পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট সংশোধন
ফল পুনঃনিরীক্ষণের বদলে এবার পুনর্মূল্যায়ন
আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। আসন্ন এই পরীক্ষা নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁস যাতে না হয় এবং সুষ্ঠুভাবে যাতে সম্পাদিত হতে পারে সেজন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব নানা উদ্যোগের মধ্যে একটি বিষয় সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে আর তা হলো পাবলিক পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের বদলে পুনর্মূল্যায়ন। মূলত পরীক্ষার্থীরা যাতে বঞ্চিত না হয় এবং তাদের উত্তরপত্র যাতে সঠিকভাবে মূল্যায়িত হয় সেই ধারণা থেকেই উঠে এসেছে পুনর্মূল্যায়নের বিষয়টি।
আর তা করতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট সংশোধনের কথাও বলছেন। গত শুক্রবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আয়োজনে এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে কেন্দ্র সচিবদের উপস্থিতিতে এক মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, পাবলিক পরীক্ষায় ফল প্রকাশের পর পুনর্মূল্যায়ন চালু করতে পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট ১৯৮০ সংশোধন করা হবে। অনেক সময় যথাযথ উত্তর দিলেও পরীক্ষক কম নম্বর দিলে আইনের কারণে সেখানে পুনঃনিরীক্ষণের সময় নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। এতে শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাবলিক পরীক্ষায় যাতে আর কোনো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য আইন সংশোধনের মাধ্যমে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।
জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এসএম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, ‘পুনঃনিরীক্ষণে কোনোভাবেই উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হয় না। শুধু অমূল্যায়িত প্রশ্নোত্তর কিংবা প্রাপ্ত নম্বরের যোগফলে ভুল হলে তা সংশোধন করা হয়। একই সঙ্গে যোগফল যদি পূর্বের নম্বরের চেয়ে কমও হয় তাহলে পূর্বের নম্বরই বহাল থাকে এবং যোগফল বেশি হলে তা বাড়তি নম্বর যুক্ত করা হয়। অর্থাৎ পুনঃনিরীক্ষণে নম্বর কমার কোনো সুযোগ নেই, তবে বাড়ার সুযোগ রয়েছে।’
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, পুনর্মূল্যায়নে নম্বর বাড়লে যেমন মেনে নিতে হবে তেমনিভাবে নম্বর কমে গেলেও মেনে নিতে হবে। এখানে উভয় ঘটনাই ঘটতে পারে।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট বিকাশ চন্দ্র মল্লিক বলেন, গত বছরের এসএসসি পরীক্ষায় পুনঃনিরীক্ষণে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ৭৩ হাজারের মতো উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ করতে হয়েছে। এখন এসব খাতা পুনর্মূল্যায়ন করতে গেলে অনেক বেশি সময় লাগবে, সেই বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array