খুঁজুন
                               
রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

আগামী দিনে সবচেয়ে বেশি চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে কোন খাতের মানুষ?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
আগামী দিনে সবচেয়ে বেশি চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে কোন খাতের মানুষ?

বিশ্বজুড়ে দ্রুত বদলে যাচ্ছে শ্রমবাজার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন, ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধীরগতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বহু খাতে কর্মসংস্থানের ধরন পাল্টে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক বছরে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন এমন সব কর্মীরা, যাদের কাজ সহজে প্রযুক্তি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব।

বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, ব্যাংকিং খাত, কলসেন্টার, খুচরা বিক্রি, পরিবহন, গণমাধ্যমের কিছু অংশ এবং নিম্নদক্ষ অফিসভিত্তিক চাকরিগুলো বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে রয়েছে। একইসঙ্গে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারা কর্মীদের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, “চাকরি পুরোপুরি হারিয়ে যাবে”—এমন পরিস্থিতি সব ক্ষেত্রে না এলেও একই কাজ কম জনবল দিয়ে করার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। ফলে নতুন নিয়োগ কমে যাওয়া, বেতন স্থবির হয়ে পড়া এবং ধীরে ধীরে কর্মী ছাঁটাই বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক “সাউথ এশিয়া ডেভেলপমেন্ট আপডেট” শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে প্রায় ৭ শতাংশ চাকরি সরাসরি এআই-এর কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে, যদিও ১৫ শতাংশ চাকরিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ কাজ করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অটোমেটেড মেশিন, ডিজিটাল কাটিং, রোবোটিক সেলাই প্রযুক্তি এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর চাপের কারণে নিম্নদক্ষ শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ায় অনেক কারখানা এখন কম শ্রমিকে বেশি উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা শুধু একটি নির্দিষ্ট কাজ জানেন—যেমন সাধারণ সেলাই, প্যাকেজিং বা কাটিং—তাদের চাকরির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক ক্রয়াদেশের অনিশ্চয়তা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে মন্দাভাব, উচ্চ সুদহার এবং ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ার কারণে রফতানি আদেশেও চাপ তৈরি হয়েছে।গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভলপমেন্ট’র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশের উৎপাদন খাতে প্রায় ১৪ লাখ কর্মসংস্থান হারিয়েছে। এ সময়ে খাতটির বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১০ শতাংশ, কিন্তু কর্মসংস্থান ৯৫ লাখ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৮১ লাখে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি স্পষ্টভাবে ‘কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি’র লক্ষণ।গত এক দশকে তৈরি পোশাক রপ্তানি ১২.৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও কর্মসংস্থান কেন কমছে—এ প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশ এখনও আরএমজি খাতনির্ভর হওয়ায় বিকল্প শিল্পভিত্তি তৈরি হয়নি। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পোশাক ও বস্ত্রখাতে দ্রুত অটোমেশন বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে শ্রমবাজারে।

কারখানাগুলোতে স্বয়ংক্রিয় মেশিন ব্যবহারের ফলে আগের তুলনায় অনেক কম শ্রমিক দিয়ে বেশি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, একটি স্বয়ংক্রিয় সোয়েটার মেশিন দিনে প্রায় ৩০টি পণ্য তৈরি করতে পারে, যেখানে ম্যানুয়াল মেশিনে উৎপাদন হয় সর্বোচ্চ পাঁচটি। ফলে শ্রমিকের প্রয়োজন কমে যাচ্ছে। গাজীপুরের এক পোশাক শ্রমিক বলছেন “আগে ১২ জনে যে কাজ করতাম, এখন চারজনেই সেই কাজ হচ্ছে”
ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও এআইভিত্তিক গ্রাহকসেবার কারণে ব্যাংক খাতেও পরিবর্তন দ্রুত দৃশ্যমান হচ্ছে।আগে যেখানে একটি শাখায় বিপুল সংখ্যক কর্মী প্রয়োজন হতো, এখন অনেক সেবা মোবাইল অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে ক্যাশ বিভাগ, সাধারণ কাস্টমার সার্ভিস ও ডাটা এন্ট্রিভিত্তিক চাকরিগুলো ঝুঁকিতে পড়তে পারে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে ব্যাংকগুলো প্রযুক্তিদক্ষ কর্মী বেশি নিয়োগ দেবে। অন্যদিকে শুধু প্রচলিত ব্যাংকিং দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল কর্মীদের জন্য সুযোগ সংকুচিত হতে পারে।

ছাঁটাইয়ের প্রভাব ব্যাংকিং খাতেও পড়েছে। বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কর্মী কমানোর পরিকল্পনা করছে। ব্যাংকটি ডিজিটাল রূপান্তর ও অটোমেশনের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদের হার, প্রযুক্তিপণ্যের চাহিদা কমে যাওয়া এবং এআইভিত্তিক প্রযুক্তিতে বাড়তি বিনিয়োগ—সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীসংকোচনের পথে হাঁটছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের ধারণা, দীর্ঘমেয়াদে কর্মী ব্যয়ের তুলনায় এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এআইচালিত চ্যাটবট, ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং অটোমেটেড সফটওয়্যারের কারণে কলসেন্টার ও সাপোর্ট সার্ভিস খাত বিশ্বজুড়ে বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।আগে যেসব কাজের জন্য বিপুল সংখ্যক কর্মী প্রয়োজন হতো—যেমন গ্রাহকের সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, অভিযোগ গ্রহণ বা তথ্য সরবরাহ—সেসব কাজ এখন সফটওয়্যারই করতে পারছে। একইভাবে অফিস সহকারী, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, রুটিন প্রশাসনিক কর্মী ও সাধারণ হিসাবরক্ষণভিত্তিক কাজেও মানুষের প্রয়োজন কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।

ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রভাবে গণমাধ্যম খাতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন অনেক সংবাদ সংস্থা এআই ব্যবহার করে দ্রুত খবরের সারাংশ তৈরি, অনুবাদ ও তথ্য বিশ্লেষণের কাজ করছে। ফলে শুধুমাত্র প্রেস বিজ্ঞপ্তিনির্ভর সংবাদ, সাধারণ অনুবাদ বা রুটিন কনটেন্ট তৈরির কাজ করা কর্মীদের ওপর চাপ বাড়তে পারে। তবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ, মাঠপর্যায়ের রিপোর্টিং এবং তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা যাদের আছে, তাদের চাহিদা বরং বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাইড শেয়ারিং অ্যাপ, স্মার্ট লজিস্টিকস ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে পরিবহন খাতেও পরিবর্তন শুরু হয়েছে। উন্নত বিশ্বে চালকবিহীন যানবাহন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। যদিও বাংলাদেশে তা এখনো অনেক দূরের বিষয়, তবু প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা বাড়ার ফলে প্রচলিত কিছু চাকরি কমে যেতে পারে। বিশেষ করে টিকিটিং, ম্যানুয়াল হিসাব ও পরিবহন ব্যবস্থাপনার কিছু পদ ঝুঁকিতে পড়তে পারে।ই-কমার্সের প্রসার এবং অনলাইন কেনাকাটা বৃদ্ধির কারণে খুচরা বাজারেও পরিবর্তন আসছে। বড় বড় সুপারশপ ও ব্র্যান্ড এখন স্বয়ংক্রিয় বিলিং, অনলাইন অর্ডার ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে। ফলে বিক্রয়কর্মী, ক্যাশিয়ার ও ম্যানুয়াল হিসাবরক্ষণভিত্তিক অনেক পদে কর্মী চাহিদা কমে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব কাজ মানুষের সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নেতৃত্ব ও মানবিক যোগাযোগের ওপর নির্ভরশীল—সেসব চাকরি তুলনামূলক নিরাপদ থাকবে। যেমন—চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মী; দক্ষ প্রকৌশলী; সফটওয়্যার ডেভেলপার; সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ; ডাটা বিশ্লেষক; গবেষক; অনুসন্ধানী সাংবাদিক; শিক্ষক ও প্রশিক্ষক; মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী।এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও দক্ষ কারিগরি খাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।বাংলাদেশে বেকারত্ব পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত এক দশকে দেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করেছেন প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ তরুণ-তরুণী। তবে এ সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৮৭ লাখ মানুষের জন্য। ফলে প্রায় ৫৩ লাখ তরুণ এখনও কর্মহীন রয়েছেন। অর্থাৎ, গত এক দশকে শ্রমবাজারে আসা প্রায় অর্ধেক কর্মক্ষম তরুণ চাকরি পাননি। এ ক্ষেত্রে নারীরা আরও বড় প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছেন।

গত মাসে এক বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাট এসব তথ্য তুলে ধরেন।অপরদিকে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বেকার মানুষের সংখ্যা ২৬ লাখ ৬০ হাজার। বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশে। যদিও সামগ্রিক বেকারত্বের হার কয়েক বছর ধরে ৪ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে, তবে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক।বিবিএসের তথ্য বলছে, শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে বেকারের হার প্রায় ৮৭ শতাংশ। এদের বড় একটি অংশ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। অর্থনীতিবিদদের মতে, উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন চাকরি সৃষ্টি না হওয়ায় এই সংকট বাড়ছে।এদিকে, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেকারত্বের হার তুলনামূলক বেশি। গবেষকরা বলছেন, শিক্ষাব্যবস্থা ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকায় উচ্চশিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশ কর্মসংস্থানের বাইরে থেকে যাচ্ছে।শ্রমবাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে “দক্ষতার ঘাটতি”। একই ব্যক্তি যদি নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার শিখতে পারেন, তাহলে তার চাকরি হারানোর ঝুঁকি অনেক কমে যাবে।তারা বলছেন, এখন শুধু ডিগ্রি নয়, প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা, যোগাযোগ দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং দ্রুত নতুন কিছু শেখার মানসিকতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সরকারকে এখন থেকেই দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা ও প্রযুক্তি প্রশিক্ষণে বড় বিনিয়োগ করতে হবে। অন্যথায় বিপুল সংখ্যক তরুণ কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তায় পড়তে পারেন।একইসঙ্গে শ্রমঘন শিল্পগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির দিকেও নজর দিতে হবে। অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, “প্রযুক্তি চাকরি ধ্বংসও করে, আবার নতুন চাকরিও তৈরি করে। কিন্তু যারা পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারবে না, তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে।”অর্থাৎ “যে কর্মী প্রযুক্তিকে ভয় পাবে, সে পিছিয়ে পড়বে; আর যে প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে শিখবে, ভবিষ্যতের শ্রমবাজার তার জন্যই।”

কালের আলো/এসআইপি

মুফতি আমির হামজাকে গ্রেফতার করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ আদালতের

সিরাজগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
মুফতি আমির হামজাকে গ্রেফতার করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ আদালতের

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলামী বিদ্বেষ মন্তব্য করার অভিযোগে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ জারি করেছেন আদালত।

রোববার (১৭ মে) বেলা ১১টায় সিরাজগঞ্জের চৌহালী আমলি আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকার এই নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী ও সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করার অভিযোগে গত ২ এপ্রিল মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হয়। ওই দিনই আদালত আমির হামজার বিরুদ্ধে সমন জারি করে ২১ এপ্রিল আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির না হওয়ায় আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

আজ রোববার আদালতে আমির হামজার ফের হাজির হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি আদালতে আসেননি। এজন্যই তাকে গ্রেফতার করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ প্রদান করেন আদালত।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানিয়ে একটি বক্তব্য দেন। সেই বক্তব্যকে ঘিরে পরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে আলোচনায় তাকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করেন সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ডুয়েট

গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ণ
ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ডুয়েট

গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

রোববার (১৭ মে) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ মে ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে। প্রজ্ঞাপন জারির পর রাত সাড়ে ৯টা থেকে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

এরই অংশ হিসেবে রোববার চতুর্থ দিনের মতো সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। একপর্যায়ে নবনিযুক্ত ভিসির ক্যাম্পাসে আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে তালা দেন।

এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ডুয়েট। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নবনিযুক্ত ভিসির পক্ষে কিছু বহিরাগত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে সংঘর্ষ তীব্র হয়। এ সময় ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় বেশ কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এর একাডেমিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা ভিন্ন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন। একই দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতারাও।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ডুয়েটের ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আজ দু’পক্ষের মধ্যে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

মিজানুর রহমান সিনহার মৃত্যুতে স্পিকারের শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ণ
মিজানুর রহমান সিনহার মৃত্যুতে স্পিকারের শোক

Oplus_131072

সাবেক প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা মিজানুর রহমান সিনহার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

রোববার ( ১৭ মে ) এক শোক বার্তায় তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর দুঃখ প্রকাশ ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

গত শুক্রবার রাতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিজানুর রহমান সিনহা ইন্তেকাল করেন। তার পিতা ছিলেন বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ ও একমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা হামিদুর রহমান সিনহা।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৯০ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেন এবং দীর্ঘদিন দলের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিএনপির মনোনয়নে মুন্সীগঞ্জ-২ (টঙ্গিবাড়ী-লৌহজং) আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০৩ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তাকে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।

কালের আলো/এসএকে