খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

র‌্যাবের সংস্কার সরকারের বিষয়, পেশাদার ও মানবিক সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নতুন মহাপরিচালকের

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
র‌্যাবের সংস্কার সরকারের বিষয়, পেশাদার ও মানবিক সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নতুন মহাপরিচালকের

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) নতুন মহাপরিচালক হিসেবে প্রথম মতবিনিময় সভা। রোববার (০৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় খোলামেলা অনেক প্রশ্নের জবাব দিলেন র‌্যাব মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ। তিনি র‌্যাবকে একটি পেশাদার, মানবিক ও প্রযুক্তি নির্ভর সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এই সংবাদ সম্মেলনে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয় র‌্যাব বিলুপ্তি সংক্রান্ত বিষয়েও। উত্তরে র‌্যাবের ১২তম মহাপরিচালক এই অতিরিক্ত আইজিপি বললেন, ‘যেহেতু আমরা রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বেড়ে উঠছি, সে ক্ষেত্রে আমাদের মূল কাজই হচ্ছে র‌্যাবকে জনগণের সামনে ভালোভাবে উপস্থাপন করা, কাজের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা। সুতরাং র‌্যাব সম্পর্কে যেকোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেবে।’

নাম পরিবর্তন, র‌্যাবের সংস্কার ও পুনর্গঠন সরকারের বিবেচনার বিষয় বলে মনে করেন র‌্যাব মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ‘আমরা কাজটা করে যেতে চাই। আর অভ্যন্তরীণ কোনো ত্রুটি থাকলে সেগুলো আমরা অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত করি। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ ছাড় পাচ্ছে না। আশা করি, বেলা শেষে ভালো অবস্থানে যেতে পারব এবং র‌্যাবের বিরুদ্ধে যে বিষয়গুলো আছে, সেগুলো আস্তে আস্তে সমাধান হয়ে যাবে।’ র‌্যাব গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোন সময় কী কী অপরাধের কারণে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আলোচনায় এল, তা বিশ্লেষণ করা দরকার বলে জানান র‌্যাব মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলেই বুঝতে পারবেন যে কাজের ক্ষেত্রে কিছুটা বিচ্যুতি হয়তো ছিল, কিছুটা পদস্খলন হয়তো ছিল বলে এ রকম একটা বিষয় এসেছে। তো আমরা যদি সেই জায়গাটা মেরামত করতে পারি, তাহলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলো থাকবে না।’

  • র‌্যাব নিয়ে যেকোন সিদ্ধান্ত নেবে সরকার
  • বিচারপ্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় সহায়তা করব
  • র‌্যাবের অপকর্ম বা অপকীর্তির ইতিহাস কিন্তু খুব বেশি নেই
  • আমি মনে করি, এ ধরনের একটি সংগঠন থাকার প্রয়োজন আছে
  • গত তিন মাসে র‌্যাবের আভিযানিক সাফল্যের বর্ণনা

সম্প্রতি র‌্যাবের বিভিন্ন সাফল্য এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সম্প্রতি র‌্যাবের বিভিন্ন অভিযানের তথ্য এবং র‌্যাবের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন র‌্যাব মহাপরিচালক। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে র‌্যাবের ক্রসফায়ারের মামলার নথি পর্যালোচনা করার কথা বলেছেন। তদন্ত শেষে প্রমাণ পেলে ট্রাইব্যুনালে বিচারের কথাও জানিয়েছেন।

বিচারপ্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় সহায়তা করব
এ ক্ষেত্রে র‌্যাব সরকারকে সহায়তা করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘আমাদের কাছে যা আছে, যেটুকু তথ্য থাকবে, তার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করা হবে। যে তথ্য আমার কাছে নেই বা থাকবে না, আমার দেওয়ার সামর্থ্য বা সাধ্য নেই, সে ক্ষেত্রে হয়তো আমরা অপরাগতা প্রকাশ করতে পারব। কিন্তু যতটুকু সাধ্য বা সামর্থ্যের মধ্যে তথ্য আমাদের কাছে আছে, তা দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় সহায়তা করব।’ সরকারের পক্ষ থেকে এই সহায়তা চাওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে আহসান হাবীব বলেন, এখন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল যোগাযোগ করেছে, এমন তথ্য আমার জানা নেই।

র‌্যাবের অপকর্ম বা অপকীর্তির ইতিহাস কিন্তু খুব বেশি নেই
র‌্যাবকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগের প্রসঙ্গে আহসান হাবীব বলেন, বিগত দেড় বছরে, বিশেষ করে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে যদি র‌্যাবের কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন, দেখবেন, র‌্যাবের অপকর্ম বা অপকীর্তির ইতিহাস কিন্তু খুব বেশি নেই। তার মানে এতে প্রমাণিত হয় যে র‌্যাবকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা গেলে র‌্যাব সঠিক পথে পরিচালিত হতে পারে। এ ব্যাপারে বর্তমান সরকার চেষ্টা করছে ভালো কাজে সম্পৃক্ত করার জন্য। বিশ্বাস করি, র‌্যাব সঠিক পথে পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে সরকারের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা আমরা পেয়েছি।’

আমি মনে করি, এ ধরনের একটি সংগঠন থাকার প্রয়োজন আছে
র‌্যাবকে আগে বাইরে থেকে এবং বর্তমানে প্রধান হিসেবে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে সংস্থাটির ১২তম মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেন, ‘আমি মনে করি, এ ধরনের একটি সংগঠন থাকার প্রয়োজন আছে। এটি অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। র‌্যাব পুলিশেরই একটি সংগঠন। সুতরাং আলাদাভাবে আমি দেখছি না। র‌্যাবের প্রয়োজনের বিষয়েও দ্বিমত নেই। আমি বাইরে থেকে যা দেখেছি, এখানে এসে আরও বেশি সুসংগঠিত দেখছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, সংগঠনটিকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। আমি চাই, পেশাদার, মানবিক ও প্রযুক্তি নির্ভর সংগঠন গড়ে উঠুক। অপরাধ প্রতিরোধে র‌্যাব দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে।’‎

সরকার পতনের পর জলদস্যু ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপের তৎপরতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এগুলো আমাদের দৃষ্টিগোচরে আছে। বিগত সময়ে নানা কারণে আমরা এটা নিয়ে কাজ করতে পারিনি। নির্বাচন ছিল আমাদের প্রায়োরিটির জায়গা। কিন্তু এখন আমাদের চিন্তাভাবনা আছে আমরা তথ্য সংগ্রহ করে ব্যবস্থা নেব।’ জঙ্গিবাদ দেশে আছে কি না, যদি থাকে সেটি নির্মূলে র‌্যাবের ভূমিকা কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আহসান হাবীব বলেন, ‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ—এ বিষয়গুলো আছে কি না, সেই জবাব আমি দিতে চাই না। আমরা কাজ করছি, যে বাদই থাকুক না কেন। উগ্রবাদ থাক, জঙ্গিবাদ থাক, যাুই থাকুক না কেন বা আছে কি না, সেটায় না গিয়ে বরং যদি কিছু থেকে থাকে, এগুলোর ওপর আমরা কাজ করছি। কাজগুলো চলমান আছে। যে বাদই থাকুক, আমরা সব বাদকে নির্মূল করতে পারব, ইনশাআল্লাহ।’

গত তিন মাসে র‌্যাবের আভিযানিক সাফল্য
মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, র‌্যাব ফোর্সেস গত তিন মাসে অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযান পরিচালনা করে ৩৩১ টি অস্ত্রসহ সর্বমোট ১০৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। উল্লেখযোগ্য অভিযানগুলো হলো গত ৮ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জে, ৯ মার্চ সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানাধীন এলাকায়, ১০ মার্চ মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে এলাকায় এবং ২৭ মার্চ রাজধানীর রুপনগর এলাকায় পরিচালিত অভিযান। চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড থানার জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান পরিচালনার সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় র‌্যাব সদস্য ডিএডি মোতালেব হোসেন নিহত হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় ২৯ জনকে অভিযুক্ত করে র‌্যাব একটি মামলা দায়ের করে। এরপর গত ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযান পরিচালনার করে র‌্যাব এবং পুলিশ কর্তৃক সর্বমোট ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

এছাড়াও গত ৯০ দিনে হত্যা সংক্রান্ত মামলায় ৪৮৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য অভিযান গুলোর মধ্যে গত ৮ মার্চ ঝিনাইদহ সদর থানাধীন এলাকায় এবং গত ২১ মার্চ মাদারীপুর জেলার সদর থানাধীন এলাকায় পরিচালিত অভিযান। গত তিন মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রায় ১৭৫ জন, ছিনতাইকারী ৬১ জন, ডাকাত ১০৬ জন, মানবপাচারকারী ২৬ জনসহ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী এবং পর্নোগ্রাফি মামলায় ৩৪৭৩ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও মাদক বিরোধী অভিযানে ১১১৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যান্য নানাবিধ দূবৃত্তিপূর্ণ/জঘন্য ঘটনার অপরাধিদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে র‌্যাব বিগত তিন মাসে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত প্রায় সাড়ে ৩ হাজার জনকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে র‌্যাব।

কালের আলো/এমএএএমকে

জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

পেনাল্টি না পাওয়ার ঠিক কয়েক মুহূর্ত পরই ফ্রান্সকে এগিয়ে নিলেন কিলিয়ান এমবাপে। তাতে ফ্রান্সের শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে অলিভার জিরুদের পাশে বসেন তিনি। ওখানেই শেষ নয়। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে আরেকটি গোল। তাতে এককভাবে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়ে গেলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

এছাড়া বিশ্বকাপে নিজের ১৪তম গোলটি করে সাবেক ফরাসি লিজেন্ড জাস্ট ফন্টেইন ও আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেও ছাড়িয়ে গেলেন তারকা স্ট্রাইকার। বলাবাহুল্য, বিশ্বমঞ্চে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি।

আর তিনটি গোল করলে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন তিনি। ১৬ গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা সবার উপরে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার তালিকায় এমবাপে যৌথভাবে তিন নম্বরে। ১৪ গোল করে গার্ড মুলারের পাশে তিনি।

ডি-বক্সের বাইরে থেকে মাইকেল অলিসের এক দারুণ অ্যাসিস্ট সেনেগালের রক্ষণব্যুহকে ভেঙে দেয়। আর ছয় গজ বক্সের প্রান্ত থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে এদুয়ার মেন্দির পাশ দিয়ে বল জালে জড়ান এমবাপে।

ফ্রান্সের জার্সিতে এটি ছিল তার ৫৭তম গোল। তারপর বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জাদুকরী শটে দ্বিতীয় গোল করেন তিনি

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:১৩ পূর্বাহ্ণ
ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে ২৪ বছর পর মাঠে নামল সেনেগাল। ২০০২ সালের সেই অঘটনের স্মৃতি অনুপ্রাণিত রেখেছিল তাদের। প্রথমার্ধে তারাই গোল করার সবচেয়ে ভালো সুযোগগুলো পেয়েছিল। দুর্ভাগ্য যে এগিয়ে যেতে পারল না। প্রথমার্ধ শেষে স্কোর গোলশূন্য।

নিকোলাস জ্যাকসন গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তার শট পোস্টে গিয়ে আঘাত করে। এছাড়া প্রথমার্ধের খেলা শেষের ঠিক আগমুহূর্তে ইসমাইলা সার-ও গোল করার একটি বিশাল সুযোগ হাতছাড়া করেন।

অন্যদিকে ফ্রান্সকে বেশ ক্লান্ত দেখা গেছে। সেনেগালের রক্ষণ ভাঙতে বেশ সংগ্রাম করেছে।

গত দুইবারের ফাইনালিস্ট কোনো ধরনের অঘটনে না পড়তে চাইলে দ্বিতীয়ার্ধে নিশ্চিতভাবেই আরও অনেক ভালো পারফরম্যান্স করতে হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

চট্টগ্রামে এমপির অনুদান পেলেন আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন ও কর্মচারীরা

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:০৫ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে এমপির অনুদান পেলেন আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন ও কর্মচারীরা

চট্টগ্রাম-১২ আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে দেওয়া অনুদান বণ্টনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য বরাদ্দকৃত এ তহবিলের অর্থ একই এলাকার বাসিন্দা, সংসদ সদস্যের আত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বিভিন্ন ব্যক্তির অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরির প্রস্তাব করা হয়। তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, সুবিধাভোগীদের একটি বড় অংশ পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের কৈয়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা এবং তারা একে অপরের সঙ্গে পারিবারিক ও আত্মীয়তাসহ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত।

তালিকায় থাকা বুলু আকতার (স্বামী: আহমদুল হক), হাসনা খাতুন (পিতা: আজিজুর রহমান), হোসনেরা বেগম (পিতা: আহমদ মিয়া), মুছাৎ হোসনেরা বেগম (পিতা: মোহাম্মদ ইউনুছ মিয়া), রাজিয়া আকতার (স্বামী: আমিরুল হক), হানিফাতুল মোজাহেবা (স্বামী: হাফেজ আজগর হোসেন), আজিজুল হক (পিতা: আব্দুল হক) এবং মরিয়ম বেগম (পিতা: মোহাম্মদ মুছা) একই এলাকার বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে তাদের অনেককে সংসদ সদস্যের আত্মীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, তালিকায় এমপি এনামের চাকতাই এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আলম ট্রেডিংয়ের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন কর্মচারীর নামও রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন— জসিম উদ্দিন (পিতা: মোহাম্মদ ছৈয়দ), মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ (পিতা: নুরুল ইসলাম), মোহাম্মদ শাকেল (পিতা: মোহাম্মদ সেলিম), মো. ওমর ফারুক (পিতা: মো. নূরুল ইসলাম) এবং পিকলু চৌধুরী (পিতা: রতন চৌধুরী)।

এ ছাড়া, সংসদ সদস্যের বাড়ির কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর (পিতা: মোহাম্মদ আবুল কালাম) এবং বাড়ির টি-বয় তানজিমুল হক আহাদকে (পিতা: আহমদুল হক) তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ঐচ্ছিক তহবিলের অর্থ বণ্টনে স্বজনপ্রীতি হয়েছে। একই গ্রাম ও ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে অধিকাংশ অর্থ বরাদ্দ দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক ও পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস মিয়া  বলেন, আমি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। তাছাড়া এটা আমাদের ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হবে

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি