খুঁজুন
                               
, ,
           

দীর্ঘ ৩২ বছর আগে ক্রয়কৃত সাড়ে ৬ শতক জমি আদালতের মাধ্যমে ফিরে পেলেন প্রকৃত মালিক

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৬ অপরাহ্ণ
দীর্ঘ ৩২ বছর আগে ক্রয়কৃত সাড়ে ৬ শতক জমি আদালতের মাধ্যমে ফিরে পেলেন প্রকৃত মালিক

দীর্ঘ ৩২ বছর আগে ক্রয়কৃত জমি ৭ বছরের আইনি লড়াই ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজেদের সাড়ে ৬ শতক ক্রয়কৃত জমি ফিরে পেয়েছেন প্রকৃত মালিক আবু বক্কর সিদ্দিক।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে ঢাকঢোল পিটিয়ে ও লাল নিশানা গেড়ে আদালতের প্রতিনিধিদল আবু বক্কর সিদ্দিকের হাতে জমির দখল বুঝিয়ে দেন।

স্থানীয় সূত্র ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালী থানাধীন সানকিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল জলিল ফকিরের ছেলে বাদী আবু বক্কর সিদ্দিকের সাথে সানকিপাড়া ক্যান্টনমেন্ট বাইলেন (এমপি চেকপোস্টের পিছনে) এলাকার বিবাদী আব্দুল হালিম, শফিকুল ইসলাম, সেলিম, শাহীনসহ অন্য বিবাদীদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছিল।এই বিরোধের জেরে ময়মনসিংহের বিজ্ঞ মুক্তাগাছা সিভিল জজ আদালতে মামলা দায়ের করা হলে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আবু বক্কর সিদ্দিককে উক্ত জমির বৈধ ও প্রকৃত মালিক হিসেবে ঘোষণা করেন। আদালতের উচ্ছেদ ও দখল হস্তান্তরের নির্দেশ অনুযায়ী বিকেলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জমি মেপে লাল নিশানা টাঙিয়ে দেওয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এস.এ খতিয়ান ৩৪১, বি.আর.এস খতিয়ান ৪১৩, এস.এ দাগ নং ২১৬৪, ২১৬৫ এবং বি.আর.এস দাগ ৪১৯-এর অন্তর্ভুক্ত ‘পুকুর’ শ্রেণির সাড়ে ৬ শতাংশ জমি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

জমি হস্তান্তরের সময় ময়মনসিংহ জেলা জজ কোর্টের নাজির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, জজ কোর্টের সার্ভেয়ার ওয়াসিম এবং ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।

জমির দখল ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “দীর্ঘ ৩২ বছর পর আদালতের নির্দেশে, প্রশাসন ও স্থানীয়দের সহায়তায় আমি আমার জমি ফিরে পেয়েছি। আমার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা জজ কোর্টের নাজির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশে আমরা ঘটনাস্থলে এসে জমির পরিমাপ শেষে ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রকৃত মালিককে জমি বুঝিয়ে দিয়েছি। দেশে যে আইনের শাসন আছে এবং সঠিক বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, এ রায় তার একটি বড় প্রমাণ।

কালের আলো/এম/এএইচ

ফের এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, আহত পাটওয়ারী

সিলেট প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
ফের এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, আহত পাটওয়ারী

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর গাড়িবহরে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সিলেটের জৈন্তাপুরে জুলাই পদযাত্রা শেষে শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে ফেরার পথে এ হামলা হয়। হামলায় গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করা হলে ভাঙা কাঁচে আহত হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার সঙ্গে থাকা আরও একজন। তাদের দুজনের হাত কেটে রক্তপাত হয়।

এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জৈন্তাপুরে দলটির জুলাই পদযাত্রার শেষ কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে একদল হামলাকারী গাড়িবহরে হামলা চালায়। এতে কয়েকটি গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায় এবং ভাঙা কাঁচে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ দুজন আহত হন।

হামলার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, ‘তারেক রহমান, আমাকে রক্তাক্ত করে আপনি একটি ভয়াবহ ভুল করেছেন। আপনি সন্ত্রাসের পথে গেলেন।’

তিনি আরও লেখেন, জৈন্তাপুর পদযাত্রার শেষ কর্মসূচি শেষ করে ফেরার পথে তার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে তিনি রক্তাক্ত হয়েছেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

তারেক রহমানের ব্যতিক্রমী নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের রূপরেখা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের ব্যতিক্রমী নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের রূপরেখা

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের যে তাগিদ তৈরি হয়েছিল, তার ওপর ভর করে অনুষ্ঠিত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দেশবাসী আশা করেছিল, একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। আর সেই নতুন অধ্যায়ের মূল কাণ্ডারি হিসেবে আবির্ভূত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন শেষে ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে তিনি যখন স্বদেশের মাটিতে পা রাখেন, তখন তাঁর কণ্ঠে ছিল এক দৃঢ় অঙ্গীকার “আই হ্যাভ এ প্ল্যান” (আমার একটি পরিকল্পনা আছে)।

লক্ষ জনতার অভূতপূর্ব অভ্যর্থনার জবাবে তিনি উপহার দিয়েছিলেন এক রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পথ নকশা। আজ সরকার গঠনের চার-পাঁচ মাস পার হওয়ার পর যদি পুরো দৃশ্যপট পর্যালোচিত হয়, তবে দুটি বিপরীতমুখী স্রোত পরিলক্ষিত হয়: একদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সততা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞাময় নেতৃত্ব; অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে এবং প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহলের সেই পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা।

বিগত ৫৬ বছরের বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের শাসনামলটুকু বাদ দিলে সরকারপ্রধানদের জীবনযাত্রা, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং সিদ্ধান্তের মধ্যে এমন আমূল পরিবর্তন খুব কমই দেখা গেছে। কিন্তু তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতিটি পদক্ষেপে গভীর দেশপ্রেম ও পরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছেন।

তিনি রাষ্ট্রীয় তকমা ও অহেতুক আড়ম্বর ত্যাগ করে অত্যন্ত সাদামাটা পোশাক ও যাপনচিত্র বেছে নিয়েছেন। ভিআইপি সংস্কৃতির নামে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং সরকারি খরচে লাগাম টেনে ধরে যে ব্যয় সাশ্রয়ী পদক্ষেপ তিনি নিয়েছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

প্রতিপক্ষের সমালোচনা সহ্য করার বিরল উদারতা তিনি দেখাচ্ছেন। কোনো প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ভিন্নমতের প্রতি তাঁর আচরণ অত্যন্ত শৃঙ্খলিত ও গণতান্ত্রিক।

সাধারণ মানুষ আজ তাঁর মাঝে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছায়া দেখতে পাচ্ছেন। জিয়াউর রহমান যেভাবে খাল খনন কর্মসূচি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দরজায় পৌঁছে গিয়েছেন, তারেক রহমানও তাঁর নির্দেশিত পথেই আধুনিক ও সময়োপযোগী এক নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা বাস্তবায়ন করছেন।

তাঁর এই সুনির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি এবং সততা প্রতিটি দেশপ্রেমিক, গণতান্ত্রিক ও শান্তিকামী মানুষের হৃদয়ে গভীর প্রশান্তি যোগাচ্ছে। দীর্ঘকাল ধরে বঞ্চিত ও অবহেলিত মানুষগুলো তাঁর নেতৃত্বের মাঝে নতুন আশার আলো দেখছে।

দেশ পুনর্গঠনে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের যে প্রবল আকাঙ্ক্ষা, তা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী মাঠপর্যায়ে প্রত্যাশিত সমর্থন ও গতি পাচ্ছেন না। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করবে বা ত্রুটি খুঁজবে—এটাই স্বাভাবিক নিয়ম।

দীর্ঘদিনের লালিত অপসংস্কৃতি, তোষামোদি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের যে ঐতিহ্য দেশে তৈরি হয়েছিল, সেই চক্রটি তারেক রহমানের বৈষম্যহীন ও আইনের শাসনের মডেলকে মেনে নিতে পারছে না। কারণ, দেশে সত্যিকারের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের ব্যক্তিগত সুবিধা এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি,দখল,ঘুষ-দুর্নীতির রাজত্ব চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।

সম্প্রতি কুমিল্লায় একটি আলোচনা বৈঠকে কুমিল্লার এসপি মহোদয়ের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। সেখানে এক বিএনপি নেতার প্রশ্নের জবাবে তিনি খোলাখুলিই বলেন, “আমি আপনার আগে ছাত্রদল করে এসেছি। আপনারা কাউকে পছন্দ না হলেই ফ্যাসিস্ট বা জামায়াত বলে আখ্যা দেন।” এটি কেবল কোনো একক জেলার চিত্র নয়; সারাদেশের সিভিল প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীতে আজ এই একই প্রবণতা দৃশ্যমান।

একদল সুবিধাভোগী কর্মকর্তা ও দলীয় প্রভাবশালী নেতা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য দক্ষ, সৎ ও মেধাবী কর্মকর্তাদের ওপর রাজনৈতিক ‘ট্যাগ’ লাগিয়ে দিচ্ছেন।

এমনকি যেসব কর্মকর্তা ছাত্রজীবনে সরাসরি ছাত্রদলের সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন—কলেজ উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরবর্তীতে কর্মজীবনে যারা সৎ, পেশাদার ও পরহেজগার  হিসেবে চাকরিজীবন পার করেছেন—তাদেরকেও দুর্নীতির বাধা মনে করে হেনস্তা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ট্যাগ দেয়ার অপচেষ্টা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভুল তথ্য ও কুৎসা রটিয়ে নীতিবান কর্মকর্তাদের দূরে সরিয়ে রেখে পুরো সিস্টেমে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করাই এই গোষ্ঠীর মূল উদ্দেশ্য। তবে আশা জাগানিয়া বিষয় হলো, প্রধানমন্ত্রী অনেক ক্ষেত্রেই এসব বিষয় আমলে নিচ্ছেন না।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করতে চাই। সম্প্রতি চট্টগ্রামে সংঘটিত দুটি আলোচিত চাঁদাবাজির ঘটনায় সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি দেখা গেছে:

একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ব্ল্যাকমেইল করে এবং শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে কোটি টাকার চেক লিখে নেওয়ার ঘটনায় যুক্তদের রেহাই দেওয়া হয়নি।

অন্য একটি ইন্টারনেট কোম্পানির অফিসে ঢুকে কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও তাণ্ডব চালানোর মূলহোতাদের দ্রুততার সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের মতো অপরাধীরা যখন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, পুলিশ তাদের ধরে আইনের আওতায় এনেছে। বিএনপি সমর্থিত কেউ জড়িত থাকলেও ছাড় না দেওয়ার এই বার্তা প্রমাণ করে যে, প্রধানমন্ত্রীর নিয়তে কোনো গলদ নেই।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডিএফপি অডিটোরিয়ামে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা যে কোনো বিচারে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে আমি মনে করি।

এখানে দ্বিধাহীন চিত্তে বলতে চাই যে,সমসাময়িক রাজনীতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মত এতটা পরিচ্ছন্ন ইমেজের রাজনীতিবিদ খুব বেশি আছে বলে আমার জানা নেই।

“চার-পাঁচ মাসে কিছুই বদলায়নি। একইভাবে ঘুষখোররা ঘুষ খাচ্ছে। ভালো পরিকল্পনা আগের মতোই আটকে দিচ্ছে। আমি সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন দেখতে চেয়েছিলাম। তারেক রহমান ছাড়া আর কারও মধ্যে পরিবর্তন ঘটেনি। তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।”

স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর এই বক্তব্য একদিকে যেমন এক নির্মম সত্যের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ, অন্যদিকে এটি সরকারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গভীর সংকটের ইঙ্গিত বলেই মনে হচ্ছে।

এই জটিল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য এবং তোষামোদকারী চক্রকে রুখে দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে একটি কঠোর প্রশাসনিক কাঠামো অনুসরণের পরামর্শ:

প্রধানমন্ত্রী এমন একটি কঠোর নির্দেশনা জারি করতে পারেন যে, কোনো কর্মকর্তা বা নেতার নামে যদি তাঁর কাছে কোনো নেতিবাচক তথ্য দেওয়া হয় এবং তদন্তে তা ভুল বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হয়, তবে তথ্য প্রদানকারীকে একটি ‘মাইনাস পয়েন্ট’ দেওয়া হবে।

কোনো ব্যক্তি—তিনি প্রধানমন্ত্রীর যত নিকটবর্তীই হোন না কেন—যদি পরপর দুই বা তিনবার সরকারকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে ভুল বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রদান করেন, তবে তাকে অবিলম্বে সরকারের সকল পদ ও দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে ছাঁটাই করতে হবে। এই কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে অশুভ গ্রুপিং, লবিং এবং মিথ্যার ওপর ভর করে সুবিধা নেওয়ার রাজনীতি অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে আশা করা যায়।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর এবং জুলাই অভ্যুত্থানের মতো একটি ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পরও যদি মানুষের জীবনমানের মৌলিক উন্নতি না হয়, তবে তা দেশের জন্য চরম দুর্ভাগ্যজনক। চব্বিশের তরুণরা রক্ত দিয়েছিল ক্ষমতার হাতবদলের জন্য নয়; তারা রক্ত দিয়েছিল ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য। তারেক রহমান তাঁর সততা, পোশাক, মেধা ও দূরদর্শিতা দিয়ে নিজের পরিবর্তন প্রমাণ করেছেন। কিন্তু একটি দেশ কেবল এক একক ব্যক্তির পরিশ্রমে বদলাতে পারে না। দলের ভেতর থাকা তথাকথিত নেতাদের বুঝতে হবে, পুরোনো ভোগবাদী ও তোষামোদের রাজনীতি বজায় রাখলে তা কেবল দলকেই নয়, পুরো দেশকেই অতলে ডুবিয়ে দেবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বীকারোক্তিকে আক্ষেপ হিসেবে না দেখে, একে সতর্কবার্তা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে এখনই দল ও প্রশাসনের ভেতরের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও কঠোর অবস্থান নিতে হবে। তবেই জুলাই শহীদদের স্বপ্ন সার্থক হবে এবং তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন, সৎ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (আইইবি) বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির (বিটিএস) রক্তদাতা সম্মাননা-২০২৬ অনুষ্ঠানে এ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের অবদানকে স্বীকৃতি ও কৃতজ্ঞতা জানাতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

থ্যালাসেমিয়া সমিতির নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্যে করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আপনারা আমার কাছে আর্থিক সহযোগিতার জন্য একটি দরখাস্ত দেবেন, আমি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। আমি আপনাদের পাশে দাঁড়াতে চাই।’

রক্তদাতাদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন ইয়াং ছেলে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য ৪১ বার রক্ত দিয়েছেন এবং অন্য আরেকজন ৩৮ বার রক্ত দিয়েছেন। বারবার রক্ত দিয়ে রোগীদের জীবন বাঁচানোর এই মহান উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করা কোনো খারাপ বিষয় নয়। একজন মেয়ে যদি থ্যালাসেমিয়ার ক্যারিয়ার হয় এবং তার স্বামীও যদি ক্যারিয়ার হয়, তবে অনাগত সন্তান থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। আমরা যদি সচেতন হয়ে প্রাক-বৈবাহিক এই স্ক্রিনিং ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপে যাই, তবে এই ঘাতক ব্যাধি থেকে পুরো জাতিটাকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।’

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী স্বাস্থ্য ভাবনার স্মৃতিচারণ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান যখন গ্রাম-গঞ্জে সারাদেশে ছুটে যেতেন, সঙ্গে করে ডাক্তার নিয়ে যেতেন। সেইসঙ্গে তিনি মানুষকে সচেতন করার জন্য খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কথা বলতেন। যাতে মানুষের মধ্যে পরিবর্তন আসে এবং সুস্থ জাতি গঠন করা যায়।

তিনি বলেন, পিজ্জা, বার্গার, চিকেন ফ্রাই ও ফার্মের মুরগি খেতে খেতে আমরা নিজেদের শরীর ও স্বাস্থ্য শেষ করে দিচ্ছি। এসব খাবারের কারণেই ক্যানসার ও কিডনিসহ নানা জটিল রোগ হচ্ছে। তাই সবাইকে সঠিক ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

রোগ প্রতিরোধে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রাম-গঞ্জে ক্যানসার, কিডনি ও লিভার ক্যানসারসহ মারাত্মক রোগ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন। কারণ প্রথাগত চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করাই শ্রেয়।

সভায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. জুবাইদা রহমান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ ও বিটিএসের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ