খুঁজুন
                               
, ,
           

ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটে সৌদি, মিত্রদের কাছে জরুরি সহায়তা চায় রিয়াদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটে সৌদি, মিত্রদের কাছে জরুরি সহায়তা চায় রিয়াদ

ইয়েমেনের ইরান–সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংসে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসায় পরিস্থিতি সামাল দিতে আঞ্চলিক ও পশ্চিমা মিত্রদের কাছে জরুরি সামরিক সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছে। হুতি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে সৌদি সরকার।

সৌদি আরবের প্রধান মিত্র ও অস্ত্র সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদেরও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত কমছে। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের কারণে এসব অস্ত্রের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে শুধু ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর না করে অন্য দেশগুলোর কাছেও সহায়তা চাইছে রিয়াদ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই দুই কর্মকর্তা জানান, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তাঁরা পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি। সৌদি কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সৌদির অভিযোগ, হুতিদের অস্বীকার

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নতুন করে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়েছে। এটি এখন বৃহত্তর ইরান সংঘাতের একটি নতুন ফ্রন্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সৌদি আরব গতকাল অভিযোগ করেছে, হুতিরা পবিত্র নগরী মক্কার দিকে ড্রোন ছুড়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে। মক্কায় পবিত্র কাবা অবস্থিত এবং প্রতিবছর হজ পালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো মুসল্লি সেখানে সমবেত হন।

সৌদি আরব সতর্ক করে বলেছে, পবিত্র নগরীর দিকে এ ধরনের হামলার চেষ্টা ‘চূড়ান্ত সীমা’ লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ইয়েমেনের সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার দূরের মক্কার দিকে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা।

এরই মধ্যে হুতিরা দাবি করেছে, ইয়েমেনের আকাশে সৌদি আরবের একটি এফ–১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে তারা। এ দাবির সমর্থনে যুদ্ধবিমানটির ধ্বংসাবশেষের ছবিও প্রকাশ করেছে গোষ্ঠীটি।

জ্বালানি রপ্তানি নিয়েও উদ্বেগ

সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক দেশ। ফলে দেশটির সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি তেলক্ষেত্র, পাইপলাইন ও অন্যান্য জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তাও বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি সৌদি আরবে হামলার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট–ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে গেছে। এর পেছনে ইরাকের ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হচ্ছে। পাইপলাইনটি কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা এবং লোহিত সাগরে দেশটির জাহাজে হামলা চালাচ্ছে।

লোহিত সাগরের বাব আল–মানদেব প্রণালির কয়েকটি দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবিও করেছে হুতিরা। প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তারা।

ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন কার্যত বন্ধ থাকায় সৌদি আরবের জন্য বাব আল–মানদেব ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ। কিন্তু সেখানে হুতিদের তৎপরতা নতুন করে রপ্তানি–সংকট তৈরি করেছে।

এর প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়ছে। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আঞ্চলিক এক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব এখন কঠিন পরিস্থিতির মুখে রয়েছে। কারণ শুধু সামরিক ঘাঁটি ও সরকারি স্থাপনা নয়, দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তেল অবকাঠামোকেও একই সঙ্গে সুরক্ষা দিতে হচ্ছে।

মিত্রদের পাশে চায় রিয়াদ

হুতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মিত্রদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছে সৌদি আরব। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওমান ও মিসর কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় রয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নিউ আমেরিকার ফেলো অ্যাডাম ব্যারনের মতে, বিষয়টি শুধু সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যকার সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে ওমানের রাজধানী মাসকাটে হুতি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। সেখানে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে বৈঠকের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

সামরিক সহায়তার বদলে কূটনীতিতে জোর

সৌদি আরব পশ্চিমা ও আঞ্চলিক মিত্রদের কাছ থেকে সামরিক সহায়তা চাইলেও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক সহায়তার দিকে বেশি জোর দিচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র টম ওয়েলস বলেছেন, সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব রয়েছে। তবে সৌদি আরব সামরিক সহায়তা চেয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেননি।

এদিকে ইউরোপ ও ন্যাটোর কর্মকর্তারাও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার সংকটের কথা স্বীকার করেছেন। ফলে সৌদি আরবকে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করার সক্ষমতা ইউরোপের কতটা রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও নতুন পরিস্থিতিতে আলোচনায় এসেছে। তবে দেশ দুটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুতিদের মোকাবিলায় সৌদি আরব সরাসরি তাদের কাছে সামরিক সহায়তা চায়নি।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মক্কায় হামলার অভিযোগের পর সৌদি আরবের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন।

সৌদি–হুতি সংঘাতে সরাসরি জড়াতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী। দেশটির কাছে বিপুল পরিমাণ মার্কিন অস্ত্র রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে, ওয়াশিংটন সৌদি–হুতি সংঘাতে সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সম্প্রতি বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে ওয়াশিংটনের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে হুতিদের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আলোচনা করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, সৌদি বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান ও সামরিক পরিকল্পনায় সহায়তা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে।

গত সপ্তাহে জার্মানিতে আটটি দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠকও করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চীন সফর করছেন। ইরানের সবচেয়ে বড় জ্বালানি তেল ক্রেতা চীন চলমান সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইয়েমেন ও লোহিত সাগরে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওয়াং ই।

অন্যদিকে আরাগচি বলেছেন, তেহরান এ অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে চায় এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।

সূত্রঃ রয়টার্স

কালের আলো/এসএ

অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ ড্র করা বাংলাদেশ দলকে কোয়াবের সংবর্ধনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৯ অপরাহ্ণ
অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ ড্র করা বাংলাদেশ দলকে কোয়াবের সংবর্ধনা

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ড্র করে দেশে ফেরা বাংলাদেশ দলকে সংবর্ধনা দিয়েছে ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)।

বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্লেয়ার্স লাউঞ্জ ‘টাইগার্স ডেন’-এ এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়া সফর করা দলের সব সদস্যকে সাফল্যের স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল, বোর্ডের অন্যান্য পরিচালক এবং কোয়াবের উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা।

কোয়াবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন অস্ট্রেলিয়ায় দলের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন। টেস্ট ক্রিকেটে দলের সাম্প্রতিক অগ্রগতির জন্য পুরো কোচিং স্টাফের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।

বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওই টেস্ট সিরিজের কথা মনে পড়লেই তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

বাংলাদেশ দলের সাবেক ক্রিকেটার, বিসিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং কোয়াবের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সৈয়দ আশরাফুল হকও বক্তব্য দেওয়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা অর্জনের সংগ্রামের সময়কার বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরেন।

বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল দলের প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশ দল এমন একটি কীর্তি অর্জন করেছে, যা সবার প্রত্যাশার বাইরে ছিল।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার, সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ, সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খান এবং সাবেক ক্রিকেটার এনামুল হক।

অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে ফেরা দলের ক্রিকেটার লিটন দাস, হাসান মাহমুদ, শরীফুল ইসলাম ও তানজিদ হাসানও অনুষ্ঠানে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন ও কোচ ফিল সিমন্স কেক কাটেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে দলের লড়াকু পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে আয়োজিত এ সংবর্ধনায় খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিল উৎসবের আবহ।

কালের আলো/ এসএ

ইউপি ভোটে নতুন হিসাব, নভেম্বরের পরিকল্পনায় ‘স্লট’ সংকট

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ণ
ইউপি ভোটে নতুন হিসাব, নভেম্বরের পরিকল্পনায় ‘স্লট’ সংকট

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রাথমিক পরিকল্পনায় চারদিনের ব্যবধানে এসেছে নতুন হিসাব। গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সাত ধাপে আগামী নভেম্বর থেকে ভোট শুরুর সম্ভাব্য তারিখ জানানো হলেও বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর ইসি বলছে, নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোট করতে হলে আগে পরীক্ষার সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘স্লট’ নিশ্চিত করতে হবে। গত সোমবারের সম্ভাব্য সূচি এখনো বাতিল হয়নি। তবে সেটি চূড়ান্তও নয়। নতুন তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার পর কমিশন আবার বসে তারিখ নির্ধারণ করবে।

চারদিনেই বদলাল হিসাব
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। তিনি বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকায় ভোট আয়োজনের জন্য পাওয়া সময় খুবই সীমিত। আগে যে দুটি সময়ের ‘গ্যাপ’ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, নতুন তথ্যের ভিত্তিতে সেগুলো আদৌ ব্যবহার করা সম্ভব কি না, তা আবার দেখতে হবে।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ পরীক্ষার সূচি
ইসির এই অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে মূলত পরীক্ষার সময়সূচি। বৈঠকে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা পরীক্ষায় যেন কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেন। একজন শিক্ষককে ভোটের দায়িত্ব পালনের আগে প্রশিক্ষণ, সমন্বয় ও প্রস্তুতির জন্যও সময় প্রয়োজন—এ বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

সানাউল্লাহ বলেন, এসব উদ্বেগকে ‘জেনুইন কনসার্ন’ হিসেবে বিবেচনা করছে কমিশন এবং ভোটের পরিকল্পনায় সেগুলো সমন্বয় করা হবে। একই সঙ্গে বাজেট ও প্রশাসনিক সমন্বয়সহ আরও কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ দ্রুত শেষ করার কথা জানান তিনি।

নভেম্বর কি তাহলে অনিশ্চিত?
তবে ইউপি নির্বাচন পিছিয়ে যাচ্ছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিশনার স্পষ্ট করে বলেন, বৃহস্পতিবার পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এখনো কমিশনের কোনো চূড়ান্ত বৈঠক হয়নি। কমিশনে আলোচনা ও আরও কিছু সমন্বয় বৈঠকের পর নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হবে।

নভেম্বরে ভোট শুরু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনই এককভাবে এ বিষয়ে বলা সম্ভব নয়। কমিশনে বসে এবং আরও কিছু সমন্বয় বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

৬ জুনের আগেই শেষ করতে চায় ইসি
এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর ইসি জানিয়েছিল, দেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়নে সাত ধাপে ভোট করার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্য সূচিতে প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর। এরপর ১৭ জানুয়ারি, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২২ এপ্রিল ও ২৭ মে আরও চার ধাপে ভোট আয়োজনের কথা বলা হয়েছিল। এখন নতুন আলোচনায় জানুয়ারি ও পরবর্তী সময়ের সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। তবে ইসির লক্ষ্য—সব ধাপের ভোট আগামী ৬ জুনের আগেই শেষ করা, অর্থাৎ এইচএসসি পরীক্ষার শুরুর আগে। ফলে সোমবারের ঘোষিত সম্ভাব্য সূচি থেকে চূড়ান্ত নির্বাচনী ক্যালেন্ডারে যেতে এখন ইসিকে পরীক্ষার সূচি, প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও পাওয়া সময়—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে মেলাতে হচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

৫০০ কুমিরের নদীতেই হবে অলিম্পিকের রোয়িং

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
৫০০ কুমিরের নদীতেই হবে অলিম্পিকের রোয়িং

অস্ট্রেলিয়ার রকহ্যাম্পটনের ফিটজরয় নদীতে বাস করে প্রায় ৫০০ নোনাপানির কুমির। সেই নদীতেই ২০৩২ ব্রিসবেন অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকের রোয়িং ও ক্যানো স্প্রিন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্রিসবেন থেকে প্রায় ৫৬৫ কিলোমিটার দূরের এই নদীকে একটি স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়নের পর ক্যানোয়িংয়ের জন্য উপযুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে মূল্যায়নের সময় কুমিরের উপস্থিতিকে ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। সেখানে মূলত গেমস চলাকালীন ও তার আগের সময়ে আবহাওয়া, পানির স্তর এবং বন্যার ঝুঁকি পর্যালোচনা করা হয়েছে।

গেমস ইনডিপেনডেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, ফিটজরয় নদীর ফ্ল্যাটওয়াটার ফ্যাসিলিটি আগে থেকেই বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এখানে স্কুল পর্যায়ের প্রতিযোগিতা, স্থানীয় রেগাটা এবং জাতীয় দলের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প নিয়মিত আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নদীতে কুমিরের উপস্থিতি নতুন কোনো বিষয় নয়। তাই কুমির দেখা দিলে অ্যাথলেট ও অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট জরুরি পরিকল্পনাও রয়েছে। অলিম্পিক কর্মকর্তাদের আগেই এ বিষয়ে নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থার সবুজ সংকেত

রোয়িংয়ের আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড রোয়িং এবং ক্যানো স্প্রিন্টের আন্তর্জাতিক সংস্থা প্যাডেল ওয়ার্ল্ডওয়াইড—দুই সংস্থাই ফিটজরয় নদীকে প্রতিযোগিতার জন্য উপযুক্ত বলে অনুমোদন দিয়েছে।

ওয়ার্ল্ড রোয়িংয়ের সভাপতি জিন-ক্রিস্টোফ রোল্যান্ড বলেন, বিস্তারিত বিশ্লেষণের পর তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন যে ফিটজরয় নদী অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক রোয়িংয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিযোগিতা আয়োজনের উপযুক্ত।

প্যাডেল ওয়ার্ল্ডওয়াইডের সভাপতি টমাস কোনিয়েটজকোও ভেন্যুটিকে ক্যানো স্প্রিন্টের জন্য উপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, কারিগরি মূল্যায়নের পর অ্যাথলেটদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।

‘সমুদ্রে হাঙরও থাকে’

ফিটজরয় নদীতে কুমিরের উপস্থিতি নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছিল। তবে ব্রিসবেন ২০৩২-এর সভাপতি অ্যান্ড্রু লিভারিস গত বছর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিয়ে বলেছিলেন, সমুদ্রে হাঙর থাকে বলে যেমন সার্ফিং বন্ধ করা হয় না, তেমনি কুমির আছে বলে রোয়িংও বন্ধ করার প্রয়োজন নেই।

ভেন্যু চূড়ান্ত হওয়ার পর তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি অলিম্পিক আয়োজনের পরিকল্পনাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে।

ফিটজরয় নদীর নোনাপানির কুমিরগুলো স্থানীয়ভাবে ‘সল্টি’ নামে পরিচিত। এরা স্বাদু ও লোনা—দুই ধরনের পানিতেই চলাচল করতে পারে। পূর্ণবয়স্ক কিছু কুমিরের দৈর্ঘ্য ছয় মিটারেরও বেশি হতে পারে।

ফলে ২০৩২ সালের অলিম্পিকে ফিটজরয় নদীতে রোয়িং ও ক্যানো স্প্রিন্টের সময় অ্যাথলেটদের প্রতিযোগিতার পাশাপাশি কুমিরের উপস্থিতিও যে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয় হয়ে থাকবে, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

সূত্রঃবিবিসি

কালের আলো/এসএ