খুঁজুন
                               
সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, রায়ের অপেক্ষায় আরও ৩ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, রায়ের অপেক্ষায় আরও ৩ মামলা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।  রোববার (১৪ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই রায় প্রকাশ করেন।  মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই আসামি হলেন— পুলিশের এএসআই আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।  রায়ে বাকি আসামিদের যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে চলতি মাসেই ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে আরও তিনটি মামলার রায় প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় দণ্ডিত আসামিপক্ষ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে একাধিক আইনি ভিত্তি (গ্রাউন্ড) উত্থাপন করেছে। তাদের দাবি, প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও প্রমাণে আসামিদের সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়নি এবং সাক্ষীদের বক্তব্যেও রয়েছে পরস্পরবিরোধিতা।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, গত ১১ জুন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারপতি ও বিচারকগণের স্বাক্ষরিত পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি প্রকাশিত হয়েছে। এই কপি বর্তমানে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এখন প্রসিকিউশন বিভাগ রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেবেন যে, কোনো সাজার বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন কিনা।

গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের বিভিন্ন আইনি দিক, ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার, আন্তর্জাতিক আইন, সাক্ষ্যপ্রমাণের মূল্যায়ন এবং বিচারপ্রক্রিয়ার ন্যায়সঙ্গতা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছে। এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের উপাদান, ব্যক্তিগত ফৌজদারি দায়, কমান্ড রেসপনসিবিলিটি, ওয়াইডস্প্রেড ও সিস্টেমেটিক অ্যাটাক, সিভিলিয়ান জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নজির ও রোম স্ট্যাটিউটের আলোকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে। রংপুর তাজহাট থানার মামলা নং-৩ (১৯/৮২০২৪) জিআর-১১১/২০২৪-এর বিচার চলাকালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল আবু সাঈদের মৃত্যু কেবল একটি দুর্ঘটনা নাকি এটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ। দীর্ঘ এই রায়ে সেই প্রশ্নসহ সংশ্লিষ্ট সব আইনি বিষয়ের উত্তর দেওয়া হয়েছে।

রায়ে প্রাচীন চীনা প্রবাদ উদ্ধৃত করে ‘Every thousand miles has its first step’ আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডই জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম ধাপ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। শত্রুর জন্যও ‘ইনসাফ প্রতিষ্ঠা’ বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার নীতিতে বিশ্বাস রেখে এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে মন্তব্য করা হয়েছে। রায়ে অনুপস্থিত আসামির (Trial in Absentia) বিচার নিয়েও বিস্তৃত আলোচনা করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই বাংলাদেশের আইনে অনুপস্থিত অবস্থায় বিচার চালানোর বিধান রাখা হয়েছে।

সাক্ষ্যপ্রমাণ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ২৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ, বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন এবং সংবাদপত্রে প্রকাশিত ৪১টি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়েছে। রায়ে প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে পৃথকভাবে সাক্ষ্য ও প্রমাণ বিশ্লেষণ করে দায় নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে কার কী ভূমিকা ছিল তা স্পষ্টভাবে উঠে আসে। সবশেষে ট্রাইব্যুনাল জানায়, এই বিচারপ্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গতভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। দুই হাত ছড়িয়ে পুলিশের সামনে দাঁড়ানো আবু সাঈদের একটি ভিডিও সেসময় সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। তার মৃত্যুতে সারাদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার এক পর্যায়ে কারফিউ জারি করলেও তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় সরকার।

এ ঘটনার ২০ দিন পর ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়।

জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় জাসদ সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিচার শেষ হয়েছে। মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের বিরুদ্ধে করা মামলাটিও বর্তমানে রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, চলতি মাসেই এই মামলা দুটির রায় দিতে পারেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর রামপুরায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণ আমির হোসেনকে গুলি করে আহতসহ দু’জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটিও যুক্তিতর্ক শেষে চলতি মাসেই রায় দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় আসামিপক্ষের আপিল

গত ৫ ফেব্রুয়ারি জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আশুলিয়ায় ৬ জনকে গুলি করে হত্যা এবং তাদের লাশ পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, আশুলিয়ার মামলায় দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আপিল করার সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে রায় ঘোষণার দিন এক আসমির করা অভিযোগসহ কিছু অভিযোগের ব্যাপারে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি তদন্ত করছে।

এদিকে মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবুল হাসান বলেন, তারা যুক্তি দিয়েছে, কথিত ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রয়োজনীয় উপাদান অনুপস্থিত, ঘটনার সময় পুলিশ বাহিনী আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর আওতাভুক্ত ছিল না এবং নিম্নপদস্থ পুলিশ সদস্য হিসেবে আসামিরা বাহিনীর শৃঙ্খলা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারেই দায়িত্ব পালন করেছেন, যা কোনো অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। এসব বিষয় তুলে ধরে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি আশুলিয়া থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক আবদুল মালেক ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদারকে দেওয়া সাজার বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। আমরা আশা করি উচ্চ আদালতে ন্যায় বিচার পাব।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালককে অপসারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ণ
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালককে অপসারণ

দেশের চলমান ব্যাংক সংকট ও গ্রাহকদের বিক্ষোভের মুখে তুমুল আলোচনায় থাকা ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালককে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার (১৪ জুন) রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ও ৪৭(৩) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এই পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আমানতকারীদের স্বার্থে ও জনস্বার্থে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

আরও জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবেন।

ইসলামী ব্যাংকের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমকে (সাবেক ডেপুটি গভর্নর) এস আলম গ্রুপের সহযোগী আখ্যা দিয়ে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ ও সাধারণ গ্রাহকরা বেশ কিছুদিন ধরে বিক্ষোভ ও সাত দফা দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

এছাড়া ব্যাংকের পর্ষদ নিয়ে অস্থিরতা ও আস্থার সংকটের কারণে ইসলামী ব্যাংক থেকে গ্রাহকরা মাত্র ৫ দিনেই প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তুলে নেন।

২০১৭ সালে বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি হয়, যার বড় অংশই ওই গ্রুপটি নিয়েছিল।

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটি এস আলমের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হলেও সম্প্রতি নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের পর থেকে আবার বিতর্ক শুরু হয়। যা সম্প্রতি আরও মারাত্মক রূপ নিয়েছে।

তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং ইসলামী ব্যাংকে সম্পর্কে গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি ব্যাংকটির পরিচালনার দায়িত্ব নিজেদের তত্ত্বাবধানে নিয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

দীনেশ ত্রিবেদীর ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বক্তব্যে জামায়াতের উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
দীনেশ ত্রিবেদীর ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বক্তব্যে জামায়াতের উদ্বেগ

ঢাকাস্থ ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বক্তব্যকে বাংলাদেশের অখণ্ডতা বিরোধী বক্তব্য উল্লেখ করে তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

রোববার (১৪ জুন) দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও মর্যাদাবান রাষ্ট্র।

মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় বাংলাদেশের জনগণ সর্বদা ঐক্যবদ্ধ এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে এ দেশের জনগণ অতীতের ন্যায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী যে বক্তব্য প্রদান করেছেন, তা কূটনৈতিক শিষ্টাচার, আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি এবং রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্মানবোধের পরিপন্থি।

বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণকে একীভূত জনসংখ্যার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা এবং এমন কিছু মন্তব্য করা, যা বাংলাদেশের স্বতন্ত্র রাষ্ট্রসত্তা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণার জন্ম দিতে পারে- তা কোনো দায়িত্বশীল কূটনীতিকের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়। তার এ মন্তব্যে সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে দেশের জনগণ মনে করে।

তিনি বলেন, দীনেশ ত্রিবেদী ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বলতে কী বুঝিয়েছেন- আমাদের সরকারের উচিত হবে তার কাছ থেকে তা জেনে নেওয়া। তার এ বক্তব্য স্পষ্ট না হলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। যদি তিনি আক্ষরিক অর্থে এ ধরনের কিছু বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তা নিন্দনীয়। আমাদের সরকারের কাছে বিষয়টির মর্যাদাপূর্ণ সুরাহা চাই।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, সমতা, ন্যায়বিচার এবং প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ভিত্তিতে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত থাকা উচিত বলে আমরা মনে করি। কোনো পক্ষের আধিপত্যবাদী বা কর্তৃত্ববাদী মনোভাব এ সম্পর্কের জন্য কখনোই কল্যাণকর হতে পারে না।

ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারকে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ও সংযত ভাষা ব্যবহারের আহ্বান জানাচ্ছি এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের অনুরোধ করছি।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৯:২৯ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যরা

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মানবাধিকার সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর গুম ও খুনের শিকার ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষের বাইরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এর সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে ‘মায়ের ডাক’-এর ২৬ জন সদস্য জাতীয় সংসদের বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ গ্যালারিতে বসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (বাজেট অধিবেশন) সরাসরি উপভোগ করেন।

বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া অধিবেশনের ষষ্ঠ কার্যদিবসে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান, এমপি উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে ‘মায়ের ডাক’-এর সদস্যরা তাদের দীর্ঘদিনের বেদনা, প্রত্যাশা ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষার বিষয় তুলে ধরেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন