খুঁজুন
                               
, ,
           

মানবাধিকার কমিশন ‘বিরোধী দল দমন কমিশন’: হাসনাত আবদুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ণ
মানবাধিকার কমিশন ‘বিরোধী দল দমন কমিশন’: হাসনাত আবদুল্লাহ

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে ‘বিরোধী দল ও মত দমন কমিশন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি দাবি করেছেন, ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলন করলে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬’ উত্থাপনের পর এর বিরোধিতা করে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং বিলটি উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি জাতীয় ইস্যুতে আলোচনার জন্য তাকে মাত্র দুই মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত অপ্রতুল। তিনি বলেন, সংসদে অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সময় ব্যয় হলেও এমন মৌলিক বিষয়ে পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া দুঃখজনক।

২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশন আইনের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে এই কমিশনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। তার ভাষায়, এই কমিশন বিরোধী দল দমনে ব্যবহৃত হয়েছে এবং একটি পক্ষকে দমন করার বৈধতা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ বাতিল করে পুরোনো আইনে ফিরে যাওয়া একটি “পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ”, যা জাতির অগ্রগতিকে ব্যাহত করবে।

কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, ছয় সদস্যের সিলেকশন কমিটিতে অধিকাংশই সরকারপক্ষের হওয়ায় কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ।

এছাড়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তে সরকারি অনুমতির বাধ্যবাধকতা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, যেখানে সরকার বা বাহিনী জড়িত থাকতে পারে, সেখানে তাদের অনুমতি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, বিলটি উত্থাপনের পর সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

পল্লবীতে নিষিদ্ধ আ. লীগ-ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
পল্লবীতে নিষিদ্ধ আ. লীগ-ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ১৭

রাজধানীর পল্লবী থানার মিরপুর-১২ এলাকায় মিছিলের অভিযোগে কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ সময় একটি ব্যানার, একটি মাইক্রোবাস ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মিরপুর-১২ মেট্রোরেলের পিলার নম্বর-১৪০ এর পূর্ব পাশে পাকা সড়ক থেকে এ গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির জানান, নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে মিছিল করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

টহলরত পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে ১৭ জনকে আটক করা হয়। এ সময় অজ্ঞান আরও অনেকে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে একটি ব্যানার জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ভাড়া করা একটি সাদা রঙের হাই-এস মাইক্রোবাস এবং গ্রেপ্তার দুজনের ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোনও জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সংবাদকর্মীদের স্বার্থে গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ চলছে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
সংবাদকর্মীদের স্বার্থে গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ চলছে: তথ্যমন্ত্রী

সংবাদকর্মী ও গণমাধ্যমের স্বার্থে সরকার গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহিরউদ্দীন স্বপন। তিনি বলেছেন, খুব শিগগির এ-সংক্রান্ত অ্যাকশন প্ল্যান ও গণমাধ্যম কমিশনের খসড়া অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

‎‎শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউস মিলনায়তনে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

‎‎তথ্যমন্ত্রী বলেন, একবার যদি গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে পারি, তাহলে সৎ সাংবাদিকদের অনুপ্রাণিত করার জন্য সরকারের হাতে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার থাকবে।

একই সঙ্গে অসৎ সাংবাদিকদের জন্য এটি দুঃসংবাদে পরিণত হবে।

‎‎তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল, জবাবদিহিমূলক ও পেশাদার করতে সরকার কাজ করছে।

এ লক্ষ্যেই গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‎‎বরিশাল টেলিভিশন ও মাল্টিমিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিটিএমএর সাধারণ সম্পাদক আকতার ফারুক শাহিন।

‎বরিশাল সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি নিকুঞ্জ বালা পলাশ, সাধারণ সম্পাদক শাহীন হাফিজ, সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদের সভাপতি কাজী মিরাজ, দৈনিক শাহানামা পত্রিকার সম্পাদক কাজী আজাদ, সিনিয়র সাংবাদিক সালেহ টিটু, মর্তুজা জুয়েল, শাহিন হাসান, শাহিন হাফিজ, শেখ শামীম, খন্দকার রাকিব প্রমুখ এসময় বক্তব্য দেন।

‎‎সভায় সাংবাদিক নেতারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং গণমাধ্যমের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন‍্য তথ্যমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি

দেশ বিভাজনের কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ
দেশ বিভাজনের কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী

Oplus_131072

পাহাড়ি, সমতল কিংবা ভাষা, বর্ণ, লিঙ্গ ও ধর্মের ভিত্তিতে বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ-বিভাজন তৈরি করার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ বরিশাল জেলার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, কোনো ধর্মাবলম্বীকে যদি কেউ রাজনৈতিক বা স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চায় কিংবা ধর্মের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে গ্রাস করতে চায়, তাহলে বুঝতে হবে সে সৃষ্টিকর্তা, মানবতা এবং ধর্মের মূল মর্মবাণীর বিরোধিতা করছে।

রাজনীতি ও ধর্মের ভিন্নতা ব্যাখ্যা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাজনীতিতে দর্শন, চিন্তা ও আদর্শ কোনো ধর্মীয় বিষয় নয়। ধর্মীয় দর্শন আবর্তিত হয় সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তাকে ঘিরে, আর রাজনীতির চিন্তাভাবনা আবর্তিত হয় জনগণের কল্যাণ ও সামাজিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে। রাজনীতির কোনো প্রতীক বা মার্কা দেবত্ব প্রদত্ত নয়; দল বা নেতা কোনো দেব-দেবী নন। তাদের বক্তব্য ও কর্মসূচি যতক্ষণ জনগণ নিজের কল্যাণ হিসেবে গ্রহণ করবে, ততক্ষণ তা থাকবে। অন্যথায় জনগণ তা বর্জন করবে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ধর্ম চর্চাকারীরা যখন ধর্মব্যবসায়ীদের চিনতে পারবেন, তখনই প্রকৃত ধর্মচর্চা সার্থক হবে। যে যার ধর্ম গভীরভাবে বিশ্বাস ও চর্চা করার মাধ্যমেই অন্য ধর্মকে সমানভাবে শ্রদ্ধা করার মানসিকতা তৈরি হয়। যখনই কোনো মহল ধর্মীয় অনুভূতিকে সূক্ষ্মভাবে সাম্প্রদায়িক পকেটে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করবে, তখনই ধর্মপ্রাণ মানুষকে সোচ্চার হয়ে সেই ধর্মব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে।

দেশের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিতে সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা যারা রাজনীতিতে সকল মানুষের সমান অধিকার নিয়ে কথা বলি, তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিনিধি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা ইতিহাসের শিক্ষা ভুলিনি। জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণ না করলে ইতিহাস আবার নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন— ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।

বরিশাল জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা।

এর আগে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধান অতিথি। পরে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। আলোচনা সভার শুরুতে পাঁচজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

কালের আলো/এসএকে