খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১০ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

ববি হাজ্জাজের বক্তব্যে সাদা দলের ক্ষোভ, কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
ববি হাজ্জাজের বক্তব্যে সাদা দলের ক্ষোভ, কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কোচিং সেন্টারের সঙ্গে তুলনা করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকরা।

শুক্রবার (২৯ মে) ঢাবি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল এ প্রতিবাদ জানায়। অবিলম্বে তারা প্রতিমন্ত্রীকে তার মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

পাশাপাশি সাদা দল বলছে, প্রতিমন্ত্রীর এমন মন্তব্য কোনো সুস্থ ও ইতিহাস সচেতন মানুষের বক্তব্য হতে পারে না।

সাদা দলের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কোচিং সেন্টারের সঙ্গে তুলনা করে যে চরম অবমাননাকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেছেন, তা দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের মর্যাদার পরিপন্থি এবং গভীরভাবে নিন্দনীয়।

এতে বলা হয়, গবেষণা ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষস্থানীয়। টাইমস হায়ার এডুকেশন এশিয়া র‍্যাংকিং অনুযায়ী এটি দেশের অন্যতম শীর্ষ গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে প্রায় ৫৬টি সক্রিয় ও বিশেষায়িত গবেষণা ব্যুরো ও কেন্দ্র রয়েছে।

এর মধ্যে উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র (সিএআরএস) এবং সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র (সিএসএসআর) উল্লেখযোগ্য। প্রতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্কোপাস ও ওয়েব অব সায়েন্স ইনডেক্সভুক্ত সাময়িকীতে অসংখ্য গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন।

এ অবস্থায় গবেষণার বিষয়ে অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনা করাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করা হয়।

সাদা দলের নেতারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্ব, জন্ম ও বিকাশের ইতিহাসের সঙ্গে এটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বের কেন্দ্র ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়।

এছাড়া স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ১৯৯০ সালের এরশাদবিরোধী গণআন্দোলন, ১/১১-পরবর্তী অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাঙালির কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অন্যতম প্রতীক পহেলা বৈশাখ উদযাপনের ঐতিহ্যও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে বিকশিত হয়েছে। সীমিত বাজেট ও রাষ্ট্রীয় উদাসীনতার মধ্যেও শিক্ষা ও গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়টি যে অনন্য অবদান রেখে চলেছে, তা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। এ কারণেই সংক্ষেপে বলা যায়, ‘বাংলাদেশ মানেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’।

সাদা দল নেতারা বলেন, এমন একটি ঐতিহ্যবাহী ও জাতীয় আবেগের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে একজন দায়িত্বশীল প্রতিমন্ত্রীর মুখে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলো কোচিং সেন্টার’- এ ধরনের বক্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

তাদের মতে, এ মন্তব্য কোনো সুস্থ ও ইতিহাস সচেতন মানুষের বক্তব্য হতে পারে না; বরং এটি অজ্ঞতাপ্রসূত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যেরই বহিঃপ্রকাশ। সরকারের একজন মন্ত্রীর কাছ থেকে এমন মন্তব্য শুধু লজ্জাজনকই নয়, তা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও দেশবাসীকেও গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এ অবিবেচনাপ্রসূত মন্তব্যের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাস ও অবদানকে অপমান করা হয়েছে।

সাদা দল অবিলম্বে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের এ মন্তব্য প্রত্যাহারের জোর দাবি জানায়। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।             কালের আলো /এএইচ/এমএসআইপি 

আর্ন প্রকল্পের সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
আর্ন প্রকল্পের সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন 

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ইকোনমিক অ্যাকসিলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর নিট (EARN) প্রকল্পের ১০টি প্যাকেজের আওতায় আট বিভাগে সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (২৪ জুন) মন্ত্রিপরিষদের সভাকক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১০ প্যাকেজের সবগুলোর ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সূত্র এ খবর নিশ্চিত করেছে।

এতে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে যুবক ও যুব নারীদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণে নেই- ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এমন নয় লাখ যুবকে (যাদের মধ্যে ৬০ শতাংশই যুব নারী) প্রশিক্ষিণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত আর্ন প্রকল্প সেই অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে একটি অন্যতম প্রধান উদ্যোগ। শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণে না থাকা এই জনগোষ্ঠীকে বলা হচ্ছে নিট (Not in Education, Employment or Training) । প্রকল্পটি বাংলাদেশের সৃজনশীল শিল্প ও ক্রীড়া শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করবে, যা দেশের যুবসমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচিত।

প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, আর্ন প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তায় পরিচালিত একটি উন্নয়ন প্রকল্প, যার লক্ষ্য বিশেষত গ্রামীণ অঞ্চলের যুবদের, অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে এই ধরণের নিষ্ক্রিয় যুব জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৈশ্বিক গড় হারের প্রায় দ্বিগুণ এবং এই হার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এই নিষ্ক্রিয় যুব সমাজ একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত। ক্রমবর্ধমান নিষ্ক্রিয় যুব সমাজকে কর্মমুখী করা ও এদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত প্রথম ও একমাত্র প্রকল্প হলো আর্ন।

বিশ্বব্যাংকের ক্রয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৮ বিভাগের প্রকল্প এলাকাকে ১০টি প্যাকেজে বিভক্ত করে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক (Quality and Cost Based Selection-QCBS) দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। মোট ৪০১টি প্রতিষ্ঠান (Single Entity and Joint Venture) Expression of Interest (EoI) দাখিল করেছিল। যার মধ্যে ৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে  সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত হয়। সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্তদের মধ্যে ৬৯টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব (RFP) দাখিল করে। দাখিলকৃত প্রস্তাবসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে বিশ্বব্যাংকের অনুমোদন গ্রহণ করে প্রতিটি প্যাকেজের কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাবের চুড়ান্ত মুল্যায়ন করা হয় এবং সর্বাধিক সমন্বিত নম্বরপ্রাপ্ত এনজিও’র সাথে সমঝোতাপূর্বক খসড়া চুক্তি করা হয়।  ক্রয় প্রস্তাবগুলোর প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের অনাপত্তি গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশকৃত এবং বিশ্বব্যাংকের অনাপত্তিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হলো ব্র্যাক , সেভ দ্যি চিলড্রেন, কেয়ার বাংলাদেশ এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশন। ব্র্যাক কাজ করবে ঢাকা ও রংপুর বিভাগে। সেভ দ্য চিলড্রেন বরিশাল এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায়, কেয়ার বাংলাদেশ তিন পার্বত্য জেলা এবং খুলনা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশন কুমিল্লা, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর জেলা এবং সিলেট বিভাগে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের জয়েন্ট ভেঞ্চারদের নিয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে ৬৪ জেলার ২৫০ উপজেলার গ্রাম পর্যায়ে পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করবে। সেসব কেন্দ্রের মাধ্যমে আট লাখ যুবক ও যুব নারীকে বর্তমান সময়ের চাহিদাভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার পথ দেখাবে, যা দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তোরণের প্রক্রিয়াকে কার্যকরভাবে সহায়তা করবে।

EARN প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মোখলেছুর রহমান জানান,  এই প্রকল্প কোনো সাধারণ ‘প্রশিক্ষণ/দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্প নয় বরং বিভিন্ন আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে যুবক ও যুব নারীদের কর্মসংস্থান সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই এই প্রকল্পের অন্যতম কার্যক্রম। এটি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প, যার লক্ষ্য বাংলাদেশি যুবদের জন্য সমন্বিত (Holistic) সহায়তা নিশ্চিত করা। প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের যুব কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও ভবিষ্যতমুখী খাতসমূহ বিকাশের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

EARN প্রকল্পের মূল লক্ষ্য শুধু প্রশিক্ষণ নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সুনিশ্চিত করা।  প্রকল্পটি সেইসব যুবক ও যুব নারীর জন্য কাজ করবে, যারা সাধারণত আনুষ্ঠানিক সহায়তা পায় না। কারণ অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় গ্রামীণ যুব সমাজ এই সকল প্রশিক্ষণের সুবিধা লাভে বঞ্চিত হয়। বাংলাদেশে এটি প্রথম পূর্ণাঙ্গ যুব সহায়তা প্রকল্প, যা যুবকদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার জন্য সমন্বিত সহায়তা প্রদান করবে। এ প্রকল্পটি শুধু প্রশিক্ষণ প্রদান নয় বরং যুবকদের প্রকৃত প্রয়োজন এবং আঞ্চলিক, জাতীয় ও বৈশ্বিক শ্রম বাজারের চাহিদা নিরূপণ করে সেই অনুযায়ী সহায়তা করবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের অনেক যুব শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরও অবস্থানগত সীমাবদ্ধতা, সিড ফান্ডের অভাব, ইন্টার্নশিপ ও অন্যান্য সহায়তার অভাবে অর্থনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত হতে পারে না। এই প্রকল্প সেই প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে কাজ করবে।

চারটি কম্পোনেন্টে সম্পাদন হবে EARN প্রকল্পের কাজ। কম্পোনেন্ট ১: বিকল্প শিক্ষা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা। কম্পোনেন্ট ২: স্ব-কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা প্রদান। কম্পোনেন্ট ৩: গ্রামীণ পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলায় যুবদের বিশেষ করে যুব নারীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি এবং কম্পোনেন্ট ৪: যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি।

এই প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের মান উপযোগী করা হবে, আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করা হবে। এক্ষেত্রে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জনশক্তি ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরো এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে যথাযথ সনদ প্রদান নিশ্চিত করা হবে।

কালের আলো/এসএকে

মুদি দোকান থেকে বিউটি পার্লার, বাড়ছে ভ্যাটের পরিধি 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
মুদি দোকান থেকে বিউটি পার্লার, বাড়ছে ভ্যাটের পরিধি 

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভ্যাটের সুনির্দিষ্ট করের আওতা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে মুদি দোকান, বিউটি পার্লার, রেস্তোরাঁসহ মোট ১৬টি ব্যবসায়ী খাতকে ভ্যাটের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে জাতীয় বাজেট সংসদের অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত লিখিত প্রশ্নোত্তরে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। সংসদে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

৩৫ নম্বর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা প্রশ্ন রেখে বলেছেন, বিগত অর্থবছরে মূল্য সংযোজন কর ও ভ্যাট বাবদ প্রাপ্ত রাজস্ব আয়ের পরিমাণ কত এবং নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান বা উৎসকে ভ্যাটের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা আছে কি না এবং থাকলে, সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠান বা উৎসের তালিকা কী?

জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট বাবদ রাজস্ব আয়ের পরিমাণ এক লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। তিনি বলেন, নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান বা উৎসকে ভ্যাটের আওতায় আনবার পরিকল্পনা আছে। ব্যবসায়িক খাতকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভ্যাটের সুনির্দিষ্ট করের আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

এগুলো হলো– মুদির দোকান, তৈরি পোশাক বা কাপড়ের বিক্রেতা, কনফেকশনারি, কসমেটিক্স-এর দোকান, প্লাস্টিকের ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্য, জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার পণ্যের বিক্রেতা, ডেকোরেটরস; মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ, ওভেন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বিক্রেতা: পেইন্ট ও হার্ডওয়্যার এবং সেনেটারি ও ফিটিংস, টাইলস এর দোকান, ঢেউটিনের দোকান, রড ও সিমেন্ট, ফার্ণিচার, বিউটি পার্লার, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ও রেস্টুরেন্ট।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

নেইমার কত মিনিট খেলবে, জানালেন আনচেলত্তি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
নেইমার কত মিনিট খেলবে, জানালেন আনচেলত্তি

সবঠিক থাকলে প্রায় ৩ বছর পর ব্রাজিলে জার্সি পরে ভোরে মাঠে নামবেন নেইমার জুনিয়র। হাইতি ম্যাচের পর এই কথা আগেই নিশ্চিত করেছিলেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তবে আলোচনা চলছে কতক্ষণ মাঠে থাকবেন এই তারকা ফুটবলার।

স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্ন ছুটে যায় আনচেলত্তির কাছেও। জবাবে তিনি, সে ৯০ মিনিটও খেলতে পারে। ভালো অবস্থায় আছে, খুব কঠোর পরিশ্রম করেছে। অনুশীলনও ভালো হয়েছে। তাকে নিয়ে আমি খুবই খুশি।

নেইমার গত ১৭ মে সান্তোসের হয়ে খেলার সময় সর্বশেষ চোটে পড়েন। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে ব্রাজিলের ম্যাচে চোটে পড়ার পর আর জাতীয় দলে ফিরতে পারেননি। তবে অবশেষে স্কটল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছেন তিনি।

নেইমারের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্টির কথাই শুনিয়েছেন আনচেলত্তি, নেইমার প্রস্তুত। সে এই সপ্তাহে ভালো অনুশীলন করেছে, ম্যাচের জন্যও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে। আমরা সবাই খুব খুশি। তার গুণগত মান দলকে অনেক কিছু দিতে পারে।

বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোর ৪টায় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেই দেখা যাবে তাকে। প্রায় তিন বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর এই ম্যাচ দিয়েই তার ফেরার মঞ্চ প্রস্তুত।

কালের আলো/এসএকে