খুঁজুন
                               
, ,
           

তিন বিচারেও মেলেনি খুনের সব উত্তর, ডানা চ্যান্ডলারকে ঘিরে এইচবিওর ‘আ কিলার স্টোরি’

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
তিন বিচারেও মেলেনি খুনের সব উত্তর, ডানা চ্যান্ডলারকে ঘিরে এইচবিওর ‘আ কিলার স্টোরি’

২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের টোপেকায় খুন হন কারেন হার্কনেস ও মাইক সিসকো। তদন্তের শুরু থেকেই সন্দেহের কেন্দ্রে ছিলেন সিসকোর সাবেক স্ত্রী ডানা চ্যান্ডলার। প্রায় এক দশক পর গ্রেপ্তার হন তিনি। এরপর হয়েছে তিন দফা বিচার, একবার সাজা বাতিল, একবার মিসট্রায়াল এবং সর্বশেষ আবারও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা। কিন্তু এত কিছুর পরও মামলার সব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।

এই দীর্ঘ ও বিতর্কিত হত্যাকাণ্ডের অনুসন্ধান নিয়েই তৈরি হয়েছে এইচবিওর তিন পর্বের তথ্যচিত্র ‘আ কিলার স্টোরি’। ম্যাথিউ গ্যালকিন পরিচালিত সিরিজটির প্রচার শুরু হয়েছে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। সিরিজটি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জো সেক্সটন এবং কানসাসের দম্পতি ইলিন ও কিন উমবেরের দীর্ঘ অনুসন্ধানকে সামনে রেখে ডানা চ্যান্ডলারের মামলাটি পুনরায় খতিয়ে দেখে।

হাজার হাজার ই-মেইল থেকে শুরু

২০১৭ সালে সাংবাদিক জো সেক্সটনের কাছে ইলিন উমবেরের একটি ই-মেইল আসে। ২০০২ সালের জোড়া খুনের মামলাটি নিয়ে সেক্সন আগ্রহী কি না, জানতে চেয়েছিলেন তিনি। শুরুতে সেক্সটন আগ্রহ দেখাননি। তাঁর কাছে ঘটনাটি ছিল বহু আগেই প্রায় নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া একটি মামলা।

কিন্তু ইলিন থামেননি। কখনো সপ্তাহে একাধিক ই-মেইল, কখনো আবার এক দিনেই কয়েক ডজন বার্তা পাঠিয়েছেন তিনি। আদালতের নথি, ব্যালিস্টিকস রিপোর্ট, সম্পত্তির কাগজপত্রসহ নানা তথ্য পাঠাতে থাকেন। একসময় সেই ই-মেইলের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছায়।

ইলিনের স্বামী কিন উমবের একজন আইনজীবী। তাঁরা নিজেদের অর্থ খরচ করে দীর্ঘদিন ধরে চ্যান্ডলারের মামলাটি পর্যালোচনা করছিলেন। তাঁদের বিশ্বাস ছিল, চ্যান্ডলার ভুলভাবে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

২ হাজার ৭১৪তম ই-মেইলে ইলিন জানান, কানসাস সুপ্রিম কোর্ট চ্যান্ডলারের সাজা বাতিল করেছে। এবার সেক্সটন মামলাটি নতুন করে দেখতে আগ্রহী হন। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর গভীর অনুসন্ধান।

কী হয়েছিল ২০০২ সালে?

২০০২ সালের ৭ জুলাই গভীর রাতে কারেন হার্কনেস ও তাঁর প্রেমিক মাইক সিসকোকে টোপেকার একটি টাউনহাউসে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগে দুজনকে একটি ক্যাসিনোয় দেখা গিয়েছিল। পরে তাঁরা হার্কনেসের বাড়িতে ফিরে যান।

ঘটনাস্থলে ডাকাতির সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। টাকা ও গয়না অক্ষত ছিল। হত্যার অস্ত্রও উদ্ধার হয়নি এবং গুলির খোসায় আঙুলের ছাপ পাওয়া যায়নি। ফলে শুরু থেকেই মামলাটি মূলত পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ব্যবহৃত গুলিগুলো ইসরায়েলি তৈরি সাবসনিক বুলেট, যা উজি ধরনের অস্ত্রে ব্যবহৃত হতে পারে। সিসকোর পরিবারের সদস্যদের সন্দেহও যায় তাঁর সাবেক স্ত্রী চ্যান্ডলারের দিকে।

চ্যান্ডলার তখন টোপেকা থেকে প্রায় ৫৪০ মাইল দূরে ডেনভারে থাকতেন। হত্যার কয়েক দিন পর তাঁর কেনা দুটি বড় গ্যাস ক্যানের রসিদ তদন্তকারীদের নজরে আসে। তাঁদের ধারণা ছিল, ওই জ্বালানি ব্যবহার করে ডেনভার থেকে টোপেকা যাওয়া ও ফিরে আসা সম্ভব ছিল। তবে দীর্ঘ সময় ধরে হত্যার রাতে চ্যান্ডলার টোপেকায় ছিলেন—এমন প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রথম বিচার ও সাজা বাতিল

২০১১ সালে চ্যান্ডলারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের বছর প্রথম বিচারে জুরি মাত্র ৮৩ মিনিট আলোচনা করে তাঁকে দুটি প্রথম ডিগ্রির হত্যায় দোষী সাব্যস্ত করে। তাঁকে পরপর দুটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ১০০ বছর পর্যন্ত প্যারোলের সুযোগ ছিল না।

পরে মামলায় প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত কিছু তথ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে মাইক সিসকো চ্যান্ডলারের বিরুদ্ধে ‘প্রটেকশন ফ্রম অ্যাবিউজ’ আদেশ নিয়েছিলেন—এমন দাবি করা হলেও আদালতের নথি ঘেঁটে কিন উমবের এমন কোনো আদেশের অস্তিত্ব খুঁজে পাননি।

২০১৮ সালে কানসাস সুপ্রিম কোর্ট চ্যান্ডলারের সাজা বাতিল করে। আদালত নতুন বিচারের জন্য পারিপার্শ্বিক প্রমাণ যথেষ্ট বলে মনে করলেও আগের বিচারে প্রসিকিউশনের অসদাচরণকে গুরুতর বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে। পরে সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটর জ্যাকুই স্প্র্যাডলিংয়ের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

উমবের দম্পতির অন্য সন্দেহ

চ্যান্ডলারকে নির্দোষ মনে করা ইলিন ও কিন উমবের শুধু তাঁর মুক্তির চেষ্টা করেননি, সম্ভাব্য অন্য সন্দেহভাজনদের নিয়েও অনুসন্ধান চালান। তাঁদের সন্দেহের কেন্দ্রে ছিলেন কারেন হার্কনেসের জামাই জেফ সাটন।

তাঁরা সাটনের অতীত, ঘটনাস্থলে প্রবেশের সম্ভাবনা এবং অস্ত্র ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখেন। এমনকি তাঁরা মনে করেছিলেন, ঘটনাস্থলে পাওয়া গুলির খোসায় থাকা একটি চুল হত্যাকারীর পরিচয় সম্পর্কে সূত্র দিতে পারে।

পরে ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা যায়, চুলটি সাটনেরও নয়। ফলে উমবের দম্পতির ওই তত্ত্বের পক্ষে প্রমাণ মেলেনি। তবু মামলার সম্ভাব্য অন্য দিকগুলো নিয়ে তাঁদের অনুসন্ধান থামেনি।

দ্বিতীয় বিচারেও হয়নি নিষ্পত্তি

২০২২ সালে চ্যান্ডলারের দ্বিতীয় বিচার হয়। এ সময় প্রসিকিউশন স্বীকার করে যে মামলাটি মূলত ডিএনএ, আঙুলের ছাপ বা হত্যার অস্ত্রের মতো সরাসরি ফরেনসিক প্রমাণের ওপর দাঁড়িয়ে নেই।

চ্যান্ডলারের আলিবি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তাঁর বক্তব্য বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হয়েছিল। দ্বিতীয় বিচারে একজন প্রতিবেশীও দাবি করেন, গুলির শব্দ শোনার পর তিনি চ্যান্ডলারের মতো দেখতে একজনকে দেখেছিলেন। কিন্তু তাঁর বর্ণিত সময়ের সঙ্গে ক্যাসিনোর ভিডিওসহ অন্যান্য তথ্যের অসঙ্গতি সামনে আসে।

ছয় দিন আলোচনার পর জুরি ৭-৫ ভাগ হয়ে যায়। ফলে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় দ্বিতীয় বিচারটি মিসট্রায়ালে শেষ হয়।

তৃতীয় বিচারে নিজেই নিজের আইনজীবী

২০২৫ সালে চ্যান্ডলারের তৃতীয় বিচার শুরু হয়। এবার বিচার শুরুর সময় তিনি নিজের আইনজীবীদের সরিয়ে দিয়ে নিজেই নিজের পক্ষে সওয়াল করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি আদালতে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন এবং এমনকি নিজের সন্তানদেরও জেরা করেন।

চ্যান্ডলার হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, হত্যার সময় তিনি কানসাসে ছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ নেই এবং তিনি কখনো ৯ মিলিমিটারের অস্ত্রের মালিক ছিলেন না।

কিন্তু তৃতীয় বিচারের জুরি তাঁকে আবারও দুই হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। তাঁকে পরপর দুটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়, ৫০ বছর পর্যন্ত প্যারোলের সুযোগ ছাড়া। চ্যান্ডলার তাঁর নির্দোষিতা বজায় রেখেছেন এবং তাঁর ২০২৫ সালের সাজা নিয়ে আপিলও চলছে।

‘রায় আছে, নিশ্চিত উত্তর নেই’

‘আ কিলার স্টোরি’র সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখানেই—আদালতের রায় হলেও ২০০২ সালের সেই হত্যাকাণ্ডের সব রহস্য কি সত্যিই মিটেছে?

সিরিজটি সরাসরি কোনো নতুন খুনিকে চিহ্নিত করার চেয়ে দেখেছে, কীভাবে দীর্ঘদিনের বিশ্বাস, গণমাধ্যমের বয়ান, তদন্তের সীমাবদ্ধতা এবং মানুষের নিজের ধারণাকে সত্য ধরে নেওয়ার প্রবণতা একটি মামলার গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে।

তথ্যচিত্রটির পরিচালক ম্যাথিউ গ্যালকিন সাত বছর ধরে মামলাটি অনুসরণ করেছেন। সিরিজটির বর্ণনাতেও মামলাটিকে এমন একটি ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে তিনটি বিচার হলেও ফরেনসিক প্রমাণের ঘাটতি এবং পরস্পরবিরোধী বয়ান প্রশ্নগুলোকে পুরোপুরি মুছে দেয়নি।

ফলে ‘আ কিলার স্টোরি’ কেবল একটি জোড়া খুনের তদন্ত নয়; এটি সত্য অনুসন্ধান, বিচারব্যবস্থা এবং মানুষ কীভাবে নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে প্রমাণকে মিলিয়ে নিতে শুরু করে—সেই প্রশ্নও সামনে আনে।

সূত্র:টাইম অবলম্বনে

কালের আলো/এসএ

এআইয়ে সিনেমার খরচ কমছে ৩০ শতাংশ, বদলে যাচ্ছে ভারতের চলচ্চিত্র নির্মাণ

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
এআইয়ে সিনেমার খরচ কমছে ৩০ শতাংশ, বদলে যাচ্ছে ভারতের চলচ্চিত্র নির্মাণ

কানাডার তুষারঢাকা বিশাল পর্বতমালা কিংবা ১৯৩০ সালের বুদাপেস্টের ব্যস্ত সড়ক—চিত্রনাট্যে এমন দৃশ্য থাকলেও এখন আর সেসব জায়গায় গিয়ে শুটিং করতেই হবে, এমন নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্যে স্টুডিওতে বসেই বদলে ফেলা যাচ্ছে শুটিংয়ের দৃশ্যপট। এতে ভারতে চলচ্চিত্র নির্মাণের খরচ কমছে, একই সঙ্গে বেঁচে যাচ্ছে শুটিংয়ের সময়ও।

আরব নিউজের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে প্রথম আলো জানিয়েছে, চলচ্চিত্র নির্মাণে এআই ব্যবহারের ফলে ভারতে কিছু ক্ষেত্রে ব্যয় অন্তত ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসছে।

সম্প্রতি মুম্বাইয়ের একটি স্টুডিওতে বসেই প্রযোজক আরফি লাম্বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইতালির আল্পস পর্বতমালার একটি সাধারণ দৃশ্যকে কানাডার তুষারাবৃত পাহাড়ি অঞ্চলের দৃশ্যে রূপান্তর করেছেন।

লাম্বার দাবি, বুদাপেস্টের একটি সেটকে ১৯৩০-এর দশকের আবহ দিতে প্রচলিত ভিএফএক্স পদ্ধতিতে কাজ করালে খরচ হতে পারত ১৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার ইউরো। সেখানে এআই ব্যবহার করে একই ধরনের কাজ প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইউরোর মধ্যে করা সম্ভব হয়েছে।

শুধু দৃশ্যপট নয়, পুরো নির্মাণপ্রক্রিয়ায় এআই

চলচ্চিত্রে এআইয়ের ব্যবহার এখন শুধু দৃশ্যপট বদলে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। চিত্রনাট্যের ভুলত্রুটি শনাক্ত করা, ডাবিং, সম্পাদনা এবং কালার গ্রেডিংয়ের মতো কাজেও বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহার করা হচ্ছে।

ভারতের বিনোদনশিল্পের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। ইরোস ইন্টারন্যাশনাল ও জিও স্টুডিওস দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্র নির্মাণে এআইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করছে। ইরোস ইন্টারন্যাশনাল পুরোপুরি এআইনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণপ্রক্রিয়ার দিকেও এগোচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাইপারকগ টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা রঞ্জিত কুমারের মতে, সিনেমায় এআইয়ের সম্ভাবনার খুব সামান্য অংশই এখন ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর ধারণা, আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরে প্রযুক্তিটির আরও বিকাশ ঘটলে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রচলিত পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

কাজ হারানোর শঙ্কা

তবে এআইয়ের দ্রুত ব্যবহার নিয়ে চলচ্চিত্রশিল্পে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভিএফএক্সশিল্পী, সম্পাদক এবং সহকারী পরিচালকদের মতো পেশায় কাজের সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এআই যেসব কাজ দ্রুত ও তুলনামূলক কম খরচে করতে পারছে, সেগুলোর কিছু অংশ আগে বিপুলসংখ্যক কলাকুশলীকে দিয়ে করানো হতো। ফলে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চলচ্চিত্রশিল্পের কর্মসংস্থানে এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

মানুষের সৃজনশীলতার বিকল্প কি এআই?

প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির মধ্যেও নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকারদের একটি অংশ মনে করছেন, চলচ্চিত্রের মৌলিক সৃজনশীলতা ও মানবিক আবেগের জায়গা পুরোপুরি এআই দখল করতে পারবে না।

চিত্রনাট্যকার সুধাকর একলব্যের মতে, এআই দিয়ে সাধারণ বা ভালো মানের চিত্রনাট্য তৈরি করা সম্ভব হলেও মানুষের তৈরি অনবদ্য ও কালজয়ী গল্প তৈরির সক্ষমতা এআইয়ের নেই।

প্রযোজকদের কেউ কেউ আরও মনে করেন, শুধু এআই-নির্ভর চরিত্র ও গল্প দিয়ে তৈরি সিনেমা মানবিক অনুভূতি ও বৈচিত্র্যের অভাবে দর্শকের কাছে দ্রুত একঘেয়ে হয়ে উঠতে পারে।

ফলে চলচ্চিত্রে এআই একদিকে যেমন নির্মাণের খরচ ও সময় কমানোর নতুন সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে তেমনি শিল্পীদের কর্মসংস্থান এবং মানুষের সৃজনশীলতার ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করছে।

সূত্র: আরব নিউজ অবলম্বনে

কালের আলো/এসএ

অভিজ্ঞ কামরুল আহসানের নেতৃত্বে পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিট এসবি

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৭ অপরাহ্ণ
অভিজ্ঞ কামরুল আহসানের নেতৃত্বে পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিট এসবি

পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) পেল নতুন নেতৃত্ব। অতিরিক্ত আইজিপি মো. কামরুল আহসানকে সংস্থাটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন মাঠ প্রশাসন, পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) কাজ করা এই কর্মকর্তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণকে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে চলমান দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে কামরুল আহসানকে এসবি প্রধান করার তথ্য জানানো হয়। একই আদেশে আরও পাঁচ অতিরিক্ত আইজিপি ও পাঁচ ডিআইজিকে বদলি করে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসবির বর্তমান প্রধান সরদার নুরুল আমিনকে পুলিশ সদর দপ্তরে পদায়ন করা হয়েছে।

সংবেদনশীল ইউনিটে নতুন দায়িত্ব
পুলিশের বিশেষ শাখা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তথ্য সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত। এ কারণে সংস্থাটির নেতৃত্বে পরিবর্তন প্রশাসনিক রদবদরের পাশাপাশি পেশাগত অভিজ্ঞতার দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।

নতুন এসবি প্রধান কামরুল আহসানের কর্মজীবনে কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, নড়াইল ও বান্দরবান জেলা পুলিশ, পুলিশ সদর দপ্তর এবং সিআইডির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে কাজ করেছেন তিনি।

মাঠের অভিজ্ঞতার সঙ্গে কেন্দ্রীয় দায়িত্ব
কামরুল আহসান পুলিশ সুপার হিসেবে নড়াইল ও বান্দরবান জেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন। জেলা পুলিশের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি পুলিশ সদর দপ্তরে ডিআইজি (কনফিডেনশিয়াল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বর্তমানে। ফলে মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক ও গোপনীয় কার্যক্রম—দুই ধরনের কাজের সঙ্গেই তার প্রত্যক্ষ পরিচয় রয়েছে।

বিশেষ শাখার মতো তথ্যনির্ভর ও সংবেদনশীল একটি ইউনিটের নেতৃত্বে এই বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে পাওয়া তথ্য ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিশ্লেষণ—দুইয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এসবির কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

১৭তম ব্যাচ থেকে অতিরিক্ত আইজিপি
বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা কামরুল আহসানের বাড়ি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায়। তার শিক্ষাজীবনের শুরুতে ছিল রংপুর ক্যাডেট কলেজ। পরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি নেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনের ধারাবাহিকতায় গত ২৩ আগস্ট অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পান তিনি। পদোন্নতির কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পুলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের নেতৃত্বের দায়িত্ব পেলেন এই কর্মকর্তা।

এক প্রজ্ঞাপনে বদল একাধিক শীর্ষ পদে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একই প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত আইজিপি ও ডিআইজি পর্যায়ের আরও কয়েকজন কর্মকর্তার দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। ফলে এটি শুধু এসবি প্রধান পরিবর্তনের ঘটনা নয়; পুলিশের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তাদের নতুন দায়িত্ব দেওয়ার একটি বিস্তৃত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও।

এর মধ্যে সরদার নুরুল আমিনের পুলিশ সদর দপ্তরে পদায়ন এবং এসবির নেতৃত্বে কামরুল আহসানের দায়িত্ব গ্রহণ বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। একদিকে অভিজ্ঞ একজন কর্মকর্তার নতুন দায়িত্ব, অন্যদিকে একাধিক শীর্ষ পদে পুনর্বিন্যাস—দুই মিলিয়ে বৃহস্পতিবারের প্রজ্ঞাপন পুলিশের কেন্দ্রীয় কাঠামোয় পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে।

নতুন দায়িত্বে কামরুল আহসানের সামনে এখন মাঠপর্যায়ের তথ্য ও কেন্দ্রীয় বিশ্লেষণের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়, সংস্থার সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং এসবির দায়িত্বকে আরও গতিশীল রাখার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

অস্কারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের দৌড়ে পাঁচ সিনেমা

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
অস্কারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের দৌড়ে পাঁচ সিনেমা

৯৯তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের (অস্কার) ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম বিভাগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের জন্য পাঁচটি চলচ্চিত্র জমা পড়েছে। ছবিগুলো হলো—নূরুল আলম আতিকের ‘মানুষের বাগান’, মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’, রেদওয়ান রনির ‘দম’, মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামের ‘দেলুপি’ এবং মনিরুল আকাশ হকের ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’।

অস্কার বাংলাদেশ কমিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জমা পড়া চলচ্চিত্রগুলোর মধ্য থেকে বাংলাদেশের হয়ে অস্কারে পাঠানোর জন্য একটি ছবি বাছাই করবে সাত সদস্যের অস্কার বাংলাদেশ কমিটি। এরই মধ্যে কমিটিটি অস্কার কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেয়েছে।

কমিটির চেয়ারপারসন জহিরুল ইসলাম। সদস্য হিসেবে আছেন সাজ্জাদ শরিফ, শাহীন দিল-রিয়াজ, রাশেদ জামান, অপি করিম, সাইয়্যিদ শাহজাদা আল কারীম ও শাহরীন আক্তার সুমি।

কমিটির সদস্যরা জমা পড়া পাঁচটি সিনেমা দেখে তাঁদের মূল্যায়ন ও আলোচনার ভিত্তিতে একটি চলচ্চিত্র নির্বাচন করবেন। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর অস্কারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়া সিনেমাটির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম বিভাগে প্রতিটি দেশ থেকে একটি করে চলচ্চিত্র অস্কারের জন্য জমা দেওয়ার সুযোগ থাকে। বাংলাদেশের নির্বাচিত ছবিটি পরে একাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে।

এবার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জমা পড়া পাঁচটি সিনেমার মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়ার দায়িত্ব অস্কার বাংলাদেশ কমিটির। ফলে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের ঘোষণার দিকেই এখন নজর চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের।

কালের আলো/এসএ