খুঁজুন
                               
, ,
           

জাতিসংঘে সবার আগে বাংলাদেশ নীতি তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী: শামা ওবায়েদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘে সবার আগে বাংলাদেশ নীতি তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী: শামা ওবায়েদ

আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির আওতায় দেশের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও উন্নয়নের সুযোগ বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলন ও বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

শামা ওবায়েদ বলেন, এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি নতুন যাত্রা, নতুন সম্ভাবনা ও নতুন আকাঙক্ষার প্রতীক। নতুন গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন। সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির আলোকে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল এবং সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করবেন।

২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। এবারের অধিবেশনে দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারী প্রতিরোধ, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং টেকসই উন্নয়ন অধিকার ঘোষণার ৪০তম বার্ষিকীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের অধিবেশনটি বাংলাদেশের জন্য বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে। কারণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।

এই নির্বাচনকে জাতীয় গৌরবের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাইপ্রাস প্রায় এক দশক ধরে এই পদের জন্য প্রচারণা চালালেও বাংলাদেশ এই সভাপতিত্ব লাভ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদেশে বাংলাদেশের ৮৩টি মিশনের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসার কারণেই এই কূটনৈতিক সাফল্য সম্ভব হয়েছে।

শামা ওবায়েদ আরও বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মিশনগুলোতে নারীসহ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সাহস, সহনশীলতা ও আত্মত্যাগের কারণে জাতিসংঘে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিশেষ সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছে।

অর্থনৈতিক কূটনীতির বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনতে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের ওয়ান-স্টপ সেবা দিতে সরকার ‘বাংলাদেশ ইনভেস্ট’ ফ্রেমওয়ার্ক চালু করেছে এবং কোম্পানি নিবন্ধনসহ বিনিয়োগ সংক্রান্ত অন্যান্য প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল সুবিধা সম্প্রসারণ করছে। এছাড়া নাগরিকদের সব তথ্য একটি একক ডেটাবেজে নিয়ে আসতে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ উদ্যোগের কাজ চলছে।

শামা ওবায়েদ জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা সহজতর করতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ২০২৭ সালের মধ্যে ২ লাখ ‘প্রবাসী কার্ড’ ইস্যু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের বিনিয়োগের সুযোগ, ঐতিহ্য, পর্যটন, সৃজনশীল শিল্প এবং রফতানিযোগ্য পণ্যগুলোর প্রচারণায় প্রবাসীদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক ব্যবহারের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজ বাড়ির পাশেই মাদক বন্ধ করতে ব্যর্থ: ডা. শফিক

কুমিল্লা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজ বাড়ির পাশেই মাদক বন্ধ করতে ব্যর্থ: ডা. শফিক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তার নিজের জেলা ও বাড়ির পাশেই মাদকের চালান বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোডে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরীর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে এ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশ মাদকে ভরে গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ জেলা ও বাড়ির পাশের মাদকের চালান বন্ধ করতে পারছেন না। আমাদের যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। যুবসমাজকে বাঁচান, দেশকে বাঁচান।’

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লাসহ সারাদেশের মানুষ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংকটে ভুগছে। জনগণের এসব সমস্যা সমাধানের দাবিতে তারা রাস্তায় নেমেছেন।’

কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘কুমিল্লা বিভাগের দাবি উঠেছিল ১৯৯৪ সালে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। সরকারের উদ্দেশে বলছি, কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করুন। পাশের কোনো জেলার যদি দাবি থাকে, তাদেরও দিয়ে দেন। কুমিল্লা বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করে দ্রুত বাস্তবায়ন করুন।’

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে সরকার অনেক কথা দিয়েছিল, কিন্তু সেগুলো রাখেনি। তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। কুমিল্লায় এখনো চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি রয়েছে।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, জনতার বিজয় হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমরা সব দাবি আদায় করব, ইনশাআল্লাহ। জনতা আমাদের সঙ্গে আছে, আমরা গন্তব্যে পৌঁছাব।’

পথসভায় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, লংমার্চে তারা অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছেন। মানুষ তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করছে। সরকার ১৮০ দিনে দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে এবং কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘সরকারের মন্ত্রীদের সন্তানরা চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিতে জড়িত এবং তারা সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ঢাকায়ও লংমার্চের ডাক দেব।’

এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, ‘দেশ চাঁদাবাজি, খুন-রাহাজানিতে ভরে গিয়ে জাহান্নামে পরিণত হয়েছে।’

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকার জনগণের রায়কে উপেক্ষা করলে জনগণ সরকারকে প্রত্যাখ্যান করবে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করবে জনগণ।’

পথসভায় আরও বক্তব্য দেন- এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চের বহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। লংমার্চের রুটে পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। ফেনীর মহীপাল, মীরসরাই এবং সবশেষ চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সরকার ও বিএনপিকে ঘিরে বাড়ছে অপতথ্যের বিস্তার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
সরকার ও বিএনপিকে ঘিরে বাড়ছে অপতথ্যের বিস্তার

সরকার ও বিএনপিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও বিকৃত কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কখনো পুরনো কোনো ভিডিওকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনার দৃশ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, আবার কখনো প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের ফটোকার্ডের আদল নকল করে ছড়ানো হচ্ছে মনগড়া বক্তব্য। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাস্তব ঘটনার সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাখ্যা জুড়ে দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিভ্রান্তি।

সম্প্রতি প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম ‘বাংলাফ্যাক্ট’-এর যাচাইয়ে এমন একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। এসব ঘটনা পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয়, সরকার ও বিএনপিকে কেন্দ্র করে অনলাইনে তথ্য বিভ্রান্তির অন্যতম প্রধান কৌশল হচ্ছে পুরনো কনটেন্টকে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া।

সত্য ভিডিও, মিথ্যা পরিচয়
তারেক রহমানের কার্যালয়ে দুপুরের খাবারের দৃশ্য দাবি করে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নয়। এটি তাঁর সিলেট সফরের সময় শ্বশুরবাড়িতে আপ্যায়নের দৃশ্য। অর্থাৎ ভিডিওটি বাস্তব হলেও এর সঙ্গে যে স্থান ও প্রেক্ষাপট জুড়ে দেওয়া হয়েছে, সেটিই বিভ্রান্তিকর। বিএনপিকে দায়ী করে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতেও একই প্রবণতা দেখা যায়। ভিডিওটি বর্তমান সরকারের সময়ের ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হলেও যাচাইয়ে সেটি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তরায় সংঘটিত একটি হামলার পুরনো দৃশ্য বলে উঠে আসে। ফলে একটি বাস্তব ঘটনার ভিডিও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নতুন পরিচয় পেয়েছে।

ফটোকার্ডেই যখন বদলে যায় সংবাদ
খালেদা জিয়াকে ঘিরে চ্যানেল ২৪-এর একটি ফটোকার্ড বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও অনলাইনে তথ্য কারসাজির আরেকটি দিক সামনে আনে। মূল ফটোকার্ডের বক্তব্য পরিবর্তন করে সেটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন তা গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর। এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর কাছে মিথ্যা তথ্যও নির্ভরযোগ্য সংবাদ হিসেবে প্রতীয়মান হতে পারে। এই ধরনের কনটেন্টের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর দৃশ্যমান বিশ্বাসযোগ্যতা। পরিচিত সংবাদমাধ্যমের লোগো, ডিজাইন ও ফরম্যাট ব্যবহার করায় উৎস যাচাই না করলে প্রকৃত ও বিকৃত কনটেন্টের পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে।

গুজবের পরিধি রাজনীতির বাইরেও সরকার ও বিএনপিকে ঘিরে
রাজনৈতিক অপতথ্যের পাশাপাশি অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাত নিয়েও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়ানোর প্রবণতা রয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ আমলের ব্যাংকিং অনিয়ম, ঋণখেলাপি ও আর্থিক দুর্নীতির তথ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের অনিয়ম এবং হিসাবগত বিভিন্ন ব্যবস্থার কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী নিরীক্ষা ও সম্পদের মান যাচাইয়ে তার কিছুটা স্পষ্ট চিত্র সামনে আসে।

মেরুকরণ যত বাড়ে, গুজবের ঝুঁকিও তত বেশি
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে যে তীব্র বিভাজন তৈরি হয়েছে, তার সুযোগ নিচ্ছে অপতথ্য ছড়ানোকারীরা। কখনো সরকার, কখনো বিএনপি কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে লক্ষ্য করে ছড়ানো হচ্ছে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট। সমর্থন কিংবা বিরোধিতার আবেগে অনেক ব্যবহারকারী তথ্য যাচাই না করেই এসব পোস্ট শেয়ার করছেন। ফলে একটি গুজব খুব অল্প সময়েই ব্যাপক মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিতর্ক ও সমালোচনা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু সেই বিতর্ক যখন পুরনো ভিডিও, বিকৃত ছবি কিংবা মনগড়া তথ্যের ওপর দাঁড়ায়, তখন তা শুধু জনমতকে বিভ্রান্ত করে না, রাজনৈতিক অবিশ্বাসও বাড়ায়।

সরকার ও বিএনপিকে ঘিরে অনলাইনে গুজবের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাই বিচ্ছিন্ন কিছু উদাহরণ নয়; বরং রাজনৈতিক মেরুকরণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকা একটি বড় তথ্যগত সংকেত। এই বাস্তবতায় কোনো রাজনৈতিক দাবি দেখলেই তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বাস বা প্রচার না করে উৎস, সময় ও প্রেক্ষাপট যাচাই করাই হতে পারে অপতথ্যের বিস্তার ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

কালের আলো/এম/এএইচ

আইনের সীমাবদ্ধতায় মাদক কারবারিদের বেশিদিন আটক রাখা যায় না: আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
আইনের সীমাবদ্ধতায় মাদক কারবারিদের বেশিদিন আটক রাখা যায় না: আইজিপি

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। কিন্তু আইনের ফাঁকফোকরের কারণে মাদক কারবারিদের বেশিদিন আটক রাখা সম্ভব না বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত ‘আমার শহর, আমার দেশ-পরিচ্ছন্নতায় বদলে যায় বাংলাদেশ’ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আইজিপি।

আইজিপি বলেন, ‘মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের একাধিকবার আইনের আওতায় আনা হলেও আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের দীর্ঘদিন আটক রাখা সম্ভব হয় না। পরে তারা আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। প্রত্যেক মাদক কারবারি ও প্রত্যেক ছিনতাইকারী একাধিকবার আইনের আওতায় এসেছে। কিন্তু আইনের ফাঁকফোকরের কারণে তাদের ওইভাবে আটকে রাখতে পারিনি। তারা আবার বের হয়ে একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা খুবই কম। প্রায় এক হাজার মানুষের জন্য একজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।’

মাদককে নতুন প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, মাদক নতুন প্রজন্মকে ধ্বংস করছে। ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক নানা নামে তরুণদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় এগুলোকে ‘এনার্জি ট্যাবলেট’ বা আকর্ষণীয় অন্য কোনো নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সন্তানদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে আইজিপি বলেন, ‘শুধু লোক দেখানো বা প্রচারের জন্য নয়, বাস্তবে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই এ ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষণ কমাতে বেশি করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।’

শিক্ষার্থীদের শুধু পুথিগত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। নতুন প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন আইজিপি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আজ ৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা শহর ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের জন্য একটি মাইলফলক।

তিনি বলেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু গাছ লাগানো নয়, পুরো ঢাকা শহরে একটি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়েছে। কমিউনিটি পুলিশ ও কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পেইন ঢাকা শহরের প্রতিটি আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়বে বলে তিনি আশা করেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, পরিবেশ ভালো রাখতে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সবুজায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা কোনো বিষয়ে গুরুত্ব দিলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। একইভাবে নগরবাসী ঢাকাকে নিজের শহর মনে করে ভালোবাসলে শহরের পরিবর্তনও সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে একটি নিমগাছ রোপণ করেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।

এ সময় কমিউনিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ