খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন: ডিএনসিসি প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন: ডিএনসিসি প্রশাসক

Oplus_131072

দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে খাল পুনরুদ্ধার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিয়মিত খাল ও নালা পরিষ্কার এবং আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক  শফিকুল ইসলাম খান। আকস্মিক অতি ভারী বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

রোববার (১২ জুলাই) বার্তায় ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আমরা সবাই মিলে একটি পরিচ্ছন্ন, জলাবদ্ধতামুক্ত ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে কাজ করছি। জনগণের ভোগান্তি কমানোই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টার অতি ভারী বর্ষণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, গুলশান, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় কিছু কিছু এলাকায় পানি জমে মানুষের চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আপনারা যার যার অবস্থান থেকে নিজ নিজ এলাকার জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির খোঁজখবর নেবেন এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করবেন। কোথাও কোনো জরুরি সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট টিমকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করছি।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ড্রেন, নালা ও পানি নিষ্কাশনের পথগুলো সচল রাখতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যেসব এলাকায় পানি জমে আছে, সেখানে দ্রুত পানি অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি মোতায়েন করা হয়েছে। ওয়াটার পাম্পগুলো সচল রাখা হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।

তিনি আরও বলেন, অতিবৃষ্টির সময়ে জলাবদ্ধতার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে— স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, নগরায়নের ফলে পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়া, অনেক জায়গায় ড্রেন ও খাল ভরাট বা সংকুচিত হওয়া, অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলার কারণে পানি চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং দীর্ঘদিনের পুরোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বাংলাদেশে বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ।

রোববার (১২ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এক শোকবার্তার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি এই সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় শাহবাজ শরীফ বলেন, বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে সৃষ্ট মর্মান্তিক প্রাণহানি এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে আমি গভীরভাবে মর্মাহত।

পাকিস্তানের জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি আমাদের অবিচল সংহতি ব্যক্ত করছি।

এছাড়া বন্যায় আহতদের দ্রুত আরোগ্য এবং ক্ষতিগ্রস্ত সকলের নিরাপত্তা কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

কালের আলো/এসএকে

মানুষের জীবন রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
মানুষের জীবন রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর 

অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষা, দ্রুত ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয় থেকে দেশের আট বিভাগের কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।

সভায় বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার জলাবদ্ধতার সর্বশেষ পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি, আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থা, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, শিশু খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

একইসঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ সুবিধা সচল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশেষভাবে নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং গর্ভবতী নারীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যেন চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি, ত্রাণ আত্মসাৎ বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি, স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম, উদ্ধার কার্যক্রমে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়, নদ-নদীর পানির স্তর এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এসময় চট্টগ্রাম থেকে যুক্ত হওয়া কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, সেখানকার জলাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে সিলেট অঞ্চলে মনু নদের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এবং রংপুর বিভাগে নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এসব তথ্য জানার পর প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জনগণের পাশে থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

কাতা‌রের সাবেক আমির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
কাতা‌রের সাবেক আমির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

Oplus_131072

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তা‌রেক রহমান।

রোববার (১২ জুলাই) কাতা‌রের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিকে লেখা এক চি‌ঠি‌তে শোক প্রকাশ করেন তিনি।

চি‌ঠি‌তে প্রধানমন্ত্রী লি‌খে‌ছেন, বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে এবং আমার নিজের পক্ষ থেকে আপনার (বর্তমান আমির) রাজপরিবার, সরকার এবং কাতারের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই।

তিনি লেখেন, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যার নেতৃত্ব কাতারকে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধশালী এবং বিশ্বব্যাপী সম্মানিত জাতিতে রূপান্তরিত করেছে। আঞ্চলিক শান্তি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে তার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। বাংলাদেশ কাতা‌রের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অত্যন্ত মূল্যায়ন করে, যেটি পারস্পরিক বিশ্বাস, ভাগ করা মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে স্থায়ী সম্পর্কের মাধ্যমে কয়েক দশক ধরে লালিত হ‌য়ে আস‌ছে।

তিনি আরও লেখেন, গভীর শোকের এই মুহূর্তে আমার চিন্তাভাবনা এবং প্রার্থনা আপনার, রাজপরিবার এবং কাতারের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের সঙ্গে রয়েছে। আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহ কাছে মরহুমের আত্মাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করার জন্য এবং আপনা এবং রাজপরিবারের শোকাহত সদস্যদের ধৈর্য, ​​শক্তি এবং সান্ত্বনা দান করার জন্য প্রার্থনা করছি।

রোববার সকালে দেশটির সর্বোচ্চ সরকারি দপ্তর আমিরি দিওয়ান এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ বছর কাতারের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার আমলেই কাতার একটি আঞ্চলিক শক্তি থেকে বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

২০১৩ সালে তিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেন। তিনি তার চতুর্থ ছেলে এবং বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে একটি বিরল ও ব্যাপকভাবে আলোচিত ঘটনা।

শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির গতিশীল নেতৃত্বে কাতার জ্বালানি খাত, অর্থনীতি, অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অবিশ্বাস্য অগ্রগতি অর্জন করে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিতে কাতারকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর কাতারে নিয়ে আসার পেছনে তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। এছাড়া গণমাধ্যমের জগতে বিপ্লব ঘটানো সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিষ্ঠাও হয়েছিল তার হাত ধরেই। তার মৃত্যুতে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কালের আলো/এসএকে