খুঁজুন
                               
, ,
           

ধর্ষণের পর গলা কেটে শিশু হত্যা, আসামি সোহেল রানার স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
ধর্ষণের পর গলা কেটে শিশু হত্যা, আসামি সোহেল রানার স্বীকারোক্তি

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার হওয়া আসামি সোহেল রানা।

বুধবার (২০ মে) আসামিদের আদালতে হাজির করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক দুটি আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান।

আবেদনে বলা হয়, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটের রুমের ভেতরে নিয়ে যান। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখতে পান স্বজনেরা। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসা আক্তারের (৮) মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথাটি রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান তারা।

আসামি স্বপ্না আক্তারকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী মো. সোহেল রানা (৩০) রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন এবং গলা কেটে হত্যা করেন। রামিসার মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করা হয়। এ ছাড়া শিশুটির যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। পরে মাথা বালতির মধ্যে রাখা হয়।

এরপর রুমের জানালার গ্রিল কেটে আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যান। পরে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে থানায় এনে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার কথা স্বীকার করেন।

(বুধবার)২০মে আদালতে আসামিদের হাজির করে সোহেল রানার জবানবন্দি রেকর্ড এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ।

পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামি সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

ইলিয়াস আলী গুম মামলায় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফ কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
ইলিয়াস আলী গুম মামলায় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফ কারাগারে

বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

একইসঙ্গে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রোববার (২৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্য হলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে উইং কমান্ডার সাইফকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন।  অন্যদিকে, জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী তাবারক হোসেন।

শুনানিতে তাবারক হোসেন বলেন, ‘সাইফুর রহমান ২০০৩ সালে বিমান বাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত একজন চৌকস কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে আগে কোনো অভিযোগ ছিল না। অনেক আসামি পালিয়ে গেলেও তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি হয়েছেন। তাকে বিমান বাহিনীর হেফাজতে রেখে জামিনের সুযোগ দেওয়ার জন্য আমরা আবেদন করছি।’

এর বিপরীতে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে আমরা অনেক অভিযোগ পেয়েছি এবং আমাদের কাছে পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনা ছাড়াও আরও বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন।’

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সাইফকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে নিখোঁজ হন সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী এবং তার গাড়িচালক আনসার আলী। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই নিখোঁজ রহস্য অমীমাংসিত থাকলেও সম্প্রতি এর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীর গুম ও হত্যার ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম উঠে আসে। এরপর গত ২৬ জুলাই রাতে বাসা থেকে তাকে আটক করে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা।

৯ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-১ তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় সাইফুর রহমানের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ডেঙ্গুতে একদিনে প্রাণ গেল ৫ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে একদিনে প্রাণ গেল ৫ জনের

মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে ভুগে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৮৩৯ জন।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে চারজনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। অন্যজন ময়মনসিংহের।

অন্যদিকে একই সময়ে নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ২৮৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ৭৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ১০০ জন, খুলনা বিভাগের ১৫৯ জন, রাজশাহী বিভাগের ৭১ জন, রংপুর বিভাগের ২৩ জন, বরিশাল বিভাগের ১১৭ জন এবং সিলেট বিভাগের ৩ জন রোগী রয়েছেন।

প্রতিবেদন আরও বলছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ৯২৯ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১১ হাজার ৩৯৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ১ হাজার ৪৬৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৪ হাজার ৫৮৯ জন, খুলনা বিভাগের ৪ হাজার ১২১ জন, রাজশাহী বিভাগের ১ হাজার ৪৪৫ জন, রংপুর বিভাগের ৭৬৯ জন, বরিশাল বিভাগের ৪ হাজার ৯৯০ জন এবং সিলেট বিভাগের ১৫১ জন।

অন্যদিকে চলতি বছরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন মোট ২৬ হাজার ৮৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগটি নিয়ে ভর্তি আছেন ১ হাজার ৯৫১ জন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পাচারের টাকা ফেরাতে নজিরবিহীন তৎপরতা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
পাচারের টাকা ফেরাতে নজিরবিহীন তৎপরতা

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে গত ছয় মাসে দৃশ্যমানভাবে তৎপরতা বাড়িয়েছে সরকার। পাচারকারীদের বিদেশে গড়ে তোলা সম্পদের তথ্য সংগ্রহ, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং আইনি প্রক্রিয়ায় সেগুলো দেশে ফেরাতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২৩টি দেশে ৪৪টি পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ বা মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানোর পাশাপাশি ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে অর্থ পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

সবচেয়ে সাম্প্রতিক উদ্যোগ হিসেবে এসব প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশে থাকা সম্পদের সন্ধান এবং সেগুলো ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য আটটি আন্তর্জাতিক ল-ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে আগের তুলনায় আরও সমন্বিত ও আক্রমণাত্মক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

টাস্কফোর্স পুনর্গঠন, এক ছাতার নিচে একাধিক সংস্থা
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে গঠিত আন্তসংস্থা টাস্কফোর্সকে পুনর্গঠন ও সক্রিয় করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বাধীন এই টাস্কফোর্সে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি সংস্থা যুক্ত রয়েছে। এর সাচিবিক সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

টাস্কফোর্সের অধীনে দেশের বড় ১০টি ব্যবসায়ী গ্রুপ এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্তে ১০টি জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম (জেআইটি) গঠন করা হয়েছে। এসব দলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বিএফআইইউর কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। এর বাইরে আরও দুই ব্যক্তিসহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্তে নেওয়া হয়েছে।

২৩ দেশে ৪৪টি এমএলএআর
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের পথ অনুসরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হচ্ছে এমএলএআর। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের কাছ থেকে ব্যাংক হিসাব, সম্পদ, কোম্পানি কাঠামো, লেনদেনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হয়। বর্তমান সরকারের সময়ে গত ছয় মাসে ২৩টি দেশে ৪৪টি এমএলএআর পাঠানো হয়েছে। এসব অনুরোধের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থের গন্তব্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

তবে এমএলএআরের জবাব পাওয়া এবং সেই তথ্যকে বাংলাদেশের আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবহারযোগ্য প্রমাণে রূপান্তর করা সময়সাপেক্ষ। ফলে দ্রুত অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা।

শনাক্ত ৪২ প্রতিষ্ঠান, সামনে সম্পদ উদ্ধারের কঠিন লড়াই
সরকারি উদ্যোগে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে অর্থ পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এখন এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশে থাকা সম্পদের সন্ধান এবং সেগুলো আইনি প্রক্রিয়ায় জব্দ বা দেশে ফিরিয়ে আনার কাজ সামনে। এই পর্যায়েই আটটি আন্তর্জাতিক ল-ফার্মের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিদেশি আইনের কাঠামো, সংশ্লিষ্ট দেশের আদালত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রক্রিয়া এবং সম্পদের মালিকানা কাঠামো বিশ্লেষণে স্থানীয় সংস্থার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ, অর্থ পাচার শনাক্ত করা থেকে অর্থ দেশে ফেরানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি এখন কয়েকটি ধাপে এগোচ্ছে—তথ্য সংগ্রহ, সম্পদ শনাক্তকরণ, আইনি ব্যবস্থা এবং শেষ পর্যন্ত অর্থ প্রত্যাবাসন।

দেড় শতাধিক অনুসন্ধান আটকে তথ্য-প্রমাণে
তবে সরকারের এই তৎপরতার মাঝেও বড় বাধা হয়ে আছে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণের সংকট। দুদকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বিদেশে অর্থ পাচারসংক্রান্ত ১৫৭টি মামলা বা অনুসন্ধান অনিষ্পন্ন ছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ১৪৮।

দুদক সূত্র বলছে, বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় নথি ও আর্থিক তথ্য না পাওয়ায় এসব অনুসন্ধানের বড় একটি অংশ বছরের পর বছর ঝুলে আছে। কারণ অর্থ পাচারের অভিযোগ আদালতে প্রতিষ্ঠিত করতে শুধু সন্দেহ বা দেশীয় তথ্য যথেষ্ট নয়; বিদেশে থাকা অর্থ-সম্পদ এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও আইনসম্মত প্রমাণ প্রয়োজন।

এ কারণে এমএলআরের মাধ্যমে তথ্য পাওয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে তদন্ত কর্মকর্তাদের পাঠিয়ে সরাসরি তথ্য ও নথি সংগ্রহের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

পাচারের প্রধান গন্তব্য ১০ দেশ
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থ পাচারের অভিযোগে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে কানাডা, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, কেম্যান আইল্যান্ড ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড। এসব দেশে বাংলাদেশি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা সম্পদ এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহে দীর্ঘদিন ধরেই যোগাযোগ করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। কিন্তু প্রতিটি দেশের আইন ও প্রক্রিয়া আলাদা হওয়ায় এক দেশের তদন্ত পদ্ধতি অন্য দেশে সরাসরি প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। এখানেই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দক্ষ আইনি প্রতিনিধিত্বের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি।

পুরোনো উদ্যোগ, নতুন গতি
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর আইনি উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০০৭ সালের পর থেকেই এ ধরনের অর্থ ফেরাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু হয়। গত প্রায় দেড় যুগে দুদক বিশ্বের ৭১টি দেশে শতাধিক এমএলএআর পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ২৭টির জবাব পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অর্থাৎ, বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তার প্রক্রিয়া চললেও কাঙ্ক্ষিত গতিতে অর্থ দেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি। বর্তমান উদ্যোগের বিশেষত্ব হলো—শুধু এমএলএআর পাঠানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তদন্ত, সম্পদ শনাক্তকরণ ও আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তাকে আরও সমন্বিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

দুদক ইতোমধ্যে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি), আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে বৈঠক করেছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন করে তদন্ত
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক মন্ত্রী, এমপি, আমলা ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান জোরদার করে দুদক। সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমানসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও মামলা হয়েছে।

তবে এসব অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য ও মালিকানা কাঠামোর প্রমাণ সংগ্রহই বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে নতুন করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগকে এসব তদন্তের পরবর্তী ধাপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

টাকা ফেরানোই এখন আসল পরীক্ষা
অর্থ পাচারের অভিযোগ শনাক্ত করা এবং বিদেশে সম্পদের সন্ধান পাওয়া—দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও শেষ পর্যন্ত সরকারের সাফল্য নির্ভর করবে পাচার হওয়া অর্থ কতটা দেশে ফেরানো সম্ভব হয় তার ওপর। এখানে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে—বিদেশি দেশ থেকে দ্রুত ও গ্রহণযোগ্য তথ্য পাওয়া, আদালতে উপস্থাপনের মতো প্রমাণ সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে সম্পদ জব্দ ও অর্থ প্রত্যাবাসন করা।

আটটি আন্তর্জাতিক ল-ফার্ম নিয়োগ, ২৩ দেশে ৪৪টি এমএলএআর এবং আন্তসংস্থা তদন্ত দলের কার্যক্রম তাই সরকারের উদ্যোগকে আগের তুলনায় আরও কাঠামোবদ্ধ করেছে। কিন্তু এসব উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য মাপা হবে তখনই, যখন শনাক্ত সম্পদ আইনি প্রক্রিয়ায় জব্দ করে তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাস্তবে বাংলাদেশে ফেরানো যাবে। পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সরকারের সামনে এখন মূল প্রশ্ন তাই শুধু ‘কোথায় গেল টাকা’ নয়—কত দ্রুত, কতটা এবং কোন আইনি প্রক্রিয়ায় সেই টাকা দেশে ফেরানো সম্ভব হবে।

কালের আলো/এম/এএই