খুঁজুন
                               
, ,
           

এইচএসসি শিক্ষার্থীদের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ‘লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
এইচএসসি শিক্ষার্থীদের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ‘লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’

রাজধানীর উত্তরা, সায়েন্সল্যাব মোড় ও মিরপুর-১০ এলাকায় পূর্বঘোষিত ‘লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সড়ক অবরোধ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে তারা বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পুলিশ শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালেও তারা কর্মসূচি চালিয়ে যান। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদ গণমাধ্যমকে জানান, পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়েছে। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে এবং তাদের সড়ক ছাড়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (১৩ জুলাই) চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলা ছাড়া সারা দেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে অনেক পরীক্ষার্থীকে কোমরসমান পানি পেরিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এদিকে, শিক্ষামন্ত্রীর একটি ফোনালাপের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ঘিরে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে সম্বোধন করেছেন। পাশাপাশি পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের প্রশ্নপত্রে ভুল থাকার অভিযোগ নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

এসব ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা প্রথমে আট দফা এবং পরে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল—উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা, পদার্থবিজ্ঞানের ভুল প্রশ্নের জন্য পূর্ণ নম্বর প্রদান এবং শিক্ষামন্ত্রীর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া।

মঙ্গলবার রাতে সংসদ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা প্রথমপত্রের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে এতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামেনি। তারা এখন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন এবং সেই দাবিতে নতুন কর্মসূচি পালন করছেন।

কালের আলো/এসএ

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে জড়িত কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে জড়িত কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র দেশের ইতিহাস ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই কেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে  সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

এই বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আরও বাড়ানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চলতি অর্থবছর অথবা আগামী অর্থবছরের মধ্যে এ বরাদ্দ বাড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করছি’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিউ মিডিয়ার মাধ্যমে একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

অপতথ্য ও মিথ্যা তথ্যের বিস্তার রোধের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অনলাইন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে। এসব মাধ্যমে শিক্ষণীয় ও সচেতনতামূলক রিলস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিউ মিডিয়া প্রকল্পের আওতায় সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী  বলেন, মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন তথ্যচিত্র নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনটি সঠিক তথ্য, কোনটি মিসইনফরমেশন এবং কোনটি ডিজইনফরমেশন তা শনাক্ত করার জন্য বিভিন্ন টুলস ও সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে জনগণকে সঠিক তথ্য সম্পর্কে অবহিত করা হবে।

বাংলাদেশ বেতারকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার বিষয়ে তিনি বলেন, বেতারের এফএম সম্প্রচার শক্তিশালী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। বিটিভিকে  আধুনিক ও দর্শকবান্ধব করা হচ্ছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জন্য ফরেনসিক অডিটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে অথবা আগামী ১০ দিনের মধ্যে অডিট কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

অডিটের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিটিভির ডিজিটালাইজেশনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম আরো আধুনিক ও আকর্ষণীয় করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, বিটিভির জনপ্রিয় সিগনেচার অনুষ্ঠান নতুন কুঁড়িকে  আরও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন কুঁড়ি’র আবেদন গ্রহণের জন্য বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। এ ধরনের অনুষ্ঠান আরও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা গেলে দর্শক-শ্রোতাদের বিটিভির প্রতি আগ্রহ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের পরিচালক শাহীন আক্তার, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার বাপ্পী চক্রবর্তী, বাংলাদেশ বেতারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বছরে মাত্র ১২ ঘণ্টা যৌনসম্পর্ক বৈধ, এ কেমন সিনেমা ‘ওয়ান নাইট অনলি’

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
বছরে মাত্র ১২ ঘণ্টা যৌনসম্পর্ক বৈধ, এ কেমন সিনেমা ‘ওয়ান নাইট অনলি’

ভাবুন তো, এমন এক সমাজের কথা—যেখানে প্রেম করা বৈধ, কিন্তু বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক পুরোপুরি নিষিদ্ধ। তবে বছরের একটি নির্দিষ্ট রাতে মাত্র ১২ ঘণ্টার জন্য সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় সরকার। অবিবাহিতরা তখনই নিজেদের ইচ্ছেমতো সম্পর্কে জড়াতে পারেন। সময় শেষ হলেই আবার আগের আইন কার্যকর।

শুনতে কল্পবিজ্ঞানের কোনো রাজনৈতিক ডিস্টোপিয়ার মতো মনে হলেও এমনই এক অদ্ভুত পৃথিবীকে রোমান্টিক কমেডির গল্পে রূপ দিয়েছেন পরিচালক উইল গ্লাক। তাঁর নতুন সিনেমা ‘ওয়ান নাইট অনলি’ মুক্তি পেয়েছে ৭ আগস্ট। মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটির ব্যতিক্রমী গল্প ও রাজনৈতিক ইঙ্গিত নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

সিনেমার কাল্পনিক যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক নিষিদ্ধ করার আইন চালু হয়েছে কয়েক বছর আগে। তবে সরকার বছরে একবার ‘ন্যাশনাল সেক্স নাইট’ নামে একটি রাত নির্ধারণ করেছে। ওই রাতের ১২ ঘণ্টায় অবিবাহিত ব্যক্তিরা আইনত যৌনসম্পর্ক করতে পারেন।

এই আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে নাগরিকদের শরীরে বিশেষ প্রযুক্তির বায়োসেন্সর পরতে হয়। শরীরের রাসায়নিক পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে ওই ডিভাইস শনাক্ত করতে পারে কেউ যৌনসম্পর্কে জড়িয়েছে কি না। নির্ধারিত সময়ের বাইরে আইন ভাঙলে রয়েছে শাস্তির ব্যবস্থা।

ফলে বছরের ওই রাতটি হয়ে ওঠে দেশটির মানুষের কাছে এক বিশেষ উৎসব। ডেটিং অ্যাপগুলোতে বাড়ে ব্যস্ততা, রেস্তোরাঁ ও বারে জমে ওঠে ভিড়। কেউ পুরোনো সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটানোর প্রস্তুতি নেয়, কেউ আবার নতুন সম্পর্কের সন্ধানে বের হয়।

গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র ওভেন। ম্যানহাটনে একটি ছোট পিৎজারিয়ার মালিক সে। স্বভাবের দিক থেকে শান্ত ও কিছুটা অন্তর্মুখী ওভেনও বছরের বিশেষ রাতটির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল। দীর্ঘদিনের প্রেমিকা মালিকার সঙ্গে রাতটি কাটানোর পরিকল্পনা ছিল তার।

কিন্তু দেখা হওয়ার পর মালিকা জানায়, এবার সে অন্য একজনের সঙ্গে রাত কাটাতে চায়। সম্পর্কের বাইরে অন্য অভিজ্ঞতা নিতে চাওয়ার কথা জানিয়ে দেয় সে। এতে মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে ওভেনের পরিকল্পনা।

অন্যদিকে অ্যালি গান গাওয়ার স্বপ্ন দেখলেও পেশাগতভাবে খুব একটা সফল হতে পারেনি। জীবিকা চালাতে তাকে ওষুধ কোম্পানির বিজ্ঞাপনের জন্য জিঙ্গেল গাইতে হয়।

বছরের বিশেষ রাতটিও তার পরিকল্পনামতো এগোয় না। যার সঙ্গে বের হওয়ার কথা ছিল, সে অন্য একজনের সঙ্গে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত বন্ধুর দেওয়া পোশাক পরে একাই শহরের রাতের উৎসবে বের হয় অ্যালি।

এরপরই ভাগ্যের টানে ওভেন ও অ্যালির দেখা। প্রেমিকার আচরণে হতাশ হয়ে ওভেন এরই মধ্যে কয়েক পেগ পান করে ফেলেছে। নতুন পরিচিত অ্যালির সামনে দাঁড়িয়েই প্রায় বমি করে ফেলে সে। বিরক্ত হয়ে সেখান থেকে চলে যায় অ্যালি।

কিন্তু রাত যত বাড়তে থাকে, ততই বিভিন্ন জায়গায় তাদের আবার দেখা হতে থাকে। নিউইয়র্কের ব্যস্ত রাত, সাবওয়ে, রাস্তা আর বিভিন্ন আড্ডার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে কাছাকাছি আসতে শুরু করে দুজন।

ওভেন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ক্যালাম টার্নার, আর অ্যালির ভূমিকায় আছেন মনিকা বারবারো। দুই অভিনেতার অভিনয়ই সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ। ওভেনের সরলতা ও অস্বস্তি যেমন টার্নার বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরেছেন, তেমনি বারবারোর অ্যালি চরিত্রে আত্মবিশ্বাস ও সংবেদনশীলতার মিশেলও প্রশংসা পেয়েছে।

তাদের কথোপকথন, হাস্যরস ও ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া সম্পর্কই গল্পের আবেগের মূল জায়গা।

নাম ও মূল ধারণা দেখে সিনেমাটিকে শুধুই যৌনতা নিয়ে তৈরি কমেডি মনে হতে পারে। কিন্তু গল্প এগোনোর সঙ্গে ওভেন ও অ্যালির সম্পর্ক অন্য দিকে মোড় নেয়।

শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে তারা নিজেদের স্বপ্ন, ব্যর্থতা, ভয় এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে শুরু করে। ওভেন উপলব্ধি করে, জীবনের সবকিছু আগেভাগে পরিকল্পনা করে রাখা সম্ভব নয়। অ্যালিও নিজের স্বপ্নের পথে এতদিন যে বাধাগুলো তৈরি করে রেখেছিল, সেগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে।

এই যাত্রায় ‘ন্যাশনাল সেক্স নাইট’ হয়ে ওঠে দুই অপরিচিত মানুষের একে অপরকে আবিষ্কারের পটভূমি।

সিনেমায় নিউইয়র্ক শহরকে শুধু গল্পের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি। রাতের সাবওয়ে, ব্রুকলিন ব্রিজ, ছোট পিৎজারিয়া, ক্যাফে এবং শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলো গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি শহরের তুলনামূলক কম পরিচিত এলাকাও তুলে ধরা হয়েছে। ফলে দর্শক যেন পর্যটকের বদলে শহরের একজন সাধারণ মানুষের চোখ দিয়ে নিউইয়র্ককে দেখার সুযোগ পান।

হাস্যরস ও প্রেমের গল্পের আড়ালে সিনেমাটি কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে আনে। একজন মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর রাষ্ট্রের কতটা নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত? আইন দিয়ে মানুষের ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব কি না? আর স্বাধীনতা কি শুধু আইনি অধিকার, নাকি ব্যক্তিগত পছন্দ ও অনুভূতির সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে?

নির্মাতা এসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি। বরং ওভেন ও অ্যালির ব্যক্তিগত গল্পের মধ্য দিয়ে দর্শককে নিজের মতো করে ভাবার সুযোগ দিয়েছেন।

সিনেমাটি মুক্তির পর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে এর রাজনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে। সমালোচকদের একটি অংশের মতে, বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক নিষিদ্ধ করা এবং রাষ্ট্রের নজরদারির মতো গুরুতর বিষয়কে রোমান্টিক কমেডির কাঠামোয় আটকে রাখায় গল্পের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি।

তাদের মতে, এমন একটি ধারণা সহজেই ব্যক্তিস্বাধীনতা, রক্ষণশীলতা, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক ক্ষমতা নিয়ে গভীর বক্তব্যের জায়গা তৈরি করতে পারত। কিন্তু সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত সেই পথে খুব বেশি দূর এগোয়নি।

অন্যদিকে আরেকটি মত হলো, ‘ওয়ান নাইট অনলি’কে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। এটি মূলত একটি অসম্ভব পরিস্থিতির মধ্যে দুই মানুষের সম্পর্ক ও আত্ম-আবিষ্কারের গল্প। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাটি গল্পের একটি ব্যতিক্রমী পটভূমি মাত্র।

তবে সমালোচকদের মধ্যে যে বিষয়ে একমত হওয়া কঠিন, তা হলো—সিনেমাটির মূল ধারণাটি এতটাই অস্বাভাবিক ও রাজনৈতিক যে দর্শকের মনে স্বাভাবিকভাবেই আরও অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়।

বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও প্রজনন অধিকার নিয়ে বাস্তব রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে, তখন ‘ওয়ান নাইট অনলি’র কাল্পনিক পৃথিবীকে নিছক বিনোদন হিসেবে দেখাও কঠিন।

সুতরাং ‘ওয়ান নাইট অনলি’ শেষ পর্যন্ত নিখাদ রোমান্টিক কমেডি, নাকি ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে একটি ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্য—মুক্তির পরের বিতর্কই হয়তো সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে থাকবে।

কালের আলো/এসএ

বাংলাদেশের প্রতিটি অর্জনের সঙ্গে মুসলিম লীগের ইতিহাস জড়িত: ডিইউজে সভাপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের প্রতিটি অর্জনের সঙ্গে মুসলিম লীগের ইতিহাস জড়িত: ডিইউজে সভাপতি

বাংলাদেশের প্রতিটি উন্নয়ন ও অর্জনের সঙ্গে মুসলিম লীগের ইতিহাস জড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, মুসলিম লীগের সমৃদ্ধ ইতিহাস নতুন প্রজন্মের অনেকেরই অজানা।

উপমহাদেশের উত্থান-পতনের ইতিহাস গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আজকের স্বাধীন বাংলাদেশের সঙ্গে মুসলিম লীগের ইতিহাসের গভীর সম্পৃক্ততা রয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাব আকরাম খাঁ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ৫১তম পুনর্গঠন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘মুসলিম জাতীয়তাবাদ রক্ষায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি জুবেইদা কাদের চৌধুরী।

শহিদুল ইসলাম বলেন, মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯০৬ সালে।

পরবর্তী সময়ে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিকাশে সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। স্বাধীনতার ইস্যুকে কেন্দ্র করে মুসলিম লীগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের হীনমন্যতায় ভোগার কোনো কারণ নেই।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের মানুষ। বাংলাদেশের প্রতি আমাদের আনুগত্য থাকবে। স্বাধীনতার জন্য আমরা যুদ্ধ করেছি—এটা যেমন সত্য, তেমনি ইতিহাসের কোনো অধ্যায়কে অস্বীকার করাও ঠিক নয়। পাকিস্তান আমলে এ অঞ্চলে যেসব বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছিল, সেগুলোর অনেকগুলোর ধারাবাহিকতা পরবর্তী সময়েও দেখা গেছে।

ডিইউজে সভাপতি বলেন, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি না হলে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস ভিন্ন হতে পারত। তাই ইতিহাসকে কোনো একটি দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে না দেখে সামগ্রিকভাবে জানা ও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

মুসলিম লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ইস্যুতে হীনমন্যতায় না ভুগে সংগঠনটির ইতিবাচক ভূমিকা ও ঐতিহাসিক অবদান সামনে আনতে হবে। বাংলাদেশের তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের উন্নয়নে তাদের সম্পৃক্ততা থাকলে তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মুসলিম লীগ যদি এ দেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারে এবং জনগণের প্রত্যাশা ও স্বাধীন চিন্তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে যায়, তাহলে সংগঠনটি আবারও মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ফিরে পেতে পারে।

শহিদুল ইসলাম আশা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে মুসলিম লীগ আরও সংগঠিত ও শক্তিশালী হবে এবং এ দেশের মানুষের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লে. কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের আগে ও পরের সময়ে মুসলিম লীগের ভূমিকা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। বাঙালি মুসলমানদের রাজনৈতিক ইতিহাস ও জাতীয়তাবাদ নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

ভারতের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে হাসিনুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসকে সম্মান করতে হবে। ভারতকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। দেশের স্বার্থে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে।

তিনি ভারতীয় পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের অর্থ যেন অন্য দেশে চলে না যায়, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। রাজনীতি যদি মানুষের কল্যাণের জন্য হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, আমার নেতারা আমাদের টাকায় চিকিৎসা করেন, আর গরিব মানুষ ওষুধ কিনতে পারে না, এটা হতে পারে না। আমাদের সবার জন্য কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সাবেক সভাপতি সালাউদ্দীন মতিন চৌধুরী বলেন, জুলাইয়ে আমরা যারা এই আন্দোলনে ছিলাম, আমাদের মধ্যে ফাটল ধরেছে। আমি বলব, ফাটল বন্ধ করুন। এই ফাটলের ভেতরে অন্যরা ঢুকে পড়বে, অনুপ্রবেশকারীরা সুযোগ নেবে।

সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা ক্ষমতায় আছেন, তাদের দেশ পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে। দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের কী অবস্থা ছিল, তা সবাই জানেন। বর্তমান সরকার দেশ সংস্কার করে সুন্দর পথে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এজন্য সময় দিতে হবে। সময় লাগবে, সময় দিতে হবে আমাদের সকলকে। সময় না দিয়ে আমরা কি যুদ্ধ করব? দেশটাকে অন্য সরকারের হাতে তুলে দেব—সেটি সম্ভব নয়।

ছাত্রদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সম্মান নিয়ে থাকতে হবে। এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়, যাতে তারা জনগণের ভালোবাসা থেকে দূরে সরে যান। সম্মান দিলে সম্মান পাওয়া যায়। আপনারা নতুন সরকারকে সময় না দিয়ে শুধু সমালোচনা করবেন, তার উল্টো কথা বলবেন—এটা ঠিক নয়।

বর্তমান প্রজন্মের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমাদের বয়সের চেয়ে ছোট একজন মানুষ আজ দেশ পরিচালনা করছেন। আগামীতে তিনি সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করবেন—এটা নিয়ে সবার গর্ব করা উচিত।

সব রাজনৈতিক পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারকে সমালোচনা করা যাবে, তবে দেশের স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির বিষয়টি সবার আগে বিবেচনা করতে হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি