খুঁজুন
                               
, ,
           

আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, রায়ের অপেক্ষায় আরও ৩ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, রায়ের অপেক্ষায় আরও ৩ মামলা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।  রোববার (১৪ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই রায় প্রকাশ করেন।  মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই আসামি হলেন— পুলিশের এএসআই আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।  রায়ে বাকি আসামিদের যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে চলতি মাসেই ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে আরও তিনটি মামলার রায় প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় দণ্ডিত আসামিপক্ষ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে একাধিক আইনি ভিত্তি (গ্রাউন্ড) উত্থাপন করেছে। তাদের দাবি, প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও প্রমাণে আসামিদের সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়নি এবং সাক্ষীদের বক্তব্যেও রয়েছে পরস্পরবিরোধিতা।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, গত ১১ জুন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারপতি ও বিচারকগণের স্বাক্ষরিত পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি প্রকাশিত হয়েছে। এই কপি বর্তমানে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এখন প্রসিকিউশন বিভাগ রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেবেন যে, কোনো সাজার বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন কিনা।

গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের বিভিন্ন আইনি দিক, ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার, আন্তর্জাতিক আইন, সাক্ষ্যপ্রমাণের মূল্যায়ন এবং বিচারপ্রক্রিয়ার ন্যায়সঙ্গতা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছে। এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের উপাদান, ব্যক্তিগত ফৌজদারি দায়, কমান্ড রেসপনসিবিলিটি, ওয়াইডস্প্রেড ও সিস্টেমেটিক অ্যাটাক, সিভিলিয়ান জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নজির ও রোম স্ট্যাটিউটের আলোকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে। রংপুর তাজহাট থানার মামলা নং-৩ (১৯/৮২০২৪) জিআর-১১১/২০২৪-এর বিচার চলাকালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল আবু সাঈদের মৃত্যু কেবল একটি দুর্ঘটনা নাকি এটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ। দীর্ঘ এই রায়ে সেই প্রশ্নসহ সংশ্লিষ্ট সব আইনি বিষয়ের উত্তর দেওয়া হয়েছে।

রায়ে প্রাচীন চীনা প্রবাদ উদ্ধৃত করে ‘Every thousand miles has its first step’ আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডই জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম ধাপ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। শত্রুর জন্যও ‘ইনসাফ প্রতিষ্ঠা’ বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার নীতিতে বিশ্বাস রেখে এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে মন্তব্য করা হয়েছে। রায়ে অনুপস্থিত আসামির (Trial in Absentia) বিচার নিয়েও বিস্তৃত আলোচনা করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই বাংলাদেশের আইনে অনুপস্থিত অবস্থায় বিচার চালানোর বিধান রাখা হয়েছে।

সাক্ষ্যপ্রমাণ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ২৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ, বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন এবং সংবাদপত্রে প্রকাশিত ৪১টি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়েছে। রায়ে প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে পৃথকভাবে সাক্ষ্য ও প্রমাণ বিশ্লেষণ করে দায় নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে কার কী ভূমিকা ছিল তা স্পষ্টভাবে উঠে আসে। সবশেষে ট্রাইব্যুনাল জানায়, এই বিচারপ্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গতভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। দুই হাত ছড়িয়ে পুলিশের সামনে দাঁড়ানো আবু সাঈদের একটি ভিডিও সেসময় সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। তার মৃত্যুতে সারাদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার এক পর্যায়ে কারফিউ জারি করলেও তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় সরকার।

এ ঘটনার ২০ দিন পর ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়।

জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় জাসদ সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিচার শেষ হয়েছে। মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের বিরুদ্ধে করা মামলাটিও বর্তমানে রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, চলতি মাসেই এই মামলা দুটির রায় দিতে পারেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর রামপুরায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণ আমির হোসেনকে গুলি করে আহতসহ দু’জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটিও যুক্তিতর্ক শেষে চলতি মাসেই রায় দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় আসামিপক্ষের আপিল

গত ৫ ফেব্রুয়ারি জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আশুলিয়ায় ৬ জনকে গুলি করে হত্যা এবং তাদের লাশ পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, আশুলিয়ার মামলায় দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আপিল করার সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে রায় ঘোষণার দিন এক আসমির করা অভিযোগসহ কিছু অভিযোগের ব্যাপারে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি তদন্ত করছে।

এদিকে মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবুল হাসান বলেন, তারা যুক্তি দিয়েছে, কথিত ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রয়োজনীয় উপাদান অনুপস্থিত, ঘটনার সময় পুলিশ বাহিনী আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর আওতাভুক্ত ছিল না এবং নিম্নপদস্থ পুলিশ সদস্য হিসেবে আসামিরা বাহিনীর শৃঙ্খলা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারেই দায়িত্ব পালন করেছেন, যা কোনো অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। এসব বিষয় তুলে ধরে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি আশুলিয়া থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক আবদুল মালেক ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদারকে দেওয়া সাজার বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। আমরা আশা করি উচ্চ আদালতে ন্যায় বিচার পাব।

কালের আলো/এসআর/এএএন

জুলাই আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি প্রাণ দিয়েছে ছাত্রদল: ডিএনসিসি প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
জুলাই আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি প্রাণ দিয়েছে ছাত্রদল: ডিএনসিসি প্রশাসক

জুলাই আন্দোলনে অন্য যেকোনো রাজনৈতিক দলের তুলনায় সবচেয়ে বেশি হত্যার শিকার হয়েছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ, নির্যাতন ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা ছাত্রদল আজ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশ ও মানুষের সেবায় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে ছাত্রদল জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ ছাত্রদল আয়োজিত বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আজকের ছাত্রদল একদিনে গড়ে ওঠেনি। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হয়েছে। অনেক নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন, আবার অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ ও অবদান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়ার কারণে হাজার হাজার নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেক পরিবার তাদের প্রিয়জন হারিয়েছে। যারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা যেভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন, অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা সে মাত্রায় প্রাণ হারাননি। তাঁদের আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদ ওয়াসিম আকরামের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাঁর স্মৃতিকে অম্লান রাখতেই শহীদ ওয়াসিম আকরাম চত্বর উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস এবং শহীদদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।

ডিএনসিসি প্রশাসক আরও বলেন, ছাত্রদল সবসময় দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনটি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি তরুণ সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের অধ্যক্ষ, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পর্যায়ের ছাত্রদল নেতাকর্মী এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আগামী বছরের প্রথমেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: স্থানীয়সরকারমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
আগামী বছরের প্রথমেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: স্থানীয়সরকারমন্ত্রী

আগামী বছরের প্রথমেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সবাইকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।

জনগণের সমর্থন ও ভালোবাসা নিয়ে জয়লাভ করে আসতে হবে

বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তৃণমূল জনপ্রতিনিধি ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারদের করণীয় শীর্ষক’ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সামনের বছর প্রথম দিকেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এ নির্বাচন হবে একেবারে নিরপেক্ষ। এখানে বিএনপি, জামায়াত বা অন্য কোনো দলের পরিচয়ে কেউ বাড়তি সুবিধা পাবে না।

জনগণের ভালোবাসা নিয়েই জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত হতে হবে।

তিনি বলেন, প্রকৃত গণতন্ত্রের ভিত্তি হচ্ছে স্থানীয় সরকার।

স্থানীয় সরকার শক্তিশালী না হলে রাষ্ট্র কিংবা গণতন্ত্র কোনোটিই শক্তিশালী হতে পারে না। উন্নত দেশগুলোতে স্থানীয় সরকারই প্রশাসন, স্বাস্থ্যসেবা, স্থানীয় বিচার ব্যবস্থা ও জনসেবার বড় অংশ পরিচালনা করে। বাংলাদেশেও সেই কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল করা হয়েছে। এখন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকারকে কার্যকর ও ক্ষমতায়িত করতে হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নানা অজুহাতে বরখাস্ত করা হয়েছে। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে প্রমাণ ছাড়া ইচ্ছামতো অপসারণ করা উচিত নয়। আইন ভঙ্গ বা অপরাধ প্রমাণিত হলেই কেবল ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এ বিষয়ে আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের যথাযথ ক্ষমতায়ন ছাড়া স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হবে না। শুধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার পরিচালিত হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয়। উন্নয়ন কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. পয়গাম আলী এবং বাংলাদেশ ইউনিয়ন মেম্বার কল্যাণ এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেনসহ সারাবাংলাদেশ থেকে আগত মেম্বার এবং চেয়ারম্যানরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

‘অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
‘অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প’

বাংলাদেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে নিরাপদ, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সহায়তায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বুধবার (২২ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিজের কার্যালয়ে জাইকার একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশে জাইকার প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই শিল্পে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে খাতটির টেকসই উন্নয়নের জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, পরিবেশ সুরক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা প্রয়োজন।”

তিনি বলেন, “জাইকার সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন ‘জাইকা জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকল্প’ এই খাতের সক্ষমতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

বৈঠকে জানানো হয়, প্রকল্পের আওতায় জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ইয়ার্ডগুলোর সক্ষমতা মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হবে। একই সঙ্গে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা পরিকল্পনা (এসআরএফপি) যাচাই ও সনদ প্রদান এবং জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ পরিকল্পনা (এসআরপি) অনুমোদনের ব্যবস্থা উন্নত করা হবে।

খাতটিতে অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতা কমাতে একটি সমন্বিত অনলাইন ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি দফতরের অনুমোদন দ্রুত ও সহজে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

জাইকার প্রতিনিধিরা বলেন, বাংলাদেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের প্রশাসনিক ও কারিগরি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছেন। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব শিল্পব্যবস্থা গড়ে তোলাই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, বৈঠকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বড় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মন্ত্রী বলেন, “স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক শিল্পব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। জাইকার সহযোগিতায় বাংলাদেশের শিল্প খাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।”

বৈঠকে বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বোর্ডের মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মাহবুবা খাতুন মিনু উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে