খুঁজুন
                               
সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

স্কুলে খাবার মজুত রাখার সুযোগ নেই, অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
স্কুলে খাবার মজুত রাখার সুযোগ নেই, অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবার স্কুলে মজুত করে রাখার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিনই শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। খাবারের মান, সরবরাহ বা বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৪ মে) রাজধানীর মিরপুরের প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরকারের ব্যবসায়িক সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে না। আমরা চাই, বাচ্চাদের কাছে সঠিকভাবে খাবার পৌঁছাক। যারা এ কাজে দায়িত্বে আছেন, তারা যদি দায়িত্বশীল না হন, তাহলে ভবিষ্যতে তাদের চাকরি বা ব্যবসা কোনোটারই নিশ্চয়তা থাকবে না। সরকার ব্যবসাবান্ধব হলেও সেটি এই অর্থে নয় যে, সেবা না দিয়েও টাকা নেওয়া যাবে। ব্যবসার মূল শর্ত হচ্ছে সঠিকভাবে চাহিদা পূরণ করা। আর এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের কাছে পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া।

তিনি বলেন, বর্তমানে ১৫১ উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু রয়েছে। প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প জাতীয় বাজেটের প্রায় এক শতাংশের সমান। এত বড় প্রকল্পে অনিয়ম হলে জনগণের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে। গত কয়েক মাসের অভিজ্ঞতা থেকে সরকার নতুন কিছু নির্দেশনা তৈরি করেছে। এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী সাত দিনের মধ্যে সব সরবরাহকারীকে তাদের পূর্ণ সরবরাহব্যবস্থার (সাপ্লাই চেইন) মানচিত্র জমা দিতে হবে। কোনো কারখানা থেকে পণ্য নেওয়া হচ্ছে, কোথা থেকে কোথায় সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে সব তথ্য স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।

তিনি বলেন, দূরের জেলা থেকে খাবার সরবরাহের কারণে অনেক ক্ষেত্রে মান ঠিক থাকছে না। স্থানীয়ভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যেখানে স্থানীয়ভাবে খাবার পাওয়া যায়, সেখানে তিন জেলা দূর থেকে পণ্য আনার প্রয়োজন নেই।

খাদ্যমান নিশ্চিত করতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে যোগ্য ফুড টেকনিশিয়ান নিয়োগের নির্দেশ দিয়ে তিনি আরও বলেন, এত বড় প্রকল্প পরিচালনা করছেন, অথচ একজন ফুড টেকনিশিয়ান রাখতে পারবেন না এটা গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার যৌক্তিক সহযোগিতা করবে। তবে রাস্তা, রুট পরিকল্পনা, সংরক্ষণ ও পরিবহনব্যবস্থা সম্পর্কে আগাম পরিকল্পনা করা সরবরাহকারীদেরই দায়িত্ব।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার চাইছে সব প্রতিষ্ঠান সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করুক। তবে সেই ব্যবসার মাধ্যমে যেন শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত হয়, সেটিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, মিড-ডে মিলের প্রজেক্ট ডিরেক্টরসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

ঝিনাইদহে ছাত্রদলের মামলায় এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা গ্রেফতার

ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে ছাত্রদলের মামলায় এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা গ্রেফতার

ঝিনাইদহে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি এনামুল কবিরের দায়ের করা হামলা, হত্যার হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঝিনাইদহ স্টেডিয়াম সংলগ্ন ফ্যামিলি জোন মিলনায়তনের সামনে থেকে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের একটি টিম তাকে গ্রেফতার করে।

জানা গেছে, এনসিপি নেতা তারেক রেজা রোববার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ফ্যামিলি জোন মিলনায়তনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিলনায়তনের সামনে পৌঁছানোর সাথে সাথে এনসিপি নেতা তারেক রেজাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের সময় ঘটনাস্থলে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামানসহ পুলিশ, সাদা পোশাকে পুলিশের বিশেষ টিম ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সদর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামান বলেন, হামলা, ভাঙচুর, হত্যার হুমকির অভিযোগে গতকাল (শনিবার) এনসিপি নেতা তারেক রেজা সহ কয়েকজনের নামে মামলা হয়েছে। ঝিনাইদহ সদর থানায় দায়ের করা মামলার আসামি তারেক রেজাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেফতারেও অভিযান চলমান আছে।

প্রসঙ্গত, গত ২২ মে শুক্রবার ঝিনাইদহ সফরে আসেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ওই দিন জুমার নামাজ শেষে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে এনসিপির নেতাকর্মীদের হাতাহাতি, মারামারি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা বাদী হয়ে ছাত্রদলের স্থানীয় ৮ নেতাকর্মীকে আসামি করে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করেন। ওই মামলার জেরে পরদিন দুপুরে তারেক রেজাসহ ২২ জনকে আসামি করে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি এনামুল কবির মামলা করেন। ওই মামলায় আজ সন্ধ্যায় তারেক রেজাকে গ্রেফতার করা হয়।

কালের আলো/এসআর/এএএন

সাংবাদিক গ্রেফতারে অ্যামনেস্টির হস্তক্ষেপ উচিত নয়: চিফ প্রসিকিউটর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক গ্রেফতারে অ্যামনেস্টির হস্তক্ষেপ উচিত নয়: চিফ প্রসিকিউটর

শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞে মানবতাবিরোধী অপরাধে দুই সাংবাদিক (সাংবাদিক ফারজানা রুপা, মোজাম্মেল হক বাবু) গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অ্যামনেস্টির হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস্থ নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দুই সাংবাদিককে (ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয়েছে। তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে।

তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এ মামলার তদন্ত করছে। তাদের কাজ করতে দেওয়া উচিত। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বা অন্য কোনো মানবাধিকার সংগঠন কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তা আমরা দেখিনি। আমাদের একটি চলমান বিচারপ্রক্রিয়ায় তাদের হস্তক্ষেপ করা উচিত হবে না। আইনগত সুযোগও নেই।

এ মামলায় আরও কোনো সাংবাদিককে গ্রেফতার দেখানো হবে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের তদন্ত চলমান। যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদেরই বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তবে অহেতুক কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানির জন্য বিচারের মুখোমুখি করা হবে না।

দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়ে জানতে চেয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো ধারণা নেই।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৩১ মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এত বছরেও সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত শেষ না হওয়া দুঃখজনক।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমি ট্রাইব্যুনালে যোগ দেওয়ার পর ৭টি মামলা পুনরায় তদন্তে পাঠিয়েছি। সেগুলো ঈদের পর চার্জশিট দাখিল করা হবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

হাম উপসর্গে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
হাম উপসর্গে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ১ হাজার ৪৩৪ জন।

গত ২৩ মে সকাল ৮টা থেকে আজ ২৪ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশের হাসপাতালগুলোর পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামের উপসর্গে ঢাকায় ১০, রাজশাহীতে ১, সিলেটে ১, বরিশালে ১, ময়মনসিংহে ২ ও রংপুরে ১ জন মারা গেছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৪৪২ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৮৬ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৬৩ হাজার ৮১৩ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫০ হাজার ৫৫৮ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৪৬ হাজার ২১৪ শিশু বাড়ি ফিরেছে। এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু ৫২৮ শিশুর।

কালের আলো/এসআর/এএএন