খুঁজুন
                               
, ,
           

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত এলেন ২৩ বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত এলেন ২৩ বাংলাদেশি

কর্মসংস্থানের আশায় প্রায় এক যুগ আগে দেশ ছাড়লেও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ২৩ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরতে হয়েছে। বিশেষ ফ্লাইটে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

দেশে ফেরার পর প্রত্যেককে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক।

বৃহস্পতিবার ওমনি এয়ারের বিশেষ ফ্লাইট (ওএই-২৩২৩) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

ওই ফ্লাইটেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো ২৩ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের বিভিন্ন সময়ে উন্নত কর্মসংস্থানের আশায় তারা ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় বাংলাদেশ ছাড়েন।

পরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল ও পেরুসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে একপর্যায়ে সীমান্ত অতিক্রম করে অনিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তাদের কেউ কেউ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও বৈধ অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে না পারায় তারা দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নজরে আসেন।

পরে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশেষ ফ্লাইটে তারা বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছান।

বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর ব্র্যাকের পক্ষ থেকে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়া তাদের জন্য হালকা খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়।

সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর সাড়ে ১টার দিকে তারা বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং গন্তব্য দেশের অভিবাসন আইন ও শর্ত মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থানের পরও আইনগত জটিলতায় দেশে ফিরতে হতে পারে।

তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর ঘটনা বেড়েছে। তাই অনিয়মিত পথে বিদেশে যাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সম্ভাব্য অভিবাসীদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে ময়মনসিংহে নাটাবের মতবিনিময় সভা

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে ময়মনসিংহে নাটাবের মতবিনিময় সভা

আইন বাস্তবায়নে কঠোর হওয়ার নির্দেশ এডিসি’

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন-২০০৫ (সংশোধিত ২০২৬) এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার কার্যকর বাস্তবায়নে স্টেকহোল্ডারদের ভূমিকা জোরদারের লক্ষ্যে ময়মনসিংহে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতি (নাটাব) ময়মনসিংহ জেলা শাখার আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন নাটাব ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. আসাদুজ্জামান।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নাটাবের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. ফিরোজ আহমদ। তিনি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, সংশোধিত বিধান, আইন প্রয়োগের চ্যালেঞ্জ এবং মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন নাটাবের প্রোগ্রাম অফিসার মো. রবিউল ইসলাম।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম বড় হুমকি। তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত আইনে পাবলিক স্থানে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচার ও প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্মকর্তাদের ক্ষমতা আরও সুস্পষ্ট করা হয়েছে।

এছাড়া তামাকজাত পণ্যের প্যাকেট ও মোড়কে নির্ধারিত স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা, ক্ষতিকর দিক নির্দেশক ছবি এবং প্রয়োজনীয় তথ্য বাংলায় স্পষ্টভাবে মুদ্রণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আইন অমান্য করলে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা, কারাদণ্ড এবং প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিলসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে বলেও সভায় তুলে ধরা হয়।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, তদারকি বৃদ্ধি ও আইন প্রয়োগে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মীর আকরাম উদ্দীন জায়েদ, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল্লাহিল গালিব, নুরুল হুদা মনির, জামিলুর রহমান, সাব্বির হোসেন ও শানিরুল ইসলাম শাওন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র হেলথ এডুকেশন অফিসার সৈয়দ জাবেদ হোসেন, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর জাবেদ ইকবাল, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহজাহান কবির, দৈনিক ইনকিলাবের ময়মনসিংহ সদর প্রতিনিধি শুভ বসাক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর সেন্টু রঞ্জন নাথ, আব্দুল কুদ্দুস, মামুন মিয়া এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

আলোচনা সভা শেষে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় তারা প্রকাশ্যে ধূমপানকারীদের ধূমপান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং আশপাশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে তামাকজাত পণ্যের বিক্রি ও প্রদর্শন সংক্রান্ত আইন মেনে চলার অনুরোধ করেন।

পাশাপাশি তামাকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে খুলেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ণ
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে খুলেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: মাহদী আমিন

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুই দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব খাতের শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা ৩টায় কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা বাস্তবসম্মত একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি, আগামী মাসের (আগস্ট) শেষ সপ্তাহ থেকেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের যাওয়া শুরু হবে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ায় ফের শ্রমবাজার খুললো। শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার পদক্ষেপে মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীম, মানবসম্পদ মন্ত্রী আর. রামানান এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সবার সহযোগিতায় এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এই নীতিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় এই প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী এক মাসের মধ্যে কর্মী যাওয়া শুরু হলে তা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনমানের সার্বিক উন্নয়ন ও কাজের সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমান নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু আমাদের শ্রমবাজার খুলে যাচ্ছে এবং আমরা আশা করছি, আগামী এক মাসের মধ্যে বেশ কিছু শ্রমিক ভাই-বোন এখানে এসে কাজ শুরু করবেন, তাই আপনারা সবাই ধৈর্য ধারণ করবেন এবং সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করবেন।

দালাল ও অসাধু চক্রের প্রতারণা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, দেশে ফিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে, যেন কেউ কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন। একই সাথে এই প্রতারক চক্রের বিষয়ে সবাইকে বিশেষভাবে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

কারিগরি কার্যক্রম ও দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, খুব শিগগিরই টেকনিক্যাল পর্যায়ে কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাই কমিশন এবং ঢাকায় মালয়েশিয়ান হাই কমিশন যৌথভাবে এই কাজ এগিয়ে নেবে। এছাড়া মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ সিদ্ধান্তে প্রক্রিয়াগুলোকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, মালয়েশিয়া সরকার খুব শিগগিরই তাদের কাজের পদ্ধতির বিষয়ে আপডেট জানাবে এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াগুলো জানানো হবে। মালয়েশিয়ার বাংলাদেশের হাইকমিশনকে আরও জনবান্ধব করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন যেন সাধারণ কর্মীদের আস্থার মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

প্রথম ধাপের কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছি যেন প্রথম ধাপের নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বোয়েসেলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দক্ষ জনশক্তিকে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়াই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে পাঠানো ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকা বর্তমান সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে মালয়েশিয়া নিজস্ব যাচাই-বাছাই ও কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এজেন্সির চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ করবে। বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যান, এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সর্বোচ্চসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সিকে এর অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তারা মালয়েশিয়া সরকারকে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।

ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতিতে জড়িতদের বাদ দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে বিগত ফ্যাসিবাদের সাথে জড়িত, বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ব্যক্তিবর্গের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। সুতরাং আমরা মালয়েশিয়া সরকারের কাছে আমাদের স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছি যে, যারা ফ্যাসিবাদী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত ছিল কিংবা সিন্ডিকেটের অংশ হিসেবে দুর্নীতি করেছে, তাদের কেউই নতুন তালিকায় স্থান পাবেন না। মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষ অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বিষয়টি নিশ্চিত করবে বলে জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আনা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি পুনরায় শুরু করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে প্রবাসে কর্মসংস্থানের সূচনা এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের যাত্রা শুরুর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রবাসীরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি ইশতেহারেও তাদের কল্যাণের প্রতিশ্রুতি ছিল। বিএনপি সবসময় একটি প্রবাসীবান্ধব দল হিসেবে প্রবাসীদের স্বার্থ, আকাক্সক্ষা ও প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করবে।

মালয়েশিয়ার সাথে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এই সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমল তা এক ভিন্ন মাত্রায় উন্নীত হয়। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করেই নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক এখন বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে জোরালো আলোচনা চলছে। এছাড়া প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সংস্কৃতিসহ বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কীভাবে জনগণের সাথে জনগণের যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।

দুই দেশের সম্পর্ককে একটি কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশে ইতোমধ্যে যেসব মালয়েশিয়ান প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করেছে, তাদের কাজের পরিধি আরও কীভাবে সম্প্রসারিত করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।

দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন খাতের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, মালয়েশিয়ার শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি অ্যাজিয়াটা এবং এমএমসি পোর্টস-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ও কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন।

জ্বালানি খাতের সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে যে গ্যাস সংকট রয়েছে, তা নিরসনে মালয়েশিয়ার সরকারি জ্বালানি জায়ান্ট পেট্রোনাস কীভাবে দ্রুততম সময়ে গ্যাস সরবরাহ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া দক্ষ জনশক্তির বিশাল বাজার হিসেবে মালয়েশিয়ায় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হচ্ছে।

এর আগে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে মাহদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আনোয়ার ইব্রাহীমের সাথে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সম্প্রতি দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ কওে বাংলাদেশে বর্তমানে যে গ্যাস সংকট রয়েছে, তার আলোকে পেট্রোনাস কীভাবে দ্রুততম সময়ে এই সমস্যা সমাধানের ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে তাদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান ও শ্রমবাজার বন্ধের পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বহুমাত্রিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো আমাদের প্রবাসী শ্রমিক ভাই-বোনেরা। তাদের শ্রম ও নিষ্ঠা যেমন মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে, তেমনি তাদের প্রেরিত রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকেও গতিশীল রেখেছে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে মালয়েশিয়ায় এই শ্রমবাজারের সূচনা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে কারণে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের সাথে এই বাজারের একটি গভীর আবেগ ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শ্রমবাজারটি বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে মাহদী আমিন জানান, বিগত ফ্যাসিবাদের আমলের বিভিন্ন অনৈতিক ও অনিয়মের কারণেই মূলত বাজারটি বন্ধ হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিলেও নানামুখী জটিলতার কারণে তা এতদিন বন্ধই ছিল। তবে বর্তমান সরকারের নানামুখী ও কার্যকর কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অবশেষে তা আবার উন্মুক্ত হলো।

বর্তমান নির্বাচিত সরকারের পূর্বের সফরের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, আমরা নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এর আগেও এখানে এসেছিলাম। এখানকার মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এবং তার মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গসহ সব অংশীদারের সাথে আজ থেকে প্রায় তিন মাস আগে আমরা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছিলাম। সেই ধারাবাহিকতা ও অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করেই তারা আবারও মালয়েশিয়া সফরে এসেছেন বলে জানান তিনি।

গত দুই দিনের বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে মাহদী আমিন জানান, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সচিব, সহকারী সচিব এবং সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সাথে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ার মূল নীতি ছিল দেশের স্বার্থ রক্ষা করা, এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের এই আলোচনার মূল ভিত্তিই ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, অর্থাৎ বাংলাদেশের সার্বিক স্বার্থ রক্ষা করা।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে আপনাদের জানাতে চাই যে, আমাদের দুই দেশই অবিলম্বে এই শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। একটি নতুন ও আধুনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যত দ্রুত সম্ভব আমরা এই শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে চাচ্ছি, যেন বাংলাদেশের বিপুল জনশক্তির জন্য মালয়েশিয়ার দুয়ার খুলে যায় মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর সাথে আলোচনা শেষে সব খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাজের সুযোগ তৈরির বিষয়ে যৌথ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কথাও জানান তিনি।

বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রার কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, আমরা দ্বিপাক্ষিক ঐকমত্যের মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি, যেন আগামী আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ নাগাদ ইনশাআল্লাহ্ বাংলাদেশি শ্রমিকদের আগমন শুরু হতে পারে।

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। আগামিকাল শুক্রবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে মন্ত্রী-উপদেষ্টার।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীসহ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এসএকে

৪২ বছর বয়সে মা হলেন কারিশমা তান্না

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ
৪২ বছর বয়সে মা হলেন কারিশমা তান্না

বলিউড ও টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কারিশমা তান্না ও তার স্বামী ব্যবসায়ী বরুণ বঙ্গেরার সংসারে এসেছে নতুন অতিথি। বুধবার (২৯ জুলাই) পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন কারিশমা। ৪২ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো মাতৃত্বের স্বাদ পেলেন এই অভিনেত্রী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌথ পোস্টের মাধ্যমে সুখবরটি ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন কারিশমা ও বরুণ। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে অভিনেত্রী লিখেছেন, “গুরু পূর্ণিমার পবিত্র দিনে আমাদের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ এসেছে। ২৯ জুলাই ২০২৬। ছোট্ট সোনা, তোমাকে আমাদের পৃথিবীতে স্বাগতম।”

পোস্টের সঙ্গে নবজাতকের আগমন উপলক্ষে একটি বিশেষ কার্ডও শেয়ার করেছেন এই দম্পতি। খবর প্রকাশের পরপরই ভক্ত, সহকর্মী ও বিনোদন অঙ্গনের অনেক তারকা তাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

অভিনেত্রী স্মৃতি ইরানি, মালাইকা অরোরা, দিয়া মির্জা, বিক্রান্ত ম্যাসি, সোনু সুদ, রাহুল বৈদ্য ও ভারতী সিংসহ অনেকেই কারিশমা ও বরুণকে অভিনন্দন জানিয়ে নবজাতকের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।

২০২২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে পারিবারিক আয়োজনে ব্যবসায়ী বরুণ বঙ্গেরাকে বিয়ে করেন কারিশমা তান্না। বিয়ের প্রায় চার বছর পর তাদের পরিবারে প্রথম সন্তানের আগমন হলো। চলতি বছরের শুরুতে নিজের মাতৃত্বের খবর প্রকাশ্যে আনেন অভিনেত্রী। এরপর গর্ভাবস্থার বিভিন্ন মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন তিনি।

টেলিভিশনের মাধ্যমে দর্শকের কাছে পরিচিতি পাওয়া কারিশমা তান্না অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কিঁউকি সাস ভি কভি বহু থি’, ‘নাগিন ৩’ ও ‘কায়ামত কি রাত’-এ। পরে ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। ২০২২ সালের ‘হাশ হাশ’ এবং হংসাল মেহতার ওয়েব সিরিজ ‘স্কুপ’-এ তার অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।

এছাড়া রিয়েলিটি শো ‘খতরোঁ কে খিলাড়ি ১০’-এর বিজয়ীও ছিলেন কারিশমা তান্না।

কালের আলো/এসএ