খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

বগুড়ার জনসভায় জামায়াতকে তোপ দেগেছেন প্রধানমন্ত্রী

সেই গুপ্ত বিভ্রান্তকারীরা আবারও বিভ্রান্ত করার কাজ শুরু করেছে

জারিফ নিহাল/শফিকুল ইসলাম পলাশ, বগুড়া থেকে
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
সেই গুপ্ত বিভ্রান্তকারীরা আবারও বিভ্রান্ত করার কাজ শুরু করেছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলায় বগুড়ায় প্রথম সফর করলেন তারেক রহমান। সোমবার (২০ এপ্রিল) দিনমান তিনি বগুড়ায় ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। তাঁর হাত ধরে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার দেড়শ বছরে সিটি করপোরেশন পেলো উত্তরের জেলা বগুড়া। দীর্ঘ দুই দশক আগে বগুড়া সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন তাঁর মা, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ক্ষমতায় এসেই মায়ের সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্যে দিয়ে ১৩তম নগর সংস্থা হিসেবে বগুড়া সিটি করপোরেশন যাত্রা করল।

নিজ জেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সফর। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৬টা ১০ মিনিটে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বগুড়া সার্কিট হাউজে এসে পৌঁছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান সঙ্গে ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বগুড়া জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত কোর্ট বিল্ডিংয়ের ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

সফরসূচি মোতাবেক জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবনের ফলক উন্মোচন, ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন, জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন, শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এরপর বাগবাড়ী নশিপুর এলাকায় চৌকিরদহ খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পৈতৃক বাড়ি পরিদর্শন করেন। বিকেলে বগুড়া জেলা বিএনপি আয়োজিত নগরীর আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত জনসভায় জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে দেশের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে তোপ দেগেছেন। অভিযোগ করে বলেছেন, নির্বাচনের সময় যেসব গুপ্ত বিভ্রান্তকারী জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে, সেই বিভ্রান্তকারীরা আবারও বিভ্রান্ত করার কাজ শুরু করেছে।’

জামায়াতকে ইঙ্গিত করে সরকারপ্রধান জনসভায় আরও বলেন, ‘এদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা দেখেছি, তারা কীভাবে দেশের মানুষকে বিভ্রান্তের চেষ্টা করেছে। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আমরা দেখেছি, তারা কীভাবে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল। ১৯৯৬ সালেও আমরা দেখেছি, স্বৈরাচারের সঙ্গে গিয়ে দেশের মানুষকে কীভাবে বিভ্রান্ত করেছিল। ২০০৮ সালেও আমরা দেখেছি, ওয়ান ইলেভেনের সঙ্গে যোগ দিয়ে তারা কীভাবে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল।’

বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন। এ সময় জনসভা মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৬টা ১০ মিনিটে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বগুড়া সার্কিট হাউজে এসে পৌঁছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান সঙ্গে ছিলেন।

বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি কমাতে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন
প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেলা ১১টার দিকে বগুড়া জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত কোর্ট বিল্ডিংয়ের ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে তিনি নিজ জেলা বগুড়ায় বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ‘ই-বেইলবন্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধনন করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমান সরকার বিচার বিভাগকে দেশের মানুষের জন্য ‘ন্যায় ও আস্থার’ প্রধান স্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন ও শোষণ থেকে মুক্তির পর দেশে জনগণের সরাসরি ভোটে একটি দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিতামূলক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণ তাদের হারানো রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পেয়েছে। আর কোনো স্বৈরাচার যাতে জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।’ ‘আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের মধ্যে সমন্বয় ছাড়া গণতন্ত্রের সুফল মিলবে না। ফ্যাসিবাদী আমলে বিচার বিভাগকে দলীয় আদালতে পরিণত করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ অন্ধকারের শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং বৈষম্যহীন করা’- যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি কমাতে ই-বেইলবন্ড বা ইলেকট্রনিক জামিননামা পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘আগে আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর জেলখানা পর্যন্ত পৌঁছাতে ১৩টি ধাপ পার হতে হতো। এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই জামিননামা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে যাবে। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং জামিননামা জালিয়াতি বন্ধ হবে; জামিন আদেশ পাওয়ার পর কারামুক্তিতে আর দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হবে না; ই-বেইলবন্ড সিস্টেমকে পুলিশের সিডিএমএস, আদালতের কেস ম্যানেজমেন্ট এবং এনআইডি ভেরিফিকেশনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এদিন থেকে বগুড়া, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, রাজশাহী, নাটোর ও কুষ্টিয়া জেলায় এ কার্যক্রম শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে এটি সারা দেশে চালু করা হবে।

বিগত আমলের ‘গায়েবি মামলা’ ও ‘ভুয়া ওয়ারেন্টের’ সংস্কৃতির কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনলাইনে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট, রিলিজ অর্ডার এবং থানা থেকে ওয়ারেন্ট রিকলের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এর ফলে এক জেলার আসামিকে অন্য জেলায় গ্রেপ্তার করে আটকে রাখা বা ভুয়া ওয়ারেন্টে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার পথ বন্ধ হবে।’ প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘কারাগারের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ সামান্য অর্থের অভাবে আইনজীবী নিয়োগ করতে না পেরে বছরের পর বছর বিনা বিচারে জেল খাটছেন।’ এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি আইনমন্ত্রীকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন। বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী আইনজীবী ও বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের এই আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করে বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ন্যায়বিচার কোনো দয়া নয়, এটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে প্রধানমন্ত্রী থেকে সাধারণ নাগরিকÑসবার জন্য আইন ও বিচার হবে সমান।’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

তারেক রহমানের হাত ধরে সিটি করপোরেশন পেলো উত্তরের জেলা বগুড়া
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার দেড়শ বছরে সিটি করপোরেশন পেয়েছে উত্তরের জেলা বগুড়া। সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে পৌর ভবনে সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে ১৩তম নগর সংস্থা হিসেবে বগুড়া সিটি করপোরেশন যাত্রা করল। আগে থেকে থাকা ১২টি সিটি করপোরেশন হচ্ছে-ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ। ঐতিহাসিকভাবে বগুড়া পৌরসভার যাত্রা শুরু হয় ১৮৭৬ সালের ১ জুলাই, ব্রিটিশ শাসনামলে। উত্তরাঞ্চলের প্রাচীন পৌরসভাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। পৌরসভাটির অধীনে বর্তমানে ২১টি ওয়ার্ড রয়েছে এবং ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এর জনসংখ্যা প্রায় ৪ লাখ। ২০০৬ সালে ক্ষমতায় থাকার সময়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ওই সময় আশপাশের ৪৮টি মৌজা যুক্ত করে পৌরসভার আয়তন বাড়িয়ে ৬৯.৫৬ বর্গকিলোমিটার করা হয়। একই সঙ্গে ওয়ার্ডসংখ্যা ১২ থেকে বাড়িয়ে ২১ করা হয়। এরপর ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ দুই দশকেও সেই পরিকল্পনা বা উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। সরকার গঠনের দু’মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়াবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বপ্ন পূরণ করলেন। বগুড়া সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মীর শাহে আলম, বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, স্থানীয় সরকার সচিব শহীদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গাবতলীর বাগবাড়িতে ৯১১ জন নারীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে হাসির রোল
‘বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে লক্ষ-কোটি টাকা পাচার হয়েছে’- এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে তা ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে। এদিন দুপুরে বগুড়ার শহিদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি একথা জানান। নারীদেরও স্বাবলম্বী হতে পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মায়েরা এগিয়ে না গেলে দেশ আগাবে না। তাই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও স্বাবলম্বী হতে হবে।’ তিনি জানান, এই মাসের মধ্যে আরও ২৩টি উপজেলায় নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। আগামী ৫ বছরে, ৪ কোটি পরিবারের মধ্যে ম্যাক্সিমাম পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি। হামের প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার সরকারের সময়ে বাচ্চাদের টিকা বিদেশ থেকে আনা হয়নি ৫ আগস্টের পর যে সরকার আসলো তারাও টিকা আনেনি। কিছু মানুষের গাফিলতির কারণে অনেক শিশু প্রাণ হারিয়েছে।’ এদিন, বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়িতে ৯১১ জন নারীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে শুরুতেই অনুষ্ঠান মাতিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তার একাধিক রসিক মন্তব্যে হাসির রোল পড়ে যায় সভাস্থলে। বক্তব্যের একপর্যায়ে দর্শকসারিতে কিছুটা হইচই শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে হালকা সুরে বলেন, ‘এই ভাই, চুপ করতে হবে। না হলে তোরা বক্তব্য দে, আমি যাই। তার এই মন্তব্যে মুহূর্তেই প্রাণ ফিরে পায় পুরো জনসভা। এর কিছুক্ষণ পরই আরও ঘরোয়া ভঙ্গিতে তিনি বলেন, ‘আরে, খিদে পেয়েছে আমার।

বাপের বাড়ি এসেছি, খেতে দেবেন না? আমি এখনো খাইনি, নামাজও হয়নি। সামনে আরও জনসভা আছে, অন্য প্রোগ্রাম আছে। তারপর আবার ঢাকায় ফিরতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর এমন সোজাসাপ্টা ও আন্তরিক মন্তব্যে উপস্থিত জনতা করতালি দিয়ে সাড়া দেন। অনেকেই তার এই সহজ-সরল আচরণকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পাশে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী জোবাইদা রহমান। স্বামীর এমন খুনসুটি উপভোগ করতে দেখা যায় তাকেও। মঞ্চে থাকা অন্য অতিথিদের মধ্যেও এ সময় প্রফুল্ল পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। বক্তব্য চলাকালে দর্শকসারি থেকে এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করে বলেন, ভাই, অন্তত দুই ঘণ্টা কথা বলুন। জবাবে হেসে প্রধানমন্ত্রী সংক্ষেপে বলেন, ‘সেটা সম্ভব না। আমি আবার আসবো।’ অনুষ্ঠান শেষে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে স্থানীয় দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা হয়।

দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন, ২০ বছর পর পৈতৃক ভিটা ‘জিয়াবাড়ি’ পরিদর্শন
এদিন দুপুরে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীর জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতাল থেকে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির সূচনা ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রী জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং পরিচালনা কমিটি, চিকিৎসক ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিকাদান কর্মসূচিকে সরকারের অন্যতম সফল উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে। কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় নারী-পুরুষ, শিশুদের অভিভাবক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এরপর বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়িতে দীর্ঘ ২০ বছর পর পৈতৃক ভিটা ‘জিয়াবাড়ি’ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটের দিকে তিনি তাঁর পিতা শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়িতে প্রবেশ করেন। তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। প্রধানমন্ত্রী পুরো বাড়িটি ঘুরে দেখেন এবং বাড়ির তত্ত্বাবধায়কদের (কেয়ারটেকার) সাথে কথা বলেন। এর আগে সর্বশেষ ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি ‘জিয়াবাড়ি’তে গিয়েছিলেন।

পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা
বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বগুড়ার বাগবাড়ী নশিপুরে চৌকিদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, সবাই মিলে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ দেশের পানিসংকট নিরসন সম্ভব হবে। খাল খননের মাধ্যমে বন্যার সময় মানুষ, সম্পদ, গবাদিপশু ও ফসল রক্ষা করা যাবে। তারেক রহমান বলেন, আজ আমরা যে চৌকিদহ খালটি পুনঃখনন করেছি, এলাকার প্রবীণরা নিশ্চয়ই মনে করতে পারেনÑএই খালটি ১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খনন করেছিলেন। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল পুনঃখননের ফলে বর্ষায় অতিবৃষ্টির পানি জমে থাকবে, আবার শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে ব্যবহার করা যাবে। তিনি বলেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষিকাজে সেচ সুবিধা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি স্থানীয়দের খালের দুই পাশে গাছ লাগানো এবং মাছ চাষের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান তিনি। এতে বেকার তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং নারীরাও শাকসবজি চাষে যুক্ত হতে পারবেন। তারেক রহমান আরও বলেন, খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় একদিকে যেমন পানির সংকট তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে বর্ষায় অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। তাই খাল খনন অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, আমি আপনাদের এলাকার সন্তান। যে কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, তা সফল করতে সবাই দোয়া করবেন। কয়েকদিন পর আবারও আসব, ইনশাআল্লাহ।

সেই গুপ্ত বিভ্রান্তকারী আবারও বিভ্রান্ত করার কাজ শুরু করেছে
বিকেলে বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বগুড়া জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, ‘জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দাঁড়িয়ে বিএনপি যে জুলাই সনদে সই করেছে, সেই জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি অক্ষর এক-এক করে বাস্তবায়ন করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আরও বলেন, কিন্তু বারবার পরিষ্কারভাবে এ কথা বলে দেওয়ার পরও কিছু রাজনৈতিক দল সংসদে ও সংসদের বাইরে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কিছু কথাবার্তা বলা শুরু করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার ১১টি কমিশন করেছিল জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘১১টি কমিশনের মধ্যে সংবিধান, বিচার, প্রশাসনিক, স্বাস্থ্য, নারী আছে। আজকে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি আমরা। যারা এ সংস্কার সংস্কার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, যারা জুলাই সনদকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, তারা কিন্ত নারীর স্বাধীনতা বা নারীর উন্নয়ন নিয়ে কোনো কথা বলে না। চিকিৎসা ও ওষুধের জন্য যে কমিশন করা হয়েছিল, সেটা নিয়ে তারা কোনো কথা বলে না। কীভাবে প্রশাসনকে ঠিক করতে হবে, সেইটা তারা বলে না। কীভাবে আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে, সেইটা তারা বলে না। তারা শুধু সংবিধান, সংবিধান বিষয়ে কথা বলে।’

নির্বাচনের সময় যেসব গুপ্ত বিভ্রান্তকারী জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে, সেই বিভ্রান্তকারীরা আবারও বিভ্রান্ত করার কাজ শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, গতকাল রোববার ময়মনসিংহ বিভাগের একটি জেলায় প্রেমঘটিত একটি ব্যক্তিগত তুচ্ছ ঘটনা ঘটেছে। একটি পারিবারিক ও ব্যক্তিগত ঘটনাকে কারা রাজনৈতিক রূপ দিয়ে দেশে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে, জনগণ তা দেখেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড করতে চাই। ইমাম–মুয়াজ্জিনের জন্য ভাতা চালু করতে চাই, খাল খনন ও বৃক্ষ রোপণ করতে চাই। বেকার যুবকদের দেশে–বাইরে কর্মসংস্থান করতে চাই। এই সব ব্যাপারে তারা (বিরোধী দল) কোনো কাজ করে না। নির্বাচনের সময় বলেছিল, “রাখ তোর ফ্যামলি কার্ড”, মনে আছে? জনগণের স্বার্থে যে কাজ, তা তারা রেখে দেয়, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতা কীভাবে কুক্ষিগত করতে হবে, সেই কাজের জন্য তারা এখন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’

কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৃক্ষরোপণের মতো কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে জনসভায় উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি এই কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে হয়, তবে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আপনাদেরকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, তাদের অতীত ইতিহাস বলে দেয়, দেশ স্বাধীনের আগে ও পরে তারা কতবার চেষ্টা করেছে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে।’ ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, ‘যারা দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, তারা তো এ দেশের স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করেনি। এ দেশের অস্তিত্বেই তারা বিশ্বাস করেনি। যারা দেশের অস্বিত্বকেই বিশ্বাস করে না, তাদেরকে বিশ্বাস করা যায় না।’ সারা দেশে তারা গোলযোগ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে অভিযোগ করে তারেক রহমান আরও বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার যেমন বলেছিল, ‘এক মিনিটও শান্তিতে থাকতে দিব না,’ সেই একই ভূত কিন্ত এদের ওপরই সওয়ার করেছে। দেখেন, কেমন আন্দোলন-আন্দোলন কথা বলে আর ব্যক্তি ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিতে চায়। ঠিক দিনাজপুরের ইয়াসমিনের ঘটনার মতো। ওই ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে দেশে অশান্তি তৈরি করা হয়েছিল। ১৭২ দিনের হরতাল দিয়েছিল।’

২০১৬ সালে বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ ঘোষণা ও পরবর্তীকালে বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান জনসভায় বলেন, দেশের অন্য কোনো দল সংস্কারের স-শব্দও উচ্চারণ করেনি স্বৈরাচারের ভয়ে। কিন্ত বিএনপি স্বৈরাচারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিল। গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত সংস্কার কমিশনে বিএনপি জনগণের পক্ষে মতামত ও প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা সব সময় বলি, যা করব, স্বচ্ছভাবে করব। কোনো লুকোচুরি নেই। গণতন্ত্রে মতের পার্থক্য থাকবে। আমরা সেখানে অন্যান্য দলের সঙ্গে কতগুলো বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছি, সেটা জনগণের কাছে আমরা পরিষ্কারভাবে তুলেও ধরেছি, কোন কোন বিষয়ে আমরা একমত, কোন কোন বিষয়ে আমরা দ্বিমত পোষণ করি।’

বগুড়ার উন্নয়নে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি
প্রধানমন্ত্রী বগুড়ার উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে বলেন, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেললাইন নির্মাণ বগুড়ার মানুষের অন্যতম প্রধান দাবি। তাঁরা শিগগিরই এ কাজ শুরু করবেন। বগুড়াসহ আশপাশের অঞ্চল কৃষিপ্রধান। তাঁরা চান, কৃষিজাত পণ্য দেশে যেমন থাকবে, তেমন বিদেশেও রপ্তানি হবে। বগুড়া বিমানবন্দরে কার্গো বিমান কীভাবে আসতে পারে, সে কাজ তাঁরা শুরু করে দিয়েছেন। বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শিগগির শুরু হবে। সেখানে কৃষি, প্রকৌশল, চিকিৎসাসহ সব বিষয় থাকবে। তারেক রহমান বলেন, ‘আমি আপনাদের ভাই, আপনাদের সন্তান। যে প্রতিশ্রুতি আমরা নির্বাচনের আগে দিয়েছি, যে পরিকল্পনা আমরা বাস্তবায়ন শুরু করেছি, তা যদি বগুড়ার সন্তান হিসেবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তবে নিশ্চয়ই বগুড়ার প্রত্যেক মানুষের গৌরব বৃদ্ধি পাবে। আমি আপনাদের দোয়া যেমন চাই, সমর্থনও চাই।’ জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যায় বগুড়া প্রেসক্লাবের নবনির্মিত ভবন ও বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের পুনঃসংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন।

কালের আলো/এসআর/ এএএন

সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা উদযাপন

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আজ বুধবার (২৭ মে) উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ, পশু কোরবানি এবং হজের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘উকুফে আরাফা’ সম্পন্ন হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয়েছে ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা। মঙ্গলবার জিলহজ মাসের নবম দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৬ লাখ হাজি সৌদি আরবের আরাফাত ময়দানে সমবেত হন।

ভোর থেকেই শুভ্র ইহরামে সজ্জিত হাজিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত প্রান্তর।

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী আরাফাতে অবস্থান করা হজের প্রধান রুকন।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা আরাফাতের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে নামাজ, তওবা-ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আসকারে সময় কাটান। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় কান্না ও প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন তারা।

দুপুরে ঐতিহাসিক নামিরা মসজিদ থেকে হজের খুতবা দেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। এবার বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় খুতবার অনুবাদ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

খুতবায় তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

খুতবা শেষে হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করে সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেন তারা। একই সঙ্গে মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কঙ্কর সংগ্রহ করেন হাজিরা।

আজ ১০ জিলহজ সকালে মিনার জামারায় বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানি করেন হাজিরা। কোরবানি শেষে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরাম ত্যাগ করেন তারা। এরপর কাবা শরিফ তাওয়াফের মাধ্যমে হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদকে ঘিরে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। প্রবাসী বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় মুসলমানদের অনেকেই আগেই গরু, ছাগলসহ কোরবানির পশু কিনেছেন। পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নিয়েছেন নানা প্রস্তুতি।

ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এই পবিত্র দিনে অনাবিল আনন্দে ভাসছে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর নারী-পুরুষ, শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ। মুসলমানরা স্মরণ করছেন আল্লাহর নবী হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর অনন্য ত্যাগের ইতিহাস। ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিরা পরস্পরের মধ্যে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা বিনিময় করছেন। পাশাপাশি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দিচ্ছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

ঈদুল আজহার ইতিহাস মুসলিম মিল্লাতের পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। হযরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে মহান আল্লাহর নির্দেশ পেয়ে প্রিয় পুত্র ইসমাঈল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হন। মূলত এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি এক কঠিন পরীক্ষা।

আল্লাহর আদেশ পালনে অবিচল থেকে তিনি পুত্রকে কোরবানি দেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন এবং সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ইসমাঈল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি পশু কোরবানির নির্দেশ দেওয়া হয়।

সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতিকে ধারণ করেই ইসলামি শরিয়তে কোরবানির বিধান চালু হয়। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত অনুসরণ করে প্রতি বছর সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশু কোরবানি করে থাকেন।
হজ ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে সৌদি সরকার নিয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থা। তীব্র গরমে হাজিদের স্বস্তি দিতে বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে পানির ফোয়ারা ও ছায়ার ব্যবস্থা। পাশাপাশি হাজিদের যাতায়াত সহজ করতে প্রায় ২৪ হাজার বিশেষ বাস পরিচালনা করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

বৈরী আবহাওয়ায় দুই নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

মানিকগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ
বৈরী আবহাওয়ায় দুই নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপের মধ্যেই ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ।

বুধবার ( ২৭ মে) সকালে বৈরী আবহাওয়া শুরু হলে নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে পশ্চিম আকাশে মেঘ জমে প্রবল ঝড় ও ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। এমন অবস্থায় দুর্ঘটনা রোধে দুই নৌরুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেয় বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিউটিসির জিএম সালাম মিয়া জানান, ঝড় ও বৃষ্টির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল আবার চালু করা হবে।

ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ২৩টি ফেরি, ৩২টি লঞ্চ ও ৬৭টি স্পিডবোট চলাচল করে।

কালের আলো/এএএন/এমএস

দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে রাতভর হামলা ইসরায়েলের, শিশুসহ নিহত ৩১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ
দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে রাতভর হামলা ইসরায়েলের, শিশুসহ নিহত ৩১

হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদারে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘোষণা দেওয়ার পর দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। রাতভর চালানো হামলায় শিশুসহ অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এপ্রিলের মাঝামাঝি কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ বোমাবর্ষণের একটি রাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। হামলার পর বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েন হাজারো মানুষ।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা হিজবুল্লাহর ১০০টির বেশি অবকাঠামো ও যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

গত সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলার গতি ‘আরও বাড়ানোর’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি জানান, লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান আরও গভীরে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আইডিএফ স্থলভাগে বড় শক্তি নিয়ে অভিযান চালাচ্ছে এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করছে। উত্তর ইসরায়েলের জনগণকে হিজবুল্লাহর হামলা থেকে রক্ষা করতে আমরা নিরাপত্তা বলয় আরও শক্তিশালী করছি।’

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উভয় পক্ষই বারবার তা লঙ্ঘন করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনা অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

ইসরায়েলি হামলা প্রতিদিনই চলছে, বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে। পাল্টা জবাবে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, বেকা উপত্যকার মাশগারা গ্রাম ও দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ আল-শামালি এলাকায় বিমান হামলা হয়েছে। কিছু হামলা ইউনেস্কো স্বীকৃত ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গের কাছেও আঘাত হানে। প্রায় ৯০০ বছরের পুরোনো এই দুর্গ অঞ্চলটির অন্যতম সংরক্ষিত মধ্যযুগীয় স্থাপনা।

সোমবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ইরান-সমর্থিত শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহ ফাইবার-অপটিক ড্রোনসহ বিভিন্ন হামলা চালানোয় ইসরায়েল এখন হামলার সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়াবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা তাদেরকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেব।’

এ ঘোষণার পর বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাটি থেকে হাজারো মানুষ পরিবার নিয়ে সরে যেতে শুরু করেন। রাস্তায় দীর্ঘ যানজট দেখা যায়।

যদিও রাতভর হামলায় রাজধানী বৈরুত সরাসরি আক্রান্ত হয়নি, তবু পুরো লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান একের পর এক হামলা চালায়। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০টি স্থানে ডজনখানেক হামলা হয়েছে।

সোমবার দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। সোমবার সন্ধ্যায় দক্ষিণাঞ্চলীয় আরব সালিম শহরে নিজ বাড়িতে এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রী নিহত হন। এ ছাড়া কাওতারিয়েত এল রেজ গ্রামেও আরও দুজন নিহত হন।

রাতভর হামলায় মাশগারার বেশ কয়েকটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নারী ও দুই শিশু ছিল। আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে ছিল সাত বছরের শিশু মোহাম্মদ। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে গভীর রাতে তাকে উদ্ধারের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালে শুয়ে বিবিসিকে শিশুটি বলে, ‘ঘুম ভাঙার পর আমি নড়াচড়া করতে পারছিলাম না। চারদিকে শুধু অন্ধকার ছিল। পরে উদ্ধারকর্মীদের শব্দ শুনতে পাই।’

মোহাম্মদের মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা ছিল, হাত-পায়েও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। হামলার সময় সে ঘুমিয়ে ছিল। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে তার বাবা ও দুই বোন নিহত হন।

বর্তমানে মাশগারা যেন প্রায় জনশূন্য। রাস্তায় খুব কম যানবাহন দেখা যাচ্ছে। জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় পৌরসভার সদস্য আহমদ সাংবাদিকদের ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকা ঘুরিয়ে দেখান। চারদিকে ভাঙাচোরা ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ছড়িয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি হিজবুল্লাহর সদস্য নই। কিন্তু গ্রামের সবাই প্রতিরোধের পক্ষে। আর ইসরায়েল কাউকেই রেহাই দিচ্ছে না।’

এ সময় যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা গেলে এলাকাবাসী দ্রুত সরে যান। পরে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে কাছাকাছি এলাকায় বড় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী মাশগারার আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে জানায়, সেখানে হিজবুল্লাহর অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে এবং ‘সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা হয়েছে।’

তাদের দাবি, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত ৯০টির বেশি অস্ত্রাগার, কমান্ড সেন্টার ও নজরদারি পোস্টে হামলা চালানো হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েলি বাহিনী নতুন করে বিভিন্ন এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয়। তাদের অভিযোগ, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদরাই বলেন, হিজবুল্লাহর ধারাবাহিক লঙ্ঘনের কারণেই ইসরায়েলি বাহিনী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানায়, ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা উত্তর ইসরায়েলের তিনটি ব্যারাক ও একটি সামরিক পোস্টে হামলা চালিয়েছে।

নেতানিয়াহু এমন সময় হামলা জোরদারের নির্দেশ দেন যখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, দক্ষিণ লেবাননের যুদ্ধে তাদের এক সেনা নিহত হয়েছেন। ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত হিজবুল্লাহর হামলায় ২৩ জন ইসরায়েলি সেনা ও একজন বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, একই সময়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩ হাজার ১৮৫ জন নিহত হয়েছেন। সূত্র: বিবিসি।

কালের আলো/এসআর/এএএন