খুঁজুন
                               
, ,
           

ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি ৫ ট্রান্সফার

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি ৫ ট্রান্সফার

ফুটবলের ট্রান্সফার বাজারে অর্থের অঙ্ক দিন দিনই বাড়ছে। একেকটি দলবদলে খরচ হচ্ছে শত শত মিলিয়ন ইউরো। বড় অঙ্কের এসব চুক্তির কোনোটি এনে দিয়েছে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাফল্য, আবার কোনোটি পরিণত হয়েছে হতাশার প্রতীকে।

সর্বকালের সবচেয়ে দামি পাঁচ ট্রান্সফারের তালিকায় রয়েছেন নেইমার, কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, আলেক্সান্ডার ইসাক ও ব্র্যাডলি বারকোলা।

৫. ব্র্যাডলি বারকোলা — পিএসজি থেকে লিভারপুল (€১৪০ মিলিয়ন)

মোহামেদ সালাহর বিদায়ের পর ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে আক্রমণভাগ শক্তিশালী করার প্রয়োজন পড়ে লিভারপুলের। সরাসরি সালাহর বিকল্প না খুঁজে আক্রমণভাগে আরও বিকল্প তৈরি করার পরিকল্পনা নেয় তারা। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পিএসজি থেকে ব্র্যাডলি বারকোলাকে দলে ভেড়ায় ইংলিশ ক্লাবটি।

২৩ বছর বয়সী বারকোলা পিএসজির টানা দুই চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী দলের আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। গতি, ড্রিবলিং এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে দেওয়ার দক্ষতার কারণে লিভারপুলের নতুন কোচ আন্দোনি ইরাওলার আক্রমণাত্মক কৌশলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

৪. আলেক্সান্ডার ইসাক — নিউক্যাসল থেকে লিভারপুল (€১৪৫ মিলিয়ন)

গ্রীষ্মের দলবদলের শেষ দিনে আলেক্সান্ডার ইসাককে দলে এনে নতুন ব্রিটিশ ট্রান্সফার রেকর্ড গড়ে লিভারপুল। নিউক্যাসল ইউনাইটেড নিজেদের দাবিতে অনড় থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিশাল অঙ্কের বিনিময়ে সুইডিশ স্ট্রাইকারকে ছাড়তে রাজি হয়।

নিউক্যাসলের হয়ে দুই দুর্দান্ত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ৪৪ গোল করেছিলেন ইসাক। তাঁর নিখুঁত ফিনিশিং ও গোল করার দক্ষতার কারণে কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরির সঙ্গেও তুলনা করা হয়েছে তাঁকে।

তবে লিভারপুলে তাঁর শুরুটা প্রত্যাশামতো হয়নি। ডিসেম্বরেই পা ভেঙে দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে চলে যান এই স্ট্রাইকার।

৩. উসমান দেম্বেলে — বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে বার্সেলোনা (€১৪৮ মিলিয়ন)

২০১৭ সালে উসমান দেম্বেলেকে দলে নিয়ে বড় অঙ্কের ঝুঁকি নিয়েছিল বার্সেলোনা। তখনই তাঁর মধ্যে বিশ্বসেরা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু ক্যাম্প ন্যুতে ছয় বছরের অধ্যায়ে বারবার চোট ও ফিটনেস সমস্যায় সেই সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটেনি।

শেষ পর্যন্ত তাঁকে পিএসজির কাছে ছেড়ে দেয় বার্সেলোনা। প্যারিসে গিয়ে অবশ্য বদলে যায় দেম্বেলের ক্যারিয়ারের গল্প। লুইস এনরিকের অধীনে দুই পায়েই সমান দক্ষ এই উইঙ্গারকে আরও বহুমুখী সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

পরবর্তীতে ব্যালন ডি’অর জিতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন দেম্বেলে। ফলে ২০১৭ সালে তাঁকে নিয়ে বার্সেলোনার বড় অঙ্কের বিনিয়োগ পুরোপুরি ভুল ছিল—এমনটা বলার সুযোগ নেই।

২. কিলিয়ান এমবাপ্পে — মোনাকো থেকে পিএসজি (€১৮০ মিলিয়ন)

একজন খেলোয়াড়ের পেছনে ১৮০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করা যে কোনো ক্লাবের জন্যই বড় ঝুঁকি। তবে কিলিয়ান এমবাপ্পের ক্ষেত্রে পিএসজির সেই বিনিয়োগকে ব্যর্থ বলা কঠিন।

২০১৭ সালে মোনাকো থেকে প্যারিসে যাওয়ার পর সাত বছর পিএসজির জার্সিতে খেলেছেন এমবাপ্পে। এই সময়ে ৩০৮ ম্যাচে করেছেন ২৫৬ গোল। এর মাধ্যমে ক্লাবটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও দখল করেন ফরাসি তারকা।

পিএসজিতে থাকা সময়ে একটি মৌসুম ছাড়া প্রতিবারই লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন এমবাপ্পে। চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিততে না পারলেও ঘরোয়া ফুটবলে দারুণ সাফল্য পেয়েছেন তিনি এবং পিএসজির হয়ে জিতেছেন ১৬টি ট্রফি।

১. নেইমার — বার্সেলোনা থেকে পিএসজি (€২২২ মিলিয়ন)

ফুটবলের ট্রান্সফার বাজারের চেহারাই বদলে দেওয়া চুক্তি। ২০১৭ সালে বার্সেলোনা থেকে নেইমারকে €২২২ মিলিয়নে দলে নেয় পিএসজি। আজও এটিই ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ট্রান্সফার।

বার্সেলোনায় থাকতেই চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা নেইমার প্যারিসে গিয়ে হয়ে ওঠেন পিএসজির সবচেয়ে বড় তারকা। কিন্তু বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত সাফল্য পুরোপুরি এনে দিতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

চোটের কারণে বারবার মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাঁকে। সবচেয়ে বড় আক্ষেপ, পিএসজিকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতে পারেননি নেইমার। ২০২০ সালে দলটি ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জিততে পারেনি।

ফলে €২২২ মিলিয়নের নেইমার-চুক্তি শুধু ফুটবলের সবচেয়ে দামি দলবদলই নয়, একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ‘যদি’ তৈরি করা ট্রান্সফারগুলোরও একটি।

কালের আলো/এসএ

বাজেটের অঙ্ক বড়, চিকিৎসার বোঝাও বড়

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
বাজেটের অঙ্ক বড়,  চিকিৎসার বোঝাও বড়

হাসপাতাল হয়েছে। নতুন ভবন উঠেছে। চিকিৎসা অবকাঠামো বেড়েছে। স্বাস্থ্য খাতের বাজেটও প্রতি বছর বড় হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসার বিল মেটাতে গিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কি একটু হালকা হয়েছে, নাকি আরও দ্রুত খালি হচ্ছে? পরিসংখ্যান বলছে, দ্বিতীয় ঘটনাটিই ঘটছে। বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল হেলথ এক্সপেনডিচার ডাটাবেজের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭৯ দশমিক ৩১ শতাংশই আসে রোগীর নিজস্ব পকেট থেকে।

  • রোগ সারাতে গিয়ে নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকি
  • স্বাস্থ্য বাজেট পৌঁছেছে ৪৯ হাজার কোটি টাকায়
  • রোগীর নিজের ব্যয় প্রায় ৮০ শতাংশ
  • ওষুধ, পরীক্ষা ও বেসরকারি চিকিৎসায় বাড়ছে পরিবারের চাপ

অর্থাৎ চিকিৎসায় খরচ হওয়া প্রতি ১০০ টাকার প্রায় ৮০ টাকাই পরিবারকে সরাসরি বহন করতে হচ্ছে। এক দশক আগেও পরিস্থিতি এতটা খারাপ ছিল না। ২০১২ সালে ব্যক্তিগত ব্যয়ের অংশ ছিল ৬৪ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৬৭ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ৬৯ শতাংশ। অর্থাৎ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়লেও মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ের দায় কমেনি উল্টো বেড়েছে।

বরাদ্দ বাড়ছে, রোগীর দায়ও বাড়ছে
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৪৯ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরেও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৬ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা। বাজেটের অঙ্ক তাই বাড়ছে। কিন্তু সেই বাড়তি অর্থের কতটা সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে যাচ্ছে—এই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।

স্বাস্থ্য অর্থনীতির হিসাবে, একটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার শক্তি শুধু মোট কত টাকা বরাদ্দ হলো, তা দিয়ে বোঝা যায় না। নাগরিককে চিকিৎসার সময় নিজের পকেট থেকে কতটা দিতে হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ সূচক। সেই সূচকেই বাংলাদেশের চিত্র উদ্বেগজনক।

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বড় চাপ
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে ব্যবধান আরও স্পষ্ট। বিশ্বব্যাংক-ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ‘আউট অব পকেট’ ব্যয় প্রায় ৭৯ শতাংশ। ভারতে এটি প্রায় ৪৯ শতাংশ, নেপালে ৫১ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৪৬ শতাংশ, ভুটানে ৪২ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮ শতাংশ।

অর্থাৎ একই অঞ্চলের অন্য দেশগুলো যেখানে রোগীর সরাসরি ব্যয়ের বোঝা কমিয়ে আনতে পেরেছে, বাংলাদেশ সেখানে উল্টো পথে হাঁটছে।

স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদদের মতে, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যক্তিগত ব্যয়ের অংশ ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। বাংলাদেশের বর্তমান হার সেই কাঙ্ক্ষিত সীমার প্রায় চার গুণ।

চিকিৎসার বিল মানেই পরিবারের আর্থিক ঝুঁকি
৭৯ শতাংশের এই সংখ্যা শুধু একটি অর্থনৈতিক সূচক নয়। এর পেছনে আছে অসংখ্য পরিবারের ভিন্ন ভিন্ন সংকট। কেউ চিকিৎসার খরচ মেটাতে সঞ্চয় ভাঙছেন, কেউ ঋণ করছেন, কেউ সম্পদ বিক্রি করছেন। আবার অর্থের অভাবে অনেকে চিকিৎসা পিছিয়ে দিচ্ছেন কিংবা প্রয়োজনীয় সেবা নিচ্ছেনই না। ফলে রোগ সারানোর খরচই অনেক সময় পরিবারের জন্য নতুন আর্থিক সংকট তৈরি করছে। জনস্বাস্থ্যবিদদের ভাষায়, এ ধরনের উচ্চ ব্যক্তিগত ব্যয় স্বাস্থ্যসেবাকে অধিকার থেকে সামর্থ্যের বিষয়ে পরিণত করে।

ওষুধ-পরীক্ষার খরচে চাপে পরিবার
রোগীর পকেট থেকে এত টাকা যাওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সরকারি হাসপাতালে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ওষুধ, পরীক্ষা ও সেবা পর্যাপ্তভাবে পাওয়া না গেলে রোগীকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হতে হয়। সেখানেই বাড়ে সরাসরি ব্যয়। চিকিৎসার বাণিজ্যিকীকরণ, ওষুধের মূল্য, ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার খরচ এবং কার্যকর স্বাস্থ্যবিমার অনুপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করছে।

ফলে একটি হাসপাতাল নির্মাণ বা শয্যা বাড়ানোর পরিসংখ্যান দিয়ে স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি মাপা হলেও রোগীর চিকিৎসা ব্যয় কমছে কি না, সেই হিসাব আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।

বাজেটের সাফল্য কোথায়?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. রুমানা হক বলেন, স্বাস্থ্য বাজেটকে শুধু টাকার অঙ্ক হিসেবে দেখলে হবে না। জনগণের জন্য সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত বাজেটের মূল লক্ষ্য। সরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ নিশ্চিত করা এবং ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা চালুর ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

অন্যদিকে, একই ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বড় বাজেট পাওয়া গেছে, এখন সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করতে হবে। স্বাস্থ্য সমস্যার অগ্রাধিকার চিহ্নিত করে ব্যয় এবং প্রতি তিন মাসে বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রকাশের ওপর জোর দেন তিনি।

এম/এএইচ

১৩ বছর বয়সে যিনি গাড়িতে তুলে নিয়েছিলেন, তিনিই এখন এমবাপ্পের কোচ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
১৩ বছর বয়সে যিনি গাড়িতে তুলে নিয়েছিলেন, তিনিই এখন এমবাপ্পের কোচ

ফ্রান্স জাতীয় দলের নতুন কোচ হিসেবে জিনেদিন জিদানকে পাওয়ার বিষয়টিকে ‘সিনেমার গল্পের মতো’ মনে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পে।

প্রায় ১৫ বছর আগে রিয়াল মাদ্রিদের যুব দলে ট্রায়াল দিতে গিয়ে প্রথমবার জিদানের সঙ্গে দেখা হয়েছিল এমবাপ্পের। সেই সময়ের পরিচিত জিদানই এখন ফ্রান্স জাতীয় দলের প্রধান কোচ। ক্যারিয়ারের এই দীর্ঘ পথচলায় এমন পরিবর্তনকে বিশেষ মুহূর্ত হিসেবেই দেখছেন এমবাপ্পে।

গাড়িতে তুলে নিয়েছিলেন জিদান

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুরোনো স্মৃতি মনে করেন এমবাপ্পে। তিনি জানান, রিয়াল মাদ্রিদের অনুশীলন কেন্দ্রে যাওয়ার সময় জিদানই প্রথম তাকে গাড়িতে তুলে নিয়েছিলেন।

তখন এমবাপ্পের বয়স ছিল মাত্র ১৩ বা ১৪ বছর। সেই সময়ের স্মৃতি এখনো তার মনে গেঁথে আছে। এত বছর পর সেই জিদানই জাতীয় দলের কোচ হওয়ায় বিষয়টিকে অবিশ্বাস্য এক যাত্রা হিসেবে দেখছেন তিনি।

এমবাপ্পের ভাষায়, বিষয়টি যেন সিনেমার গল্পের মতো। তবে সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার হলো, সেই গল্প বাস্তবেই ঘটছে।

জিদানের অধীনে নতুন অধ্যায়

তুরস্কের বিপক্ষে শুক্রবার উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচ দিয়ে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে প্রথমবার ডাগআউটে বসবেন জিদান। তার অধীনে নতুন একটি অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে ফ্রান্স।

নতুন কোচের অধীনে দলের লক্ষ্যও পরিষ্কার বলে জানিয়েছেন এমবাপ্পে। সামনে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য দুই বছর সময় রয়েছে তাদের।

‘নতুন প্রক্রিয়া শুরু করছি’

এমবাপ্পে বলেন, ফ্রান্স নতুন একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নেশনস লিগের চারটি ম্যাচকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুত করার পাশাপাশি নতুন কোচের সঙ্গে কাজের ধরনও বুঝে নেওয়ার সুযোগ পাবেন তারা।

২০২৮ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে এখন থেকেই দলকে প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন এমবাপ্পে।

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর নতুন শুরু

গত জুলাইয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় ফ্রান্স। সেই হতাশা পেছনে ফেলে এবার নতুনভাবে পথচলা শুরু করতে চাইছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

জিদানের মতো কিংবদন্তি ফুটবলারের অধীনে ফ্রান্সের নতুন অধ্যায় কেমন হয়, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা। আর সেই অধ্যায়ের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র এমবাপ্পে—যিনি কৈশোরে পাওয়া জিদানকে এবার জাতীয় দলের কোচ হিসেবেই পাশে পাচ্ছেন।

কালের আলো/এসএ

রাজনীতির পিচে নামছেন মোহাম্মদ শামি?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
রাজনীতির পিচে নামছেন মোহাম্মদ শামি?

ক্রিকেটের মাঠে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ মোহাম্মদ শামি। এবার তাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনীতিতে পা রাখার জল্পনা। ভারতের জাতীয় লোক দল (আরএলডি) সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে শামির সাক্ষাতের একটি ছবি প্রকাশ্যে আসার পরই নতুন করে এই আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে শামি বা আরএলডির পক্ষ থেকে এখনো রাজনীতিতে যোগ দেওয়া কিংবা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

জয়ন্তের সঙ্গে বৈঠক ঘিরেই যত আলোচনা

সম্প্রতি দিল্লিতে জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেন মোহাম্মদ শামি। পরে জয়ন্ত চৌধুরী নিজেই সামাজিক মাধ্যমে তাদের সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক মহলে শামির সম্ভাব্য রাজনৈতিক অভিষেক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে আমরোহা সদর আসন থেকে শামিকে প্রার্থী করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে বিষয়টি এখনো জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।

শামি নাকি ভাই হসিব?

শুধু মোহাম্মদ শামি নন, তার ভাই মোহাম্মদ হসিবের নামও আলোচনায় এসেছে। এর আগে হসিবের আমরোহা আসন থেকে আরএলডির সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে শামি নিজে নির্বাচনে না দাঁড়িয়ে ভাইকে রাজনীতির মাঠে নামাতে পারেন—এমন আলোচনাও চলছে।

তবে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে শামি ও তার ভাই—দুজনের পক্ষ থেকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ঘোষণা না থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আমরোহার সঙ্গে শামির পুরোনো সম্পর্ক

মোহাম্মদ শামির শিকড় উত্তরপ্রদেশের আমরোহায়। আমরোহা সদর তহসিলের সাহসপুর আলিনগর তার পারিবারিক এলাকা। ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে তাকে ঘিরে ‘নিজের এলাকার মানুষ’ হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার আলোচনা তৈরি হয়েছে।

শামির পরিবারেও স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার ইতিহাস রয়েছে। তার ভাই হসিব এর আগে জেলা পঞ্চায়েত নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন বলেও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে—নতুন অধ্যায়?

মোহাম্মদ শামি সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ২০২৫ সালের ৯ মার্চ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর থেকে জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলছেন তিনি।

এর মধ্যেই জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে শামির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্যের চেয়ে জল্পনাই বেশি।

অতএব, ক্রিকেটের মাঠে পরিচিত এই পেসার সত্যিই রাজনীতির মাঠে নামবেন কি না, নাকি জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎটি ছিল নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ—সেটির উত্তর মিলবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলেই।

কালের আলো/এসএ