খুঁজুন
                               
, ,
           

আইনের সীমাবদ্ধতায় মাদক কারবারিদের বেশিদিন আটক রাখা যায় না: আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
আইনের সীমাবদ্ধতায় মাদক কারবারিদের বেশিদিন আটক রাখা যায় না: আইজিপি

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। কিন্তু আইনের ফাঁকফোকরের কারণে মাদক কারবারিদের বেশিদিন আটক রাখা সম্ভব না বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত ‘আমার শহর, আমার দেশ-পরিচ্ছন্নতায় বদলে যায় বাংলাদেশ’ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আইজিপি।

আইজিপি বলেন, ‘মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের একাধিকবার আইনের আওতায় আনা হলেও আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের দীর্ঘদিন আটক রাখা সম্ভব হয় না। পরে তারা আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। প্রত্যেক মাদক কারবারি ও প্রত্যেক ছিনতাইকারী একাধিকবার আইনের আওতায় এসেছে। কিন্তু আইনের ফাঁকফোকরের কারণে তাদের ওইভাবে আটকে রাখতে পারিনি। তারা আবার বের হয়ে একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা খুবই কম। প্রায় এক হাজার মানুষের জন্য একজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।’

মাদককে নতুন প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, মাদক নতুন প্রজন্মকে ধ্বংস করছে। ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক নানা নামে তরুণদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় এগুলোকে ‘এনার্জি ট্যাবলেট’ বা আকর্ষণীয় অন্য কোনো নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সন্তানদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে আইজিপি বলেন, ‘শুধু লোক দেখানো বা প্রচারের জন্য নয়, বাস্তবে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই এ ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষণ কমাতে বেশি করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।’

শিক্ষার্থীদের শুধু পুথিগত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। নতুন প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন আইজিপি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আজ ৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা শহর ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের জন্য একটি মাইলফলক।

তিনি বলেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু গাছ লাগানো নয়, পুরো ঢাকা শহরে একটি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়েছে। কমিউনিটি পুলিশ ও কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পেইন ঢাকা শহরের প্রতিটি আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়বে বলে তিনি আশা করেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, পরিবেশ ভালো রাখতে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সবুজায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা কোনো বিষয়ে গুরুত্ব দিলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। একইভাবে নগরবাসী ঢাকাকে নিজের শহর মনে করে ভালোবাসলে শহরের পরিবর্তনও সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে একটি নিমগাছ রোপণ করেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।

এ সময় কমিউনিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পাকিস্তানকে ৫-১ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের টানা দ্বিতীয় জয়

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানকে ৫-১ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের টানা দ্বিতীয় জয়

ছেলেরা টানা দুই ম্যাচে হারলেও জুনিয়র এশিয়া কাপে দারুণ ছন্দে রয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী হকি দল। প্রথম ম্যাচে চায়নিজ তাইপেকে ৭-০ গোলে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানকে ৫-১ গোলে হারিয়েছে তারা।

চীনের মোকি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে ম্যাচের নবম মিনিটে নূপুরের ফিল্ড গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে নাদিরা এমা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ৩৩ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে সারিকা রিমনের গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

৪১ মিনিটে পাকিস্তান একটি গোল শোধ করলেও বাংলাদেশ দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। দুই মিনিট পর কণা আক্তারের গোলে ব্যবধান আবার বাড়ে। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে আইরিন আক্তার বাংলাদেশের পঞ্চম গোলটি করেন।

টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে চ্যালেঞ্জার পুলের শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। এই পুলে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে কাজাখস্তান, পাকিস্তান, চায়নিজ তাইপে ও হংকং।

টুর্নামেন্টে এটি বাংলাদেশের মেয়েদের দ্বিতীয় অংশগ্রহণ। ২০২৪ সালের আসরে নবম হয়েছিল তারা। এবারের ১০ দলের প্রতিযোগিতায় চ্যালেঞ্জার পুলের শীর্ষ তিন দল ও এলিট পুলের পাঁচ দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে।

কালের আলো/এসএ

বিজেপি কি আবার কট্টর হিন্দুত্বের পথে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
বিজেপি কি আবার কট্টর হিন্দুত্বের পথে?

ভারতে রাজনৈতিক চাপ ও বিরোধীদের ক্রমবর্ধমান তৎপরতার মধ্যে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) আবারও কট্টর হিন্দুত্বের রাজনীতির দিকে ঝুঁকছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে দেড় শ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ ভেঙে ফেলা এবং বিভিন্ন রাজ্যে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর সাম্প্রতিক নানা তৎপরতা সেই আলোচনাকে জোরালো করেছে।

সাহারানপুরে সরকারি জমি দখলের অভিযোগে স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পর জেলা শাসকের কার্যালয়ের কাছে অবস্থিত মসজিদটি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। মসজিদ কর্তৃপক্ষ নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও তা খারিজ হয়। তবে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার সুযোগ না দিয়েই মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়েছে—এমন অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

আগামী বছরের শুরুতে উত্তর প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইস্যুতে অসন্তোষের পাশাপাশি বিরোধী সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠতাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি বিজেপির জন্য নির্বাচনী কৌশল হয়ে উঠছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

শুধু সাহারানপুর নয়, কাশী, মথুরা, সম্ভল ও মধ্যপ্রদেশের ভোজশালাসহ বিভিন্ন স্থানে মসজিদ বা মুসলিম স্থাপনার সঙ্গে হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনার সম্পর্ক খোঁজার উদ্যোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। এসব বিষয়ে কোথাও আইনি লড়াই চলছে, কোথাও আবার রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

এদিকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদও বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব নিয়ে কট্টর অবস্থান প্রকাশ করছে। সংগঠনটির নেতারা ‘ধর্ম যার যার, উৎসবও তার তার’ স্লোগানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দুর্গাপূজার মণ্ডপে আমিষ খাবারের স্টল এবং নবরাত্রির গরবা-ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানে মুসলমানদের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছেন। রামলীলায় অহিন্দু অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অংশগ্রহণ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে।

এসব বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে ভারতে ধর্মীয় বিভাজন ও রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে। বিরোধীদের অভিযোগ, বিজেপিবিরোধী জনঅসন্তোষ মোকাবিলায় কট্টর হিন্দুত্বকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে দলীয়ভাবে বড় কোনো অবস্থান এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

কালের আলো/এসএ

অক্ষয়-শিল্পার বিয়ে প্রায় ঠিকই হয়ে গিয়েছিল: নির্মাতা সুনীল

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
অক্ষয়-শিল্পার বিয়ে প্রায় ঠিকই হয়ে গিয়েছিল: নির্মাতা সুনীল

বলিউডের নব্বইয়ের দশকের আলোচিত জুটি অক্ষয় কুমার ও শিল্পা শেঠির প্রেমের সম্পর্ক বিয়ের পর্যায় পর্যন্ত গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন নির্মাতা সুনীল দর্শন। তবে ভুল–বোঝাবুঝির কারণে শেষ পর্যন্ত তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যায় বলে জানান তিনি।

১৯৯৯ সালে অক্ষয় কুমার ও শিল্পা শেঠিকে নিয়ে ‘জানওয়ার’ নির্মাণ করেছিলেন সুনীল দর্শন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, তখন অক্ষয় ও শিল্পার সম্পর্ক ভালোই চলছিল। তাঁর মনে হয়েছিল, দুজনের বিয়ে প্রায় ঠিক হয়ে গেছে। পরে কিছু ভুল–বোঝাবুঝির কারণে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।

নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে অক্ষয় ও শিল্পার প্রেমের খবর বলিউডে ব্যাপক আলোচিত ছিল। ‘ম্যায় খিলাড়ি তু আনাড়ি’, ‘ইনসাফ’ ও ‘জানওয়ার’-এর মতো সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেছেন তাঁরা।

অক্ষয়ের ক্যারিয়ারের কঠিন সময়ের কথাও স্মরণ করেন সুনীল। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে একাধিক সিনেমা ব্যর্থ হওয়ার পর ১৯৯৯ সালের ‘জানওয়ার’ তাঁর ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করে বলে মনে করেন এই নির্মাতা। সিনেমাটির সাফল্যের পর অক্ষয়ের তারকাখ্যাতি নতুন মাত্রা পায়। পরবর্তী সময়ে ‘হেরা ফেরি’ ও ‘ধড়কন’-এর মতো সিনেমাও মুক্তি পায়।

সুনীল জানান, অক্ষয়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ পেশাগত সম্পর্ক রয়েছে এবং মোট সাতটি সিনেমায় তিনি এই অভিনেতার সঙ্গে কাজ করেছেন।

এদিকে অক্ষয়ের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে একবার নিজেও ভুল–বোঝাবুঝিতে পড়েছিলেন সুনীল। ‘জানওয়ার’-এর পর তিনি হৃতিক রোশনকে নিয়ে সিনেমা করছেন—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে অক্ষয় পরিচালকের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানতে চান। পরে ভুল যোগাযোগের বিষয়টি পরিষ্কার হয় এবং অক্ষয় মজা করে সুনীলের সঙ্গে ১০০টি সিনেমা করার প্রতিশ্রুতি নেন বলে জানান নির্মাতা।

কালের আলো/এসএ