খুঁজুন
                               
, ,
           

দুদককে বিরোধী দল দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে: আসিফ মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ
দুদককে বিরোধী দল দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে: আসিফ মাহমুদ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাম্প্রতিক অভিযোগের সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার কোনো সামঞ্জস্য নেই বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, দুদকের অনুসন্ধানকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিরোধী দলকে দমনের হাতিয়ার হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশনকে আবারও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার জন্যই বিএনপি সরকার দুদকের সংস্কার প্রক্রিয়া বাতিল করেছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা বলেন, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল এবং পরবর্তীতে ১৫০ জন কর্মকর্তার পদায়নের ঘটনাকে দুদক যেভাবে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত করেছে, তা প্রকৃত ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা। পুরো বিষয়টি আদালতের রায় বাস্তবায়ন এবং এরপর নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সম্পন্ন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ বলেন, আদালতের রায়ের কারণেই তাদের নবম গ্রেডের চলতি দায়িত্ব বাতিল করে দশম গ্রেডের মূল পদে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ওই ৩৮টি পদসহ বিদ্যমান শূন্য পদে পদোন্নতির জন্য পিএসসির মতামত চাওয়া হয়। জ্যেষ্ঠতার তালিকা, সার্ভিস রেকর্ড, এসিআর ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনার জন্য পিএসসিতে পাঠানো হয়। পিএসসি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এই প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয়ের নিজস্বভাবে কাউকে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, পিএসসি জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে একটি তালিকা তৈরি করে সুপারিশ করে এবং মন্ত্রণালয় সেই জ্যেষ্ঠতার তালিকা অনুযায়ী তাদের পদোন্নতি দেয়।

আদালতের রায় বাস্তবায়ন এবং পিএসসির পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় নিজের ব্যক্তিগত কোনো ভূমিকা ছিল না বলেও জানান এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, এ দুটি প্রক্রিয়ার কোনোটিতেই আমার ব্যক্তিগতভাবে সম্পৃক্ত থাকার সুযোগ ছিল না। একটি আদালতের, আরেকটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের।

দুদক মুখপাত্রের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনসিপিনেতা আসিফ মাহমুদ বলেন, দুদকের মুখপাত্র যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন এবং গণমাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার না করেন, তাহলে আমি আইনি ব্যবস্থা নেব।

একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব নথি ও তথ্য পর্যালোচনার আহ্বান জানান আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, সত্যতা উদঘাটনের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে আমি প্রস্তুত আছি।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে ১০ম গ্রেডের ১১২ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি ছাড়াই ৯ম গ্রেডের উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই আদেশ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে ২০২৫ সালে আদালত তা অবৈধ ঘোষণা করেন। সে সময় ১১২ জনের মধ্যে ৩৮ জন চলতি দায়িত্বে ছিলেন। বাকিরা ইতোমধ্যে অবসরে গিয়েছিলেন অথবা নিয়মিত পদোন্নতি পেয়েছিলেন। আদালতের রায় অনুসারে ওই ৩৮ জনকে চলতি দায়িত্ব বাতিল করে মূল পদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

নিলামে বিক্রি হওয়া সম্পত্তিতে ১৫% ভ্যাট আরোপ অবৈধ: হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
নিলামে বিক্রি হওয়া সম্পত্তিতে ১৫% ভ্যাট আরোপ অবৈধ: হাইকোর্ট

অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক নিলামে বিক্রি হওয়া স্থাবর সম্পত্তির মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপ অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। মঙ্গলবার আদালত রায় দিলেও বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিলাম ক্রেতাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব।

মামলার নথি অনুযায়ী, একটি ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অর্থঋণ আদালতে মামলা করে। পরে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৩৩(১) ধারার অধীনে ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা সম্পত্তি নিলামে তোলে।

নিলামে আবেদনকারীরা সর্বোচ্চ ২৪ কোটি টাকা দর দিয়ে সম্পত্তিটি কিনে নেন। তাদের দর অনুমোদনের পর সম্পূর্ণ অর্থ জমা দেওয়া হলেও অর্থঋণ আদালত নিলামমূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প ডিউটি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

ওই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে নিলাম ক্রেতারা হাইকোর্টে রিট করেন। শুনানি শেষে আদালত রুল ও সম্পূরক রুল চূড়ান্ত ঘোষণা করে রায় দেন।

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, নিলাম ক্রেতাদের নিলামমূল্যের ওপর উৎসে ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে অর্থঋণ আদালত যে আদেশ দিয়েছিল, তা আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং এর কোনো আইনগত কার্যকারিতা নেই।

একই সঙ্গে স্থাবর সম্পত্তির ক্রেতাকে ‘পণ্যের নিলাম ক্রেতা’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা বিতর্কিত এসআরওর সংশ্লিষ্ট অংশকেও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেন আদালত।

আইনজীবীদের মতে, এই রায়ের ফলে অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক নিলামে কেনা স্থাবর সম্পত্তির মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের সুযোগ থাকছে না। দেশের বিভিন্ন অর্থঋণ আদালতে ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য পরিচালিত বিচারিক নিলাম এবং নিলামে স্থাবর সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে এ রায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

দেশে ড্রোন উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
দেশে ড্রোন উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার

সাইবার হামলা, ড্রোন প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো নতুন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশীয়ভাবে ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মহিলা আসন-২-এর সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশে ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সমুদ্রে নজরদারি ও পরিস্থিতিগত সচেতনতা বাড়ানোর জন্যও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সময়ে দেশের সার্বিক নিরাপত্তায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

এ ছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘ইনস্ট্রাকশন রিগার্ডিং ইন এইড টু দ্য সিভিল’-এর আওতায় বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটকালীন সময়ে অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করে সশস্ত্র বাহিনী।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮-এর ১২৯ ধারার আওতায় সশস্ত্র বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়।

সরকারের এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রচলিত সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো আধুনিক ক্ষেত্রেও দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের পরিকল্পনা রয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ইরানে মার্কিন হামলা, নিহত ১৮; পাল্টা হামলা তেহরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ
ইরানে মার্কিন হামলা, নিহত ১৮; পাল্টা হামলা তেহরানের

ইরানে নতুন করে মার্কিন বাহিনীর চালানো হামলায় ১৮ জন নিহত ও ১০৮ জন আহত হয়েছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ-রেজা জাফরঘান্দি এ তথ্য জানিয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলাকে ‘আগ্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় তেহরান দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে জানানো হয়েছে।

ইরানের দাবি, মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করে বেশ কয়েকটি বেসামরিক স্থাপনা ও সেবা খাতের অবকাঠামোয় হামলা চালায়। এতে হতাহতের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) হামলার চেষ্টার জবাবে ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।

পাল্টা জবাবে ইরান জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি