খুঁজুন
                               
, ,
           

বৃহৎ পরিমণ্ডলে প্রশিক্ষণে রণপ্রস্তুতি সেনাবাহিনীর, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
বৃহৎ পরিমণ্ডলে প্রশিক্ষণে রণপ্রস্তুতি সেনাবাহিনীর, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর

দীর্ঘ বিরতির পর পুরোদমে গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বহি:শত্রুর আগ্রাসন রুখে দিতে নিজেদের সমর সক্ষমতাকে জানান দিতে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জামাদির কৌশলগত ব্যবহার চলছে প্রশিক্ষণে। এই প্রশিক্ষণ চলাকালেই অকুতোভয় কর্মকর্তা ও সৈনিকদের উৎসাহিত করতে সাত সকালেই ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জে আকস্মিক হাজির হলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় নিরাপত্তায় নিজের সরকারের সুদৃঢ় অঙ্গীকার থেকেই কী-না দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোন প্রধানমন্ত্রী স্বশরীরে উপস্থিত হলেন গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণে। পায়ে হেঁটে ছুটলেন এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। সেনা সদস্যদের জন্য রান্না করা দুপুরের খাবার ও চা খেলেন প্রটোকল ভেঙে। ঘুরে ঘুরে অবলোকন করলেন যুদ্ধের ময়দানে সেনা সদস্যদের কঠোর অবস্থান, রণপ্রস্তুতি ও মহড়া। কখনও নেমে পড়লেন সেনা বাঙ্কারে।

প্রধানমন্ত্রী মতবিনিময় করলেন কর্মকর্তা ও সৈনিকদের সঙ্গে। দেশ মাতৃকাকে নিরাপদে রাখতে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত অসীম সাহসী সৈনিকদের দিয়েছেন দিকনির্দেশনাও। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ বছরের গৌরবোজ্জ্বল পথযাত্রায় সূচিত হলো নতুন এক ইতিহাস। ‘কঠিন প্রশিক্ষণ সহজ যুদ্ধ’ নীতিতে বিশ্বাসী আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় মনেবলের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিজের বাগ্মিতা, সহজ-সরল ভাষাশৈলীতে সরকারপ্রধান যেন তাদের আকর্ষণ করলেন চুম্বকের মতোই। গুরুত্বারোপ করলেন পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর। পুরো ঘটনাপ্রবাহটি মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জেলার সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের অধীনে ৮ বীর-এর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকার।

পুরো দৃশ্যপটে তাঁর সঙ্গী ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ডিজি মেজর জেনারেল মাহবুবুস সামাদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা।

একটি আধুনিক ও উন্নত দেশের স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয় সেনাবাহিনীকে। আধুনিক ও উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাষ্ট্রের অখণ্ডতা রক্ষায় বহি:শত্রুর আক্রমণ মোকাবিলায় স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গ অপরিহার্য। সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের অধীনে ৮ বীর-এর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় সেই কথাটি স্মরণ করিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে। জাতীয় সংকট ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী ‘ফার্ম বেস’-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনাও মনোযোগ দিয়ে শোনেন। ঠিক যেন অবিকল বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি। ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল হৃদয়ের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম একটি আধুনিক, পেশাদার, প্রশিক্ষিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও সুদক্ষ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্বপ্ন দেখেছিলেন। নিজের জীবদ্দশায় একটি সুশিক্ষিত ও পেশাদার বাহিনীতে রূপান্তরিত করেছিলেন বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীকে। মহান স্বাধীনতার ঘোষক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জিয়াউর রহমান আজও সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের হৃদয় অলিন্দে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের মতো জ্বলজ্বল। বাবার দেখানো সেই পথেই যেন হাঁটছেন তাঁর উত্তরসূরী সন্তান তারেক রহমান।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী দীর্ঘ সময় জননিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে থাকতে হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। দীর্ঘ মেয়াদে বেসামরিক দায়িত্ব সামরিক বাহিনীর উন্নত কঠোর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বহি:শত্রুর আগ্রাসন মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় যুদ্ধ প্রস্তুতি ও আধুনিক সমরকৌশলের মাধ্যমে দ্রুত শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য পুরোমাত্রায় মাঠপর্যায়ের অনুশীলন ও ফরমেশন ট্রেনিং ও সামরিক পরিবেশ বা আবহের আর কোন বিকল্প ছিল না। রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রতিরক্ষার এই প্রধান স্তম্ভটিকে নিজেদের স্বাভাবিক দায়িত্বে মনোযোগী হতে দিয়েছে তারেক রহমানের সরকার। চেনা আবহের সামরিক প্রশিক্ষণে মনোনিবেশ করেছেন বাহিনীটির সদস্যরা।

জাতির অস্তিত্ব ও মর্যাদার প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখন দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্ষিক অনুশীলন গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় জোর দিয়েছে। বাস্তবধর্মী যুদ্ধ কৌশল ও প্রশিক্ষণে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতি কেবল যুদ্ধের অনুশীলন প্রত্যক্ষ করাই নয় বরং সেনাসদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি এবং কৌশলগত দক্ষতার বড় এক নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বহি:শত্রুর যে কোন ধরণের আক্রমণ থেকে দেশকে নিরাপদ রাখতে ঐকান্তিক মিলনের শপথেই এক সুতোয় তিনি গাঁথলেন দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ও সৈনিকদের। খোলা মাঠে বা দুর্গম এলাকায় কীভাবে সেনাসদস্যরা বাঙ্কার তৈরি করে ছদ্মবেশে অবস্থান করে এসব দৃশ্য প্রত্যক্ষ করলেন। প্রতিকূল পরিবেশে যুদ্ধকৌশল পরিচালনার মধ্যে দিয়ে আধুনিক ও যুগোপযোগী সেনাবাহিনী হিসেবে প্রতিটি সদস্যদের আস্থা ও বিশ্বাসে নতুন মাত্রা যোগ করার মধ্যে দিয়ে কার্যত তাদের কর্মযজ্ঞের প্রতি সম্মান জানালেন প্রধানমন্ত্রী। দামাল সেনাদের প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার মাধ্যমেও নিজের দায়িত্বশীল ও প্রজ্ঞাময় নেতৃত্বেরও স্বাক্ষর রাখলেন।

চলতি বছরের রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাপ্রাঙ্গণ মিলনায়তনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ দরবারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘আমরা এমন এক সেনাবাহিনী চাই, যাদেরকে বহিঃশক্তি সমীহ করবে, আর দেশের জনগণ রাখবে আস্থায়। পেশাদারিত্বের প্রশ্নে কোনো আপস না করে সশস্ত্র বাহিনীকে সব সময় একটি সুউচ্চ আদর্শিক অবস্থানে থাকতে হবে।’ এসবের মধ্যে দিয়ে সেদিনই দেশপ্রেমী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে নিজের ভাবনা-পরিকল্পনার পরিস্কার এক বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মানিকগঞ্জে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হঠাৎ উপস্থিতি স্বকীয়তায় দীপ্তিমান, গভীর তাৎপর্যপূর্ণ এবং অনুপ্রেরণা সঞ্চারী। গাছের পাতার আড়ালে ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়েও প্রধানমন্ত্রীর খোঁজখবর নেয়া ও দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশংসা ও গৌরবগাথা আজ বিশ্বজুড়ে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর বলিষ্ঠ ও গতিশীল নেতৃত্বে বিশ্বসভায় মর্যাদার সঙ্গেই মাথা উঁচু করে চলেছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে বিরামহীন-নিরবচ্ছিন্ন গতিতে কাজ করছেন বাংলাদেশের গর্বিত সেনারা। স্থাপন করেছেন পেশাগত দক্ষতা, সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অনন্য নজির। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনকারী দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ। নেতৃত্বের প্রতি গভীর আস্থা, পারস্পরিক বিশ্বাস, শ্রদ্ধাবোধ, পেশাগত দক্ষতা এবং সর্বোপরি শৃঙ্খলা সবক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সামরিক বাহিনীর সদস্যরা রাষ্ট্র ও নেতৃত্বের প্রতি পরিপূর্ণ অনুগত থেকে কঠোর অনুশীলন ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব সমুন্নত রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সমরশক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে চান প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমৃদ্ধ দেশ বিনির্মাণের ব্রত নিয়ে এই সতর্ক প্রহরীর সৎ-সাহসী বিভায় উন্নয়ন আর সমৃদ্ধির পথে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে যাবে সেনাবাহিনী। দেশপ্রেমী সেনাবাহিনী স্বর্ণালী পালকের মতো নিজেদের বহমান রাখবে সাধারণ মানুষের আস্থা, ভালোবাসা ও আত্মপ্রত্যয়ের মিলিত শক্তিতে বিশ্বস্ততার সারথি হিসেবেই। মাতৃভূমির অখণ্ডতা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সব সময় প্রস্তুত বলে একাধিকবার পুনরুচ্চারণ করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানও। গভীর দেশপ্রেমের পূর্ণ নির্যাসে নিজ বাহিনীর গৌরবময় ইতিহাসের মুকুট সমুন্নত রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় শাশ্বত প্রায়োগিক প্রত্যয়ে তিনিও রয়েছেন নিবেদিত। গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আকস্মিক উপস্থিতি জানান দিলো একটি দক্ষ, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পেশাদার সেনাবাহিনীর রূপান্তরে সরকার মনোযোগী এবং তাঁরা প্রস্তুত দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায়। যাদের মূলমন্ত্রই ‘সমরে আমরা শান্তিতে আমরা সর্বত্র আমরা দেশের তরে’।

কালের আলো/এম/এএইচ

মিশরকে ডাকাতি করে হারানো হয়েছে: মামদানি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ
মিশরকে ডাকাতি করে হারানো হয়েছে: মামদানি

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়কে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত ও ভিএআরের ব্যবহার নিয়ে মিশরের ক্ষোভের মধ্যেই এবার বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শেষ ১১ মিনিটে টানা তিন গোল করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে লিওনেল মেসির দল। ম্যাচে একটি পেনাল্টি মিস করলেও পরে সমতাসূচক গোল করেন অধিনায়ক মেসি।

তবে ম্যাচের ফলাফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে রেফারিং। ভিএআর পর্যালোচনার মাধ্যমে মিশরের একটি গোল বাতিল করা হয়, যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ধারাভাষ্যকাররাও। একই সঙ্গে মিশরের অভিযোগ, তাদের পক্ষে সম্ভাব্য একটি পেনাল্টির ঘটনা ভিএআরে যাচাই করা হয়নি।

ম্যাচ শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তিনি বলেন, আমরা কোনো সম্মান বা ফেয়ার প্লে দেখিনি। আমাদের একটি পেনাল্টি বাতিল করা হয়েছে, আরেকটি সম্ভাব্য পেনাল্টি ভিএআরে দেখাই হয়নি। আমাদের দ্বিতীয় গোলও অদ্ভুতভাবে বাতিল করা হয়েছে। মনে হয়েছে রেফারির ওপর আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে চাপ ছিল।

এই বিতর্কের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। শহরের নতুন বাস লেন প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি রসিকতার সুরে লেখেন, নিউইয়র্কবাসী সময় বাঁচিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে একমত হতে পারবে যে, গতকালের ম্যাচে মিশরকে ডাকাতি করে হারানো হয়েছে।

মামদানির এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং ম্যাচের রেফারিং নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ফিফার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

কালের আলো/এসএকে

সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি হলেন জামায়াতের ডা. তাহের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ
সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি হলেন জামায়াতের ডা. তাহের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কমিটি ‘সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি’র সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কুমিল্লা-১১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের বৈঠকে সংসদ নেতার পক্ষে চিফ হুইপ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম এই কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।

নবগঠিত এই কমিটিতে সভাপতি ছাড়াও প্রধান বিরোধীদল বিএনপির ১২ জন এবং জামায়াতে ইসলামীর তিনজন সংসদ সদস্য স্থান পেয়েছেন।

কমিটির বিএনপি মনোনীত সদস্যরা হলেন— ঢাকা-২ আসনের আমানউল্লাহ আমান, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, গাজীপুর-৫ আসনের এ কে এম ফজলুল হক মিলন, ভোলা-২ আসনের মোহাম্মদ হাফিজ ইব্রাহিম, নোয়াখালী-১ আসনের এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, চাঁদপুর-২ আসনের মোহাম্মদ জালালউদ্দিন, ময়মনসিংহ-৭ আসনের মো. মাহবুবুর রহমান, খুলনা-৪ আসনের এস কে আজিজুল বারী হেলাল, দিনাজপুর-১ আসনের মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম, নওগাঁ-৩ আসনের ফজলে হুদা এবং ময়মনসিংহ-৫ আসনের মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কমিটিতে যুক্ত হয়েছেন ঢাকা-৪ আসনের সৈয়দ জয়নুল আবেদিন, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের মো. রুহুল আমিন এবং কুড়িগ্রাম-১ আসনের মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, সংসদীয় ব্যবস্থায় ‘সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি’ (পিএসি) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মূলত রাষ্ট্রীয় অর্থের ব্যয়, নিরীক্ষা, আপত্তি এবং সরকারি হিসাবের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কাজটি এই কমিটির এক্তিয়ারভুক্ত। বাজেট পাসের পর সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, নিরীক্ষায় কোনো অনিয়ম ধরা পড়ছে কি না এবং সেসব বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার জবাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাই কমিটির মূল দায়িত্ব।

কালের আলো/এসএকে

রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ
রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বাংলাদেশে আশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের টেকসই ও জোরালো সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (৮ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দফতরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘের রাজনৈতিক ও শান্তি বিনির্মাণ বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল রোজমেরি এ ডি-কার্লোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্ব শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন। অন্যদিকে ডি-কার্লো জাতিসংঘে বাংলাদেশের গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় অব্যাহত অবদানের প্রশংসা করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ