নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন ৭০ হাজার নারী
ভাগ্য বদলের আশায় বিদেশ গিয়েছিলেন তাঁরা। গত সাত বছরে অন্তত ৭০ হাজার নারী দেশে ফিরেছেন। তাঁদের একটি বড় অংশই নির্যাতনের শিকার। কিন্তু এ বিষয়ে সঠিক পরিসংখ্যান মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের সরকারে যারা এসব বিভাগে কাজ করতেন তারাও এ বিষয়ে তেমন গুরুত্ব দেননি। বর্তমানেও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ খুব বেশি দেখা যায় না।
গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে নারী অভিবাসীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন অসংখ্য নারী। বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ নারী কর্মী বিদেশে কাজ করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক জানিয়েছে, ফেরত আসা নারীদের মধ্যে অন্তত ১২১ জন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফিরেছেন, যাঁদের তারা সেবা দিয়েছে। এ ছাড়া নানা ধরনের নির্যাতনের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরেছেন আরও হাজারো নারী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশেষ করে সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে যাওয়া নারীদের মধ্যে যারা নির্যাতনের শিকার হয়ে ফিরেছেন, তাঁদের বড় একটি অংশই বিধবা, স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে তালাকপ্রাপ্ত বা স্বামীহারা। আবার কেউ কেউ ছোট সন্তান রেখে ভাগ্য বদলের আশায় বিদেশে গিয়েছিলেন। সেখানে ভালো খাবার ও বেতনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে গিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখেছেন তাঁরা। দেশে ফিরে এসে বিষয়গুলো মন্ত্রণালয়কে জানালেও তেমন পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ১১ বছরে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ২০১৯ সালের ২৬ আগস্ট সৌদি আরবফেরত ১১০ নারী গৃহকর্মীর সাক্ষাৎকার নিয়ে ব্র্যাক একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। সেটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩৫ শতাংশ নারী শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন। ৪৪ শতাংশ নারী নিয়মিত বেতন পাননি।
দেশে ফেরত আসা নারী শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে মন্ত্রণালয় তাঁদের ফিরে আসার ১১টি কারণ চিহ্নিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেরত আসা নারী কর্মীদের মধ্যে ৩৮ জন শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, ৪৮ জন নিয়মিত বেতন–ভাতা পেতেন না। অন্তত ২৩ জন পর্যাপ্ত খাবারও পেতেন না।
ফেরত আসা নারীদের অভিযোগ, সৌদি গৃহকর্তা ও পরিবারের পুরুষ সদস্যরা তাঁদের নানাভাবে উত্যক্ত করতেন। কেউ কেউ যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। কথা না শুনলে চাবুক বা লাঠি দিয়ে মারধর করা হতো। শরীরে গরম পানি বা তেল ঢেলে দেওয়া, গরম ছ্যাঁকা দেওয়া, বাথরুম বা অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা এবং পর্যাপ্ত খাবার না দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array