খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

হামে থামছে না মৃত্যুর মিছিল

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
হামে থামছে না মৃত্যুর মিছিল

হামে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫ বছরের শিশু তানভীর হাসান। হাসপাতালে কথা হয় শিশুটির পিতা রাকিব আহমেদের সঙ্গে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে খাওয়া-দাওয়া সব বন্ধ শিশুর। দুই দিন হলো কথা-বার্তাও কমে গেছে। কত চঞ্চল ছিল আমার বাবা। এখন বাবা বলেও ডাকে না, কোনো কিছুই ভালো লাগছে না। তিনি বলেন, এখন সারাক্ষণ কান্না করে। তার কান্নার সঙ্গে আমাদের মন ভারী হয়ে উঠছে। শুয়েও থাকে না। ঠিকমতো ঘুমও হয় না।

তানভীরের মতো অনেক শিশু হাসপাতালে দিন কাটাচ্ছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হাসপাতালে থামছে না মৃত্যুর মিছিল। এতে উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা মনে করেন, টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতিই হামের বিস্তারের প্রধান কারণ। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই থেকে অনেক শিশু বাদ পড়ে যাওয়ায় তাদের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়নি। এ ছাড়া ঘনবসতি ও অপুষ্টির কারণেও ভাইরাস দ্রুত ছড়াচ্ছে। টিকা না নেওয়া বা অসম্পূর্ণ ডোজ নেওয়ায় একটি বড় জনগোষ্ঠী ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল আটটা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারাদেশে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং লক্ষণ নিয়ে এই পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে ১২৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে এবং সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১৭০ জন। যাদের মধ্যে ৮৪৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৫৫ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে। আর সবচেয়ে কম সাতজন ভর্তি হয়েছে রংপুরে। অধিদপ্তর জানায়, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৩৩৪। এদের মধ্যে ৪ হাজার ৫৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী টিকাদানের ঘাটতির কারণে ২০২৩ সালে ৫৭টি দেশে বড় বা গুরুতর হাম প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। এটি আগের বছরের ৩৬টি দেশের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কার্যক্রমের আওতাধীন আফ্রিকান, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয়, ইউরোপীয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যায় ব্যাপক বৃদ্ধি দেখা গেছে। এই প্রাদুর্ভাবের প্রায় অর্ধেকই দেখা গেছে আফ্রিকা অঞ্চলে।

তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৩৪ লাখ শিশু জন্মগ্রহণ করে। ইপিআইয়ের হিসাবে হাম–রুবেলার টিকা না পাওয়া শিশুর সংখ্যা ৩৪ লাখ বা তার বেশি। ২০২৩ সালে ৮৬ শতাংশ শিশু টিকার প্রথম ডোজ ও ৮১ শতাংশ শিশু দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে। চার–পাঁচ বছরে টিকা না পাওয়া বা অরক্ষিত শিশুর সংখ্যা হয়েছে এক বছরে জন্ম নেওয়া শিশুর সমান বা তার বেশি।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, সারাদেশে পুরোদমে টিকা কার্যক্রম চলছে। আগামী মাসের ২০ তারিখের মধ্যে শতভাগ শিশু টিকার আওতায় আসছে। ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। অনেক শিশু মারা যাচ্ছে এবং শিশুর অভিভাবকরাও এখন সচেতন হচ্ছে। শিশুর অভিভাবকরা নিজ উদ্যোগে খবর নিয়ে টিকা নিচ্ছে এবং সচেতনও করা হচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ঢাকাসহ ৮ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৮:২৩ পূর্বাহ্ণ
ঢাকাসহ ৮ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

দেশের কয়েকটি অঞ্চলে সকাল ৯টার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস পাওয়া গেছে। এ সময় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে আবহাওয়া অফিসের রাত ১১টা থেকে পরবর্তী দিন অর্থাৎ বুধবার (২৭ মে) সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদী বন্দরগুলোর জন্য দেওয়া বিশেষ সতর্কবার্তায় এই পূর্বাভাস জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এসব অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদী বন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৭:০১ পূর্বাহ্ণ
দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন মির্জা ফখরুল

দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (২৬ মে) এক বিবৃতিতে তিনি এই শুভেচ্ছা জানান। বিবৃতিটি বিএনপির সহ দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন স্বাক্ষর করে গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশসহ দুনিয়াজুড়ে মুসলমানদের আমি পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানাই। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় দুটি ধর্মীয় উৎসবের দ্বিতীয়টি হলো ঈদুল আজহা, যা ‘ত্যাগের উৎসব’ নামেও পরিচিত। ঈদুল আজহার তাৎপর্য হলো আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা। এ কারণে বিশ্ব মুসলিম ঈদুল আজহার উৎসবে মিলিত হয়।

মনের অশুভ অন্ধকার দূর করে সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপনের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের মূল শিক্ষার উৎসই হলো পশু কুরবানি। কুরবানির মহিমান্বিত শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আল্লাহর নিকট নিজেকে সমর্পণ করা এবং মানবকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, আমি কামনা করি তাদের অবিরাম সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। ঈদুল আজহা সকলের জীবনকে করে তুলুক আনন্দময়… মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে আমি এ প্রার্থনা জানাই।

মির্জা ফখরুল বলেন, ঈদুল আজহার প্রধান শিক্ষা হলো আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও নিঃশর্ত আনুগত্য প্রদর্শন। এটি ত্যাগের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য অর্জনের উৎসব। এর মাধ্যমে মুসলমানেরা মহান আল্লাহ পাকের প্রতি নিবেদিত বান্দা হওয়ার প্রেরণা পায়। প্রতিটি উৎসবই ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের চিত্তবৃত্তি ও ঔদার্য প্রসারিত করে। উৎসব মানবজাতিকে সম্প্রীতির অটুট বন্ধনে আবদ্ধ করে এবং সামাজিক অন্ধকারের গহন থেকে মানবিক আলোর ভূমিতে সমবেত করে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ইসরায়েলকে অবশ্যই উৎখাত করা হবে: মোজতবা খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৬:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ইসরায়েলকে অবশ্যই উৎখাত করা হবে: মোজতবা খামেনি

ইসরায়েলকে উৎখাতের হুঁশিয়ারি দিয়ে পবিত্র হজ ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

মঙ্গলবার (২৬ মে) ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাতে সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

বার্তায় ইসরায়েলকে এই অঞ্চলের জন্য ‘বিপজ্জনক ও প্রাণঘাতী ক্যানসারযুক্ত টিউমার’ আখ্যা দিয়ে খামেনি বলেন, অবশ্যই ইসরায়েলকে উৎখাত করা হবে।

তিনি বলেন, ইরানের ধ্বংসাত্মক আঘাতে ইসরায়েলের শাসনব্যবস্থা এখন অসহায় হয়ে পড়েছে।

একে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ‘চরম আঘাত’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। বার্তায় এ বছর হজে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বর্জন করার আহ্বান জানিয়েছেন মোজতবা খামেনি। একইসঙ্গে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নিপাত যাক’ স্লোগানকে ‘ইসলামি উম্মাহর প্রধান স্লোগান’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক লিখিত বিবৃতির বরাতে আল অ্যারাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির জন্য ঢাল হিসেবে কাজ করবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।

খামেনি বলেছেন, এই অঞ্চলে আগ্রাসন চালানো বা সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের জন্য আর কোনো নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। বরং প্রতিদিনই তারা তাদের আগের অবস্থান থেকে আরও দূরে সরে যাচ্ছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ