খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

সরকার সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী অভয় পাওয়ার কথা বললেন নোয়াব সভাপতি

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ণ
সরকার সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী অভয় পাওয়ার কথা বললেন নোয়াব সভাপতি

সরকার সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নিয়মিত পত্রিকা পড়েন এবং টেলিভিশন দেখেন— পত্রিকা ও গণমাধ্যমে খবরকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেন বলেও জানান তিনি। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসনের সভাকক্ষে নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সদস্যদের বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ। নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে এমন বৈঠকে নির্দিষ্ট সময় পরপর করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা ও মানুষের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।’ প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াবের প্রতিনিধিরা সংবাদপত্র শিল্পের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য অধীর আগ্রহের সঙ্গে শোনেন। প্রেস সচিব বলেন, ‘বৈঠকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে বলেছেন। মুক্ত ও স্বাধীন সংবাদপত্রকে সরকার এনকারেজ করেন সেটা প্রধানমন্ত্রী নোয়াব সদস্যদের জানিয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে জানান, তিনি নিয়মিত পত্রিকা পড়েন এবং টেলিভিশন দেখেন। পত্রিকা ও গণমাধ্যমে খবরকে গুরুত্ব দেন। প্রকাশিত খবরের কোনও সমস্যার কথা উঠলে তিনি তার খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

বৈঠকের শুরুতে নোয়াবের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। তিনি এই সংবাদপত্র শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা, বিগত সরকারগুলোর আমলে বিপুল সরকারি বিজ্ঞাপনের বিল বকেয়া থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তার সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। নোয়াব সদস্যরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয় এবং প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। সরকারের আমলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃত সাংবাদিকদের জামিনের মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন নোয়াব সদস্যরা।

বৈঠকে নোয়াবের সহ-সভাপতি এএসএম শহীদুল্লাহ খান, কোষাধ্যক্ষ আলতামাশ কবির, সদস্য এ কে আজাদ, দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক, পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. রমীজউদ্দিন চৌধুরী এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রকাশক নাসিম মনজুর উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

অভয় পাওয়ার কথা বলেছেন নোয়াবের সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভয় পাওয়ার কথা বলেছেন মুদ্রিত সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াবের সভাপতি দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের প্রতি ‘হোস্টাইল’ হতে চান না। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মতিউর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সব থেকে বড় জিনিসটা হচ্ছে যে তাকে (প্রধানমন্ত্রী) আমরা বলেছি যে আপনি উদার গণতন্ত্রের পথে হাঁটছেন। এটা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক। সংবাদপত্র হিসেবে আমরা, গণমাধ্যম হিসেবে আমরা এ ব্যাপারে ওনাদের সমর্থন দেব এই উদার গণতন্ত্রের পথে যদি হাঁটেন। প্রেস ফ্রিডমের কথা আমরা বলেছি, প্রেস ফ্রিডমে তিনি বলছেন যে আমি কাউকেই ‘হোস্টাইল’ করতে চাই না। এটা খুব ভালো কথা, কোনো রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এটা বলেন নাই।’ বৈঠকে কী আলোচনা হল? জবাবে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আপনারা জানেন সংবাদপত্র শিল্প এখন নানা চাপের মধ্যে আছে। অর্থনৈতিক চাপ সবথেকে বেশি।

সংবাদপত্র শিল্প টিকে থাকবে কি থাকবে না এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি শুনেছেন। ‘আমরা এটাও বলেছি যে আপনি তো এই শিল্পেরই একজন মানুষ। আপনারা জানেন যে তিনি একটা পত্রিকার (দিনকাল) সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন এবং তিনি এটার সুখ-দুঃখ সম্পর্কেও জানেন। তিনি শুনেছেন, তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।’ মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক বলেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) আমাদের যেসব দাবি-দাওয়া, সবের ব্যাপারে একমত হয়েছেন। সময়ের ব্যাপার, হয়ত উনি কিছুর ব্যাপারে ‘ইমপ্লিমেন্ট’ করার সময় হয়ত অনেক ক্ষেত্রে সময় লাগতে পারে সেটা বলেছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এটা উনাকে স্মরণ করিয়েছি যে আগের সরকারগুলো কী করেছে, তিনি এটা জানেন সবই। উনি বলেছেন যে আমরা সে পথে যাব না। আমাদের কাছে খুব ভালো লেগেছে, আমাদের ‘মিটিংটা’ খুবই ‘ইউজফুল’ হয়েছে এবং কার্যকর ‘মিটিং’ হয়েছে।’ বৈঠকে তাদের তরফে কী দাবি রাখা হয় প্রশ্ন করা হলে নোয়াব সভাপতি বলেন, ‘সাংবাদিকদের হয়রানি যেটা, যারা গ্রেপ্তারকৃত সাংবাদিক যারা, যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা আছে, তারপরও তিনি শুনেছেন, তিনি বলছেন যে এই বিষয়টা আমরা আলোচনা করব। আমরা (সরকার) দেখব যে আসলে তারা বিনা কারণে তারা জেলে আছেন কি না বা তাদের জামিন দেওয়া যায় কি না। এই বিষয়টা তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ভালোভাবে দেখবেন এবং এটা বলেছেন।’ প্রধানমন্ত্রী প্রতি তিনমাসে একবার অন্তত বসতে রাজি হয়েছেন বলে তিনি তুলে ধরেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা উদযাপন

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আজ বুধবার (২৭ মে) উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ, পশু কোরবানি এবং হজের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘উকুফে আরাফা’ সম্পন্ন হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয়েছে ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা। মঙ্গলবার জিলহজ মাসের নবম দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৬ লাখ হাজি সৌদি আরবের আরাফাত ময়দানে সমবেত হন।

ভোর থেকেই শুভ্র ইহরামে সজ্জিত হাজিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত প্রান্তর।

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী আরাফাতে অবস্থান করা হজের প্রধান রুকন।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা আরাফাতের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে নামাজ, তওবা-ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আসকারে সময় কাটান। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় কান্না ও প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন তারা।

দুপুরে ঐতিহাসিক নামিরা মসজিদ থেকে হজের খুতবা দেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। এবার বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় খুতবার অনুবাদ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

খুতবায় তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

খুতবা শেষে হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করে সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেন তারা। একই সঙ্গে মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কঙ্কর সংগ্রহ করেন হাজিরা।

আজ ১০ জিলহজ সকালে মিনার জামারায় বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানি করেন হাজিরা। কোরবানি শেষে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরাম ত্যাগ করেন তারা। এরপর কাবা শরিফ তাওয়াফের মাধ্যমে হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদকে ঘিরে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। প্রবাসী বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় মুসলমানদের অনেকেই আগেই গরু, ছাগলসহ কোরবানির পশু কিনেছেন। পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নিয়েছেন নানা প্রস্তুতি।

ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এই পবিত্র দিনে অনাবিল আনন্দে ভাসছে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর নারী-পুরুষ, শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ। মুসলমানরা স্মরণ করছেন আল্লাহর নবী হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর অনন্য ত্যাগের ইতিহাস। ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিরা পরস্পরের মধ্যে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা বিনিময় করছেন। পাশাপাশি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দিচ্ছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

ঈদুল আজহার ইতিহাস মুসলিম মিল্লাতের পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। হযরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে মহান আল্লাহর নির্দেশ পেয়ে প্রিয় পুত্র ইসমাঈল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হন। মূলত এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি এক কঠিন পরীক্ষা।

আল্লাহর আদেশ পালনে অবিচল থেকে তিনি পুত্রকে কোরবানি দেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন এবং সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ইসমাঈল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি পশু কোরবানির নির্দেশ দেওয়া হয়।

সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতিকে ধারণ করেই ইসলামি শরিয়তে কোরবানির বিধান চালু হয়। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত অনুসরণ করে প্রতি বছর সামর্থ্যবান মুসলমানরা পশু কোরবানি করে থাকেন।
হজ ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে সৌদি সরকার নিয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থা। তীব্র গরমে হাজিদের স্বস্তি দিতে বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে পানির ফোয়ারা ও ছায়ার ব্যবস্থা। পাশাপাশি হাজিদের যাতায়াত সহজ করতে প্রায় ২৪ হাজার বিশেষ বাস পরিচালনা করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

বৈরী আবহাওয়ায় দুই নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

মানিকগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ
বৈরী আবহাওয়ায় দুই নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপের মধ্যেই ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ।

বুধবার ( ২৭ মে) সকালে বৈরী আবহাওয়া শুরু হলে নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে পশ্চিম আকাশে মেঘ জমে প্রবল ঝড় ও ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। এমন অবস্থায় দুর্ঘটনা রোধে দুই নৌরুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেয় বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিউটিসির জিএম সালাম মিয়া জানান, ঝড় ও বৃষ্টির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল আবার চালু করা হবে।

ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ২৩টি ফেরি, ৩২টি লঞ্চ ও ৬৭টি স্পিডবোট চলাচল করে।

কালের আলো/এএএন/এমএস

দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে রাতভর হামলা ইসরায়েলের, শিশুসহ নিহত ৩১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ
দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে রাতভর হামলা ইসরায়েলের, শিশুসহ নিহত ৩১

হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদারে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘোষণা দেওয়ার পর দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। রাতভর চালানো হামলায় শিশুসহ অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এপ্রিলের মাঝামাঝি কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ বোমাবর্ষণের একটি রাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। হামলার পর বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েন হাজারো মানুষ।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা হিজবুল্লাহর ১০০টির বেশি অবকাঠামো ও যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

গত সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলার গতি ‘আরও বাড়ানোর’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি জানান, লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান আরও গভীরে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আইডিএফ স্থলভাগে বড় শক্তি নিয়ে অভিযান চালাচ্ছে এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করছে। উত্তর ইসরায়েলের জনগণকে হিজবুল্লাহর হামলা থেকে রক্ষা করতে আমরা নিরাপত্তা বলয় আরও শক্তিশালী করছি।’

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উভয় পক্ষই বারবার তা লঙ্ঘন করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনা অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

ইসরায়েলি হামলা প্রতিদিনই চলছে, বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে। পাল্টা জবাবে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, বেকা উপত্যকার মাশগারা গ্রাম ও দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ আল-শামালি এলাকায় বিমান হামলা হয়েছে। কিছু হামলা ইউনেস্কো স্বীকৃত ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গের কাছেও আঘাত হানে। প্রায় ৯০০ বছরের পুরোনো এই দুর্গ অঞ্চলটির অন্যতম সংরক্ষিত মধ্যযুগীয় স্থাপনা।

সোমবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ইরান-সমর্থিত শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহ ফাইবার-অপটিক ড্রোনসহ বিভিন্ন হামলা চালানোয় ইসরায়েল এখন হামলার সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়াবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা তাদেরকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেব।’

এ ঘোষণার পর বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাটি থেকে হাজারো মানুষ পরিবার নিয়ে সরে যেতে শুরু করেন। রাস্তায় দীর্ঘ যানজট দেখা যায়।

যদিও রাতভর হামলায় রাজধানী বৈরুত সরাসরি আক্রান্ত হয়নি, তবু পুরো লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান একের পর এক হামলা চালায়। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০টি স্থানে ডজনখানেক হামলা হয়েছে।

সোমবার দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। সোমবার সন্ধ্যায় দক্ষিণাঞ্চলীয় আরব সালিম শহরে নিজ বাড়িতে এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রী নিহত হন। এ ছাড়া কাওতারিয়েত এল রেজ গ্রামেও আরও দুজন নিহত হন।

রাতভর হামলায় মাশগারার বেশ কয়েকটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নারী ও দুই শিশু ছিল। আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে ছিল সাত বছরের শিশু মোহাম্মদ। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে গভীর রাতে তাকে উদ্ধারের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালে শুয়ে বিবিসিকে শিশুটি বলে, ‘ঘুম ভাঙার পর আমি নড়াচড়া করতে পারছিলাম না। চারদিকে শুধু অন্ধকার ছিল। পরে উদ্ধারকর্মীদের শব্দ শুনতে পাই।’

মোহাম্মদের মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা ছিল, হাত-পায়েও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। হামলার সময় সে ঘুমিয়ে ছিল। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে তার বাবা ও দুই বোন নিহত হন।

বর্তমানে মাশগারা যেন প্রায় জনশূন্য। রাস্তায় খুব কম যানবাহন দেখা যাচ্ছে। জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় পৌরসভার সদস্য আহমদ সাংবাদিকদের ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকা ঘুরিয়ে দেখান। চারদিকে ভাঙাচোরা ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ছড়িয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি হিজবুল্লাহর সদস্য নই। কিন্তু গ্রামের সবাই প্রতিরোধের পক্ষে। আর ইসরায়েল কাউকেই রেহাই দিচ্ছে না।’

এ সময় যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা গেলে এলাকাবাসী দ্রুত সরে যান। পরে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে কাছাকাছি এলাকায় বড় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী মাশগারার আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে জানায়, সেখানে হিজবুল্লাহর অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে এবং ‘সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা হয়েছে।’

তাদের দাবি, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত ৯০টির বেশি অস্ত্রাগার, কমান্ড সেন্টার ও নজরদারি পোস্টে হামলা চালানো হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েলি বাহিনী নতুন করে বিভিন্ন এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয়। তাদের অভিযোগ, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদরাই বলেন, হিজবুল্লাহর ধারাবাহিক লঙ্ঘনের কারণেই ইসরায়েলি বাহিনী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানায়, ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা উত্তর ইসরায়েলের তিনটি ব্যারাক ও একটি সামরিক পোস্টে হামলা চালিয়েছে।

নেতানিয়াহু এমন সময় হামলা জোরদারের নির্দেশ দেন যখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, দক্ষিণ লেবাননের যুদ্ধে তাদের এক সেনা নিহত হয়েছেন। ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত হিজবুল্লাহর হামলায় ২৩ জন ইসরায়েলি সেনা ও একজন বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, একই সময়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩ হাজার ১৮৫ জন নিহত হয়েছেন। সূত্র: বিবিসি।

কালের আলো/এসআর/এএএন