খুঁজুন
                               
, ,
           

সরকার সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী অভয় পাওয়ার কথা বললেন নোয়াব সভাপতি

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ণ
সরকার সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী অভয় পাওয়ার কথা বললেন নোয়াব সভাপতি

সরকার সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নিয়মিত পত্রিকা পড়েন এবং টেলিভিশন দেখেন— পত্রিকা ও গণমাধ্যমে খবরকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেন বলেও জানান তিনি। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসনের সভাকক্ষে নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সদস্যদের বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ। নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে এমন বৈঠকে নির্দিষ্ট সময় পরপর করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা ও মানুষের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।’ প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াবের প্রতিনিধিরা সংবাদপত্র শিল্পের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য অধীর আগ্রহের সঙ্গে শোনেন। প্রেস সচিব বলেন, ‘বৈঠকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে বলেছেন। মুক্ত ও স্বাধীন সংবাদপত্রকে সরকার এনকারেজ করেন সেটা প্রধানমন্ত্রী নোয়াব সদস্যদের জানিয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে জানান, তিনি নিয়মিত পত্রিকা পড়েন এবং টেলিভিশন দেখেন। পত্রিকা ও গণমাধ্যমে খবরকে গুরুত্ব দেন। প্রকাশিত খবরের কোনও সমস্যার কথা উঠলে তিনি তার খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

বৈঠকের শুরুতে নোয়াবের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। তিনি এই সংবাদপত্র শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা, বিগত সরকারগুলোর আমলে বিপুল সরকারি বিজ্ঞাপনের বিল বকেয়া থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তার সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। নোয়াব সদস্যরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয় এবং প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। সরকারের আমলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃত সাংবাদিকদের জামিনের মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন নোয়াব সদস্যরা।

বৈঠকে নোয়াবের সহ-সভাপতি এএসএম শহীদুল্লাহ খান, কোষাধ্যক্ষ আলতামাশ কবির, সদস্য এ কে আজাদ, দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক, পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. রমীজউদ্দিন চৌধুরী এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রকাশক নাসিম মনজুর উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

অভয় পাওয়ার কথা বলেছেন নোয়াবের সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভয় পাওয়ার কথা বলেছেন মুদ্রিত সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াবের সভাপতি দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের প্রতি ‘হোস্টাইল’ হতে চান না। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মতিউর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সব থেকে বড় জিনিসটা হচ্ছে যে তাকে (প্রধানমন্ত্রী) আমরা বলেছি যে আপনি উদার গণতন্ত্রের পথে হাঁটছেন। এটা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক। সংবাদপত্র হিসেবে আমরা, গণমাধ্যম হিসেবে আমরা এ ব্যাপারে ওনাদের সমর্থন দেব এই উদার গণতন্ত্রের পথে যদি হাঁটেন। প্রেস ফ্রিডমের কথা আমরা বলেছি, প্রেস ফ্রিডমে তিনি বলছেন যে আমি কাউকেই ‘হোস্টাইল’ করতে চাই না। এটা খুব ভালো কথা, কোনো রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এটা বলেন নাই।’ বৈঠকে কী আলোচনা হল? জবাবে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আপনারা জানেন সংবাদপত্র শিল্প এখন নানা চাপের মধ্যে আছে। অর্থনৈতিক চাপ সবথেকে বেশি।

সংবাদপত্র শিল্প টিকে থাকবে কি থাকবে না এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি শুনেছেন। ‘আমরা এটাও বলেছি যে আপনি তো এই শিল্পেরই একজন মানুষ। আপনারা জানেন যে তিনি একটা পত্রিকার (দিনকাল) সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন এবং তিনি এটার সুখ-দুঃখ সম্পর্কেও জানেন। তিনি শুনেছেন, তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।’ মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক বলেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) আমাদের যেসব দাবি-দাওয়া, সবের ব্যাপারে একমত হয়েছেন। সময়ের ব্যাপার, হয়ত উনি কিছুর ব্যাপারে ‘ইমপ্লিমেন্ট’ করার সময় হয়ত অনেক ক্ষেত্রে সময় লাগতে পারে সেটা বলেছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এটা উনাকে স্মরণ করিয়েছি যে আগের সরকারগুলো কী করেছে, তিনি এটা জানেন সবই। উনি বলেছেন যে আমরা সে পথে যাব না। আমাদের কাছে খুব ভালো লেগেছে, আমাদের ‘মিটিংটা’ খুবই ‘ইউজফুল’ হয়েছে এবং কার্যকর ‘মিটিং’ হয়েছে।’ বৈঠকে তাদের তরফে কী দাবি রাখা হয় প্রশ্ন করা হলে নোয়াব সভাপতি বলেন, ‘সাংবাদিকদের হয়রানি যেটা, যারা গ্রেপ্তারকৃত সাংবাদিক যারা, যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা আছে, তারপরও তিনি শুনেছেন, তিনি বলছেন যে এই বিষয়টা আমরা আলোচনা করব। আমরা (সরকার) দেখব যে আসলে তারা বিনা কারণে তারা জেলে আছেন কি না বা তাদের জামিন দেওয়া যায় কি না। এই বিষয়টা তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ভালোভাবে দেখবেন এবং এটা বলেছেন।’ প্রধানমন্ত্রী প্রতি তিনমাসে একবার অন্তত বসতে রাজি হয়েছেন বলে তিনি তুলে ধরেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় তেলের বাজারে এখন সরবরাহ ও চাহিদা নিয়ে আলোচনা বেশি। এ অবস্থায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সামান্য বেড়েছে। খবর : রয়টার্স

মঙ্গলবার (জিএমটি ০০:৪৬) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৮ সেন্ট বা ০.৩৯ শতাংশ বেড়ে ৭২ দশমিক ২৯ ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২৯ সেন্ট বা ০.২৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৮ দশমিক ৮৪ ডলারে ওঠে। এর আগের দিন দাম ইরান সংঘাত-পূর্ব পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে এসেছিল।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, তেলের সরবরাহ পুনরুদ্ধারের ফলে তাৎক্ষণিক ঝুঁকির মানসিকতা কিছুটা কমেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের অনিশ্চয়তার কারণে বর্তমান যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে বাজার এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটন হয় ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে, নয়তো “কাজ শেষ করবে”। তার এই মন্তব্য নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নৌপরিবহন পরিস্থিতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত জুন মাসে দৈনিক ৩৮ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করেছে, যা এপ্রিল ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ এবং ইরান সংঘাতের আগের সময়ের চেয়েও বেশি।

টিম ওয়াটারার বলেন, এখন বাজারের প্রধান নজর থাকবে চীনের চাহিদা পুনরুদ্ধারের ওপর। ইতোমধ্যে সরবরাহ বৃদ্ধির ইতিবাচক খবরের অনেকটাই দামে প্রতিফলিত হয়েছে। ফলে আগামী দিনে তেলের দামের গতিপথ নির্ভর করবে প্রকৃত চাহিদা সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে কি না।

অন্যদিকে, রাশিয়াসহ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস (OPEC+) আগস্ট থেকে দৈনিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা আরও ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জুন ও জুলাই মাসেও একই ধরনের উৎপাদন বৃদ্ধি কার্যকর করা হয়েছিল।

এছাড়া সৌদি আরব এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য আগস্ট মাসে তাদের প্রধান আরব লাইট ক্রুডের সরকারি বিক্রয়মূল্য (ওএসপি) ওমান/দুবাই গড় মূল্যের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৫০ ডলার কমিয়েছে। আগের মাসের তুলনায় এটি ১ দশমিক ১০ ডলারের হ্রাস, যা দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় মূল্যছাড়।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা, বাসাবাড়িতে পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা, বাসাবাড়িতে পানি

টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা ও কুয়াইশসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় বাসাবাড়ি ও দোকানে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী, বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে নগরীর অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ভারী বৃষ্টির পর নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমতে শুরু করে। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও আবার এর চেয়েও বেশি পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, কাজির হাট, হালিশহর, চান্দগাঁও, সুন্নিয়া মাদ্রাসা রোড, আকমল আলী রোড, পতেঙ্গা ও কুয়াইশ এলাকার বাসিন্দারা। এসব এলাকার অনেক বাসা ও দোকানে পানি ঢুকে গৃহস্থালির জিনিসপত্র ও ব্যবসায়িক মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়। চকবাজারের বিভিন্ন অলিগলিও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়।

জলাবদ্ধতার কারণে অফিসগামী মানুষের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন মোড়ে যানজট দেখা দেয়। অনেককে প্যান্ট গুটিয়ে, জুতা হাতে নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকটও দেখা দেয়। ফলে অনেক কর্মজীবী নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেননি।

চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, সকালে অফিসে বের হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

বাকলিয়ার বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, সকালে বৃষ্টির পর বাসার নিচতলায় পানি ঢুকে যায়। আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখতে হয়েছে। এত প্রকল্পের পরও জলাবদ্ধতার কোনো স্থায়ী সমাধান দেখছি না।

আগ্রাবাদের ব্যবসায়ী আবদুল কাদের বলেন, দোকানে পানি ঢুকে কিছু মালামাল নষ্ট হয়েছে। বৃষ্টি হলেই ব্যবসায় লোকসান গুনতে হয়।

আকমল আলী রোড এলাকার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে অলিগলিতে পানি আর পানি। অনেকে ঘরবন্দী হয়ে পড়েছেন। অনেক বাসায় পানি ঢুকেছে। মানুষের ভোগান্তি কখন শেষ হবে জানি না।

মুরাদপুর সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, সকালের বৃষ্টিতে বাসার নিচতলায় পানি। এখন ঘরবন্দি হয়ে পড়েছি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে শুধু চলাচলই ব্যাহত হয় না, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নগরীর পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, গতকাল সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

আমবাগান আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ বিজন রায়  বলেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী দুই থেকে তিনদিন বৃষ্টিপাত হতে পারে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হলেন ড. ফাহমিদা খানম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:০২ পূর্বাহ্ণ
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হলেন ড. ফাহমিদা খানম

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমকে মন্ত্রণালয়টির ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।

একইসঙ্গে বর্তমান সচিব মোহা. রায়হান কাওছারকে ওই পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার(৬ জুলাই)  এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ড. ফাহমিদা খানম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। কর্মজীবনে তিনি পরিবেশ, বন, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন।

এর আগে তিনি জাতীয় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন ইনস্টিটিউটের (ন্যাকসিআই) নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি