খুঁজুন
                               
, ,
           

আর্জেন্টিনার জাল কাঁপাল স্পেন

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫১ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনার জাল কাঁপাল স্পেন

অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে গোল পেয়েছে স্পেন। আর্জেন্টিনার জাল কাঁপাল তারা। ১০৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের অ্যাসিস্টে ফেরান তোরেস গোল করেন।

ইয়ামাল ৫ মিনিটে প্রায় স্পেনকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথম বড় সুযোগটি পায় লা রোজা। ইয়ামাল বক্সে ক্রস বাড়ানোর চেষ্টা করেন এবং বলটি ডিফ্লেক্ট হয়ে ওলমোর কাছে চলে যায়। ওলমো দারুণভাবে বলটি আবার তার দিকেই বাড়িয়ে দেন। ইয়ামাল বলটি নিয়ন্ত্রণে নেন। কিন্তু লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের যৌথ প্রচেষ্টায় বলটি জালে জড়াতে পারেনি!

ফাইনালটিতে শুরু থেকেই দুই দলের আক্রমণ ও প্রতিআক্রমণে এক তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলেছে। ওয়ারজাবাল চমৎকার এক ফ্লিকে পোরোর উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়েছিলেন। তাকে ম্যাক অ্যালিস্টার ফাউল করে ফেলে দেন। কিন্তু রেফারি স্লাভকো ভিনসিক ফাউলের সেই আবেদন নাকচ করে দেন!

দুই দলের মধ্যে স্পেনই শুরুটা ভালো করেছে, তবে আর্জেন্টিনাও ভীতি ছড়ায়। এর ঠিক কিছুক্ষণ আগে ৭ মিনিটে সিমন দ্রুত নিজের লাইন ছেড়ে সামনে এগিয়ে এসে মেসিকে নিশ্চিত গোলের সুযোগ পাওয়া থেকে দুর্দান্তভাবে রুখে দেন!

প্রথম ২৩ মিনিটে মাত্র ৩২ শতাংশ বল দখলে রাখতে পেরেছে আর্জেন্টিনা। তাদের তিন ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসি, নিকো গঞ্জালেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ মিলে মাত্র ১৭ বার বলে পা ছুঁতে পেরেছেন।

স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি পুরো মাঠ জুড়ে খেলছেন। এমনকি ডিফেন্সেও তৃতীয় সেন্টার ব্যাকের ভূমিকায় তিনি। বল দখলেও রাখছেন দারুণ অবদান। এছাড়া আর্জেন্টিনার অর্ধেও চাপ তৈরি করছেন। স্পেনের তীব্র আক্রমণের সঙ্গে পেরে উঠছে না আর্জেন্টিনা।

স্পেন তাদের আক্রমণের চাপ আরও বাড়ায়। ৩৯ মিনিটে লাপোর্তে, রদ্রি ও বায়েনা নিজেদের মধ্যে দারুণ বোঝাপড়ায় বল দেওয়া-নেওয়া করেন। এরপর ফাবিয়ান আলতো টোকায় বল বাড়িয়ে দেন ওয়ারজাবালের দিকে। তিনি বক্সের প্রান্ত থেকে প্রথম সুযোগেই বাম পায়ের এক জোরালো শট নেন। কিন্তু মার্টিনেজ নিচে নেমে এসে দারুণভাবে বলটি রুখে দেন।

৪১ মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। দুই মিনিট পর ইনজুরির লক্ষণ নিয়ে তিনি নিকোলাস ওতামেন্দির বদলি হন। পর্তুগাল ম্যাচের পর থেকে স্পেনের প্রতি ম্যাচেই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়লেন। একই সময়ে কুকুরেয়ার দারুণ একটি প্রচেষ্টা ডানপাশের পোস্টের সামনে দিয়ে মাঠের বাইরে যায়।

হাফটাইমের আগে ৬৫ শতাংশ বল পজেশনে রেখেছিল স্পেন। মাত্র ৩৫ শতাংশ আর্জেন্টিনা। লক্ষ্যে লা রোজারা শট রেখেছে দুটি। পাসেও দ্বিগুণ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল স্পেন। আর্জেন্টিনার ১৫৫ নিখুঁত পাসের বিপরীতে তাদের ৩১৩! পুরোটা সময় লক্ষ্যে তো বটেই, কোনো শট নিতে পারেনি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। স্পেনের গোলকিপার উনাই সিমন দুইবার ক্লিয়ার সুইপ করে তাদের প্রচেষ্টা নষ্ট করে দেন। স্পেন ফাইনাল থার্ডে ৩৫ বার ‍ঢুকেছে, যেখানে আর্জেন্টিনা মাত্র ১৮ বার।

দ্বিতীয়ার্ধে লিওনেল স্কালোনি পরিবর্তন আনেন দলে। প্রথমবার শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া নিকো গঞ্জালেজকে উঠিয়ে নামান লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে।

দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে স্পেন ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। ওয়ারজাবালের পাস ধরে বায়েনা শট নেন। তার দুর্বল শট মাটিতে লাফিয়ে মার্টিনেজের হাতে পড়ে।

বিরতির পর মাঠে নামার পর থেকেই পারদেসের জন্য এই বিশ্বকাপ ফাইনালের শুরুটা যেন একটি দুঃস্বপ্নের মতো হয়েছে! তিনি অযথাই রদ্রিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেন এবং এই ঘটনার জন্য তাকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। এই সিদ্ধান্তের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা রেফারিকে ঘিরে ধরেন এবং শেষ পর্যন্ত ওলমো মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

৫৫ মিনিটে ওতামেন্দির শেষ মুহূর্তের ট্যাকল! স্পেন ফাবিয়ানের মাধ্যমে পেছন থেকে পাল্টা আক্রমণ করে। বলটি ওয়ারজাবালের কাছে পৌঁছালে তিনি ফাবিয়ানকে পাস দেন। তিনি শট নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে বলটি পেছনে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওতামেন্দি এগিয়ে এসে বলটি বিপদমুক্ত করেন!

পরের মিনিটে আক্রমণে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল স্পেন। আর্জেন্টিনার বক্সের ডানপ্রান্ত থেকে ওলমোর ব্যাকপাস গোলপোস্টের সামনে কুকুরেয়ার পায়ে পড়ার আগেই গঞ্জালো মন্তিয়েল ক্লিয়ার করেন। দুই মিনিট পর নাহুয়েল মলিনাকে তার বদলি মাঠে নামান স্কালোনি।

৬২ মিনিটে স্পেন দুটি পরিবর্তন আনে। ফাবিয়ানের জায়গায় পেদ্রি এবং ওয়ারজাবালের পরিবর্তে ফেরান তোরেস মাঠে নামেন।

দুই মিনিট পর ওলমোর বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট রুখে দেন মার্টিনেজ। তিনি বল ধরে রাখতে না পারলেও মাঠের বাইরে যায়।

আর্জেন্টিনার ডানপ্রান্ত থেকে ইয়ামাল দারুণ একটা সুযোগ তৈরি করে দেন। আলভারেজ ও ম্যাকঅ্যালিস্টারকে পেছনে ফেলে বাইলাইন থেকে বার্সা তারকার বাঁ পায়ের ক্রস। তোরেস নিচু হেড করেন। কিন্তু মার্টিনেজের হাতে পড়ে বল।

১৯৬৬ সালে রেকর্ড নথিভুক্ত করার পর থেকে প্রথম দল হিসেবে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথম  ৭০ মিনিটে লক্ষ্যে কোনো শট রাখতে পারল না। এর আগের দীর্ঘ অপেক্ষা ছিল গত আসরে। ৬৮তম মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল ফ্রান্সকে।

৭০ মিনিটে আর্জেন্টিনা দুটি পরিবর্তন আনেন। মিডফিল্ডার রদ্রিগো দে পলকে তুলে নিয়ে ফরোয়ার্ড জিউলিয়ানো সিমিওনেকে নামায় তারা। আর ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর বদলে ডিফেন্সে জায়গা পান ফাকুন্দো মেদিনা।

৭৫ মিনিটে স্পেন দুটি পরিবর্তন আনে। ওলমোর জায়গায় মিকেল মেরিনো ও বায়েনার জায়গায় নিকো উইলিয়ামস আসেন।

দুই মিনিট পর গোল করার মতো জায়গা থেকে পেদ্রির শট মার্টিনেজের কারণে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কয়েক মুহূর্ত পর ইয়ামালের দারুণ এক প্রচেষ্টা মেদিনা ব্লক করেন। তবে বল পড়ে কুবারসির পায়ে। দূর থেকে তার নেওয়া শট দুর্ভাগ্যজনকভাবে মার্টিনেজের গায়ে লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৮০ মিনিটে উইলিয়ামসের ক্রসে ব্যাকপোস্টে আইমেরিক লাপোর্তের দুর্বল হেড তিনি রুখে দেন। ৮৭ মিনিটে তোরেসের একটি শট গোলবারের পাশ দিয়ে যায়।

ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে উইলিয়ামসের একটি শক্তিশালী শট রুখে দেন আর্জেন্টিনা কিপার। কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন এনজো ফার্নান্দেজ। কুবার্সিকে ফাউল করেন তিনি। শেষ ‍মুহূর্তে পারেদেসের ফাউলের শিকার হন ইয়ামাল। বক্সের সামনে থেকে তার নেওয়া ফ্রি কিক দারুণভাবে রুখে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে রাখেন মার্টিনেজ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

পুলিশে বড় রদবদল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
পুলিশে বড় রদবদল

বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার মোট ১৪ জন কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।

শীর্ষ পর্যায়ে বড় পরিবর্তন পুলিশের এই রদবদলে ময়মনসিংহ রেঞ্জ এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) শীর্ষ পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মো. আতাউল কিবরিয়াকে সিআইডির ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানকে।

অন্যদিকে, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরীকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং পুলিশ অধিদফতরের ডিআইজি সারোয়ার মোর্শেদ শামীমকে এসএমপির নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সিআইডির ডিআইজি মাসুদ করিমের একটি পূর্ববর্তী বদলি আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

র‍্যাব ও সদর দফতরে নতুন পদায়ন র‍্যাব এবং পুলিশ সদর দপ্তরেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এন্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন আহমেদকে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে র‍্যাবে পদায়ন করা হয়েছে।

এছাড়া শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কফিল উদ্দিনকে পুলিশ অধিদফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

পাবনায় নতুন এসপি ও বিভিন্ন রেঞ্জে সংযুক্তি পাবনা জেলায় নতুন পুলিশ সুপার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান এসপি মো: ছফি উল্লাহকে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করে তার জায়গায় এন্টি টেররিজম ইউনিটের আবু আশরাফকে পাবনার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত ডিআইজি নাসিয়ান ওয়াজেদ এবং পুলিশ সদর দপ্তরের আ. ফ. ম. নিজাম উদ্দিন ও এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার তাহসিন মাশরুফ হোসেন মাসফিকে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের মোহাম্মদ আশিকুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জে, ট্যুরিস্ট পুলিশের মো. আপেল মাহমুদকে রাজশাহী রেঞ্জে এবং সিআইডির মীর আবু তৌহিদকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব তৌহিদ আহমেদ স্বাক্ষরিত এই আদেশগুলো জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মাইলস্টোন দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আহ্বান ইসলামী আন্দোলনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
মাইলস্টোন দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আহ্বান ইসলামী আন্দোলনের

মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা ও দোয়া জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আরও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘গত বছরের এই দিনটি জাতির জন্য এক শোকাবহ দিন। সেদিন দুপুর সোয়া ১টার দিকে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে স্কুলটির ২৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়। পরে যুদ্ধবিমানের পাইলট, শিক্ষক, কর্মচারী ও কয়েকজন অভিভাবকের মৃত্যুসহ মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৬ জনে।’

তিনি বলেন, ‘একই সময়ে এতগুলো শিশুর প্রাণহানি দেশের মানুষের জন্য এক অবর্ণনীয় বেদনার ঘটনা। দুর্ঘটনার প্রথম বার্ষিকীতে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করছি।’

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই তদন্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জনগণ স্পষ্ট ধারণা পেত।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন সূত্রে যেসব তথ্য সামনে এসেছে, তাতে নিরাপত্তা ও সতর্কতার বিষয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন ছিল বলে ধারণা করা যায়। যদিও ঘটনাটি একটি দুর্ঘটনা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে, তবু সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করলে বিষয়টি আরও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হতো।’

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘তদন্তে যদি কোনো ধরনের অবহেলা, ত্রুটি বা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি উঠে আসে, তবে তা দ্রুত চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাজশাহীতে টানা আড়াই ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাস্তায় হাঁটুপানি, জনদুর্ভোগ চরমে

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে টানা আড়াই ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাস্তায় হাঁটুপানি, জনদুর্ভোগ চরমে

রাজশাহীতে টানা আড়াইঘন্টার বৃষ্টিতে হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে রাজশাহী নগরী। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর তিনটা থেকে শুরু হয় বৃষ্টি। চলে টানা আড়াই ঘণ্টা। ধরণী ভিজিয়ে নগরবাসীর মনে যে স্বস্তি নামার কথা ছিল, তা বিড়ম্বনায় রূপ নেয়।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল ৬টা পর্যন্ত রাজশাহীতে ৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর এই এক বৃষ্টিতেই যেন ছন্দপতন ঘটেছে পুরো নগরজীবনের।

বৃষ্টির মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ও নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমতে শুরু করে। রাজশাহী নগরীর জিরোপয়েন্ট থেকে শুরু করে সিঅ্যান্ডবি মোড়, রেলগেট, উপশহর, ভদ্রা, বর্ণালী, লক্ষ্মীপুর, ভাটাপাড়া, রাজপাড়া, পাঠানপাড়া, টিকাপাড়া ও বহরমপুর, শালবাগান, আহম্মদনগর ও নওদপাড়ার মতো ব্যস্ততম এলাকাগুলোর সড়ক থৈ থৈ পানিতে তলিয়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক আর ফুটপাত একাকার হয়ে গেছে। ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা মিশ্রিত দুর্গন্ধযুক্ত পানি উঠে এসেছে মূল রাস্তায়। কোথাও কোথাও পানি জমে হাঁটু ছুঁয়েছে। ফলে যানবাহন চলাচল একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়ে। অনেক স্থানে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও রিকশার ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বন্ধ হয়ে যেতে দেখা যায়। নিরুপায় হয়ে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষকে পরনের কাপড় গুটিয়ে হাঁটুসমান ময়লা পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে ছুটতে দেখা গেছে।

নগরীর সাহেববাজার এলাকায় রিকশা নিয়ে যাচ্ছিলেন রিকশাচালক কাসেম আলী। জমে থাকা পানির দিকে তাকিয়ে আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, গরমে কয়েকদিন খাটাখাটনি করা যাচ্ছিল না, বৃষ্টি নামায় শরীরে একটু বাতাস লেগেছে সত্য। কিন্তু এই পানির মধ্যে রিকশা চালানো যে কী কষ্ট। রাস্তায় অত পানি, চাকা ডোবে, ভয় হয় কখন গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। যাত্রীও মেলে না। পেটের তাগিদে বের হয়ে এখন রাস্তায় আটকে আছি।

একই ভোগান্তির চিত্র লক্ষ্মীপুর মোড় এলাকায়। রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী সাবরিনা সুলতানা ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তিনি নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৃষ্টি হওয়াতে আবহাওয়াটা সত্যিই দারুণ লাগছে। কিন্তু ক্লাস শেষে বের হয়ে দেখি পুরো রাস্তা ডুবে গেছে। রিকশাওয়ালারা দ্বিগুণ ভাড়া চাচ্ছে। আবার পানি পার হয়ে হেঁটে হেঁটে যাওয়ারও উপায় নেই।

নগরীর বর্ণালী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মাহফুজুর ইসলাম ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা খরচ করে ড্রেন তৈরি আর সংস্কার করা হয়। অথচ মাত্র এক-দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে পুরো রাজশাহী শহর অচল হয়ে পড়ে। আমাদের বাড়িতেও পানি ঢুকে যায়। রাস্তার পানি না নামলে বাড়ির পানি নামে না। আমরা দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই সমাধান চাই।

জরুরি চিকিৎসার জন্য রাজশাহীর লক্ষীপুর এলাকায় একটি ডায়াগনিস্টক সেন্টারে এসেছিলেন তেরখাদিয়া এলাকার গৃহিণী পারভীন বেগম। তিনি বলেন, রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাব, কিন্তু রাস্তার যে অবস্থা তাতে রোগী আরও অসুস্থবোধ করছে। বাধ্য হয়ে বৃষ্টিতে ভিজে এই অবস্থায় যাওয়া লাগছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, আগামী কয়েকদিন আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এদিন বিকেল ৬টা পর্যন্ত ৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, প্রতিটি উপজেলায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের পাশে থাকার জন্য। জমিতে পানি জমলে তা নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। সামনে কয়েকদিন বৃষ্টি হতে পারে সেভাবে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন