ইউপি ভোটে নতুন হিসাব, নভেম্বরের পরিকল্পনায় ‘স্লট’ সংকট
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রাথমিক পরিকল্পনায় চারদিনের ব্যবধানে এসেছে নতুন হিসাব। গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সাত ধাপে আগামী নভেম্বর থেকে ভোট শুরুর সম্ভাব্য তারিখ জানানো হলেও বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর ইসি বলছে, নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোট করতে হলে আগে পরীক্ষার সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘স্লট’ নিশ্চিত করতে হবে। গত সোমবারের সম্ভাব্য সূচি এখনো বাতিল হয়নি। তবে সেটি চূড়ান্তও নয়। নতুন তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার পর কমিশন আবার বসে তারিখ নির্ধারণ করবে।
চারদিনেই বদলাল হিসাব
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। তিনি বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকায় ভোট আয়োজনের জন্য পাওয়া সময় খুবই সীমিত। আগে যে দুটি সময়ের ‘গ্যাপ’ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, নতুন তথ্যের ভিত্তিতে সেগুলো আদৌ ব্যবহার করা সম্ভব কি না, তা আবার দেখতে হবে।
সামনে বড় চ্যালেঞ্জ পরীক্ষার সূচি
ইসির এই অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে মূলত পরীক্ষার সময়সূচি। বৈঠকে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা পরীক্ষায় যেন কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেন। একজন শিক্ষককে ভোটের দায়িত্ব পালনের আগে প্রশিক্ষণ, সমন্বয় ও প্রস্তুতির জন্যও সময় প্রয়োজন—এ বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
সানাউল্লাহ বলেন, এসব উদ্বেগকে ‘জেনুইন কনসার্ন’ হিসেবে বিবেচনা করছে কমিশন এবং ভোটের পরিকল্পনায় সেগুলো সমন্বয় করা হবে। একই সঙ্গে বাজেট ও প্রশাসনিক সমন্বয়সহ আরও কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ দ্রুত শেষ করার কথা জানান তিনি।
নভেম্বর কি তাহলে অনিশ্চিত?
তবে ইউপি নির্বাচন পিছিয়ে যাচ্ছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিশনার স্পষ্ট করে বলেন, বৃহস্পতিবার পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এখনো কমিশনের কোনো চূড়ান্ত বৈঠক হয়নি। কমিশনে আলোচনা ও আরও কিছু সমন্বয় বৈঠকের পর নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হবে।
নভেম্বরে ভোট শুরু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনই এককভাবে এ বিষয়ে বলা সম্ভব নয়। কমিশনে বসে এবং আরও কিছু সমন্বয় বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
৬ জুনের আগেই শেষ করতে চায় ইসি
এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর ইসি জানিয়েছিল, দেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়নে সাত ধাপে ভোট করার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্য সূচিতে প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর। এরপর ১৭ জানুয়ারি, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২২ এপ্রিল ও ২৭ মে আরও চার ধাপে ভোট আয়োজনের কথা বলা হয়েছিল। এখন নতুন আলোচনায় জানুয়ারি ও পরবর্তী সময়ের সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। তবে ইসির লক্ষ্য—সব ধাপের ভোট আগামী ৬ জুনের আগেই শেষ করা, অর্থাৎ এইচএসসি পরীক্ষার শুরুর আগে। ফলে সোমবারের ঘোষিত সম্ভাব্য সূচি থেকে চূড়ান্ত নির্বাচনী ক্যালেন্ডারে যেতে এখন ইসিকে পরীক্ষার সূচি, প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও পাওয়া সময়—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে মেলাতে হচ্ছে।
কালের আলো/এম/এএইচ

আপনার মতামত লিখুন
Array