খুঁজুন
                               
, ,
           

লর্ডসেই অবসর নিতে রাজি ছিলেন রোহিত, বিসিসিআই বৈঠকের আগে বিস্ফোরক দাবি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৭ অপরাহ্ণ
লর্ডসেই অবসর নিতে রাজি ছিলেন রোহিত, বিসিসিআই বৈঠকের আগে বিস্ফোরক দাবি

ভারতীয় ক্রিকেটে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে কি দেখা যাবে রোহিত শর্মাকে? বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে বসতে যাওয়া বিসিসিআইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে উঠতে পারে এই প্রশ্নের উত্তর। তবে বৈঠকের আগেই রোহিতের ভবিষ্যৎ নিয়ে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইংল্যান্ড সফরের সময়ই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার বিষয়ে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন রোহিত। এমনকি লর্ডস টেস্ট বা পরবর্তী ওয়ানডে সিরিজের কোনো একটি ম্যাচকেই জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ ম্যাচ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ চলাকালে রোহিতের অবসর নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়। নির্বাচক কমিটির এক সদস্য তাকে জানিয়ে দেন, তার বিকল্প নিয়ে ইতিমধ্যে পরিকল্পনা শুরু করেছে নির্বাচক প্যানেল। যদিও প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর সরাসরি তাকে অবসরের কথা বলেননি। তবে লর্ডস ম্যাচের পরই সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানাতে তাকে বলা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

হঠাৎ এমন প্রস্তাবে রোহিত ভেতরে ভেতরে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি মেনে নিয়ে অবসরে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন বলেও জানিয়েছে পিটিআই। সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির ভাষ্য, ‘রোহিত চরম বিরক্ত হয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে রাজি হয়ে যান।’

রোহিতের অবসর নিয়ে যখন জোর গুঞ্জন, তখনই লর্ডসের মাঠে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত জবাব দেন ভারতীয় তারকা। খেলেন ১৩৮ রানের অসাধারণ ইনিংস। তার ব্যাটিং যেন সাময়িকভাবে থামিয়ে দেয় অবসরের আলোচনা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া সংবাদমাধ্যমের সামনে রোহিতের অবসরের গুঞ্জন নাকচ করেন। এতে নির্বাচক কমিটির ওপরও চাপ তৈরি হয়।

তবে পিটিআইয়ের দাবি, লর্ডসে রোহিতের দুর্দান্ত সেঞ্চুরির পরও ২০২৭ বিশ্বকাপে তার জায়গা নিশ্চিত হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠেয় ওই বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় নির্বাচকেরা তাকে রাখবেন কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

বৃহস্পতিবারের বৈঠকে শুধু রোহিত নন, বিরাট কোহলি ও রবীন্দ্র জাদেজার ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। ভারতীয় ক্রিকেটের এই তিন অভিজ্ঞ তারকার ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায় নিয়ে বোর্ডের পরিকল্পনা কী—তা নিয়েই আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় কোহলি ও জাদেজার ক্ষেত্রে বড় কোনো সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলে মনে করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।

রোহিতের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অবশ্য ভিন্ন। ২০২৭ বিশ্বকাপের সময় তার বয়স হবে ৪০-এর কাছাকাছি। তাই এখন থেকেই নির্বাচকদের ভাবনায় ভবিষ্যৎ দল গঠনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবারের বৈঠক তাই শুধু একটি বোর্ড মিটিং নয়; ভারতীয় ক্রিকেটের এক প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়েও এটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/এসএ

ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশনে প্রথমবার মির্জা আব্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশনে প্রথমবার মির্জা আব্বাস

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলেও অসুস্থতার কারণে এতদিন সংসদে যোগ দিতে পারেননি দলটির ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। দীর্ঘ পাঁচ মাসেরও বেশি সময় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) চলমান সংসদ অধিবেশনে যোগ দিলেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি হুইল চেয়ারে সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন।

সংসদ অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করলে সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসকে স্বাগতম জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ দীর্ঘ পাঁচ মাস পর চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে এসেছেন। আপনাকে এই সংসদে স্বাগতম জানাচ্ছি।’

সংসদ অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের পর মির্জা আব্বাসের হুইল চেয়ার পেছন থেকে ধরেন সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন নিজান। পাশের আসনে বসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা- ২ আসনের সংসদ সদস্য আমান মির্জা আব্বাসের হাত তুলে ধরে সবাইকে সালাম দেন। এসময় সংসদ অধিবেশন কক্ষে সবাই তাকে স্বাগত জানান। টেবিল চাপড়েও স্বাগতম জানান।

এরআগে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে দেশে ফিরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। পরে বৃহস্পতিবার অধিবেশনের আগে তিনি সংসদে নিজ দফতরে যোগ দেন।

এ বিষয়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে মির্জা আব্বাস জাতীয় সংসদ তার নিজ অফিসে প্রথম দিনের মতো দাপ্তরিক কাজ করেন।

গত ১৫ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। গত ১৪ এপ্রিল ফিজিওথেরাপির জন্য তাকে মালয়েশিয়ার একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে সেখানে এতদিন বিশ্রামে ছিলেন তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বেগবান ও সুদৃঢ় করার বিষয়ে উভয় পক্ষ মতামত ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উন্নত পেশাগত প্রশিক্ষণ, সামরিক শিক্ষা বিনিময় এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

আধুনিক সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা বৃদ্ধি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে বৈঠকে উভয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় চীনের সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন এবং ভবিষ্যতে চীনের সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠককালে চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকায়নে দেশটির অব্যাহত সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

ফেসবুকজুড়ে ‘মাফিয়া ডন’, কেন এত জনপ্রিয় এআই ড্রামাটি?

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১১ অপরাহ্ণ
ফেসবুকজুড়ে ‘মাফিয়া ডন’, কেন এত জনপ্রিয় এআই ড্রামাটি?

ফেসবুক খুললেই সামনে আসছে একের পর এক রিল। কয়েক সেকেন্ডের একটি দৃশ্য শেষ হতেই মনে হচ্ছে—পরের পর্বে কী হলো? সেই কৌতূহলেই আবার খুঁজে দেখা হচ্ছে পরের ভিডিও।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এভাবেই আলোচনায় উঠে এসেছে এআই-নির্ভর স্বল্পদৈর্ঘ্য ড্রামা ‘দ্য মাফিয়া ডন হায়ার্ড মি অ্যাজ হিজ ওয়াইফ’। বিশেষ করে নারী দর্শকদের মধ্যে সিরিজটির জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো।

মাফিয়া ডন, চুক্তির বিয়ে, প্রত্যাখ্যাত নারী ও এক ছোট শিশুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ড্রামাটির গল্প। কেন্দ্রীয় চরিত্র নোরা।

স্বামী তাকে ছেড়ে দেওয়ার পর কাজের সন্ধানে রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে একদিন একটি বিজ্ঞাপন দেখতে পান নোরা। বিজ্ঞাপনে প্রয়োজন একজন স্টেপমাদার। ঠিকানা অনুযায়ী সেখানে গিয়ে তিনি পৌঁছান বিশাল এক প্রাসাদে।

সেখানেই নোরা জানতে পারেন, বাড়িটির মালিক লুকা একজন মাফিয়া ডন। তার ছোট ছেলে লিওর দেখাশোনার জন্যই একজন নারী খুঁজছেন তিনি।

তবে কাজটি মোটেও সহজ নয়। লিও প্রায় খাওয়া-দাওয়া ও ঘুম ছেড়ে দিয়েছে। নোরার ইন্টারভিউয়ের শর্তও অদ্ভুত—তিনি যদি শিশুটিকে অন্তত এক চামচ খাবার খাওয়াতে পারেন, তাহলেই চাকরি নিশ্চিত।

কিন্তু নোরা এক চামচ নয়, পুরো প্লেট খাবার খাইয়ে দেন লিওকে। শুধু তা-ই নয়, সেদিন রাতে দীর্ঘ সময় পর শিশুটিও শান্তিতে ঘুমায়।

এতেই লুকার নজরে পড়ে যান নোরা। ছেলের জন্য তাকে প্রয়োজনীয় মনে হওয়ায় লুকা নোরাকে বাড়তি টাকা, গাড়ি এবং বেশি বেতন দেওয়ার প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে দেন বিয়ের প্রস্তাবও।

নোরা অবশ্য শুরুতে রাজি ছিলেন না। তার কাছে বিষয়টি ছিল শুধুই চাকরি। কিন্তু লুকার যুক্তি ছিল, লিওর একজন মায়ের প্রয়োজন। নোরা যেন শুধু শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা একজন কর্মী না হয়ে তার জীবনে মায়ের জায়গাটিও নিতে পারেন।

শেষ পর্যন্ত চুক্তির বিয়েতে রাজি হন নোরা।

শুরুতে নোরা ও লুকার সম্পর্ক ছিল প্রয়োজনের। নোরার প্রয়োজন ছিল কাজ, আর লুকার প্রয়োজন ছিল ছেলের জন্য একজন যত্নশীল মানুষ।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই হিসাব বদলে যেতে থাকে।

লিও খুব দ্রুত নোরার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ে। তার উপস্থিতিতে শিশুটির আচরণেও পরিবর্তন আসে। ধীরে ধীরে নোরাও লিওকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতে শুরু করেন।

শিশুটির সঙ্গে নোরার এই সম্পর্কই ধীরে ধীরে তাকে ও লুকাকে কাছাকাছি নিয়ে আসে।

লুকার চরিত্রের আরেকটি দিকও সামনে আসে। বাইরে থেকে তিনি কঠোর ও ভয়ংকর মাফিয়া ডন। কিন্তু ছেলের ক্ষেত্রে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন—আবেগপ্রবণ ও দায়িত্বশীল একজন বাবা।

একপর্যায়ে নোরার প্রতিও তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। চুক্তির ভিত্তিতে শুরু হওয়া সম্পর্ক ধীরে ধীরে পরিণত হয় ভালোবাসায়।

ড্রামাটিতে শুধু প্রেমের গল্প নয়, নোরার ব্যক্তিগত পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

নিজের অবয়বের কারণে স্বামীর কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর নোরার আত্মবিশ্বাস অনেকটাই ভেঙে যায়। কিন্তু লিওর জীবনে নিজের প্রয়োজনীয়তা এবং লুকার আচরণ ধীরে ধীরে তাকে নিজের মূল্য বুঝতে সাহায্য করে।

যে নারীকে একসময় তার স্বামী মূল্যহীন করে দিয়েছিল, সেই নোরাই পরে হয়ে ওঠেন একটি শিশুর সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মানুষ এবং একজন মাফিয়া ডনের ভালোবাসার মানুষ।

এই পরিবর্তনের গল্পই সিরিজটিকে শুধু মাফিয়া-রোমান্সের মধ্যে আটকে রাখেনি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবার, মাতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং নতুন করে ভালোবাসা পাওয়ার অনুভূতি।

গল্পে দর্শকদের পরিচিত বেশ কিছু জনপ্রিয় উপাদান একসঙ্গে রয়েছে—মাফিয়া ডন, চুক্তির বিয়ে, প্রেম, শিশু, পারিবারিক আবেগ এবং প্রত্যাখ্যাত নারী থেকে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠার গল্প।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এআই-নির্ভর নির্মাণ। ফলে প্রচলিত নাটক বা ওয়েব সিরিজের বাইরে এটি দর্শকদের জন্য তৈরি করছে ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা।

ছোট ছোট পর্ব ও রিলভিত্তিক উপস্থাপনাও ড্রামাটিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করছে। একটি দৃশ্য শেষ হওয়ার পর পরবর্তী পর্ব দেখার কৌতূহল দর্শকদের আটকে রাখছে।

অর্থাৎ, গল্পের পাশাপাশি উপস্থাপনার ধরনও এর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।

ড্রামাটির জনপ্রিয়তার পেছনে মাফিয়া ডন, চুক্তির বিয়ে, শিশু ও প্রেমের মতো উপাদান থাকলেও নারী দর্শকদের কাছে পুরুষ চরিত্রগুলোর উপস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এ ধরনের গল্পে পুরুষ চরিত্রগুলো সাধারণত ক্ষমতাবান ও ধনী হওয়ার পাশাপাশি সঙ্গীর প্রতি যত্নশীল, দায়িত্বশীল ও বিশ্বস্ত হিসেবে দেখানো হয়। তারা সঙ্গীর কথা শোনে, প্রয়োজনের সময় পাশে থাকে এবং সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়।

ফলে আকর্ষণ শুধু অর্থ, ক্ষমতা বা বাহ্যিক সৌন্দর্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। যত্ন, সম্মান, সততা ও নিরাপত্তার অনুভূতিও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

তাই কোনো নারী দর্শক এমন চরিত্র পছন্দ করলেই যে বাস্তবে একজন মাফিয়া ডন চান, বিষয়টি এমন নয়। বরং কল্পনার এই চরিত্রগুলোর মধ্যে থাকা কিছু গুণই তাদের কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে।

এআই-নির্ভর এসব নাটকের গল্প বাস্তবতার চেয়ে অনেকটাই কল্পনানির্ভর। তবু এর জনপ্রিয়তা একটি বিষয় স্পষ্ট করে—গল্প যতই জাঁকজমকপূর্ণ হোক, দর্শকের কাছে ভালোবাসা, যত্ন, সম্মান ও নির্ভরযোগ্যতার মতো বিষয়গুলো এখনো বেশ শক্তিশালী আকর্ষণ তৈরি করে।

কালের আলো/এসএ