খুঁজুন
                               
, ,
           

পাকিস্তানি শাসকদের সীমাহীন নির্যাতন কখনোই ক্ষমা করতে পারি না: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানি শাসকদের সীমাহীন নির্যাতন কখনোই ক্ষমা করতে পারি না: মির্জা ফখরুল

Oplus_131072

১৯৭১-পূর্ববর্তী পাকিস্তানি শাসকদের সীমাহীন বৈষম্য ও নির্যাতনকে কখনোই ক্ষমা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানী ঢাকার পিআইবি অডিটোরিয়ামে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কূটনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১-পূর্ব পাকিস্তানি শাসকদের সীমাহীন বৈষম্য ও নির্যাতনকে আমরা কখনোই ক্ষমা করতে পারি না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার তুলনা করা যায় না।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চে যখন দেশের মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল, তখন নিজের জীবন বাজি রেখে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং মুক্তিযুদ্ধের জন্য জাতিকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, শৈশব থেকেই আমরা পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্য, শোষণ ও বাঙালিদের ওপর নিপীড়ন প্রত্যক্ষ করেছি। সে সময় সাধারণ মানুষ মুক্তির আশায় একটি রাজনৈতিক শক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু, স্বাধীনতার পর জনগণ প্রত্যাশিত গণতন্ত্র থেকে আবারও বঞ্চিত হয়।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন, তখন বাংলাদেশ নানা সংকট ও অস্থিরতার মধ্যে ছিল। তিনি সব রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন। তার লক্ষ্য ছিল জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় ও আত্মমর্যাদার ভিত্তি উপহার দিয়েছিলেন। তার দেখানো পথ অনুসরণ করেই বিএনপি দেশকে এগিয়ে নিতে চায়।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়া বাংলাদেশকে কোনো দেশের প্রতিদ্বন্দ্বী বা নির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাননি। তিনি বিশ্বাস করতেন বাংলাদেশের নিজস্ব শক্তি, সক্ষমতা ও জনগণের ওপর। এ কারণেই তিনি সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান আমাদের যে পথ দেখিয়েছেন, আমরা সেই পথেই এগিয়ে যেতে চাই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেভাবে দেশ পরিচালনায় কাজ করছেন, তার মধ্যেও আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রতিফলন দেখতে পাই।

এছাড়া, বিগত নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে প্রচার চালানো হয়েছিল যে বিপুল ভোটে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসবে। এমনকি আমাকে নিয়েও বলা হয়েছিল আমিও নাকি পরাজিত হবো। কিন্তু দেশের মানুষ শেষ পর্যন্ত বিএনপির পক্ষেই রায় দিয়েছে। কারণ জনগণ বিশ্বাস করে, গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থ বিএনপির হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান, এএনএম মুনিরুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক আবু রূশদ এবং ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনে তার অবদান নিয়ে বক্তারা বিস্তারিত আলোচনা করেন।

কালের আলো/এসএকে

রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে কি আর্সেনালে যাচ্ছেন ভিনিসিয়ুস?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে কি আর্সেনালে যাচ্ছেন ভিনিসিয়ুস?

ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র রিয়াল মাদ্রিদের অনুশীলনে ফিরলেও ক্লাবের সঙ্গে তাঁর চুক্তি নবায়ন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে তিনি ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালে যোগ দিতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন উঠেছে। ক্রীড়াবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিকের তথ্যমতে, এই টানাপোড়েনের মূল কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রিয়াল মাদ্রিদ তাঁকে বছরে করমুক্ত ২ কোটি ইউরোর প্রস্তাব দিলেও ভিনিসিয়ুস ও তাঁর প্রতিনিধিরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। ভিনিসিয়ুস প্রায় ৩ কোটি ইউরোর একটি প্যাকেজ দাবি করছেন, যার মধ্যে মূল বেতন ও বোনাসের পাশাপাশি রিয়ালের ইতিহাসে অভূতপূর্ব এক ‘নবায়ন বোনাস’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 রিয়ালের বেতনসীমার কারণে মূল বেতন বেশি বাড়ানো সম্ভব না হওয়ায় ভিনি এই বোনাস চাইছেন। সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপ্পে পিএসজি থেকে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে এসে মোটা অঙ্কের ‘সাইনিং বোনাস’ পাওয়ায় ভিনিও সমপরিমাণ মূল্যায়নের দাবি করছেন। তবে রিয়াল কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, এতে ভবিষ্যতে অন্যান্য খেলোয়াড়দের চুক্তি নবায়নের সময়ও একই নজির তৈরি হবে।

২০২২ সালে চুক্তি নবায়নের সময় সতীর্থ মিলিতাও ও রদ্রিগো ২০২৮ পর্যন্ত চুক্তি করলেও ভিনিসিয়ুস বেছে নিয়েছিলেন ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি চুক্তি। তাঁর লক্ষ্য ছিল দ্রুত বিশ্বসেরা হয়ে আরও ভালো শর্তে চুক্তি নবায়ন করা। সেই অনুযায়ী ২০২৪ সালে ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতার পর তিনি বড় অঙ্কের চুক্তি আশা করছেন।

মাদ্রিদ ও ভিনির মধ্যকার দূরত্ব বুঝে আর্সেনালের স্পোর্টিং ডিরেক্টর আন্দ্রেয়া বার্তা ভিনিসিয়ুসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আর্সেনাল তাঁকে দলের ‘মধ্যমণি’ করার প্রস্তাব দিয়েছে। একই সময়ে রিয়াল লাইপজিগ থেকে ইয়ান দিয়োমান্দেকে দলে ভেড়ানোর পরিকল্পনা করায় ধারণা করা হচ্ছে, তারা ভিনির বিকল্প প্রস্তুত রাখছে।

ভিনিসিয়ুসের সামনে এখন ৩টি পথ:

১. রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গেই সমঝোতায় এসে চুক্তি নবায়ন করা।

২. ২০২৭ সালে চুক্তি শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে রিয়াল ছাড়া।

৩. চলতি দলবদল বাজারেই আর্সেনালে পাড়ি জমানো।

চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে এলে রিয়ালকে বড় অঙ্কের লয়্যালটি বোনাস দিতে হবে এবং বিনামূল্যে খেলোয়াড় হারানোর ঝুঁকি থাকবে। আর্সেনাল এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে তুলনামূলক কম খরচে তাঁকে দলে টানতে চাইছে।

কালের আলো/এসএ

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর কোনো দল বা ব্যক্তির একক সম্পত্তি নয়: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ণ
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর কোনো দল বা ব্যক্তির একক সম্পত্তি নয়: প্রধানমন্ত্রী

এই বাংলাদেশ আর কখনোই তাবেদারী রাষ্ট্রে পরিণত হবেনা- এই প্রত্যাশায় ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে যারা হতাহত হয়েছেন পর্যায়ক্রমে অবশ্যই প্রতিটি ঘটনার বিচার হবে।

বুধবার (০৫ আগস্ট) সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের সময় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিচারের কথা তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেই বিচার হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য। সরকার মনে করে, আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্যই প্রতিটি অপরাধের বিচার হওয়া জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের নয়; এর মূল শক্তি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।

তারেক রহমান বলেন, আজকের এই দিনটি বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ইতিহাসে আরেকটি যুগান্তকারী মাইলফলক। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। লক্ষ লক্ষ মানুষ নির্যাতন নিপীড়ন হামলা কিংবা মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছিলেন।  শুধুমাত্র জুলাই-আগষ্টের গণঅভ্যূত্থানেই শহীদ হয়েছিলেন হাজারো ছাত্র জনতা নারী ও শিশু।  আহত হয়েছিলেন কমপক্ষে ত্রিশ হাজার মানুষ।

আমি ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। হতাহতদের পরিবারের প্রতি জানাই গভীর সহানুভূতি এবং সমবেদনা।

জুলাই আন্দোলনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলাই-আগষ্টের গণঅভ্যূত্থান ঠেকাতে ফ্যাসিস্ট চক্র হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে গণতন্ত্রকামী জনগণকে হত্যা করেছিল। পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের এমন নৃশংসতা- এমন বর্বরতা সভ্য জগতে বিরল।

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম, খুন, অপহরণকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল।  দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই নৃশংসতা শুধুমাত্র স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে তিন বছরের দুঃশাসনের সঙ্গেই তুলনা চলে।

এমন বাস্তবতায়, আজকের ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’  ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তাদের পূর্বসূরিদের সাহসী ইতিহাস যেমন তুলে ধরবে অপরদিকে তাদের সামনে উম্মোচিত হবে বিতাড়িত ফ্যাসিষ্টদের মুখোশ।

তিনি বলেন, এই স্মৃতি জাদুঘর আমাদের জনগণের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, বেদনা, সাহস ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে ধারণ করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ। আমি আশা করি, এই জাদুঘর শুধুমাত্র ২০২৪ সালের নৃশংস ঘটনার স্মারক হবে না।

এই জাদুঘর বাংলাদেশের মানুষের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্পর্ক তুলে ধরবে। শুধুমাত্র জুলাই গণঅভ্যুত্থানই নয় এখানে বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাসও সংরক্ষিত থাকা জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী চক্র কখনোই দেশে গণতান্ত্রিক শাসনকে মেনে নিতে পারেনি। এদেরই পূর্বসূরিগণ ১৯৭৫ সালে সংবিধান পরিবর্তন করে দেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল।

পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে দেশে পুনরায় বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এইসব ইতিহাস ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এ সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অবশ্যই উপকৃত হবে।

তারেক রহমান আশা প্রকাশ করে বলেন, আশা করি, এই জাদুঘরে জুলাই-আগষ্টের রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের পরিচয় ও জীবনকথা, আহতদের সাক্ষ্য, অভ্যূত্থানে অংশগ্রহণকারী বীর ছাত্র জনতার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, সংবাদ প্রতিবেদন, পোস্টার, দেয়াল লিখন, গ্রাফিতি, কার্টুন, কবিতা, গান, নাটক, চিত্রকর্ম, ব্যক্তিগত স্মারক এবং ডিজিটাল উপাদান ও সংরক্ষিত থাকবে।

যারা এই জাদুঘরে নিজেদের ব্যক্তিগত স্মারক, দলিল, আলোকচিত্র, শিল্পকর্ম জাদুঘরের জন্য প্রদান করেছেন, তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, অসম্পূর্ণ, অতিরঞ্জিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান ইতিহাসকে শক্তিশালী করে না।

বরং তা ইতিহাসের বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করে এবং ভবিষ্যৎ বিভেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং, প্রতিটি বিষয়ে যথাসম্ভব সত্যতা নিশ্চিত থাকা প্রয়োজন।

একইসঙ্গে জাদুঘরে রাখা বিষয়াবলী সম্পর্কে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি এবং অন্যান্য ভাষায়ও উপস্থাপিত হলে বিশ্বের ভিন্নভাষী মানুষও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে সুবিধা হবে।

জুলাইযোদ্ধাদের নিয়ে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত জুলাই যোদ্ধাদেরকে সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি গুরুতর আহত জুলাই যোদ্ধাদেরকে যথানিয়মে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, রাশিয়ায়সহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা করানো হচ্ছে।

বর্তমানে ৫০ জন জুলাই যোদ্ধা বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে ১৩ হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধাকে তাদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে শ্রেণিভিত্তিক মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সহায়তা করার ব্যাপারে বর্তমান সরকার আন্তরিক।

তিনি বলেন, আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি বর্তমান সরকার শহিদদের কাঙ্খিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজও শুরু করেছে।  এরই অংশ হিসেবে দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহারের পাশাপাশি জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

একইসঙ্গে গণভোটের আকাঙ্খা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে গঠিত  ‘সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ও কাজ শুরু করেছে। দেশ পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর সমৃদ্ধ নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা শহীদদের কাঙ্খিত বাংলাদেশ গড়বো ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, আমি আজ এই অনুষ্ঠানে একটি বিষয়ে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা শুরু করেছেন। এসব পরিস্থিতিতে তৈরি করে তারা নিজেদের অজান্তেই পতিত পরাজিত পলাতক স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করছেন কিনা সেটি ভেবে দেখার আহ্বান জানাই।

তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থপতি, ইতিহাসবিদ, গবেষক, জাদুঘর বিশেষজ্ঞ, শিল্পী, সংগ্রাহক, কারিগর, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সহযোগী সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

একইসঙ্গে জুলাই গণঅভ্যূত্থানে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমি দেশের সেনাবাহিনীকে অভিনন্দন জানাই। শহীদদের শোকাহত পরিবারের প্রতি জানাই সমবেদনা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আজ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উন্মুক্ত কনসার্টে পারফর্ম করছেন যারা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ণ
আজ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উন্মুক্ত কনসার্টে পারফর্ম করছেন যারা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে রাজধানী ঢাকায় আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুটি বৃহৎ উন্মুক্ত কনসার্ট। ঢাকার সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এ কনসার্ট দুটি সংগীতপ্রেমীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ: ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’

জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উদ্‌যাপন উপলক্ষে মুনসুন কালচারাল অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আয়োজিত হয়েছে ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ শীর্ষক কনসার্ট। আয়োজকরা জানিয়েছেন, জুলাই আন্দোলনে জন্ম নেওয়া মুক্তি, ঐক্য ও প্রতিবাদের চেতনাকে সংগীতের মাধ্যমে স্মরণ ও উদ্‌যাপন করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

পারফর্ম করছেন যারা: আর্টসেল, শিরোনামহীন, আর্ক, অ্যাভয়েড রাফা, কুঁড়েঘর, নাহিদ অ্যান্ড মিউজিশিয়ান।

একক শিল্পী: আসিফ আকবর, র‍্যাপার সেজান, পারশা মাহজাবীন এবং কাজী আহনাফ তাহমীদ।

এক ভিডিও বার্তায় জনপ্রিয় ব্যান্ড শিরোনামহীন দর্শক-শ্রোতাদের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ৫ আগস্ট মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আমরা আসছি… আমরা একসাথে গাইব আমাদের সম্মিলিত সাহস ও ভালোবাসার গান।’ অন্যদিকে শিল্পী আসিফ আকবর সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার দিকে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান: ‘কনসার্ট ফর ডেমোক্রেসি’

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির তত্ত্বাবধানে এবং বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশনের (বামবা) সহযোগিতায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজন করা হয়েছে ‘কনসার্ট ফর ডেমোক্রেসি’।

পারফর্ম করছেন যারা: মাইলস, ওয়ারফেজ, ডিফরেন্ট টাচ, লালন, হাইওয়ে, এসেইস এবং রে রে।

সময়সূচি: কনসার্ট শুরু হবে বেলা ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। দর্শকদের সুবিধার্থে বেলা ১টায় প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হবে।

বামবা সভাপতি হামিন আহমেদ জানান, জুলাই আন্দোলনে সংগীতাঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল এবং সেই তাৎপর্যকে লালন করতেই এ আয়োজন। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন জানান, নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি জীবন্ত রাখতেই এ কনসার্ট করা হচ্ছে এবং অনুষ্ঠানস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

রবীন্দ্র সরোবরে ‘সাউন্ড অব জুলাই’ সম্পন্ন

এর আগে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে রবীন্দ্র সরোবরে ‘জুলাই রেভোল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’-এর উদ্যোগে এবং বিডিজবসের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয় ‘সাউন্ড অব জুলাই’ শীর্ষক র‍্যাপ, গান ও কবিতার আয়োজন। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া উক্ত অনুষ্ঠানে তথ্যচিত্র ‘জুলাই অনির্বাণ’ প্রদর্শন, বিইউএফটি কালচারাল ক্লাবের নাটক ‘৩৬ জুলাই’, মেটালিক এররের পরিবেশনা এবং কাজী আহনাফ তাহমিদ, হান্নান ও সেজানসহ একাধিক র‍্যাপারের পরিবেশনা প্রদর্শিত হয়।

কালের আলো/এসএ