খুঁজুন
                               
, ,
           

মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের নতুন প্রতিযোগিতা, বাড়ছে ‘স্পেস ওয়্যার’-এর আশঙ্কা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ
মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের নতুন প্রতিযোগিতা, বাড়ছে ‘স্পেস ওয়্যার’-এর আশঙ্কা

পৃথিবীর কয়েকশ মাইল ওপরে মহাকাশে একটি ছোট স্যাটেলাইট মোতায়েনের পর সেটিকে নিয়ে একটি চীনা কৃত্রিম উপগ্রহকে প্রদক্ষিণ করে আবার নিজস্ব মহাকাশযানের দিকে ফিরে গেছে একটি গোপনীয় চীনা মহাকাশযান। জুনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করেছে মার্কিন মহাকাশ-ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান লিওল্যাবস।

ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো অজানা। তবে মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই গোপনীয় মনুষ্যবিহীন মহাকাশযান এবং যুক্তরাষ্ট্রের একই ধরনের গোপন মহাকাশযান—দুটিই ভবিষ্যতের সামরিক মহাকাশ অভিযানের দ্রুত পরিবর্তনশীল চিত্র তুলে ধরছে।

রয়টার্সের নথি, মহাকাশ-ট্র্যাকিং তথ্য এবং বর্তমান ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সম্ভাব্য সংঘাত যেন পৃথিবীর সীমা ছাড়িয়ে মহাকাশেও বিস্তৃত হতে পারে—এমন প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন ও বেইজিং।

সামরিক সংশ্লিষ্ট চীনা গবেষকেরা এমন প্রযুক্তি উন্নয়ন করছেন, যার মাধ্যমে একটি স্যাটেলাইট অন্য মহাকাশযানকে অনুসরণ, এমনকি ধরে ফেলতে পারবে। কিছু গবেষণায় এমন ব্যবস্থার কথাও উঠে এসেছে, যা মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইটকে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ করতে পারে।

পেটেন্ট-সংক্রান্ত নথি, সামরিক ক্রয়সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি এবং একাডেমিক গবেষণাপত্র পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পেয়েছে রয়টার্স।

মার্কিন স্পেস ফোর্সের প্রধান জেনারেল চান্স সাল্টজম্যান জুলাইয়ে বলেন, চীন দ্রুত মহাকাশ সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। স্থল ও মহাকাশ—উভয় জায়গা থেকেই লক্ষ্যবস্তুতে হস্তক্ষেপ বা তা ধ্বংস করার মতো অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করছে বেইজিং। তাঁর ভাষায়, চীনের হুমকি ‘উল্লেখযোগ্য’।

ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো দেখিয়েছে, আধুনিক সামরিক ব্যবস্থায় স্যাটেলাইট কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক দশক ধরে স্যাটেলাইট যোগাযোগ, নেভিগেশন ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

কিন্তু এখন সামরিক শক্তিগুলো স্যাটেলাইটকে শুধু সহায়ক অবকাঠামো হিসেবে দেখছে না। এগুলোকে সক্রিয় সামরিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।

শত্রুর স্যাটেলাইটের কার্যক্রমে জ্যামিং করা, লেজার দিয়ে সেন্সর অকার্যকর করা কিংবা সরাসরি অন্য মহাকাশযানকে ধরে ফেলার মতো সক্ষমতা তৈরির চেষ্টা চলছে।

মার্কিন বিমানবাহিনীর এয়ার ওয়ার কলেজের সাবেক অধ্যাপক এভারেট ডলম্যান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সক্ষমতা ব্যাহত করা গেলে পৃথিবীতে পরিচালিত মার্কিন সামরিক ব্যবস্থার বড় অংশ অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে।

তাঁর মতে, মহাকাশযানগুলো দ্রুত গতিপথ পরিবর্তন করতে এবং স্যাটেলাইট বা মালামাল বহন করতে পারে বলে ভবিষ্যতে এগুলোকে ‘স্পেস ফাইটার’ হিসেবেও দেখা হতে পারে।

মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সহযোগিতাও বাড়ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য মহাকাশে প্রথমবারের মতো যৌথ সামরিক অভিযান পরিচালনা করে।

মহাকাশ-গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান স্লিংশট অ্যারোস্পেসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর একটি ঘাঁটি থেকে মার্কিন মহাকাশ বাহিনী একটি স্যাটেলাইটকে যুক্তরাজ্যের একটি স্যাটেলাইটের খুব কাছে নিয়ে যায়। একই সময়ে চীনের Shiyan 12-01 স্যাটেলাইটটি তাদের প্রায় ৮৩ কিলোমিটার নিচ দিয়ে অতিক্রম করে।

তিনজন সাবেক সামরিক মহাকাশ বিশেষজ্ঞ রয়টার্সকে বলেছেন, এই অভিযানটি চীনের প্রতি একটি কৌশলগত বার্তা হয়ে থাকতে পারে।

সাবেক ব্রিটিশ বিমানবাহিনী কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু টার্নারের মতে, এটি প্রায় নিশ্চিতভাবেই চীনকে মিত্রদের ঐক্য, সক্ষমতা এবং ব্রিটিশ স্যাটেলাইটে হস্তক্ষেপ না করার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়ার একটি কৌশলগত সংকেত ছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন যৌথ অভিযানটির কথা প্রকাশ্যে জানালেও চীনা স্যাটেলাইটের কাছাকাছি পরিচালনার বিষয়টি প্রকাশ করেনি।

মার্কিন স্পেস কমান্ডের প্রধান জেনারেল স্টিফেন হোয়াইটিং বারবার সতর্ক করে বলেছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো এমন সক্ষমতা তৈরি করছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা অকার্যকর করা সম্ভব হতে পারে।

তাঁর মতে, সম্ভাব্য কোনো সংঘাতের শুরুতেই প্রতিপক্ষ মার্কিন মহাকাশ সম্পদে হামলা চালানোর চেষ্টা করতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু মহাকাশ সম্পদ রক্ষার জন্য নয়, প্রয়োজনে শত্রুর মহাকাশ সম্পদকে হুমকি বা আঘাত করার সক্ষমতাও রাখতে হবে।

পশ্চিমা কর্মকর্তারা মহাকাশে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে স্থলভিত্তিক লেজার, ইলেকট্রনিক জ্যামার, সাইবার হামলা এবং অ্যান্টি-স্যাটেলাইট ক্ষেপণাস্ত্রের কথা উল্লেখ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া—তিন দেশই এমন চালনাযোগ্য স্যাটেলাইট পরিচালনা করছে, যেগুলো অন্য মহাকাশযানের কাছে গিয়ে সেটি পর্যবেক্ষণ করতে পারে। ভবিষ্যতে এসব প্রযুক্তি লেজার বা অন্য অস্ত্র বহনের জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে বলে পশ্চিমা কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে নিজস্ব সক্ষমতার একটি বিরল তথ্য প্রকাশ করেছে। জুনে মার্কিন স্পেস ফোর্স জানায়, তারা L3Harris Technologies-এর তৈরি একটি স্থলভিত্তিক তড়িৎচৌম্বক অস্ত্র ব্যবস্থায় সক্ষমতা যুক্ত করেছে, যা প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইটকে অকার্যকর বা বিঘ্নিত করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের প্রধান মহাকাশ শক্তি হলেও চীন দ্রুত স্যাটেলাইটের সংখ্যা এবং মহাকাশ মিশনের জটিলতা বাড়াচ্ছে।

চীনা স্যাটেলাইটগুলো এমন কৌশল প্রদর্শন করেছে, যাকে মার্কিন কর্মকর্তারা কক্ষপথের ‘ডগফাইটিং’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। এতে একাধিক স্যাটেলাইট সমন্বিতভাবে খুব কাছাকাছি অবস্থানে চলাচল করে।

চীনের মহাকাশযান একটি অকেজো স্যাটেলাইটকে ধরে সেটির কক্ষপথ পরিবর্তন করতেও সক্ষম হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত বছর চীন কক্ষপথে স্যাটেলাইটে জ্বালানি সরবরাহের সম্ভাব্য একটি পরীক্ষাও চালিয়েছে বলে এক মার্কিন মহাকাশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। সফলভাবে এ প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে পারলে তা হবে বড় ধরনের অগ্রগতি। কারণ সাধারণত উৎক্ষেপণের সময় একটি স্যাটেলাইট যতটুকু জ্বালানি বহন করে, তার কার্যক্ষমতা অনেকটাই তার ওপর নির্ভর করে।

জ্বালানি পুনরায় সরবরাহের সুযোগ তৈরি হলে কোনো স্যাটেলাইট দীর্ঘ সময় ধরে অন্য মহাকাশযানকে অনুসরণ বা পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।

চীনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো একই সঙ্গে আরও উন্নত ‘পর্স্যুট স্যাটেলাইট’ বা অনুসরণকারী উপগ্রহ তৈরির কাজ করছে। কিছু পেটেন্ট নথিতে এমন ধারণার কথাও রয়েছে, যেখানে একাধিক মহাকাশযান জাল ব্যবহার করে অন্য স্যাটেলাইটকে ধরে ফেলতে পারে।

চীনের সামরিক ঘনিষ্ঠ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান এসব প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছে বলে রয়টার্সের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে।

মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি পৃথিবীর কক্ষপথও দ্রুত ভিড়ে পরিণত হচ্ছে। স্পেসএক্সের স্টারলিংক নেটওয়ার্কে বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার স্যাটেলাইট রয়েছে এবং ভবিষ্যতে মহাকাশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সক্ষম বড় ডেটা সেন্টারের নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

চীনও এর প্রতিদ্বন্দ্বী স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় মহাকাশভিত্তিক প্রতিরোধক ব্যবস্থার ধারণা রয়েছে।

ফলে মহাকাশ এখন আর শুধু গবেষণা বা যোগাযোগের ক্ষেত্র নয়; ক্রমেই এটি সামরিক শক্তি, প্রতিরোধ এবং সম্ভাব্য সংঘাতের নতুন মঞ্চে পরিণত হচ্ছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা মহাকাশের অস্ত্রায়নের বিরোধিতা করে এবং শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের পক্ষে। একই সঙ্গে বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের ‘গোল্ডেন ডোম’সহ বিভিন্ন উদ্যোগকে মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা উসকে দেওয়ার জন্য দায়ী করেছে।

তবে বাস্তবতা হলো—যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও তাদের মিত্ররা মহাকাশে নিজেদের সক্ষমতা দ্রুত বাড়াচ্ছে। আর এই প্রতিযোগিতা যত এগোচ্ছে, ভবিষ্যতের কোনো বড় সামরিক সংঘাত পৃথিবীর পাশাপাশি মহাকাশেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ততই বাড়ছে।

সূত্র: Reuters

কালের আলো/এসএ

হরমুজ প্রণালিতে সৌদি তেলবাহী জাহাজে ইরানের হামলার অভিযোগ, নিহত কয়েক ক্রু

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
হরমুজ প্রণালিতে সৌদি তেলবাহী জাহাজে ইরানের হামলার অভিযোগ, নিহত কয়েক ক্রু

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় সৌদি আরবের একটি তেলবাহী জাহাজে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে রিয়াদ। ‘সিদর’ নামের ওই জাহাজে হামলায় কয়েকজন ক্রু নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সৌদি আরব।

বুধবার সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। জাহাজে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রিয়াদ বলেছে, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে এ ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

সৌদি আরব একই সঙ্গে জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে ইরানের সামরিক হামলারও নিন্দা জানিয়েছে। এসব দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় তারা যেসব পদক্ষেপ নেবে, তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে রিয়াদ।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হয়।

রিয়াদ সমুদ্রপথে নিরাপদ ও অবাধ বাণিজ্য এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে।

সৌদি আরব বর্তমান সামরিক উত্তেজনা বন্ধ করে সংঘাতের সমাধানে শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে যাওয়ার জন্য সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ সংযম দেখানোরও আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

সিদর জাহাজে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে কাতার। দোহা বলেছে, জাহাজটিতে হামলা এবং কয়েকজন ক্রুর নিহত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন ও সমুদ্রপথে অবাধ নৌ চলাচলের নীতির লঙ্ঘন।

হরমুজ প্রণালিকে কোনো পক্ষের ওপর চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছে কাতার। গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক জলপথ অবিলম্বে ও কোনো শর্ত ছাড়াই আবার খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

কাতার আরও বলেছে, ইরানের উচিত প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর সম্পদের ওপর হামলা বন্ধ করা। একই সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে দোহা এবং সৌদি আরব তার নিরাপত্তা, সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেসব পদক্ষেপ নেবে, তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

সিদর জাহাজে হামলার ঘটনায় কুয়েতও নিন্দা জানিয়েছে। দেশটি সতর্ক করে বলেছে, সমুদ্রে হামলা ও সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ এবং অবাধ নৌ চলাচল মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে।

কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা ও অবাধ নৌ চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিয়েছে দেশটি।

সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলার অভিযোগ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

এর আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন এবং ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে।

তেহরানের দাবি, এসব হামলা যুক্তরাষ্ট্রের আগের সামরিক অভিযানের জবাবে চালানো হয়েছে। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ওই অভিযানে ১৮ জন নিহত হয়েছেন।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় সেখানে সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক তেলবাজার, জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: এএনআই

কালের আলো/এসএ

২১ দেশে বছরে ২ কোটি শিশু অনলাইনে যৌন নির্যাতনের শিকার: ইউনিসেফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
২১ দেশে বছরে ২ কোটি শিশু অনলাইনে যৌন নির্যাতনের শিকার: ইউনিসেফ

বিশ্বের ২১টি দেশে প্রতি বছর প্রায় দুই কোটি শিশু অনলাইনে অন্তত এক ধরনের যৌন শোষণ বা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরিপে অংশ নেওয়া ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় প্রতি পাঁচজনের একজন অনলাইনে যৌন শোষণ বা নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও পূর্ব ইউরোপের ২১টি দেশের তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে।

ইউনিসেফের হিসাবে, প্রায় দেড় কোটি শিশু অনিচ্ছাকৃতভাবে যৌন বিষয়বস্তুর মুখোমুখি হয়েছে। প্রায় ৯০ লাখ শিশুকে যৌন আলাপ বা যৌন ছবি শেয়ার করতে চাপ দেওয়া হয়েছে। আর প্রায় ৪০ লাখ শিশুর যৌন ছবি তাদের সম্মতি ছাড়াই অন্যদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইউনিসেফ আশঙ্কা করছে, বিশ্বজুড়ে এ ধরনের নির্যাতনের প্রকৃত শিকার শিশুর সংখ্যা কয়েক কোটি হতে পারে। কারণ, অনেক শিশু ভয়, লজ্জা কিংবা সামাজিক চাপের কারণে এসব ঘটনা প্রকাশ করে না বা কর্তৃপক্ষকে জানায় না।

প্রতিবেদনে ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২১টি দেশে প্রায় ২১ হাজার ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশুর ওপর পরিচালিত জাতীয় প্রতিনিধিত্বশীল জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। দেশগুলোর মধ্যে কেনিয়া, পাকিস্তান, ব্রাজিল ও সার্বিয়াও রয়েছে।

ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে শিশুদের যৌন শোষণ ও নির্যাতনের প্রায় ৬০ শতাংশ ঘটনাই ঘটেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এসব ঘটনার মধ্যে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার রয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১৪ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মে।

তবে মেটার এক মুখপাত্র ইউনিসেফের জরিপের তথ্যের বড় একটি অংশ পুরোনো বলে দাবি করেছেন।

মেটা জানিয়েছে, কিশোরদের সুরক্ষায় তাদের প্ল্যাটফর্মগুলোতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরদের অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যক্তিগত রাখা এবং অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্কদের কাছ থেকে বার্তা আসা ঠেকানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

কোম্পানিটির দাবি, শিশুদের যৌন শোষণ প্রতিরোধে তাদের সব প্ল্যাটফর্মে কঠোরভাবে কাজ চলছে। পাশাপাশি শিশু নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

কালের আলো/এসএ

 

শতবর্ষে মহানায়ক উত্তম কুমার, আজও বাঙালির হৃদয়ে অমর

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ
শতবর্ষে মহানায়ক উত্তম কুমার, আজও বাঙালির হৃদয়ে অমর

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবার্ষিকী আজ। ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতায় জন্ম নেওয়া এই অভিনেতা তাঁর অনন্য অভিনয়, হাসিমাখা মুখ ও মোহময় পর্দা-উপস্থিতির মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্মের দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।

উত্তম কুমারের প্রকৃত নাম অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়। তিনি ছিলেন সতকারী চট্টোপাধ্যায় ও চাপলা দেবীর জ্যেষ্ঠ সন্তান। ১৯৪৮ সালে ‘দৃষ্টিদান’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু করেন তিনি। ‘মায়াডোর’ ছিল তাঁর প্রথম নায়ক হিসেবে অভিনীত চলচ্চিত্র, যদিও এটি মুক্তি পায়নি। পরে ‘বসু পরিবার’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি।

‘সাড়ে চুয়াত্তর’ চলচ্চিত্রে সুচিত্রা সেনের বিপরীতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি উত্তম-সুচিত্রার পথচলা। তাঁদের পর্দার রসায়ন ও অভিনয় দর্শকদের কাছে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়।

‘হারানো সুর’, ‘পথে হলো দেরি’, ‘চাওয়া পাওয়া’, ‘বিপাশা’, ‘জীবন তৃষ্ণা’, ‘সাগরিকা’ ও ‘সপ্তপদী’সহ তাঁদের বহু সিনেমা আজও বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে উত্তম কুমার দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে বদলে নিয়ে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’, ‘নায়ক’, ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘সপ্তপদী’, ‘ঝিন্দের বন্দী’, ‘হারানো সুর’, ‘সাগরিকা’, ‘চৌরঙ্গী’, ‘নিশিপদ্ম’, ‘বন পলাশীর পদাবলী’ এবং ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে।

সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গেও কাজ করেছেন উত্তম কুমার। ‘নায়ক’ চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় আজও বাংলা সিনেমার অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনয় হিসেবে বিবেচিত। ‘চিড়িয়াখানা’য় তিনি গোয়েন্দা ব্যোমকেশ বক্সীর চরিত্রেও অভিনয় করেন।

বাংলার পাশাপাশি হিন্দি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য হিন্দি সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘অমানুষ’, ‘ছোটি সি মুলাকাত’ ও ‘আনন্দ আশ্রম’।

অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতের প্রতিও উত্তম কুমারের গভীর আগ্রহ ছিল। নিজের অভিনীত চলচ্চিত্রে তিনি কয়েকটি গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন।

দেবকী কুমার বসু পরিচালিত ‘নবজন্ম’ চলচ্চিত্রে ১৯৫৬ সালে নচিকেতা ঘোষের সুরে তিনি ছয়টি গান গেয়েছিলেন। এর মধ্যে ‘কানু কহে রাই, কহিতে ডরাই’ এবং ‘আমি আঙুল কাটিয়া’ উল্লেখযোগ্য।

অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে উত্তম কুমার পেয়েছেন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার। ১৯৬৭ সালে ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’ ও ‘চিড়িয়াখানা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। সে সময় এই পুরস্কার ‘ভারত পুরস্কার’ নামে পরিচিত ছিল।

এর আগে ১৯৫৭ সালে অজয় কর পরিচালিত ‘হারানো সুর’-এ অভিনয়ের জন্য তিনি পেয়েছিলেন প্রেসিডেন্টস সার্টিফিকেট অব মেরিট।

উত্তম কুমার গৌরী দেবীকে বিয়ে করেছিলেন। তাঁদের একমাত্র সন্তান গৌতম চট্টোপাধ্যায় পরবর্তীতে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ৫৩ বছর বয়সে মারা যান। উত্তম কুমারের একমাত্র নাতি অভিনেতা গৌরব চট্টোপাধ্যায়।

১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন মহানায়ক উত্তম কুমার। জীবনের শেষ ১৭ বছর অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের মধ্যে ছিলেন তিনি।

মৃত্যুর চার দশকেরও বেশি সময় পরও উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। তাঁর সিনেমা এখনো দর্শক দেখে, তাঁর অভিনয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং বাংলা জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে তাঁর উপস্থিতি এখনো গভীরভাবে অমলিন।

শতবর্ষে এসেও তাই উত্তম কুমার শুধু একজন অভিনেতার নাম নন—তিনি বাঙালির চলচ্চিত্র-স্মৃতি, আবেগ ও ভালোবাসার এক চিরন্তন প্রতীক।

কালের আলো/এসএ