খুঁজুন
                               
, ,
           

বৃহৎ পরিমণ্ডলে প্রশিক্ষণে রণপ্রস্তুতি সেনাবাহিনীর, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
বৃহৎ পরিমণ্ডলে প্রশিক্ষণে রণপ্রস্তুতি সেনাবাহিনীর, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর

দীর্ঘ বিরতির পর পুরোদমে গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বহি:শত্রুর আগ্রাসন রুখে দিতে নিজেদের সমর সক্ষমতাকে জানান দিতে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জামাদির কৌশলগত ব্যবহার চলছে প্রশিক্ষণে। এই প্রশিক্ষণ চলাকালেই অকুতোভয় কর্মকর্তা ও সৈনিকদের উৎসাহিত করতে সাত সকালেই ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জে আকস্মিক হাজির হলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় নিরাপত্তায় নিজের সরকারের সুদৃঢ় অঙ্গীকার থেকেই কী-না দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোন প্রধানমন্ত্রী স্বশরীরে উপস্থিত হলেন গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণে। পায়ে হেঁটে ছুটলেন এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। সেনা সদস্যদের জন্য রান্না করা দুপুরের খাবার ও চা খেলেন প্রটোকল ভেঙে। ঘুরে ঘুরে অবলোকন করলেন যুদ্ধের ময়দানে সেনা সদস্যদের কঠোর অবস্থান, রণপ্রস্তুতি ও মহড়া। কখনও নেমে পড়লেন সেনা বাঙ্কারে।

প্রধানমন্ত্রী মতবিনিময় করলেন কর্মকর্তা ও সৈনিকদের সঙ্গে। দেশ মাতৃকাকে নিরাপদে রাখতে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত অসীম সাহসী সৈনিকদের দিয়েছেন দিকনির্দেশনাও। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ বছরের গৌরবোজ্জ্বল পথযাত্রায় সূচিত হলো নতুন এক ইতিহাস। ‘কঠিন প্রশিক্ষণ সহজ যুদ্ধ’ নীতিতে বিশ্বাসী আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় মনেবলের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিজের বাগ্মিতা, সহজ-সরল ভাষাশৈলীতে সরকারপ্রধান যেন তাদের আকর্ষণ করলেন চুম্বকের মতোই। গুরুত্বারোপ করলেন পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর। পুরো ঘটনাপ্রবাহটি মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জেলার সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের অধীনে ৮ বীর-এর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকার।

পুরো দৃশ্যপটে তাঁর সঙ্গী ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ডিজি মেজর জেনারেল মাহবুবুস সামাদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা।

একটি আধুনিক ও উন্নত দেশের স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয় সেনাবাহিনীকে। আধুনিক ও উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাষ্ট্রের অখণ্ডতা রক্ষায় বহি:শত্রুর আক্রমণ মোকাবিলায় স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গ অপরিহার্য। সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের অধীনে ৮ বীর-এর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় সেই কথাটি স্মরণ করিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে। জাতীয় সংকট ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী ‘ফার্ম বেস’-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনাও মনোযোগ দিয়ে শোনেন। ঠিক যেন অবিকল বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি। ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল হৃদয়ের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম একটি আধুনিক, পেশাদার, প্রশিক্ষিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও সুদক্ষ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্বপ্ন দেখেছিলেন। নিজের জীবদ্দশায় একটি সুশিক্ষিত ও পেশাদার বাহিনীতে রূপান্তরিত করেছিলেন বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীকে। মহান স্বাধীনতার ঘোষক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জিয়াউর রহমান আজও সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের হৃদয় অলিন্দে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের মতো জ্বলজ্বল। বাবার দেখানো সেই পথেই যেন হাঁটছেন তাঁর উত্তরসূরী সন্তান তারেক রহমান।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী দীর্ঘ সময় জননিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে থাকতে হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। দীর্ঘ মেয়াদে বেসামরিক দায়িত্ব সামরিক বাহিনীর উন্নত কঠোর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বহি:শত্রুর আগ্রাসন মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় যুদ্ধ প্রস্তুতি ও আধুনিক সমরকৌশলের মাধ্যমে দ্রুত শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য পুরোমাত্রায় মাঠপর্যায়ের অনুশীলন ও ফরমেশন ট্রেনিং ও সামরিক পরিবেশ বা আবহের আর কোন বিকল্প ছিল না। রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রতিরক্ষার এই প্রধান স্তম্ভটিকে নিজেদের স্বাভাবিক দায়িত্বে মনোযোগী হতে দিয়েছে তারেক রহমানের সরকার। চেনা আবহের সামরিক প্রশিক্ষণে মনোনিবেশ করেছেন বাহিনীটির সদস্যরা।

জাতির অস্তিত্ব ও মর্যাদার প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখন দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্ষিক অনুশীলন গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় জোর দিয়েছে। বাস্তবধর্মী যুদ্ধ কৌশল ও প্রশিক্ষণে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতি কেবল যুদ্ধের অনুশীলন প্রত্যক্ষ করাই নয় বরং সেনাসদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি এবং কৌশলগত দক্ষতার বড় এক নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বহি:শত্রুর যে কোন ধরণের আক্রমণ থেকে দেশকে নিরাপদ রাখতে ঐকান্তিক মিলনের শপথেই এক সুতোয় তিনি গাঁথলেন দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ও সৈনিকদের। খোলা মাঠে বা দুর্গম এলাকায় কীভাবে সেনাসদস্যরা বাঙ্কার তৈরি করে ছদ্মবেশে অবস্থান করে এসব দৃশ্য প্রত্যক্ষ করলেন। প্রতিকূল পরিবেশে যুদ্ধকৌশল পরিচালনার মধ্যে দিয়ে আধুনিক ও যুগোপযোগী সেনাবাহিনী হিসেবে প্রতিটি সদস্যদের আস্থা ও বিশ্বাসে নতুন মাত্রা যোগ করার মধ্যে দিয়ে কার্যত তাদের কর্মযজ্ঞের প্রতি সম্মান জানালেন প্রধানমন্ত্রী। দামাল সেনাদের প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার মাধ্যমেও নিজের দায়িত্বশীল ও প্রজ্ঞাময় নেতৃত্বেরও স্বাক্ষর রাখলেন।

চলতি বছরের রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাপ্রাঙ্গণ মিলনায়তনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ দরবারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘আমরা এমন এক সেনাবাহিনী চাই, যাদেরকে বহিঃশক্তি সমীহ করবে, আর দেশের জনগণ রাখবে আস্থায়। পেশাদারিত্বের প্রশ্নে কোনো আপস না করে সশস্ত্র বাহিনীকে সব সময় একটি সুউচ্চ আদর্শিক অবস্থানে থাকতে হবে।’ এসবের মধ্যে দিয়ে সেদিনই দেশপ্রেমী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে নিজের ভাবনা-পরিকল্পনার পরিস্কার এক বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মানিকগঞ্জে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হঠাৎ উপস্থিতি স্বকীয়তায় দীপ্তিমান, গভীর তাৎপর্যপূর্ণ এবং অনুপ্রেরণা সঞ্চারী। গাছের পাতার আড়ালে ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়েও প্রধানমন্ত্রীর খোঁজখবর নেয়া ও দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশংসা ও গৌরবগাথা আজ বিশ্বজুড়ে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর বলিষ্ঠ ও গতিশীল নেতৃত্বে বিশ্বসভায় মর্যাদার সঙ্গেই মাথা উঁচু করে চলেছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে বিরামহীন-নিরবচ্ছিন্ন গতিতে কাজ করছেন বাংলাদেশের গর্বিত সেনারা। স্থাপন করেছেন পেশাগত দক্ষতা, সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অনন্য নজির। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনকারী দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ। নেতৃত্বের প্রতি গভীর আস্থা, পারস্পরিক বিশ্বাস, শ্রদ্ধাবোধ, পেশাগত দক্ষতা এবং সর্বোপরি শৃঙ্খলা সবক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সামরিক বাহিনীর সদস্যরা রাষ্ট্র ও নেতৃত্বের প্রতি পরিপূর্ণ অনুগত থেকে কঠোর অনুশীলন ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব সমুন্নত রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সমরশক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে চান প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমৃদ্ধ দেশ বিনির্মাণের ব্রত নিয়ে এই সতর্ক প্রহরীর সৎ-সাহসী বিভায় উন্নয়ন আর সমৃদ্ধির পথে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে যাবে সেনাবাহিনী। দেশপ্রেমী সেনাবাহিনী স্বর্ণালী পালকের মতো নিজেদের বহমান রাখবে সাধারণ মানুষের আস্থা, ভালোবাসা ও আত্মপ্রত্যয়ের মিলিত শক্তিতে বিশ্বস্ততার সারথি হিসেবেই। মাতৃভূমির অখণ্ডতা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সব সময় প্রস্তুত বলে একাধিকবার পুনরুচ্চারণ করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানও। গভীর দেশপ্রেমের পূর্ণ নির্যাসে নিজ বাহিনীর গৌরবময় ইতিহাসের মুকুট সমুন্নত রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় শাশ্বত প্রায়োগিক প্রত্যয়ে তিনিও রয়েছেন নিবেদিত। গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আকস্মিক উপস্থিতি জানান দিলো একটি দক্ষ, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পেশাদার সেনাবাহিনীর রূপান্তরে সরকার মনোযোগী এবং তাঁরা প্রস্তুত দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায়। যাদের মূলমন্ত্রই ‘সমরে আমরা শান্তিতে আমরা সর্বত্র আমরা দেশের তরে’।

কালের আলো/এম/এএইচ

মঞ্চে সারজিস-পাটওয়ারী, ‘জয়বাংলা’ বলে বক্তব্য শেষ করলেন এনসিপি নেতা

গাইবান্ধা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
মঞ্চে সারজিস-পাটওয়ারী, ‘জয়বাংলা’ বলে বক্তব্য শেষ করলেন এনসিপি নেতা

গাইবান্ধায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক পথসভায় সমাপনী বক্তব্যের শেষে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান উচ্চারণ করেছেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ও এনসিপির সাদুল্লাপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শফিজল ইসলাম। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা সদরের শহীদ মিনার চত্বরে এনসিপির জেলা শাখার আয়োজিত পথসভায় এ ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৫৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, বক্তব্যের শেষ দিকে শফিজল ইসলাম বলেন, ‘আমি সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন মানুষের পাড়া-মহল্লায় গিয়ে কথা বলছি। অত্যন্ত সাড়া পাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, আপনারা যদি সহযোগিতা করেন, আশা করি আমাকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। এখান থেকে আধা কিলোমিটার দূরে জামালপুর ইউনিয়ন। আপনারা সহযোগিতা করলে চেয়ারম্যান পদে কেউ আমাকে ঠেকাতে পারবে না। এই বলে আমার বক্তব্য শেষ করছি। খোদা হাফেজ, জয়বাংলা।’

‘জয়বাংলা’ উচ্চারণের পর মঞ্চে উপস্থিত নেতাদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ফিসফাস শুরু হয়। এরপর শফিজল ইসলাম মঞ্চ থেকে সরে যান।

পথসভায় বক্তব্য দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় নেতা নাজমুল হাসান ও সুমাইয়া ফারজানা এবং গাইবান্ধা জেলা শাখার আহ্বায়ক খাদেমুল ইসলামসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রংপুরের পীরগঞ্জে তার কবর জিয়ারত শেষে ঢাকায় ফেরার পথে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা এ পথসভায় অংশ নেন।

‘জয়বাংলা’ কেন বলেছিলেন—এ বিষয়ে জানতে শফিজল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে এনসিপির গাইবান্ধা জেলা শাখার আহ্বায়ক খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘শফিজল ইসলাম আগে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এলাকায় তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাই তাকে এনসিপির সাদুল্লাপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক করা হয়েছে। তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামালপুর ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন। বড় জনসমাগমে বক্তব্য দেওয়ার অভিজ্ঞতা না থাকায় অসাবধানতাবশত তিনি ‘জয়বাংলা’ বলে ফেলেছেন।’

তিনি বলেন, ‘মঞ্চে উপস্থিত কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বিষয়টি শুনে বিস্মিত হন।’

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

লোহিত সাগরের জলপথ বন্ধের হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে সৌদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
লোহিত সাগরের জলপথ বন্ধের হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে সৌদি

ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারির পর এবার জ্বালানি পণ্য পরিবহনের অপর গুরুত্বপূর্ণ রুট লোহিত সাগরের জলপথ বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পানা নিয়েছে ইরান। ইয়েমেনে নিজেদের মদতপুষ্ট হুথি গোষ্ঠীকে এ ব্যাপারে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দেশও ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে তেহরান থেকে।

ইতোমধ্যে কূটনৈতিক সূত্রে তেহরানের এই পরিকল্পনার তথ্য সৌদির কাছে পৌঁছেছে এবং রিয়াদ এই হুমকিকে অত্যন্ত গুরত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।

ইরানের দু’টি উচ্চপর্যায়ের সূত্র এবং একটি আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে— সেক্ষেত্রে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হবে।

সূত্রের বরাতে আরও জানা গেছে যে কয়েক দিন আগে হুথি গোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ইরানি, মধ্যপ্রাচ্যীয়, এশীয় বা পশ্চিমা কোনো সংবাদমাধ্যমে আসেনি এ তথ্য।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং হুথি গোষ্ঠীর মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স, কিন্তু কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, তেহরান থেকে নির্দেশ আসার পর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কাজ শেষ করে এনেছে হুথি গোষ্ঠী। ইতোমধ্যে লোহিত সাগারের প্রবেশ পথ হিসেবে পরিচিত বাব এল-মান্দেব প্রণালির চারপাশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা শেষ করার পর আগামী সপ্তাহেই দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা শুরু করা হবে।

মার্কিন বাহিনী এই নীতিতে হামলা করলে পাল্টা ব্যবস্থা কী হতে পারে— তা জানা গেল রয়র্টার্সের এ প্রতিবেদনে।

যদি সত্যি হুথি গোষ্ঠী বাব এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেয়, তাহলে তা হবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতের জন্য বড় দুর্যোগ। কারণ হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগর— এই দু’টি পথ মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পণ্য এশিয়া এবং পশ্চিমা বিশ্বে পৌঁছানোর জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দু’টি প্রধান পথ হলো হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগর। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের ২৫ শতাংশ হরমুজ দিয়ে এবং ৭ শতাংশ লোহিত সাগর দিয়ে পরিবাহিত হয়।

দু’দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারির পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান।

যদি সত্যিই হুথি গোষ্ঠ বাব এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেয়, তাহলে বিপদে পড়বে সৌদি আরব। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই তেল উত্তোলনকারী দেশ বৈশ্বিক বাজারে যে পরিমাণ জ্বালানি রপ্তানি করে, তার ৭০ শতাংশ চালান যায় লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে।

আর হুথি বিদ্রোহীরা বাব এল-মান্দেব প্রণালি অবরোধের পাশাপাশি লোহিত সাগর এলাকার সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে যে হামলা করবে— এমন আশঙ্কা ব্যাপকভাবে আছে।

কারণ কয়েক দিন আগে হুথি গোষ্ঠীর নেতা ও মুখপাত্রদের বহনকারী একটি উড়োজাহাজকে ধ্বংস করতে ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা হয়েছিল। এই হামলার জন্য সৌদিকে দায়ী করে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল হুথি গোষ্ঠী।

সৌদি আরবকে এক নম্বর বা শীর্ষ পর্যায়ের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে হুথি। ২০১৫ সালে এই গোষ্ঠী সানা দখল করার পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদিতে পালিয়ে যান এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ফিরিয়ে আনতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি সেনাবাহিনী। সে অভিযান এখনও চলছে।

বর্তমানে ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের অর্ধেক হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে আছে, বাকি অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। কয়েক বছর আগে এই সরকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিও পেয়েছে। সৌদি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি না থাকলে পুরো ইয়েমেন হুথিরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারত।

সূত্র : রয়টার্স

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক অবস্থা, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট সব পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়াতের অসুবিধা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওএর ফলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এইচএসসি ছাড়াও বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষার অবশিষ্ট সব বিষয় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি পরবর্তীতে পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

তবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন জেলার বাইরে অন্যান্য শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি