খুঁজুন
                               
, ,
           

আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, রায়ের অপেক্ষায় আরও ৩ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, রায়ের অপেক্ষায় আরও ৩ মামলা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।  রোববার (১৪ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই রায় প্রকাশ করেন।  মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই আসামি হলেন— পুলিশের এএসআই আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।  রায়ে বাকি আসামিদের যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে চলতি মাসেই ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে আরও তিনটি মামলার রায় প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় দণ্ডিত আসামিপক্ষ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে একাধিক আইনি ভিত্তি (গ্রাউন্ড) উত্থাপন করেছে। তাদের দাবি, প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও প্রমাণে আসামিদের সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়নি এবং সাক্ষীদের বক্তব্যেও রয়েছে পরস্পরবিরোধিতা।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, গত ১১ জুন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারপতি ও বিচারকগণের স্বাক্ষরিত পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি প্রকাশিত হয়েছে। এই কপি বর্তমানে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এখন প্রসিকিউশন বিভাগ রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেবেন যে, কোনো সাজার বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন কিনা।

গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের বিভিন্ন আইনি দিক, ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার, আন্তর্জাতিক আইন, সাক্ষ্যপ্রমাণের মূল্যায়ন এবং বিচারপ্রক্রিয়ার ন্যায়সঙ্গতা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছে। এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের উপাদান, ব্যক্তিগত ফৌজদারি দায়, কমান্ড রেসপনসিবিলিটি, ওয়াইডস্প্রেড ও সিস্টেমেটিক অ্যাটাক, সিভিলিয়ান জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নজির ও রোম স্ট্যাটিউটের আলোকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে। রংপুর তাজহাট থানার মামলা নং-৩ (১৯/৮২০২৪) জিআর-১১১/২০২৪-এর বিচার চলাকালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল আবু সাঈদের মৃত্যু কেবল একটি দুর্ঘটনা নাকি এটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ। দীর্ঘ এই রায়ে সেই প্রশ্নসহ সংশ্লিষ্ট সব আইনি বিষয়ের উত্তর দেওয়া হয়েছে।

রায়ে প্রাচীন চীনা প্রবাদ উদ্ধৃত করে ‘Every thousand miles has its first step’ আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডই জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম ধাপ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। শত্রুর জন্যও ‘ইনসাফ প্রতিষ্ঠা’ বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার নীতিতে বিশ্বাস রেখে এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে মন্তব্য করা হয়েছে। রায়ে অনুপস্থিত আসামির (Trial in Absentia) বিচার নিয়েও বিস্তৃত আলোচনা করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই বাংলাদেশের আইনে অনুপস্থিত অবস্থায় বিচার চালানোর বিধান রাখা হয়েছে।

সাক্ষ্যপ্রমাণ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ২৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ, বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন এবং সংবাদপত্রে প্রকাশিত ৪১টি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়েছে। রায়ে প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে পৃথকভাবে সাক্ষ্য ও প্রমাণ বিশ্লেষণ করে দায় নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে কার কী ভূমিকা ছিল তা স্পষ্টভাবে উঠে আসে। সবশেষে ট্রাইব্যুনাল জানায়, এই বিচারপ্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গতভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। দুই হাত ছড়িয়ে পুলিশের সামনে দাঁড়ানো আবু সাঈদের একটি ভিডিও সেসময় সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। তার মৃত্যুতে সারাদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার এক পর্যায়ে কারফিউ জারি করলেও তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় সরকার।

এ ঘটনার ২০ দিন পর ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়।

জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় জাসদ সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিচার শেষ হয়েছে। মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের বিরুদ্ধে করা মামলাটিও বর্তমানে রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, চলতি মাসেই এই মামলা দুটির রায় দিতে পারেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর রামপুরায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণ আমির হোসেনকে গুলি করে আহতসহ দু’জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটিও যুক্তিতর্ক শেষে চলতি মাসেই রায় দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় আসামিপক্ষের আপিল

গত ৫ ফেব্রুয়ারি জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আশুলিয়ায় ৬ জনকে গুলি করে হত্যা এবং তাদের লাশ পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, আশুলিয়ার মামলায় দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আপিল করার সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে রায় ঘোষণার দিন এক আসমির করা অভিযোগসহ কিছু অভিযোগের ব্যাপারে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি তদন্ত করছে।

এদিকে মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবুল হাসান বলেন, তারা যুক্তি দিয়েছে, কথিত ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রয়োজনীয় উপাদান অনুপস্থিত, ঘটনার সময় পুলিশ বাহিনী আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর আওতাভুক্ত ছিল না এবং নিম্নপদস্থ পুলিশ সদস্য হিসেবে আসামিরা বাহিনীর শৃঙ্খলা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারেই দায়িত্ব পালন করেছেন, যা কোনো অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। এসব বিষয় তুলে ধরে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি আশুলিয়া থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক আবদুল মালেক ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদারকে দেওয়া সাজার বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। আমরা আশা করি উচ্চ আদালতে ন্যায় বিচার পাব।

কালের আলো/এসআর/এএএন

পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ‘ভারত-সমর্থিত’ ৪৩ সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ‘ভারত-সমর্থিত’ ৪৩ সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে চলমান ‘অপারেশন শাবান’-এ ‘ভারত-সমর্থিত’ আরও ১৭ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এর ফলে এ অভিযানে মোট নিহত সশস্ত্র ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে।

নিরাপত্তা সূত্র জানায়, মাঙ্গি বাঁধ পুলিশ স্টেশনে হামলার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কর্পস এবং বেলুচিস্তান পুলিশ যৌথভাবে অভিযান শুরু করে।

এর আগে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, ‘ভারত-সমর্থিত’ সশস্ত্র ব্যক্তিরা ওই পুলিশ চৌকিতে হামলা চালায়।

প্রাথমিক সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুলে ১৫ জন হামলাকারীকে হত্যা করেন। তবে এ সময় ৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন।

তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করে। জিম্মিদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাহিনী সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালায়।

চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, ৬ জুলাই থেকে জিয়ারাত জেলার পাহাড়ি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান চলছিল। অবরোধ আরও কঠোর হলে হামলাকারীরা ১৮ জন জিম্মি পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে। মাঙ্গি চেকপোস্টে হামলায় মোট ২৭ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন এবং ওই অভিযানে ২৬ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়।

এদিকে নিরাপত্তা সূত্র জানায়, খুজদারের একটি পুলিশ স্টেশনে হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। এর জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও ফ্রন্টিয়ার কর্পস অভিযান চালিয়ে আরও ৮ জন সশস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা করেছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন শাবান’ এবং অন্যান্য গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ৯১ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছে।

এ ছাড়া হেলিকপ্টার অভিযানেও আরও ৫ থেকে ৬ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছে বলে নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র: জিও নিউজ

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে জিতবে কে, জানালো সুপার কম্পিউটার

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে জিতবে কে, জানালো সুপার কম্পিউটার

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আগামীকাল সকালে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড মুখোমুখি হতে চলেছে। এই লড়াইয়ে কে জিততে পারে, তা নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে অপ্টার সুপার কম্পিউটার।

এই ম্যাচ শুরুর আগে ২৫ হাজার সিমুলেশন চালিয়েছে অপ্টা। তারই ফলাফলে দেখা গেছে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ৫৭ দশমিক ১ শতাংশ।

একই সিমুলেশনে সুইজারল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। বাকি ২৪ দশমিক ২ শতাংশ ক্ষেত্রে ম্যাচ ড্র হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে, অর্থাৎ খেলা গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে।

তবে বারবার প্রত্যাশিত হিসাবনিকাশ উল্টে দেওয়ার অভ্যাস যেন গড়ে তুলেছে আর্জেন্টিনা। এরপরও সার্বিকভাবে শেষ চারে উঠে শিরোপা রক্ষার লড়াই টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে তাদের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে ৬৯ দশমিক ৪ শতাংশ।

অন্যদিকে ইংল্যান্ড বা নরওয়ের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা সুইজারল্যান্ডের জন্য দেখানো হয়েছে ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

ঢাকাসহ ১৬ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির আভাস, জলাবদ্ধতার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ
ঢাকাসহ ১৬ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির আভাস, জলাবদ্ধতার শঙ্কা

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঢাকাসহ দেশের অন্তত ১৬টি অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ঢাকাসহ দেশের আট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে।

এতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

শনিবার (১১ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় বলা হয়, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪–৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৮ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টিপাত হতে পারে।

সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে অধিদপ্তর জানায়, উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে মধ্য উত্তরপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপ আকারে অবস্থান করছে এবং এটি আরও দুর্বল হতে পারে।

তবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দরগুলোকে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি