খুঁজুন
                               
, ,
           

মালয়েশিয়ার কাছে হেরে জুনিয়র এশিয়া কাপে বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় হার

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়ার কাছে হেরে জুনিয়র এশিয়া কাপে বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় হার

জুনিয়র এশিয়া কাপে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হেরেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ হকি দল। প্রথম ম্যাচে চীনের কাছে ৩-২ গোলে হারের পর রোববার মালয়েশিয়ার কাছে ৪-২ গোলে হেরেছে তারা।

চীনের মোকি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টারে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ২১ থেকে ২৩ মিনিটের মধ্যে দুটি গোল হজম করে বাংলাদেশ।

তবে ২৪ মিনিটে আবদুল্লাহ গোল করে ব্যবধান কমালে ম্যাচে ফেরার আশা জাগে বাংলাদেশের। তৃতীয় কোয়ার্টারে মেহেদী হাসানের ফিল্ড গোলে সেই আশা আরও জোরালো হয়। তাঁর গোলে ২-২ সমতায় ফেরে বাংলাদেশ।

কিন্তু শেষ কোয়ার্টারে আর সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ৪৮ ও ৫১ মিনিটে পরপর দুটি গোল করে মালয়েশিয়ার জয় নিশ্চিত করেন সুজাইনি ফাহমি। শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশের যুবারা।

টানা দুই ম্যাচ হেরে ‘বি’ গ্রুপে এখন কঠিন অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ। আগামী মঙ্গলবার নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে কাজাখস্তানের মুখোমুখি হবে তারা।

এ নিয়ে নবমবারের মতো জুনিয়র এশিয়া কাপে খেলছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য ১৯৯৬ সালে সেমিফাইনালে খেলা।

এবারের ১০ দলের আসরে ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে পাকিস্তান, চীন, মালয়েশিয়া ও কাজাখস্তান।

কালের আলো/এসএ

আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে ইন্দোনেশিয়ায় ৩০১ ফ্লাইট বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে ইন্দোনেশিয়ায় ৩০১ ফ্লাইট বাতিল

আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ইন্দোনেশিয়ার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সুকর্ণ-হাত্তাসহ পাঁচটি বিমানবন্দরে ৩০১টি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির ছাই জাকার্তার কাছের আকাশসীমায় ছড়িয়ে পড়ায় রোববার এসব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়। এতে ২২ হাজারের বেশি যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার সকালে সুকর্ণ-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছের আকাশসীমায় আগ্নেয়গিরির ছাই শনাক্ত হওয়ার পর ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করা হয়। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৫৮টি আন্তর্জাতিক রুটের।

দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ঘটনায় সিঙ্গাপুর থেকে আসা-যাওয়া করা ফ্লাইট সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া দোহা, সিডনি ও কুয়ালালামপুরসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটও স্থগিতের কারণে প্রভাবিত হয়েছে।

আনাক ক্রাকাতোয়া থেকে শুক্রবার গভীর রাতে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। এরপর সেখানে একটানা ভূকম্পন, লাভার ফোয়ারা ও বিকট শব্দ শোনা যায়। রোববার ভোরেও আগ্নেয়গিরিটি থেকে আরও দুটি অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যবর্তী সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতোয়া। সাম্প্রতিক অগ্ন্যুৎপাতের পরও কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।

আগ্নেয়গিরির ছাই ছড়িয়ে পড়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। শ্বাসতন্ত্র, চোখ ও ত্বক সুরক্ষায় মাস্ক ব্যবহারের আহ্বানও জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদপত্র কমপাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাইয়ের কারণে চোখে জ্বালাপোড়ার অভিযোগ ওঠায় কয়েকটি স্কুল শনিবার তাদের কার্যক্রম বাতিল করেছে। কয়েকজন জেলেও চোখে ব্যথা ও জ্বালাপোড়ার কথা জানিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া বাতিল করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আলদি চান্দ্রা প্রায়োগি কমপাসকে জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে তাঁর মনে হচ্ছিল চোখের মধ্যে যেন ছোট ছোট বালুর কণা ঢুকে আছে। চোখের জ্বালাপোড়া কমাতে তাঁকে চোখের ড্রপ ব্যবহার করতে হচ্ছে। ছাইয়ের আস্তরণ এত ঘন যে বাড়ির উঠান তাঁকে কয়েক মিনিট পরপর পরিষ্কার করতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আনাক ক্রাকাতোয়া নামের অর্থ ‘ক্রাকাতোয়ার সন্তান’। ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতোয়া অগ্ন্যুৎপাতের পর তৈরি হওয়া আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে এটি গড়ে ওঠে। গত শতকের শুরুর দিকে সমুদ্র থেকে জেগে ওঠার পর থেকে আগ্নেয়গিরিটি বিভিন্ন সময়ে সক্রিয় হয়েছে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আনাক ক্রাকাতোয়ার একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। এর ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। জাভা ও সুমাত্রার উপকূলীয় এলাকায় বহু মানুষ আহত ও বাস্তুচ্যুত হন।

ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত। এ অঞ্চলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। ফলে দেশটিতে প্রায়ই এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায়।

কালের আলো/এসএ

মিসরে মাদক মামলায় জনপ্রিয় নারী টিভি উপস্থাপকসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
মিসরে মাদক মামলায় জনপ্রিয় নারী টিভি উপস্থাপকসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

মাদকদ্রব্য তৈরি ও পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলায় মিসরের একটি আদালত দেশটির জনপ্রিয় নারী টেলিভিশন উপস্থাপক সারাহ খলিফাসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। শনিবার দেশটির সরকারি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

৩৯ বছর বয়সী সারাহ খলিফা ‘মিশন ইমপসিবল’ নামের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে পরিচিতি পান। অনুষ্ঠানটিতে নিরাপত্তা ও অপরাধসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হতো।

সরকার-সংশ্লিষ্ট পত্রিকা আল-আহরামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ সংগ্রহ এবং সেগুলো পাচারের উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গঠন, পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার অভিযোগে কায়রোর একটি আদালত সারাহ খলিফা ও অপর ১১ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আখবার এল-ইয়োমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে পাচারের উদ্দেশ্যে সিনথেটিক মাদক তৈরি এবং বিদেশ থেকে মাদক তৈরির উপকরণ আমদানির অভিযোগ আনা হয়েছে।

আল-আহরামের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ৭৫০ কেজির বেশি মাদকদ্রব্য ও মাদক তৈরির কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদক তৈরির পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহৃত দুটি অ্যাপার্টমেন্ট এবং লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার করা হয়েছে।

রায় ঘোষণার আগে আদালত মিসরের গ্র্যান্ড মুফতির কাছে ফতোয়া বা ধর্মীয় মতামত চেয়েছিলেন। মৃত্যুদণ্ডের মামলায় দেশটির আইনে এটি একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। তবে রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিলের সুযোগ রয়েছে।

সারাহ খলিফার একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিকও রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন পার্টি ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি।

এদিকে অন্য একটি মামলায় সারাহ খলিফা ও কয়েকজন আসামিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ওই মামলায় এক তরুণকে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

মিসরে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ধর্ষণসহ কয়েক ধরনের অপরাধ এবং মাদক পাচারের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

মিসরীয় কমিশন ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে ৫৪১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এসএ

৩০ বছরেও রহস্যের আবরণে সালমান শাহর মৃত্যু

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
৩০ বছরেও রহস্যের আবরণে সালমান শাহর মৃত্যু

সেদিন ছিল শুক্রবার। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। ঠিক ৩০ বছর আগে শরতের সকালে ঢাকাই চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছিল গভীর শোক। মাত্র ২৫ বছর বয়সে চলে যান বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। পারিবারিক নাম শহীদ চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে যিনি হয়ে উঠেছিলেন কোটি দর্শকের প্রিয় তারকা।

১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জে জন্ম নেওয়া সালমান শাহ ছিলেন কমর উদ্দিন চৌধুরী ও নীলা চৌধুরীর বড় ছেলে। ১৯৭১ সালে জন্ম, ১৯৯৬ সালে মৃত্যু—মাত্র ২৫ বছরের জীবনে তিনি যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন, তা আজও বিস্ময় জাগায়।

তবে তাঁর অকালমৃত্যুর তিন দশক পরও একটি প্রশ্নের উত্তর মেলেনি—কীভাবে, কেন মৃত্যু হয়েছিল সালমান শাহর? বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা, অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য থাকলেও মৃত্যুর রহস্য এখনো পুরোপুরি কাটেনি। বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়াও চলমান।

সালমান শাহ তখন রাজধানীর নিউ ইস্কাটন রোডের ইস্কাটন প্লাজার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। ৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রায় সাতটার দিকে তাঁর বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ছেলের সঙ্গে দেখা করতে বাসায় যান। তবে সেখানে গিয়ে তিনি ছেলের দেখা পাননি।

সালমানের মা নীলা চৌধুরী পরবর্তী সময়ে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, বাসার নিচে দারোয়ান প্রথমে তাঁর স্বামীকে ওপরে যেতে বাধা দেন। পরে তিনি জোর করে ওপরে গেলেও প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করেন।

বেলা ১১টার দিকে নীলা চৌধুরীর বাসায় একটি ফোন আসে। তাঁকে দ্রুত সালমানের বাসায় যেতে বলা হয়। সেখানে গিয়ে তিনি ছেলেকে বিছানায় দেখতে পান। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, সালমানের হাত-পায়ের নখ নীল হয়ে গিয়েছিল। এরপর তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ইস্কাটনের বাসা থেকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা সালমান শাহকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হয়।

ময়নাতদন্তের পর সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে শুরু থেকেই তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। পরিবারের দাবি ছিল, সালমানকে হত্যা করা হয়েছে।

নীলা চৌধুরী অভিযোগ করেছিলেন, তাঁরা হত্যা মামলা করতে চাইলেও পুলিশ সেটি অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, তদন্তে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে মামলাটি সেই অনুযায়ী রূপ নেবে।

দীর্ঘ সময় ধরে সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে তদন্ত, আদালত ও বিভিন্ন পর্যায়ে আইনি প্রক্রিয়া চলেছে। ফলে তিন দশক পরও তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে প্রশ্ন ও বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি।

সালমান শাহর মৃত্যুর আগের দিন, ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ‘প্রেমপিয়াসী’ সিনেমার ডাবিং করতে এফডিসিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন ছবিটির নায়িকা শাবনূর।

বিভিন্ন সময়ের প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, সালমান তাঁর বাবাকে ফোন করে স্ত্রী সামিরাকে নিয়ে এফডিসির সাউন্ড কমপ্লেক্সে আসতে বলেন। পরে সেখানে সামিরা দেখতে পান, সালমান ও শাবনূর ডাবিং রুমে হাসি-ঠাট্টা করছেন।

এ ঘটনা নিয়ে সামিরার সঙ্গে সালমানের মনোমালিন্য হয়েছিল বলে বিভিন্ন সময়ের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে ওই রাতের পর বাসায় ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীর নির্ভরযোগ্য বয়ান নেই। ফলে এ নিয়ে নানা ধরনের বক্তব্য ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।

রাত ১১টার দিকে পরিচালক বাদল খন্দকার সালমানকে নিউ ইস্কাটনের বাসায় পৌঁছে দিয়ে চলে যান। পরদিন সকালে সালমানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।

মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে সালমান শাহ অভিনয় করেছেন ২৭টি চলচ্চিত্রে। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘বিক্ষোভ’, ‘প্রেমযুদ্ধ’, ‘দেনমোহর’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘আঞ্জুমান’, ‘বিচার হবে’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘জীবন সংসার’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি পোশাক, চুলের স্টাইল ও ব্যক্তিত্বেও তিনি নব্বইয়ের দশকের তরুণদের কাছে ছিলেন অনুকরণীয়। শাবনূরের সঙ্গে তাঁর জুটি ঢাকাই চলচ্চিত্রে আলাদা জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

আজ ৩০ বছর পেরিয়ে গেলেও সালমান শাহর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছেও তিনি পরিচিত এক নাম। তাঁর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের অবসান না হলেও চলচ্চিত্রে তাঁর স্বল্পস্থায়ী উপস্থিতি তাঁকে দিয়েছে স্থায়ী এক আসন।

সালমান শাহ নেই, কিন্তু তাঁর অভিনয়, চলচ্চিত্র ও অনন্য স্টাইলের মধ্য দিয়ে তিনি আজও বেঁচে আছেন দর্শকদের হৃদয়ে।

কালের আলো/এসএ