খুঁজুন
                               
, ,
           

গণতন্ত্র রক্ষায় বাংলাদেশের মানুষ বারবার আত্মত্যাগ করেছে: স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ণ
গণতন্ত্র রক্ষায় বাংলাদেশের মানুষ বারবার আত্মত্যাগ করেছে: স্পিকার

বাংলাদেশের জনগণ চিরকালই গণতন্ত্রকামী এবং কোনো স্বৈরাচারী শাসনকে কখনো মেনে নেয়নি বা সমর্থন করেনি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সোমবার (৩১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব মিজ অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।

স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের মানুষ নিজেদের অধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মত্যাগ করেছে। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম সত্ত্বেও গণতন্ত্রের মূল চেতনা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা হয়।

তিনি আরও বলেন, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন ছিল প্রহসনের শামিল। এসব নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ ও গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই পরিস্থিতির অবসান ঘটে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম অবাধ, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেন স্পিকার। তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ জনগণের গণতান্ত্রিক আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে দায়িত্ব পালন করছে।

আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক সংস্কার জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, শক্তিশালী ও কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

বৈঠকে জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের ভূমিকা, আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে সমুদ্রসীমা বিরোধের নিষ্পত্তি এবং সংসদীয় কূটনীতির গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইপিইউ প্রতিনিধি দলের সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সুন্দরবনে ফিরছে প্রাণচাঞ্চল্য, মঙ্গলবার উঠছে নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে ফিরছে প্রাণচাঞ্চল্য, মঙ্গলবার উঠছে নিষেধাজ্ঞা

টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামী মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পর্যটক, বনজীবী ও মৎস্যজীবীদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। এদিন থেকে বনে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে আবারও শুরু হবে পর্যটন কার্যক্রম ও মাছ আহরণ।

সুন্দরবন খোলার খবরে ইতোমধ্যে ব্যস্ততা বেড়েছে পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে। পর্যটক বরণে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্যুর অপারেটর, লঞ্চ ও বোটচালকরা। একই সঙ্গে সুন্দরবনের আশপাশের ইকো কটেজগুলোও নতুন মৌসুমের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তিন মাস পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত জাহাজ মালিক, গাইড, মাঝি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে। কয়েকটি পর্যটন জাহাজ এরই মধ্যে তিন দিন দুই রাতের সুন্দরবন সাফারি পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়েছে।

তবে বনে প্রবেশের সুযোগ ফিরে এলেও বনজীবীদের মধ্যে রয়েছে দস্যু আতঙ্ক। তাদের অভিযোগ, সুন্দরবনে প্রবেশের পর বিভিন্ন দস্যু দলের চাঁদা বা বখরার দাবির মুখে পড়তে হয়।

বন বিভাগ জানিয়েছে, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে প্রতিবছর জুন, জুলাই ও আগস্ট—এই তিন মাস পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়। এ সময় বন বিভাগ, কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশ যৌথভাবে নজরদারি চালায়।

২০১৯ সাল থেকে সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার (আইআরএমপি) সুপারিশ অনুযায়ী প্রতিবছর তিন মাস বনের সব নদী ও খালে মাছ আহরণ বন্ধ রাখা হচ্ছে। একই সময়ে পর্যটকদের প্রবেশও নিষিদ্ধ থাকে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, আবহাওয়া ও নদীপথের পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ২০২৬-২৭ সালের সুন্দরবন পর্যটন মৌসুমটি পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ভালো যাবে। পাশাপাশি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় পর্যটকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশাও রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

প্রশাসনিক সংকটে বড় ধাক্কা, শ্রীলঙ্কা থেকে নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি সরাল আইসিসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ণ
প্রশাসনিক সংকটে বড় ধাক্কা, শ্রীলঙ্কা থেকে নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি সরাল আইসিসি

নারীদের প্রথম আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজনের সুযোগ হারাল শ্রীলঙ্কা। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছয় দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্টটি শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের কথা থাকলেও দেশটির প্রশাসনিক পরিস্থিতির কারণে আয়োজক হিসেবে তাদের নাম বাদ দিয়েছে আইসিসি।

আইসিসি ট্রান্সফরমেশন কমিটির সচিব প্রকাশ শাফতার শ্রীলঙ্কা থেকে টুর্নামেন্ট সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে বিকল্প আয়োজক হিসেবে এখনো কোনো দেশের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

নতুন আয়োজক হওয়ার দৌড়ে ভারত সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রিকইনফো। আইসিসি বোর্ড সদস্যদের পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডে সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই আইসিসির সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের অবনতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আইসিসির বৈঠকে শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণেও।

এদিকে আয়োজক স্বত্ব হারানোর পর টুর্নামেন্টে শ্রীলঙ্কার অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আইসিসি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। ফলে নতুন ভেন্যু নির্ধারণের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী দলগুলোর বিষয়টিও পরবর্তী বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে জুলাই মাসেই নিজেদের অবস্থান জানিয়েছিল আইসিসি। সংবিধান সংশোধনে অগ্রগতি হলেও দ্রুত নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছিল বৈশ্বিক ক্রিকেট সংস্থাটি।

প্রশাসনিক সংকটের জেরে এরই মধ্যে আইসিসি বোর্ডে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রতিনিধিত্ব স্থগিত করা হয়েছে। এবার বড় একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ হারানোয় দেশটির ক্রিকেট প্রশাসন আরও বড় ধাক্কার মুখে পড়ল।

নারীদের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষ পর্যন্ত ভারতে অনুষ্ঠিত হবে, নাকি অন্য কোনো দেশ আয়োজনের দায়িত্ব পাবে—এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সূত্র: ক্রিকইনফো

কালের আলো/এসএ

দেশে হামের পরিস্থিতির অবনতি, ২৪ ঘণ্টায় ৬ মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
দেশে হামের পরিস্থিতির অবনতি, ২৪ ঘণ্টায় ৬ মৃত্যু

দেশে হামের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে পাঁচজনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৬২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৯৪ জন।

মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৯ শিশু। সব মিলিয়ে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭৩ জনে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ৯৪ জনসহ ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১৯ হাজার ৩১২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

এ ছাড়া গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ১৬২ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৯১ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৪৫ জন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪০৪ জন।

হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি ও চিকিৎসাসেবা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি