খুঁজুন
                               
, ,
           

৫৫ বছর ধরে শরীরে পাকিস্তানি বাহিনীর গুলি, চিকিৎসার অপেক্ষায় যুদ্ধাহত রশিদা আক্তার

নেত্রকোনা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
৫৫ বছর ধরে শরীরে পাকিস্তানি বাহিনীর গুলি, চিকিৎসার অপেক্ষায় যুদ্ধাহত রশিদা আক্তার

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও তার শরীরে রয়ে গেছে মুক্তিযুদ্ধের এক নির্মম স্মৃতি। বয়সের ভারে ন্যুব্জ, প্রায় দৃষ্টিশক্তিহীন রশিদা আক্তার আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ছোড়া একটি গুলি। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে তার একটাই আক্ষেপ—মৃত্যুর আগে যদি অন্তত দেখতে পেতেন, শরীরের ভেতরে আটকে থাকা সেই গুলিটি বের করা হয়েছে।

‘মরার আগে যদি দেখে যাইতে পারতাম পিঠে কী আছে, তাইলে আর কোনো আপত্তি ছিল না। গুলিটা নিয়েই হয়তো কবর পর্যন্ত যাইতে হইবো।’ কথাগুলো বলতে বলতে চোখের কোণে জমে ওঠে দীর্ঘশ্বাসের জল। নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের গোপালাশ্রম (চক্রকান্দি) গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব যুদ্ধাহত নারী রশিদা আক্তার। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুলিতে আহত হলেও দীর্ঘদিন ধরে পিঠে থাকা গুলির যন্ত্রণা সহ্য করেই দিন কাটছে তার। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার জীবনসংগ্রাম ও অসহায়ত্বের খবর প্রকাশিত হলেও চিকিৎসার জন্য কার্যকর কোনো সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

রশিদা আক্তার জানান, ১৯৭১ সালের শ্রাবণ মাসের এক শনিবার পাকিস্তানি সেনারা গোপালাশ্রম গ্রামের ডা. ধীরেন্দ্রনাথ সরকারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং নির্বিচারে গুলিবর্ষণ শুরু করে। প্রাণ বাঁচাতে গ্রামবাসীরা যখন ছুটোছুটি করছিলেন, তখন শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে বাড়ি ছাড়েন তিনি। বাড়ির পাশ থেকে কয়েকজনের সঙ্গে একটি নৌকায় ওঠেন রশিদা আক্তার। নৌকাটি মনাং গ্রামের দিকে যাচ্ছিল। পথে হঠাৎ পাকিস্তানি বাহিনীর ছোড়া একটি গুলি তার ডান কাঁধে বিদ্ধ হয়।

সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘কোলের শিশুকে নিয়ে চুপচাপ বসে ছিলাম। হঠাৎ কাঁধে গুলি লাগে। নৌকায় থাকা রশিদ মিয়া আমার পিঠের রক্ত গামছা দিয়ে মুছছিলেন। এমন সময় আরেকটি গুলি এসে তার মাথায় লাগে। নৌকার মধ্যেই তিনি মারা যান।’

তিনি জানান, পরে মনাং গ্রামের লোকজন তাদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়। আত্মীয়-স্বজন তাকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে বেশিদিন হাসপাতালে রাখা হয়নি।

রশিদা আক্তার বলেন, একজন মহিলা চিকিৎসক ক্ষত পরিষ্কার করে ওষুধ দেন এবং দ্রুত বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। পাকবাহিনীর গুলিতে আহত মানুষ হাসপাতালে আছে জানাজানি হলে সমস্যা হতে পারে—এমন আশঙ্কা ছিল। পরে দেশ স্বাধীন হলেও অর্থাভাবে আর অপারেশন করানো সম্ভব হয়নি। ফলে গুলিটি শরীরেই থেকে যায়।

তিনি আরও বলেন, ‘গুলির জায়গায় মাঝেমধ্যে তীব্র ব্যথা অনুভব করি। কখনও অবশ হয়ে যায়, আবার কখনও অসহনীয় যন্ত্রণা হয়। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারিনি। মনে হয় গুলিটা নিয়েই কবর পর্যন্ত যেতে হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই হামলায় রশিদা আক্তারসহ আরও কয়েকজন আহত হন এবং অন্তত তিনজন নিহত হন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের এত বছর পরও আহত ও নিহত পরিবারগুলোর যথাযথ খোঁজখবর নেওয়া হয়নি।

রশিদার ছেলে কাঞ্চন মিয়া বলেন, মা আমাকে কোলে নিয়ে পালানোর সময় গুলিবিদ্ধ হন। আমরা দরিদ্র মানুষ। উন্নত চিকিৎসা করাতে পারিনি। ব্যথা বাড়লে শুধু ওষুধ কিনে দিই। কিছুদিন ভালো থাকেন, পরে আবার ব্যথা শুরু হয়।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সমরেন্দ্র বিশ্ব শর্মা বলেন, রশিদা আক্তারের দুঃখ-কষ্টের বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিকবার প্রকাশিত হলেও কোনো সরকার বা স্থানীয় প্রশাসন তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়নি। যুদ্ধাহত এই নারীর চিকিৎসা নিশ্চিত করে শরীরে থাকা গুলিটি অপসারণে সরকারের জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল ইসলাম বলেন, “রশিদা আক্তারের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি আগে জানা ছিল না। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রশিদা আক্তার, তার জীবনের শেষ অধ্যায়ে কোনো বড় দাবি নেই। নেই অর্থ, সম্পদ কিংবা সম্মানের প্রত্যাশা। তার একমাত্র চাওয়া—৫৫ বছর ধরে শরীরে বহন করা যুদ্ধের সেই স্মৃতি যেন চিকিৎসার মাধ্যমে অপসারিত হয়। কাঁপা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘মরার আগে গুলিটা বের হইতো দেখতাম, এইডাই আমার শেষ চাওয়া।’ রশিদা আক্তারের এই আকুতি শুধু একজন বৃদ্ধা নারীর ব্যক্তিগত বেদনা নয়; স্বাধীনতার এত বছর পরও রাষ্ট্র এবং সমাজের মানবিক স্পর্শের।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্যারিসে তাসনিয়া ফারিণ, ছবির ক্যাপশনে জীবনের গভীর উপলব্ধি

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
প্যারিসে তাসনিয়া ফারিণ, ছবির ক্যাপশনে জীবনের গভীর উপলব্ধি

অভিনয়ের ব্যস্ততা থেকে একটু অবসর পেলেই ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। নতুন কোনো শহর, ঐতিহাসিক স্থাপনা কিংবা প্রকৃতির সৌন্দর্য-সবকিছুই নিজের মতো করে উপভোগ করতে পছন্দ করেন তিনি। এবার ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় ও নান্দনিক শহর ফ্রান্সের প্যারিসে ঘুরতে দেখা গেল এই অভিনেত্রীকে।

প্যারিস ভ্রমণের একটি মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন ফারিণ। শহরটির বিখ্যাত পালে গার্নিয়ে অপেরা হাউসের সামনে দাঁড়িয়ে তোলা একটি ছবি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি।

উনিশ শতকের ঐতিহাসিক এই স্থাপত্য প্যারিসের অন্যতম পরিচিত দর্শনীয় স্থান। অপেরা হাউসের সামনে কালো পোশাকে হাসিমুখে ক্যামেরাবন্দী হয়েছেন ফারিণ। পেছনে ঐতিহাসিক স্থাপনা, নীল আকাশ আর প্যারিসের নান্দনিক পরিবেশ-সব মিলিয়ে ছবিতে ধরা পড়েছে ভ্রমণের আনন্দঘন মুহূর্ত।

তবে ছবির চেয়েও বেশি নজর কেড়েছে ফারিণের ক্যাপশন। প্যারিসের সৌন্দর্যের মাঝে দাঁড়িয়ে জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব নিয়ে গভীর এক উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

ক্যাপশনে ফারিণ লিখেছেন, ‘এই পৃথিবীতে আসলে আমাদের নিজের বলে কিছুই নেই-না মানুষ, না সম্পত্তি, এমনকি মুহূর্তও না। আমরা কেবল মাধ্যম, যাদের ভেতর দিয়ে ভালোবাসা, সম্পর্ক, অভিজ্ঞতা আর প্রাপ্তিগুলো কিছু সময়ের জন্য প্রবাহিত হয়। তারপর একদিন সবকিছু ছেড়ে যেতে হয়।’

ফারিণের এই কথায় উঠে এসেছে জীবনের অনিত্যতা ও সম্পর্কের ক্ষণস্থায়ী বাস্তবতার দর্শন। মানুষ, সম্পদ কিংবা জীবনের বিশেষ কোনো মুহূর্ত-কোনোটিই স্থায়ী নয়। জীবনের পথে কিছু সম্পর্ক, ভালোবাসা ও অভিজ্ঞতা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আমাদের সঙ্গী হয়। এরপর সময়ের নিয়মেই সেগুলোকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে হয়।

প্যারিসের মতো স্বপ্নের এক শহরে দাঁড়িয়ে ফারিণের এমন উপলব্ধির কথা তাই তার ভ্রমণের ছবিতে যোগ করেছে ভিন্ন এক মাত্রা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশের পর তার ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যেও ক্যাপশনটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

তাসনিয়া ফারিণের অভিনয়জীবনের শুরু ছোট পর্দায়। নাটক ও ওয়েব কনটেন্টে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মধ্যে পরিচিতি পাওয়ার পর ধীরে ধীরে বড় পর্দাতেও নিজের অবস্থান তৈরি করছেন তিনি।

গেল বছর অভিনেতা শরীফুল রাজের বিপরীতে ‘ইনসাফ’ সিনেমায় অভিনয় করেন ফারিণ। বাণিজ্যিক ঘরানার এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি।

এরপর চলতি বছরের রোজার ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ সিনেমায় ঢালিউডের শীর্ষ অভিনেতা শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করেন ফারিণ। সিনেমাটিতে তার অভিনয় নিয়েও দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ দেখা যায়।

অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনে ভ্রমণের প্রতি ফারিণের আগ্রহও বেশ পরিচিত। কাজের ব্যস্ততার ফাঁকে বিভিন্ন দেশ ও শহর ঘুরে দেখার পাশাপাশি সেই অভিজ্ঞতার ছবি ও অনুভূতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন তিনি।

এবার প্যারিস ভ্রমণের ছবির মাধ্যমে শুধু একটি সুন্দর মুহূর্তই নয়, জীবনের একটি গভীর সত্যও অনুসারীদের সামনে তুলে ধরলেন এই অভিনেত্রী। তার সেই উপলব্ধি-জীবনের কিছুই স্থায়ীভাবে নিজের করে রাখা যায় না, বরং ভালোবাসা ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে কিছু সময়কে অর্থপূর্ণ করে তোলাই হয়তো জীবনের সৌন্দর্য।

কালের আলো/এসএ

মিরপুরে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে জশনে জুলুস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
মিরপুরে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে জশনে জুলুস

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুরে জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) মিরপুর শাহ আলী মাজার এলাকা থেকে এ জশনে জুলুস বের হয়। এতে আহলা দরবার শরীফের পীর-মুর্শিদ ও মুরিদানসহ হাজারো আশেকে রাসূল অংশ নেন।

আঞ্জুমানে আসাদীয়া নূরীয়া সেহাবীয়ার ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত জশনে জুলুসের নেতৃত্ব দেন হাদীয়েজামান হজরত শাহসূফী সৈয়দ আবু জাফর মোহাম্মদ সেহাবউদ্দীন খালেদ আল-কাদেরী আল-চিশতী (রহ.)-এর উত্তরসূরি শাহসূফী সৈয়দ আবরার ইবনে সেহাব আল-কাদেরী আল-চিশতী। তার সঙ্গে ছিলেন শাহজাদা শাহসূফী সৈয়দ হোসেইন রাইফ নূরুল ইসলাম (রুবাব) মাইজভাণ্ডারী।

সকাল থেকেই জশনে জুলুসে অংশ নিতে মিরপুর শাহ আলী মাজার এলাকায় আশেকান ও মুরিদানেরা জড়ো হতে থাকেন। পরে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে জুলুসটি মাজার এলাকা থেকে বের হয়। জুলুসে অংশ নেওয়া মানুষের হাতে বিভিন্ন ব্যানার ও পতাকা দেখা যায়। তারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

জুলুসে অংশ নেওয়া আশেকানদের কণ্ঠে নাতে রাসুল ও দরুদ পাঠে মিরপুরের পরিবেশ মুখর হয়ে ওঠে। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন উপলক্ষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। বিভিন্ন বয়সী মানুষ এ আয়োজনে অংশ নেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন উপলক্ষে এ জশনে জুলুসের আয়োজন করা হয়েছে। মহানবীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ এবং তার জীবন ও আদর্শ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

জশনে জুলুসটি মিরপুর শাহ আলী মাজার থেকে শুরু হয়ে মিরপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জুলুসটি মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১২ এলাকার বিভিন্ন সড়ক দিয়ে অতিক্রম করে।

জুলুসে অংশ নেওয়া কয়েকজন বলেন, মহানবী (স.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা থেকেই তারা এ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন। প্রতিবছর ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে তারা এ ধরনের ধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন। মহানবীর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে শান্তি, মানবতা ও সম্প্রীতির সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তারা।

আয়োজকেরা বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানবতার জন্য শান্তি, ভালোবাসা, সহনশীলতা ও ন্যায়বিচারের শিক্ষা দিয়ে গেছেন। তাঁর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করলে সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ দূর করা সম্ভব। জশনে জুলুসের মাধ্যমে মহানবীর সেই শিক্ষা ও আদর্শ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

জশনে জুলুসকে কেন্দ্র করে মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। আয়োজকদের স্বেচ্ছাসেবকেরাও জুলুসের শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

দেশজুড়ে বৃষ্টির প্রবণতা, কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
দেশজুড়ে বৃষ্টির প্রবণতা, কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী পাঁচদিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২৬ আগস্ট রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। এদিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

২৭ ও ২৮ আগস্ট রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং অন্যান্য বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৯ ও ৩০ আগস্ট দেশের আট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

২৯ আগস্ট সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। ৩০ আগস্ট তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পাশাপাশি অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় জনসাধারণকে প্রয়োজন অনুযায়ী সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি