খুঁজুন
                               
, ,
           

‘গোট বিতর্ক: নিষ্পত্তি’-মেসির বিশেষ ভিডিওতে কি রোনালদোকে জবাব?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
‘গোট বিতর্ক: নিষ্পত্তি’-মেসির বিশেষ ভিডিওতে কি রোনালদোকে জবাব?

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ এক বার্তা দিলেন লিওনেল মেসি। ভিডিওটির শেষ লাইনে লেখা—‘গোট বিতর্ক: নিষ্পত্তি’। আর এতেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ফুটবলের সর্বকালের সেরা কে—মেসি নাকি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো?

প্রখ্যাত পানীয় ব্র্যান্ড মিশেলোব আল্ট্রার ‘ট্যাব ক্লোজড’ বিজ্ঞাপনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ভিডিওটি নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

ভিডিওতে দেখা যায়, এক বারটেন্ডার বারের একটি দীর্ঘ রসিদ প্রিন্ট করছেন। তবে সেখানে কোনো খাবার বা পানীয়ের বিল নেই। বরং রসিদজুড়ে লেখা হয়েছে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অর্জন ও পরিসংখ্যান।

রসিদে মেসির ক্যারিয়ারের খতিয়ান

রসিদে তুলে ধরা হয়েছে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির ২০৭ ম্যাচ ও ১২৫ গোলের রেকর্ড। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটাই তার চূড়ান্ত পরিসংখ্যান।

এর পাশাপাশি বিশেষভাবে জায়গা পেয়েছে তার জেতা তিনটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা—২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ।

মেসির অসংখ্য রেকর্ড, গুরুত্বপূর্ণ গোল ও আর্জেন্টিনার হয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর কথাও উঠে আসে সেই ‘রসিদে’। সবশেষে এক লাইনে ঘোষণা—‘গোট বিতর্ক: নিষ্পত্তি’।

অর্থাৎ বিজ্ঞাপনী প্রচারণার ভাষায় যেন মেসির পক্ষ থেকেই দীর্ঘদিনের বিতর্কে একটি ‘ফাইনাল বিল’ ধরিয়ে দেওয়া হলো।

দুই মহাতারকার দ্বৈরথ

প্রায় দুই দশক ধরে ফুটবলবিশ্বের অন্যতম বড় বিতর্ক—মেসি নাকি রোনালদো, কে সর্বকালের সেরা?

বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলার সময় এই দ্বৈরথ লা লিগা থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ—সবচেয়ে বড় মঞ্চে নতুন মাত্রা পায়। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে দুজন মুখোমুখি হয়েছেন ৩৬ বার। এসব ম্যাচে মেসির দল জিতেছে ১৬টি, রোনালদোর দল ১১টি এবং ৯টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

ব্যক্তিগত গোলের হিসাবেও ব্যবধান খুব সামান্য—মেসির ২২, রোনালদোর ২১।

তবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে গোলসংখ্যায় এগিয়ে রোনালদো। পর্তুগালের হয়ে ২৩৩ ম্যাচে তার গোল ১৪৬টি। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭ ম্যাচে মেসির গোল ১২৫টি।

বিশ্বকাপেই মেসির বড় জবাব

রোনালদোর ক্যারিয়ারে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপার সংখ্যা বেশি হলেও বিশ্বকাপের ট্রফি এখনো তার অধরা। ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েও পর্তুগালের হয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারেননি তিনি।

অন্যদিকে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিয়ে কাঙ্ক্ষিত শিরোপা জেতেন মেসি। সেই বিশ্বকাপ জয়ই তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা পূরণ করে এবং ‘সর্বকালের সেরা’ বিতর্কে তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে।

তবে মেসির নতুন ভিডিওটি সরাসরি রোনালদোকে উদ্দেশ করে বানানো কি না, তা বলা হয়নি। এটি মূলত মিশেলোব আল্ট্রার বিজ্ঞাপনী প্রচারণার অংশ। তবু শেষ লাইনের ‘গোট বিতর্ক: নিষ্পত্তি’ বার্তাটি যে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আলোড়ন তুলবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

কালের আলো/এসএ

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিজেদের হাতে নেওয়ার আহ্বান শি চিনপিংয়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিজেদের হাতে নেওয়ার আহ্বান শি চিনপিংয়ের

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। একই সঙ্গে অঞ্চলটির জন্য নতুন একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তাকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বুধবার মিসর সফরে গিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন শি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে চীনা প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

চার বছরের মধ্যে এটিই শি চিনপিংয়ের প্রথম মধ্যপ্রাচ্য সফর। দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে অঞ্চলটির বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

কায়রোতে শি চিনপিং বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিজেদের ভবিষ্যৎ ও ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখা উচিত। একই সঙ্গে অঞ্চলটির জন্য একটি নতুন নিরাপত্তাকাঠামো তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করতে প্রস্তুত বেইজিং।

সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এসব নৌপথের নিরাপত্তা এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

শি ও সিসির বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সহযোগী দেশ মিসর। দেশটি প্রতি বছর ওয়াশিংটনের কাছ থেকে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা পায়।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কায়রো চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কও দ্রুত বাড়াচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে নিজেদের কৌশলগত বিকল্প বাড়ানোর চেষ্টা করছে মিসর।

শি চিনপিংকে বুধবার সামরিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট সিসি। সফরের আগে এক নিবন্ধে তিনি বলেন, বিশ্বে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে মিসর ‘কৌশলগত ভারসাম্য’ বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করছে।

সাবেক মিসরীয় কূটনীতিক আইমান জেইনেলদিনের মতে, চীনসহ বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে চায় কায়রো। দুই দেশের স্বার্থ ও দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে মিল থাকায় এই সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বাড়াতে চায় বেইজিং। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের মার্কিন প্রভাবের বাইরে নিজেদের জন্য একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করাও চীনের বৃহত্তর কৌশলের অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক এইচ এ হেলিয়ারের মতে, চীনের জন্য মিসর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক প্রভাব রয়েছে।

ফিলিস্তিন ইস্যুতেও মিসরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ ছাড়া আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভৌগোলিকভাবে কায়রোর অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চীন ও মিসরের সম্পর্ক এখন আর শুধু অর্থনীতি ও কূটনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই। দুই দেশের সামরিক সহযোগিতাও বাড়ছে।

গত মাসে মিসর ও চীন যৌথভাবে ‘সভ্যতার ঈগল’ নামে সামরিক মহড়া চালায়। এতে দুই দেশের যুদ্ধবিমান অংশ নেয়। মহড়ায় চীনের তৈরি জে-১৬ এবং ফ্রান্সের তৈরি রাফাল যুদ্ধবিমান দিয়ে বিমানযুদ্ধের অনুশীলনও করা হয়।

এ ধরনের যৌথ সামরিক মহড়া দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা যে নতুন মাত্রা পাচ্ছে, তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মিসরের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠতার অন্যতম প্রধান কারণ অর্থনীতি। ১১ কোটির বেশি জনসংখ্যার মিসর চীনের জন্য একটি বড় বাজার। একই সঙ্গে সুয়েজ খালের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যেও দেশটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

চীনা কোম্পানিগুলো মিসরে কনটেইনার বন্দর, সবুজ হাইড্রোজেন প্রকল্প, লোহার পাইপ, গাড়ির টায়ার ও কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরির কারখানাসহ বিভিন্ন খাতে কয়েক শ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে।

মিসরের মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, সুয়েজ খাল অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনের বিনিয়োগ প্রায় ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। বুধবার ওই অঞ্চলে চীনের তৈরি শিল্প এলাকা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়।

এ ছাড়া চীনের জেডসি রাবার গ্রুপ মিসরে ৫০ কোটি ডলার ব্যয়ে একটি টায়ার কারখানা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রাথমিক চুক্তি করেছে।

শি চিনপিংয়ের মিসর সফর এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদের হাতে নেওয়ার আহ্বানকে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক ও কূটনৈতিক প্রভাব থাকলেও সাম্প্রতিক সংঘাত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে দেশগুলো নিজেদের কৌশলগত অংশীদারত্ব নতুন করে বিবেচনা করছে।

এই সুযোগে চীন অর্থনৈতিক বিনিয়োগ, সামরিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়ে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।

শি চিনপিংয়ের সর্বশেষ বার্তায় তাই শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার কথা নয়, মধ্যপ্রাচ্যে ভবিষ্যতের শক্তির ভারসাম্য কীভাবে বদলাতে পারে—তারও একটি ইঙ্গিত রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসএ

অপরাধ দমনে কঠোর, জনগণের প্রতি মানবিক হওয়ার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
অপরাধ দমনে কঠোর, জনগণের প্রতি মানবিক হওয়ার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অপরাধ দমনে পুলিশকে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, অপরাধীদের দমনে পুলিশকে কঠোর হতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ ও নিরপরাধ মানুষের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সাইবার অপরাধ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ও গুজবের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।

এ সময় বিচারবহির্ভূত হত্যা, জনগণকে হয়রানি এবং মিথ্যা মামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।

সাক্ষাৎকালে আইজিপি পুলিশ বাহিনীর মনোবল দৃঢ় রাখা, বাহিনীর আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশনে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপতি পুলিশ বাহিনীর সার্বিক কার্যক্রমে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

আইনশৃঙ্খলার নাজুক উত্তরাধিকার 

ইউনূস আমলের ব্যর্থতা—এখন সরকারকে ঘিরে ষড়যন্ত্র

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
ইউনূস আমলের ব্যর্থতা—এখন সরকারকে ঘিরে ষড়যন্ত্র

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আবারও জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ড, টার্গেট কিলিং, বন্দুক হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা সাধারণ মানুষকে স্তম্ভিত করেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে শুধু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দিয়ে বিচার করলে এর পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। দেশের নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি বড় অংশ বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তৈরি হয়েছিল। সেই সংকটের উত্তরাধিকার নিয়েই দায়িত্ব নিয়েছে বর্তমান সরকার।

একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার সিদ্ধান্ত, ব্যর্থতা ও আইন প্রয়োগে দুর্বলতার দায়ও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছিল, অপরাধী চক্রের পুনরুত্থান, মব সন্ত্রাসের বিস্তার এবং বিচারহীনতার যে অভিযোগ উঠেছিল—তার প্রভাব এখনও কাটেনি। ফলে অতীতের সংকটের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সহিংসতার ঘটনা।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে সারা দেশে ৯১৫টি হত্যাকাণ্ডের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন ১০টিরও বেশি হত্যাকাণ্ডের মামলা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র হামলা, রাজনৈতিক সংঘাত ও অপরাধী গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তারের লড়াই পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের বিস্তার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা ও মনোবলের সংকট এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয় হয়ে ওঠা বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল যখন সংঘাতে রূপ নেয়, তখন অপরাধী গোষ্ঠীগুলোও নিজেদের স্বার্থে সেই পরিস্থিতি ব্যবহার করে। এর ফলে সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা ও হত্যার ঝুঁকি বাড়ে।

ইউনূস সরকারের দায় কোথায়
বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলার যে পরিস্থিতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে, তার পেছনে আগের দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকট ছিল—এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থেকেও সেই সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। বরং ওই সময়ে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রথমত, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কারাগার থেকে বিভিন্ন শ্রেণির বন্দির মুক্তি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। চিহ্নিত অপরাধী ও জঙ্গি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ মুক্তির পর আবার সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে—এমন অভিযোগও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, যথাযথ নজরদারি ছাড়া অপরাধী চক্রের পরিচিত সদস্যরা বাইরে আসায় তাদের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

দ্বিতীয়ত, ইউনূস সরকারের সময়ে মব সন্ত্রাসের বিস্তার নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং প্রকাশ্যে মানুষকে মারধরের মতো ঘটনায় অনেক সময় তাৎক্ষণিক ও দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা উৎসাহিত হয়েছে—এমন মতও দিয়েছেন অনেকে।

তৃতীয়ত, বিচারহীনতার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও দুর্বল করেছে। প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা, রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয়ের কারণে হামলা এবং বিভিন্ন স্থাপনা ও স্মৃতিচিহ্নে ভাঙচুরের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে অপরাধীদের মধ্যে দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি হয়। রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগে দুর্বলতা দেখা দিলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আইনের প্রতি আস্থা কমে যায়।

চতুর্থত, পুলিশের মনোবল ও কার্যক্ষমতার সংকটও বড় কারণ। ৫ আগস্টের পর পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা, থানায় আক্রমণ এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে বাহিনীটি গভীর সংকটে পড়ে। পরবর্তী সময়ে পুলিশকে পুনর্গঠন ও তাদের মনোবল ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পেশাগত সক্ষমতা নিশ্চিত করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি বলে সমালোচনা রয়েছে।

পঞ্চমত, আইনের শাসনের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়, জনতার শক্তি কিংবা প্রভাবের কারণে কেউ যেন আইনের ঊর্ধ্বে উঠে যেতে না পারে—এটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। এই জায়গায় দুর্বলতা তৈরি হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হয় এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ নষ্ট হয়।

সংকটের সুযোগে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র?
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিকে কেন্দ্র করে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে জনমত তৈরির চেষ্টা চলছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান থাকা স্বাভাবিক; কিন্তু কোনো সংকটকে ইচ্ছাকৃতভাবে আরও ঘনীভূত করে রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করার চেষ্টা থাকলে সেটি অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি—বিভিন্ন সংকটের নেপথ্যে কোনো বিশেষ মহলের পরিকল্পিত তৎপরতা আছে কি না, তা নিয়ে অভিযোগ ও আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না রেখে গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা জরুরি। বর্তমান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—একদিকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া, অন্যদিকে কোনো পরিকল্পিত উসকানি বা ষড়যন্ত্রের সুযোগ না দেওয়া। এ ক্ষেত্রে সরকারের ভেতর থেকেও দায়িত্বশীল ও সংযত বক্তব্য আসতে হবে। উত্তেজনাকর মন্তব্য বা পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করতে পারে।

এখন প্রয়োজন কঠোরতা ও আস্থা ফেরানো
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের উদ্যোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় করা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে পদক্ষেপ—এসব কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তবে শুধু অভিযান নয়, অপরাধের দ্রুত বিচার এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সমানভাবে আইন প্রয়োগই হবে সবচেয়ে কার্যকর বার্তা। অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশকে জবাবদিহির মধ্যে রেখে তাদের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও মনোবল ফিরিয়ে দিতে হবে। বর্তমান আইনশৃঙ্খলা সংকটের দায় একক কোনো সময় বা সরকারের ওপর চাপিয়ে দিলে সমস্যার পূর্ণ সমাধান হবে না। কিন্তু দেশের নাজুক পরিস্থিতি উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়া এবং ড. ইউনূস সরকারের আমলে সংঘটিত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও ব্যর্থতার কারণে সংকট আরও গভীর হওয়ার অভিযোগও উপেক্ষা করা যায় না। এর সঙ্গে যদি বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণে কোনো পরিকল্পিত অপতৎপরতা থেকে থাকে, সেটিও কঠোরভাবে শনাক্ত ও প্রতিহত করতে হবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন