অভিষেকেই রাজাউল্লাহর তাণ্ডব, ইনিংস হার বাঁচিয়ে চতুর্থ দিনে পাকিস্তান
এজবাস্টনের মাঠে যেন হঠাৎ করেই নতুন এক তারকার আবির্ভাব। টেস্ট অভিষেকেই বল ও ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আলোচনার কেন্দ্রে পাকিস্তানের ২১ বছর বয়সী পেসার মোহাম্মদ রাজাউল্লাহ।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে বল হাতে চার উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন এই তরুণ। তার বোলিংয়ের প্রথম টেস্ট শিকারই ছিলেন ইংল্যান্ডের তারকা ব্যাটার জো রুট।
ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৪৫৩ রান করার পর মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংসেও শুরুটা ভালো হয়নি তাদের। আট উইকেট হারানোর পর ইনিংস হার এড়াতে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল মাত্র দুই রান। ঠিক সেই সময় ৯ নম্বরে ব্যাট করতে নামেন রাজাউল্লাহ।
ছক্কার ঝড়ে বদলে গেল ম্যাচ
জশ টাংয়ের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে পাকিস্তানকে ইনিংস হারের লজ্জা থেকে বাঁচান রাজাউল্লাহ। এরপর শুরু করেন বিধ্বংসী ব্যাটিং।
গাস অ্যাটকিনসনের এক ওভারে পরপর তিনটি ছক্কা হাঁকান তিনি। এরপর জোফরা আর্চারের বলও সীমানাছাড়া করে তুলে নেন ফিফটি।
মাত্র ৬৩ বলে ৮১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন রাজাউল্লাহ। তার ইনিংসে ছিল নয়টি ছক্কা। মোহাম্মদ আব্বাসের সঙ্গে নবম উইকেটে ১২১ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে পাকিস্তানকে নিয়ে যান ৪৪৯ রানে।
ফলে ইংল্যান্ডের সামনে চতুর্থ ইনিংসে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৩০ রান।
অভিষেকেই একাধিক রেকর্ড
ব্যাট হাতে এই ইনিংসের মাধ্যমে একাধিক রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন রাজাউল্লাহ।
টেস্ট অভিষেকে নয়টি ছক্কা মেরে তিনি নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন। ২০০৮ সালে নেপিয়ারে অভিষেক টেস্টে নয়টি ছক্কা মেরেছিলেন সাউদি।
ইংল্যান্ডের মাটিতে এক ইনিংসে নয়টি ছক্কা মেরে বেন স্টোকসের সঙ্গেও যৌথভাবে একটি রেকর্ডে জায়গা করে নিয়েছেন রাজাউল্লাহ। ২০২৩ অ্যাশেজে লর্ডসে এক ইনিংসে নয়টি ছক্কা মেরেছিলেন স্টোকস।
এ ছাড়া পাকিস্তানের হয়ে টেস্ট অভিষেকে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। মাত্র ৪৩ বলে পঞ্চাশের ঘরে পৌঁছান এই তরুণ।
মজার ব্যাপার, টিম সাউদি এখন ইংল্যান্ড দলের পরামর্শক হিসেবে এজবাস্টনে উপস্থিত ছিলেন। ফলে নিজের পুরোনো রেকর্ডে রাজাউল্লাহর ভাগ বসানোর মুহূর্তটিরও সাক্ষী হয়েছেন তিনি।
মাত্র আট ফার্স্ট-ক্লাস ম্যাচের অভিজ্ঞতা
টেস্ট অভিষেকের আগে রাজাউল্লাহর ফার্স্ট-ক্লাস ম্যাচের অভিজ্ঞতা ছিল মাত্র আটটি। সিরিজের শেষ ম্যাচে হঠাৎ সুযোগ পেয়েই তিনি যেভাবে ব্যাট ও বল হাতে নিজেকে মেলে ধরেছেন, তাতে পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এই তরুণ।
ব্যাটিং শেষে দর্শকদের করতালি প্রসঙ্গে রাজাউল্লাহ জানিয়েছেন, তিনি পুরো মুহূর্তটি উপভোগ করেছেন।
এখন ইংল্যান্ডের সামনে ১৩০ রানের লক্ষ্য। এই রান তাড়া করে ম্যাচ জিতলে সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে শেষ করবে স্বাগতিকরা। অন্যদিকে রাজাউল্লাহর বীরত্বে ইনিংস হার এড়ানো পাকিস্তান চেষ্টা করবে ম্যাচের বাকি সময়টুকু কাজে লাগিয়ে সিরিজে অন্তত একটি জয় তুলে নিতে।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array