খুঁজুন
                               
, ,
           

পানিবন্দী মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
পানিবন্দী মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষা, দ্রুত ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জুম (Zoom) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

সভায় বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার জলাবদ্ধতার সর্বশেষ পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি, আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থা, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, শিশু খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ সুবিধা সচল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশেষভাবে নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং গর্ভবতী নারীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যেন চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি, ত্রাণ আত্মসাৎ বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি, স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম, উদ্ধার কার্যক্রমে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়, নদ-নদীর পানির স্তর এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এসময় চট্টগ্রাম থেকে যুক্ত হওয়া কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, সেখানকার জলাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে সিলেট অঞ্চলে মনু নদের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এবং রংপুর বিভাগে নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব তথ্য জানার পর প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জনগণের পাশে থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেন।

কালের আলো/এসএকে

বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা আমাদের অঙ্গীকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা আমাদের অঙ্গীকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ, উদ্ভাবনী ও বৈশ্বিক নাগরিক গড়ে তোলাই আমাদের ভবিষ্যতের অঙ্গীকার।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ১৪তম এফএসিডি-সিএবি (ফরেন অ্যাডমিশন অ্যান্ড ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) আন্তর্জাতিক শিক্ষামেলা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়, অসীম সম্ভাবনার এক মঞ্চ’ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে আয়োজিত এ এক্সপো দেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রে নিজেদের প্রস্তুত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

তিনি আরও বলেন, জ্ঞান, দক্ষতা ও উদ্ভাবনই আগামী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বমানের শিক্ষা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ, আধুনিক ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা একসঙ্গে কাজ করে যাব।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক করল পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক করল পুলিশ

বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ বিষয়ে জানানো করা হয়।

বার্তায় বলা হয়, সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর, উসকানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশ এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দেশি-বিদেশি সহযোগীরা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা, পুলিশ বাহিনীর মনোবল দুর্বল করা এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বার্তায় আরও বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

পাশাপাশি অন্যায় তদবির গ্রহণ না করায় অসন্তুষ্ট একটি মহল মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকা, সরকারি দপ্তরে অনৈতিক তদবির এবং অপপ্রচার বন্ধের শর্তে অর্থ দাবির তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।

এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য বিশ্বাস, শেয়ার বা প্রচার না করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপপ্রচার অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক বজায় রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

সার্বভৌমত্ব ও বিচারিক মর্যাদা রক্ষায় দিল্লিকে ঢাকার কূটনৈতিক বার্তা

ড. মোঃ মিজানুর রহমান:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
সার্বভৌমত্ব ও বিচারিক মর্যাদা রক্ষায় দিল্লিকে ঢাকার কূটনৈতিক বার্তা

সম্প্রতি ভারতের প্রতি বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রতিবাদ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এই প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভারত অবস্থানকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে প্রকাশ্য বক্তব্য এবং গণমাধ্যমে সরাসরি অংশগ্রহণ। বাংলাদেশের সরকারি অবস্থান অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে বিচারাধীন; তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং কিছু মামলায় তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত। ফলে সরকার বিষয়টিকে কেবল একটি রাজনৈতিক বিতর্ক হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রের সার্বভৌম মর্যাদা, বিচারিক কর্তৃত্ব, জাতীয় সংবেদনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থানরত একজন পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ঢাকা জানিয়েছে, এ ধরনের কর্মসূচি দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের চলমান প্রচেষ্টার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে—এ মর্মে ভারত সরকারকে আগেই উদ্বেগ জানানো হলেও তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে বাংলাদেশ দুঃখ প্রকাশ করেছে।

কোনো রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি শুধু বন্ধুত্ব, বাণিজ্য কিংবা নিরাপত্তা সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, সাংবিধানিক মর্যাদা, বিচারিক স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক অবস্থানেরও প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্বীকৃত নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র যদি মনে করে তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বা বিচারিক প্রক্রিয়া অন্য একটি দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তবে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো শুধু তার বৈধ অধিকারই নয়, বরং রাষ্ট্রের দায়িত্বও। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বর্তমান ঘটনাটি কেবল একটি তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়; বরং এটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক আস্থা, বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ পরিহার এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আচরণের মৌলিক নীতিগুলোকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তাই এই ঘটনাকে একটি বিচ্ছিন্ন কূটনৈতিক বিরোধ হিসেবে নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতির আলোকে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

এ ঘটনাকে দলীয় রাজনীতির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রের সার্বভৌম সমতা, অ-হস্তক্ষেপের নীতি এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারের আলোকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। কারণ টেকসই প্রতিবেশী সম্পর্কের ভিত্তি পারস্পরিক সম্মান, সংযম এবং একে অপরের সাংবিধানিক ও বিচারিক ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা। বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক যেমন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় সমৃদ্ধ, তেমনি সীমান্ত হত্যা, তিস্তার পানি বণ্টন, বাণিজ্য বৈষম্য ও রাজনৈতিক আস্থার মতো কিছু অমীমাংসিত প্রশ্নও বিদ্যমান। তাই সাম্প্রতিক ঘটনাকে আবেগের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক রীতির আলোকে বিচার করাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত।

জাতিসংঘ সনদের ২(১) অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রের সার্বভৌম সমতা এবং ২(৭) অনুচ্ছেদ অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অ-হস্তক্ষেপের নীতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব কেবল ভূখণ্ডের ওপর কর্তৃত্ব নয়; বিচারিক এখতিয়ার, আইন প্রয়োগ এবং স্বাধীন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারও এর অন্তর্ভুক্ত। ফলে কোনো রাষ্ট্রের বিচারিক প্রক্রিয়া অন্য দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে প্রভাবিত হতে পারে—এমন আশঙ্কা কূটনৈতিক উদ্বেগ সৃষ্টি করাই স্বাভাবিক।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক শুধু লিখিত আইনের ওপর নয়, কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও পারস্পরিক সংযমের ওপরও নির্ভরশীল। এ কারণেই অধিকাংশ রাষ্ট্র তাদের ভূখণ্ডকে অন্য দেশের রাজনৈতিক সংঘাতের মঞ্চে পরিণত হতে দেয় না। রাজনৈতিক আশ্রয় আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত হলেও, আশ্রয় দেওয়া এবং আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিকে স্বাগতিক দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে নিজ দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালনের সুযোগ দেওয়া এক বিষয় নয়। দালাই লামার ক্ষেত্রে ভারতের সতর্ক অবস্থান এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রে ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ড নিয়ে ভারতের অতীত উদ্বেগ—উভয়ই এ কূটনৈতিক বাস্তবতার পরিচায়ক।

বাংলাদেশের আপত্তিও আশ্রয় প্রদানের বিরুদ্ধে নয়; বরং বিচারাধীন, দণ্ডিত ও প্রত্যর্পণ-অনুরোধাধীন বলে বিবেচিত একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিরুদ্ধে। সরকার বিষয়টিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন হিসেবে নয়, পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় সম্মান ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের আলোকে ব্যাখ্যা করেছে। ২০১৩ সালের বাংলাদেশ–ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তি দুই দেশের বিচারিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। যদিও প্রত্যর্পণ স্বয়ংক্রিয় নয় এবং প্রতিটি আবেদন সংশ্লিষ্ট চুক্তি, জাতীয় আইন ও কূটনৈতিক বিবেচনার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হয়, তবু বাংলাদেশ জানিয়েছে যে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার অনুরোধের এখনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি প্রত্যর্পণ সহযোগিতার কার্যকারিতাকেও সামনে এনেছে।

এ আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের রাজনৈতিক সংকট। বিভিন্ন পক্ষের ব্যাখ্যা ভিন্ন হলেও সহিংসতা, প্রাণহানি ও গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতার বিষয়টি ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ স্বাধীন তদন্ত ও জবাবদিহির আহ্বান জানিয়েছে। পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনা এবং তাঁর সরকারের একাধিক সাবেক মন্ত্রী ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও অর্থপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী বিচার দেশের প্রচলিত আইনেই চলছে, যদিও সংশ্লিষ্ট পক্ষ এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্য বাংলাদেশের কাছে বিশেষ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে।
২০২৪-পরবর্তী বাস্তবতায় বাংলাদেশ একদিকে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করছে, অন্যদিকে বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্মান প্রত্যাশা করছে। তাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক প্রতিবাদকে কেবল তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা, বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি রাষ্ট্রীয় অবস্থান এবং দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা অধিকতর যুক্তিসঙ্গত।

বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকার ভিত্তিতে গত পাঁচ দশকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা গড়ে উঠেছে। ২০১৫ সালের স্থলসীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন এ সম্পর্কের একটি বড় সাফল্য। বর্তমানে ভারত থেকে বাংলাদেশ ২,৫০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ আমদানি করে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৪–১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। তবে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য ঘাটতি এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উদ্বেগ। অন্যদিকে তিস্তার পানি বণ্টন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়া এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যু। বাংলাদেশ প্রাণঘাতী শক্তির ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়ে এসেছে, আর ভারত সীমান্ত অপরাধ, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশকে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরে। ফলে সীমান্ত প্রশ্ন এখনো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম সংবেদনশীল বিষয়।

রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও মতপার্থক্য রয়েছে। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ ছিল, ভারত তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারকে কৌশলগত সমর্থন দিয়েছে। ভারত অবশ্য ধারাবাহিকভাবে বলেছে, তারা বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান দেখায় এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে না। এই ভিন্ন বয়ান জনপরিসরে পারস্পরিক আস্থাকে প্রভাবিত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রতিবাদকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা যায় না। এটি সীমান্ত, বিচারিক সহযোগিতা, রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা এবং দীর্ঘদিনের আস্থার প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত বৃহত্তর বাস্তবতার অংশ।

দুই দেশের সম্পর্ক ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগও আলোচিত হয়ে আসছে। এর কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে স্থান পেলেও কিছু বিষয়ে দুই দেশের সরকারি অবস্থান ভিন্ন এবং কিছু অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তাই এসব বিষয় বিশ্লেষণে প্রতিষ্ঠিত তথ্য, রাজনৈতিক বক্তব্য ও জনমতের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি।

সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অধিকারসহ বিভিন্ন সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং বাংলাদেশ সরকারও প্রাণঘাতী শক্তির ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী অধিকাংশ ঘটনাকে সীমান্ত অপরাধ, চোরাচালান বা আত্মরক্ষার প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করেছে। একইভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশ, কথিত ‘পুশ-ইন’, মাদক ও অস্ত্র পাচার নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে এসবের মধ্যেও সীমান্ত সম্মেলন, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি ইতিবাচক ভিত্তি।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকের অভিযোগ, ভারত অতীতে তৎকালীন সরকারকে কূটনৈতিকভাবে সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে ভারত বরাবরই বলে এসেছে, তারা বাংলাদেশের জনগণের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গেই কাজ করে। এই রাজনৈতিক বিতর্ক দুই দেশের পারস্পরিক আস্থাকে প্রভাবিত করেছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি উঠেছে যে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবাদকে বৃহত্তর কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা যায়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিচারিক প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কাছ থেকে অধিকতর সংযম, পারস্পরিক সম্মান ও কূটনৈতিক সংবেদনশীলতা প্রত্যাশা করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক এতটাই বিস্তৃত যে কোনো একক ঘটনা দিয়ে তাকে মূল্যায়ন করা যায় না; দীর্ঘমেয়াদে পারস্পরিক আস্থা, নিয়মিত সংলাপ ও আন্তর্জাতিক রীতিনীতিই সম্পর্কের প্রধান ভিত্তি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কে প্রতিটি রাষ্ট্রই তার সার্বভৌমত্ব, বিচারিক কর্তৃত্ব ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় সংবেদনশীল। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রতিবাদ একটি স্বাভাবিক ও স্বীকৃত পদক্ষেপ। সরকারের অবস্থান অনুযায়ী শেখ হাসিনা বিচারাধীন, বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ও কিছু ক্ষেত্রে দণ্ডপ্রাপ্ত; একই সঙ্গে তার প্রত্যর্পণও চাওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের রাজনীতি ও বিচারিক বিষয় নিয়ে তার প্রকাশ্য বক্তব্যকে বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করতেই পারে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সম্ভাব্য কূটনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে ভারতকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল। যদি তা হয়ে থাকে, তবে সেই উদ্বেগ উপেক্ষিত হওয়াকে ঢাকা কূটনৈতিক সংবেদনশীলতার ঘাটতি হিসেবে দেখতেই পারে।

তবে বাংলাদেশের প্রতিবাদে ভারতবিরোধী অবস্থান নেওয়ার আহ্বান নেই; বরং সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক সম্মান, অ-হস্তক্ষেপ এবং গঠনমূলক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রত্যাশাই পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ভারত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা নিজস্ব আইনি কাঠামোর যুক্তি উপস্থাপন করতে পারে, কিন্তু সে কারণে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বেগকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির দৃষ্টিতে অস্বাভাবিক বলা কঠিন।

বিষয়টি ভারতের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। ‘Neighbourhood First’ নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বাংলাদেশ আঞ্চলিক নিরাপত্তা, উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ, বঙ্গোপসাগর, জ্বালানি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব বহন করে। গত এক দশকের সহযোগিতার অর্জন টিকিয়ে রাখতে পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা অপরিহার্য। আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে ভারতের জন্যও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সার্বভৌম উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সংবেদনশীল বিষয়ে কূটনৈতিক সংযম প্রদর্শন তার গ্রহণযোগ্যতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক প্রতিবাদকে কেবল একটি তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত তাৎপর্য অনুধাবন করা যাবে না। বিষয়টি রাষ্ট্রের সার্বভৌম মর্যাদা, বিচারিক কর্তৃত্ব, কূটনৈতিক শিষ্টাচার, পারস্পরিক আস্থা এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জাতিসংঘ সনদে বর্ণিত সার্বভৌম সমতা ও অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অ-হস্তক্ষেপের নীতিও এ ধরনের অবস্থানের আন্তর্জাতিক ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে। ফলে এ ধরনের ইস্যুতে উভয় পক্ষেরই সংযম, পরিমিতি ও কূটনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা অস্বাভাবিক নয়; তবে সেসবের সমাধান হওয়া উচিত আন্তরিক সংলাপ, পারস্পরিক সম্মান এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক রীতিনীতির আলোকে। ভৌগোলিক নৈকট্য, অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরশীলতা, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি বা সরকার পরিবর্তিত হলেও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পর্ক স্থায়ী থাকে। তাই সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক বিরোধ হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্র-রাষ্ট্র সম্পর্ক, সার্বভৌম সমতা, বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা এবং গঠনমূলক ভবিষ্যতমুখী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে মূল্যায়ন করাই হবে অধিকতর বিচক্ষণ ও দূরদর্শী পদক্ষেপ।

লেখক: অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও কলামিস্ট।
Mizan12bd@yahoo.com