ্যমে যা আসছে তার চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত।

এক্সে সংস্থাটির অন্য একটি পোস্টে বলা হয়েছে, সোমবার (৯ মার্চ) এক সেনাসদস্যের কল পেয়েছি যাকে মোতায়েনের জন্য পাঠানো হচ্ছে। তিনি কেবল নিজেকে আপত্তিকারী হিসেবে নথিভুক্তই করছেন না, বরং জানিয়েছেন যে তাদের ইউনিটের মধ্যে ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে ব্যাপক অবস্থান আছে। তিনি আমাদের নম্বর সবার সঙ্গে শেয়ার করবেন।

পোস্টটিতে আরও যোগ করা হয়েছে, বিশেষ করে, তারা একটি বালিকা বিদ্যালয়ে মার্কিন গণহত্যা এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানি জাহাজে হামলার ঘটনায় তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করেছেন।

দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১৬৫শিশু নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই স্কুলছাত্রী।

স্কুলটিতে পরপর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল, যার দ্বিতীয় হামলাটি করা হয় প্রথম হামলায় বেঁচে যাওয়া এবং উদ্ধারকারীদের লক্ষ্য করে—যাকে ‘ডাবল-ট্যাপ স্ট্রাইক’ বলা হয়।

নিউইয়র্ক টাইমসসহ অন্য সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টগুলো স্কুলটিতে হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার প্রমাণ দিয়েছে। ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে একটি টমাহক ক্রুজ মিসাইলকে স্কুলের পাশে একটি নৌ-ঘাঁটিতে আঘাত করতে দেখা গেছে।

হামলার বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এ নিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। গত শনিবার ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই উল্টো ইরানকে দায়ী করে দাবি করেন যে, তাদের ‘অনিরাপদ’ গোলাবারুদের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে।

পাল্টা জবাবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নিখুঁত হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে উন্নত রাডার স্টেশন, সামরিক ঘাঁটি, এমনকি রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের সিআইএ সেকশন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো।

কালের আলো/এএএন 

পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-রাস্তা-ফসলি জমি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ
পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-রাস্তা-ফসলি জমি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা পদ্মা নদীর তীরবর্তী কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রবল স্রোতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, চলাচলের রাস্তা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।

উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগর, আতারপাড়া ও ডিগ্রীরচর এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গত কয়েক দিন ধরে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত দুই-তিন দিনে নদীর স্রোত অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ভাঙনের মাত্রাও দ্রুত বেড়েছে।

বাসিন্দারা জানান, প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন আগে পদ্মায় নতুন করে পানি প্রবেশের পর ভাঙন শুরু হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্রোতের চাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু বসতভিটা, কৃষিজমি, রাস্তা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি নদীতে চলে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আলাইপুর এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের ফলে পদ্মার স্রোতের চাপ তাদের এলাকায় বেশি পড়ছে। এতে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে বলে দাবি তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল সরকার বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ভাঙন চলছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর তীব্রতা অনেক বেড়েছে। নদীর স্রোত একের পর এক বসতভিটা, রাস্তা ও ফসলি জমি ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই আতারপাড়া, উদয়নগর ও ডিগ্রীরচর গ্রাম অস্তিত্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, পদ্মায় নতুন করে পানি প্রবেশ করায় প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই তিন এলাকার বাড়িঘর, ফসলি জমি ও বৈদ্যুতিক খুঁটি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানান, ভাঙনকবলিত এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। দুর্গম সীমান্তবর্তী চরাঞ্চল হওয়ায় সেখানে দ্রুত কাজ করা কিছুটা কঠিন।

তিনি বলেন, ভাঙনকবলিত মানুষের জন্য শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পদ্মার ভাঙনে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। এতে বহু পরিবার বসতভিটা ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ
খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। আগামী এক বছর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সংস্থাটির প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও উপযোগী করে তুলতে গভীর সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার প্রথম প্লেনারি সভা শুরু হলেও আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসেই জ্বালানি কিনতে গিয়ে মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে অতিরিক্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে সাধারণ পরিবারের বাজেটে তৈরি হয়েছে বড় চাপ। দেশটির প্রায় ১৩ কোটি ১০ লাখ পরিবারের হিসাবে গড়ে প্রতিটি পরিবারের বাড়তি জ্বালানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬৩ ডলার।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের তথ্যের বরাতে এই হিসাব সামনে এসেছে। এতে স্পষ্ট, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে সীমাবদ্ধ নেই; সরাসরি মার্কিন পরিবারের দৈনন্দিন খরচেও এর প্রভাব পড়ছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা পেট্রোলের দামে
মার্কিনিদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে পেট্রোলের দামে। ছয় মাসের ব্যবধানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ২ দশমিক ৯৮ ডলার থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ১৫ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। ডিজেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। প্রতি গ্যালনের দাম ৩ দশমিক ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৯০ ডলার—বৃদ্ধি ৬০ শতাংশেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা বেশি হওয়ায় পেট্রোলের এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পরিবারের ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের খরচে। ফলে একদিকে গাড়ি চালানোর খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে দোকানে পৌঁছানোর আগেই পণ্যের দাম বাড়ছে।

যুদ্ধ চলছে ছয় মাস
ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত শুরুর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন। বাস্তবে সেই সময়সীমা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। সংঘাত এখন ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিনিদের দ্বিমত
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কেরও অংশ। যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন না থাকায় অনেক মার্কিনি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করছেন।তবে ট্রাম্প এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে বরং তেল কোম্পানিগুলোর ওপর দায় চাপিয়েছেন। ফলে যুদ্ধের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের খরচ শেষ পর্যন্ত কে বহন করছে—সরকার, তেল কোম্পানি নাকি সাধারণ মানুষ—এই প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানিতে আটকে থাকে না। কৃষিতে ট্রাক্টর চালানো, খাদ্য পরিবহন, পণ্য সংরক্ষণ, শীতলীকরণ থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের প্যাকেজিং—প্রায় প্রতিটি ধাপেই তেল ও গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে।ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে ভোক্তার বাজারে। মার্কিন পরিবার একদিকে গাড়ির ট্যাংক ভরতে বেশি টাকা দিচ্ছে, অন্যদিকে একই জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাবার ও অন্যান্য পণ্য কিনতেও বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি আরও বড়। তেল ও সার আমদানির ব্যয় বেড়ে গেলে কৃষি উৎপাদনের খরচ বাড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য সরবরাহ ও খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সামনে আরও চাপের শঙ্কা
জ্বালানি বাজারের এই চাপের মধ্যেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত জোন’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, এ এলাকার জন্য নতুন মানচিত্র দেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে সেটি অনুসরণ করতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, মার্কিন অবরোধ ও হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেবে না ইরান। নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিনিদের জন্য জ্বালানি বিলের চাপ আরও বাড়তে পারে। আর হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়লে তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাজারেও পড়বে। ফলে ইরান যুদ্ধ এখন শুধু ভূরাজনৈতিক সংঘাত নয়—সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া এক বড় অর্থনৈতিক সংকটেও রূপ নিচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ