খুঁজুন
                               
, ,
           

কোরবানির ঈদ ঘিরে জাল টাকার কারবার

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ণ
কোরবানির ঈদ ঘিরে জাল টাকার কারবার

কোরবানির ঈদ ঘিরে দেশজুড়ে সরব হয়ে উঠেছে জাল নোটের কারবারিরা। তারা এখন এতটাই বেপরোয়া যে প্রকাশ্যেই চালাচ্ছে জাল নোট কেনাবেচার প্রচারণা। নির্দিষ্ট চার্জের বিনিময়ে দিচ্ছে হোম ডেলিভারিও। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার উত্তরা ও গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে ৩৪ লাখ টাকার জাল নোট ও বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে প্রায়ই ধরা পড়ছেন জাল টাকার কারবারিরা। তবুও থামছে না জাল নোটের বিস্তার।

ঈদুল আজহা মানেই বাড়তি খরচ, বাড়তি লেনদেন। পশু কেনাবেচা, নতুন পোশাক কেনা, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়দের মধ্যে উপহার বিনিময় সব মিলিয়ে নগদ টাকার লেনদেন বহুগুণ বেড়ে যায়। এই সুযোগটাই কাজে লাগাতে চায় জাল টাকার সিন্ডিকেটগুলো। এবারের ঈদুল আজহা উপলক্ষেও এই চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ ঘিরে নগদ লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের অসতর্কতার সুযোগ নিচ্ছে প্রতারক চক্র। ভিড় ও দ্রুত লেনদেনের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই আসল-নকল যাচাই করা সম্ভব হয় না। অত্যন্ত কম খরচে উন্নতমানের জাল নোট তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে এখন।

আগে যেখানে ৫০০ বা ১০০০ টাকার ১০০টি নোট তৈরি করতে খরচ হতো ৪ থেকে ৭ হাজার টাকা, এখন তা নেমে এসেছে প্রায় আড়াই হাজার টাকায়। বর্তমানে এক লাখ টাকার জাল নোট বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায়।

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গোপনে চালু রয়েছে জাল নোট তৈরির কারখানা। সাধারণ প্রিন্টার, বিশেষ কাগজ, জলছাপ ও গাম ব্যবহার করে এমন সূক্ষ্মভাবে নোট তৈরি করা হচ্ছে, যা অনেক সময় সাধারণ মানুষের পক্ষে শনাক্ত করা কঠিন। কিছু ক্ষেত্রে জাল নোট শনাক্তকারী সাধারণ মেশিনেও তা ধরা পড়ছে না।

সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরা ও গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ জাল নোটসহ তিনজনকে আটক করার পাশাপাশি জাল টাকা তৈরির তিনটি বিশেষ মেশিন এবং অন্যান্য সরঞ্জামও উদ্ধার করেছে। গত ১৪ মে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, প্রথমে উত্তরায় অভিযান চালিয়ে মুজিবুর রহমান নামে এক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর একটি স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩৪ লাখ টাকার সমমূল্যের জাল নোট এবং বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এ সময় দুলাল ও মামুন নামে আরও দুই সদস্যকে আটক করে পুলিশ। গত ১৬ মে চট্টগ্রাম নগর ও জেলার পৃথক দুটি অভিযানে ১ লাখ ১৩ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোটসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। র‍্যাব জানায়, পশুর হাটে ছড়ানোর জন্য জাল নোটগুলো তৈরি করছিল তারা।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সারাদেশে অনুমোদিত কোরবানির পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপন করতে হবে। সেখানে ব্যাংকের একজন অভিজ্ঞ ক্যাশ অফিসারকে নিযুক্ত করতে হবে। ব্যাংক থেকে দিতে হবে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন। হাট শুরুর দিন থেকে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে পশু ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের বিনামূল্যে এ সেবা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, কোরবানির পশুর হাটগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন বসানো হচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও কন্টোল রুম স্থাপন, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা তৎপরতা ও সিসি ক্যামেরায় নজরদারির করবে। বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের।

কালের আলো/এম/এএইচ

ডিআইজিসহ ৩১ পদে রদবদল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
ডিআইজিসহ ৩১ পদে রদবদল

বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার ৩১ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করেছে সরকার।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এসব বদলি ও পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌহিদ আহমেদ। জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিআইজি পর্যায়ে হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি হাবিবুর রহমান খানকে পুলিশের ট্রাফিক অ্যান্ড ড্রাইভিং স্কুলের (টিডিএস) কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে।

সুপারনিউমারারি ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া মোহাম্মদ এনামুল হককে সিলেট মহানগর থেকে খাগড়াছড়ির এপিবিএন ও বিশেষ ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়েছে। ওই পদে থাকা পরিতোষ ঘোষকে এপিবিএন (পার্বত্য জেলাসমূহ) কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।

এসবির অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আনিছুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে থাকা অতিরিক্ত ডিআইজি মো. গিয়াস উদ্দিন আহমদকে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ সুপার হিসেবে ওএসডি থাকা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে রাজশাহী রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এসপি পর্যায়ে র‍্যাবের উপপরিচালক (পুলিশ সুপার) মো. বদরুদ্দোজাকে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার করা হয়েছে। নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামকে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার করা হয়েছে।

পুলিশ অধিদপ্তরের এআইজি মুহা. জালাল উদ্দিন ফাহিমকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফকে এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার করা হয়েছে।

র‍্যাবের উপপরিচালক (পুলিশ সুপার) মীর মনির হোসেনকে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার করা হয়েছে। রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদকে হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার করা হয়েছে।

মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়কে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার করা হয়েছে। পুলিশ অধিদপ্তরের এআইজি আলী হায়দার চৌধুরীকে মেহেরপুরের পুলিশ সুপার করা হয়েছে।

সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পাওয়া পুলিশ সুপার মো. নূরুল আমীন আকন্দকে পুলিশ স্টাফ কলেজের পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) করা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সরকারি হাসপাতালের সামনে ক্লিনিক অনুমোদনে ‘না’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ণ
সরকারি হাসপাতালের সামনে ক্লিনিক অনুমোদনে ‘না’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিগত সরকারের সময়ে ব্যাঙের ছাতার মতো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, সরকারি হাসপাতালের সামনে নতুন করে কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া হবে না। এ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যেসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন রয়েছে, সেগুলো যথাযথভাবে কার্যক্রম পরিচালনা না করলে বন্ধ করে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, আগামী অক্টোবর থেকে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ শুরু হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এখানে একসঙ্গে ১০ জন রোগীকে ডায়ালাইসিস দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। একই সময়ের মধ্যে আধুনিক প্যাথলজি ল্যাব স্থাপনের পাশাপাশি পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি সেন্টার চালু করা হবে।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন। এ সময় গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আহমেদ তিথী, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নুসরাত ফারজানা খানসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া গজারিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসলামুজ্জোহা চৌধুরী তপন, উপজেলা বিএনপির সদস্য মোতাহের হোসেন জাহাঙ্গীর, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম তারেকসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

রাজশাহী তায়কোয়ানডোর ফেডারেশন কাপের ট্রফি ডিসির হাতে

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
রাজশাহী তায়কোয়ানডোর ফেডারেশন কাপের ট্রফি ডিসির হাতে

রাজশাহী তায়কোয়ানডো দোজাংয়ের পঞ্চম ফেডারেশন কাপ তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতায় জুনিয়র মহিলা বিভাগে অর্জিত রানার্সআপ ট্রফি রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি কাজী শহিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সংক্ষিপ্ত আয়োজনের মাধ্যমে ট্রফিটি হস্তান্তর করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোজাম্মেল হক, রাজশাহী তায়কোয়ানডো দোজাংয়ের সভাপতি ও বাংলাদেশ কৃষক দল রাজশাহী মহানগর শাখার আহ্বায়ক শরিফুজ্জামান শামীম, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সাইফুদ্দীন এবং রাজশাহী তায়কোয়ানডো দোজাংয়ের সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান প্রশিক্ষক মো. মোজাফফর হোসেন বুলু।

এ ছাড়া ট্রফি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তায়কোয়ানডো দোজাংয়ের অন্যান্য প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী ও অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।

ট্রফি গ্রহণের পর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জুনিয়র মহিলা বিভাগের এই সাফল্যের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি দলের খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে আরও সাফল্য কামনা করেন।

রাজশাহী তায়কোয়ানডো দোজাংয়ের এই অর্জনকে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এমএসআইপি