খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

জ্বালানি সহযোগিতায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি সহযোগিতায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

Oplus_131072

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি খাতে কৌশলগত সহযোগিতার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্থানীয় সময় সকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন জ্বালানি দপ্তরে (ডিওই) এই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে জ্বালানি সেক্রেটারি ক্রিস রাইট এবং বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এতে স্বাক্ষর করেন।

এই সমঝোতা স্মারকটি এমন এক সময়ে স্বাক্ষরিত হলো যখন মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চলমান সংঘাতের কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশ তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুতর চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। এই সমঝোতা স্মারকটি সাশ্রয়ী মূল্য ও সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থায়িত্বের উপর ভিত্তি করে জ্বালানি উৎসের বিকল্পগুলিকে বৈচিত্র্যময় করার মাধ্যমে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধির প্রচেষ্টায় অবদান রাখবে এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বৃহত্তর জ্বালানি সহযোগিতার নতুন পথ খুলে দেবে।

এটি দুই দেশের মধ্যে তেল, গ্যাস, ভূতাপীয় ও জৈবশক্তি বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্ঞান ও দক্ষতার বিনিময় এবং গবেষণাকে সহজতর করবে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশকে সাশ্রয়ী মূল্যে মার্কিন এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানি করতে সহায়তা করবে।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই সমঝোতা স্মারকটিকে ক্রমবর্ধমান বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্কের আরেকটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান।

মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী রাইট এই সমঝোতা স্মারকটিকে বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং মার্কিন জ্বালানি দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

অবশেষে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেন মৌনি রায়

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ২:৪৬ অপরাহ্ণ
অবশেষে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেন মৌনি রায়

গত কয়েকদিন ধরে শোনা যাচ্ছিল ঘর ভাঙছে বলিউড অভিনেত্রী মৌনি রায়ের। ইনস্টাগ্রামে একে অপরকে আনফলো করলে বিচ্ছেদের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এক বিবৃতির মাধ্যমে নিজেদের বিচ্ছেদের খবর নিশ্চিত করেছেন এ তারকা।

বিবৃতির শুরুতেই সংবাদমাধ্যমের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে মৌনি ও সুরজ বলেন, ‘গণমাধ্যমের একটি নির্দিষ্ট অংশের পক্ষ থেকে আমাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনধিকার চর্চায় আমরা মর্মাহত। আমরা জানাতে চাই যে, আমরা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়গুলোকে ব্যক্তিগতভাবে সমাধানের জন্য আমরা সময় নিচ্ছি।’

বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুললেন মৌনী রায়
নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে ছড়ানো নানা গুজবের কড়া সমালোচনা করে তারা আরও বলেন, ‘আমাদের ব্যক্তিগত জীবনকে মুখরোচক করার জন্য কিছু কাল্পনিক গল্প এবং চরম মিথ্যা ছড়ানো হচ্ছে। যা বাস্তবতার সাথে মোটেও মেলে না। আমাদের ব্যক্তিগত কথা বিবেচনা করে আমরা পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে আলাদা পথ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ মুহূর্তে আমরা অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে এই কঠিন সময়টি পার করার চেষ্টা করছি। আগামী দিনগুলোতে আমাদের বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করব।’

বিবৃতিতে ভক্ত এবং সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্যে তারা লিখেছেন, ‘সবাইকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি আমাদের গোপনীয়তার প্রতি সম্মান রাখুন। আমাকে ও সুরজকে নিয়ে কোনো মিথ্যা গল্প ছড়াবেন না। এই কঠিন সময়ে আপনাদের সবার কাছ থেকে আমরা গোপনীয়তা প্রত্যাশা করছি। সমস্ত মিডিয়া হাউজের কাছে বিনীত অনুরোধ, দয়া করে এগুলো বন্ধ করুন।’

২০১৯ সালে দুবাইয়ে থার্টি ফার্স্ট নাইটের পার্টিতে মৌনী ও সুরজের পরিচয় হয়। সেখান থেকেই সম্পর্কের শুরু। এরপর ২০২২ সালের জানুয়ারিতে গোয়ায় জমকালো আয়োজনে মালাবদল করেন তারা। মালয়ালি এবং বাঙালি—দুই রীতিতেই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল।

কালের আলো/এসআর/এএএন

হামের চেয়ে নিউমোনিয়ায় মৃত্যু বেশি, প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে ৭০ শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ২:৩৯ অপরাহ্ণ
হামের চেয়ে নিউমোনিয়ায় মৃত্যু বেশি, প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে ৭০ শিশু

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের তুলনায় নিউমোনিয়ায় অনেক বেশি শিশু মারা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ২৪ হাজার শিশু নিউমোনিয়ায় মারা যায়। প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন শিশু এ রোগে প্রাণ হারাচ্ছে।

শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসব তথ্য তুলে ধরেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্তমানে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব চলছে। তবে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৯৫ শতাংশ সুস্থ হয়ে উঠছে। দেশে চলমান টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এরই মধ্যে ৯৫ শতাংশ শিশু এসেছে বলেও জানান তারা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হামে শিশুমৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জিয়াউল হক বলেন, হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সফল টিকাদান কর্মসূচির কারণে একসময় হামের প্রকোপ অনেক কমে এসেছিল। কিন্তু গত দুই বছরে টিকাদান কর্মসূচিতে ছেদ পড়ায় এ বছর মার্চ থেকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।

তিনি জানান, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত দুই মাসে ৫৪ হাজার ৪১৯ জনের মধ্যে হাম ও হাম সদৃশ উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ জন হামে এবং ৩৬৯ জন হাম সদৃশ উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুমৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ এখনো নিউমোনিয়া। তারা বলেন, হামের চেয়ে নিউমোনিয়ায় সবচেয়ে বেশি শিশু মারা যাচ্ছে। নীরবে এই মৃত্যু হচ্ছে।

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। চিকিৎসায় দেরি হলে জটিলতা বেড়ে যায়। হাম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে শিশুরা নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত হয়।

তিনি আরও বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ১ শতাংশের ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে সময়মতো চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন বলেন, দেশে ব্রেস্ট ফিডিংয়ের হার এখন ৫৬ শতাংশ। বাকি শিশুরা মাতৃদুগ্ধের বাইরে থাকায় তাদের রোগপ্রবণতা বাড়ছে। পাশাপাশি প্যাকেটজাত খাবারের ওপর নির্ভরশীলতাও শিশুদের নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

এসময় অধ্যাপক ডা. গোলাম সারওয়ার, অধ্যাপক ডা. আসিফ মোস্তফা এবং অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল কিবরিয়াসহ অন্য বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ব্যাংকে নীরবে বাড়ছে দাবিহীন আমানত

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ২:১৩ অপরাহ্ণ
ব্যাংকে নীরবে বাড়ছে দাবিহীন আমানত

স্থানীয় ও বৈদেশিক মুদ্রা মিলে ৩৩টি ব্যাংকের অদাবিকৃত আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় অদাবিকৃত আমানতের পরিমাণ ৪৯ কোটি ৮ লাখ ৬০ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া মার্কিন ডলারে প্রায় ৪ কোটি ৪৮ হাজার ১৭০ টাকা (৩২৬২৫৮ ডলার), পাউন্ডে ২৭ লাখ ৩৩ হাজার ৩৭৮ টাকা (৪৬৪৮৬ পাউন্ড) এবং ইউরোতে ৭ লাখ ৫৮ হাজার ৪৪০ টাকা (৫২৭৫ ইউরো)।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দাবিহীন আমানতের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে কয়েকটি বড় বেসরকারি ব্যাংক। এর মধ্যে বিদেশি খাতের সিটি ব্যাংক এনএ-এর সর্বোচ্চ প্রায় ১৫ কোটি টাকার দাবিহীন আমানত রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের রয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া এইচএসবিবিসির প্রায় ৬ কোটি টাকা, ইস্টার্ন ব্যাংকের প্রায় ৫ কোটি টাকা এবং সিটি ব্যাংকের প্রায় ৩ কোটি টাকার দাবিহীন আমানত রয়েছে। এসব আমানতের বড় অংশই দীর্ঘদিন অচল থাকা সঞ্চয়ী হিসাব, এফডিআর ও বিভিন্ন ডিপোজিট স্কিমে জমা টাকার হিসাব।

ব্যাংকাররা বলছেন, গ্রাহকের মৃত্যু, বিদেশে স্থায়ী হওয়া, ঠিকানা পরিবর্তন, মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকা কিংবা উত্তরাধিকারীদের তথ্য না থাকায় এসব হিসাব বছরের পর বছর নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকে। অনেক সময় পরিবারও জানে না যে, তাদের স্বজনের নামে ব্যাংকে আমানত রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের কোনো হিসাবে জমা থাকা আমানতের বিষয়ে ১০ বছর ধরে কোনো দাবিদার পাওয়া না গেলে ওই হিসাবকে অদাবিকৃত আমানত হিসাব (আনক্লেইমড ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট) বলে গণ্য করা হয় এবং এসব হিসাবের অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করার নির্দেশনা রয়েছে।

জানা যায়, এসব আমানত সংশ্লিষ্ট গ্রাহক বা তার উত্তরাধিকারীদের ফিরিয়ে দিতে প্রায় এক বছর হিসাবধারীর নাম, হিসাব নম্বর ও টাকার পরিমাণসহ বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশ করা হয়ে থাকে। এ সময় কোনো দাবিদার উপযুক্ত প্রমাণ দিতে পারলে তার অর্থ ফেরত দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সরিয়ে ফেলার পর আরও এক বছর বাংলাদেশ ব্যাংক ওই অর্থ ফেরত দিতে রাজি থাকে। প্রতি বছর এপ্রিলে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে অদাবিকৃত আমানত জমা নেয়। সব মিলিয়ে অন্তত ১২ বছর তিন মাস সময় দেওয়া হয় অদাবিকৃত আমানত গ্রাহককে ফেরত নেওয়ার জন্য। এরপরও যেসব আমানতের দাবিদার পাওয়া না যায়, সেসব আমানতের অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

কালের আলো/এম/এএইচ