খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার জানাজা সম্পন্ন, অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১:৩১ অপরাহ্ণ
সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার জানাজা সম্পন্ন, অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান সিনহার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেন এবং পরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মরহুমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র পেশ ইমাম আবু রায়হান জানাজায় ইমামতি করেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও জানাজায় অন্যান্যদের মধ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন (বীর বিক্রম), ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

এর আগে শুক্রবার (১৫ মে) রাতে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট শিল্পপতি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তার মৃত্যুর খবরে দেশের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

মিজানুর রহমান সিনহা মুন্সিগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গিবাড়ী) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনীতির পাশাপাশি তিনি দেশের ওষুধ শিল্প খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান একমি গ্রুপের হাল ধরেছিলেন। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা এই বর্ষীয়ান নেতা সর্বশেষ মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, সংসদ ভবনে জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ তার নির্বাচনি এলাকা মুন্সিগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

কালের আলো/এসএকে

দেশে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা ৮২ লাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
দেশে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা ৮২ লাখ

দেশে বর্তমানে ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের মাদক ব্যবহার করছেন। যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘নির্বাচিত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মাঝে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের জাতীয় পর্যায়ের একটি গবেষণার ফলাফলে উঠে এসেছে, দেশে বর্তমান ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের মাদক ব্যবহার করছেন। যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। নতুন সিনথেটিক ও সেমি সেনথেটিক মাদকের আবির্ভাবের ফলে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারজনিত সমস্যা আরও ঘনীভূত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিপুলসংখ্যক তরুণ মাদকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তাদের এখনই চিকিৎসা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে বর্তমান সরকার মাদকাসক্তির চিকিৎসা সেবা উন্নত এবং সহজলভ্য করার জন্য কাজ করছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকারিভাবে পরিচালিত ঢাকার তেজগাঁওয়ে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রসহ তিনটি বিভাগীয় নিরাময় কেন্দ্রের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঢাকাস্থ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রকে ২৫০ শয্যা উন্নীতকরণের কাজ চলমান, ১৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সাতটি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।’

দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যার তুলনায় সরকারি চিকিৎসা সুবিধা এখনও যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এজন্য সরকারিভাবে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহিত করার জন্য সরকার নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রোগীদের চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি এবং মানব সেবার মান উন্নয়নে সরকার আর্থিক অনুদান দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৪০৩টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩টি নিরাময় কেন্দ্রকে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হচ্ছে আজকে।’

কালের আলো/এসআর/এএএন

দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ
দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আবারও ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করেছে ভারত। প্রায় দুই বছর পর এ ধরনের ভিসা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলো। ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশিরা ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে দেশের পাঁচটি ভিসা আবেদন কেন্দ্র থেকে পর্যটন ভিসা দেওয়া হবে। কেন্দ্রগুলো হলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহী। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য কেন্দ্রও চালু করা হবে।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। পরে কূটনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা প্রদান পুরোপুরি স্থগিত করা হয়।

দীর্ঘ বিরতির পর ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় চিকিৎসা, ভ্রমণ ও পারিবারিক প্রয়োজনে ভারতগামী বাংলাদেশিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে ২৮ জুন, লক্ষ্যমাত্রা ২ কোটি ৪০ লাখ শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ
ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে ২৮ জুন, লক্ষ্যমাত্রা ২ কোটি ৪০ লাখ শিশু

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত এসব তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে এই ক্যাম্পেইন চলবে। তবে কোনো শিশু যদি ওইদিন বাদ পড়ে, তবে পরদিনও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে। এছাড়া ১২টি জেলার ৫৮টি দুর্গম উপজেলায় ক্যাম্পেইনের পরের চারদিনও এই ক্যাপসুল বিতরণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাতকানা রোগসহ শিশু অন্ধত্বের বড় কারণ ভিটামিন ‘এ’-র অভাব। এই অভাব দূরীকরণে ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতি তুলে ধরে ড. এমএ মুহিত বলেন, শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য দেশজুড়ে ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ৫০০টি অস্থায়ী কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাতকানা রোগ থেকে শুরু করে শিশু অন্ধত্বের একটা প্রধান কারণ হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’-র অভাব। বাংলাদেশে দুই দশক আগেও অপুষ্টিজনিত কারণে শিশুদের অন্ধ হয়ে যাওয়ার চিত্র দেখা যেতো। তবে নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ চালু হওয়ার পর এই হার অত্যন্ত দ্রুত কমে এসেছে। আজকাল ভিটামিনের অভাবজনিত কারণে অন্ধত্ব বরণ করা শিশু খুব কমই দেখা যায়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের ক্যাম্পেইনের জন্য ইউনিসেফ থেকে ক্যাপসুলগুলো ক্রয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ লাখ নীল রঙের ক্যাপসুল এবং ২ কোটি ২০ লাখ লাল রঙের ক্যাপসুল। এরই মধ্যে ক্যাপসুলগুলো সারাদেশে পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামীকাল ২৬ জুনের মধ্যে সব বিতরণ কেন্দ্রে এগুলো পৌঁছে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি