খুঁজুন
                               
, ,
           

আরও তিন কূপ থেকে গ্যাস আসছে জাতীয় গ্রিডে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ
আরও তিন কূপ থেকে গ্যাস আসছে জাতীয় গ্রিডে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে দৈনিক ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তিতাসের ২৯ নম্বর কূপ থেকেও আগামী এক মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে। পাশাপাশি আগামী ছয় মাসের মধ্যে আরও দুটি কূপের গ্যাস গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

২৩ কূপ থেকে দৈনিক ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) পরিচালনাধীন তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে বর্তমানে ২৩টি কূপ উৎপাদনে রয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস উত্তোলনের কারণে বিদ্যমান কূপগুলোর মজুত ও চাপ কমে উৎপাদনও ধীরে ধীরে কমছে।

এই পরিস্থিতিতে নতুন উৎসের সন্ধানে সদর উপজেলার সুহিলপুর এলাকায় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ‘সি’ লোকেশনে ২০১২ সালে জরিপ চালানো হয়। ২০২০ সালে জরিপ প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর সেখানে নতুন কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৮ নম্বর কূপ

তিতাস ২৮ নম্বর কূপের খননকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর। প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৬০১ মিটার গভীরতায় কূপটির খনন শেষ হয় চলতি বছরের ২৭ মে। চীনা প্রতিষ্ঠান সিসিডিসি কূপটির খননকাজ করে। পরে ১৯ জুন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।

এদিকে ‘সি’ লোকেশনে তিতাস ২৯ নম্বর কূপের খননও শেষ হয়েছে। ৩ হাজার ৫২৬ মিটার গভীরতার এ কূপে বর্তমানে কারিগরি কাজ চলছে। প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করা কূপটি থেকে আগামী এক মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।

আসছে আরও তিন কূপ

তিতাস ৩০ নম্বর কূপের খননকাজ আগামী দেড় মাসের মধ্যে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কূপটি প্রায় ৩ হাজার ৭০০ মিটার গভীর হবে এবং খননে সময় লাগতে পারে সাড়ে তিন মাস।

অন্যদিকে সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় তিতাস ৩১ নম্বর কূপের খননকাজও শেষ পর্যায়ে। ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতার এ কূপকে দেশের প্রথম গভীর অনুসন্ধান কূপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৯২০ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়েছে।

তিতাস ২৮, ২৯ ও ৩০ নম্বর কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক জসিম উদ্দিন মুন্না বলেন, ২৮ নম্বর কূপ থেকে আপাতত দৈনিক ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হবে। ২৯ নম্বর কূপ থেকেও এক মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে কাজ চলছে। এ কূপে ভালো গ্যাসের চাপ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

তিতাস ৩১ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপ প্রকল্পের পরিচালক মাহমুদুল নবাব জানান, উচ্চচাপ ও উচ্চতাপের এ কূপ থেকে বড় ধরনের জটিলতা না হলে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হতে পারে।

বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে তিতাস ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ থেকে প্রতিটি দৈনিক ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে মোট ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের আশা করা হচ্ছে। এতে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ২৯টি কূপ খনন করা হয়েছে। নতুন কূপগুলো থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়লে চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান কমাতে তা ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাইয়ের ২৪০ কোটি টাকার ফ্ল্যাট জব্দ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ
লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাইয়ের ২৪০ কোটি টাকার ফ্ল্যাট জব্দ

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনির প্রায় ১৫ মিলিয়ন পাউন্ড বা ২৪০ কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বিক্রি ও হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন দেশটির হাইকোর্ট। অর্থ পাচার, আত্মসাৎ ও জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থা (এনসিএ) আবেদন করার পর আদালত এ আদেশ দেন। লন্ডনের লর্ডশিপ এলাকায় রিজেন্টস পার্কের কাছে অবস্থিত ফ্ল্যাটটির অর্থের বৈধ উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

১২ দশমিক ৪ মিলিয়ন পাউন্ডে কেনা হয়েছিল ফ্ল্যাট
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এনসিএর তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানিয়েছেন, আনিসুজ্জামান চৌধুরী তাঁর ‘রনি ৪২ লিমিটেড’ নামের কোম্পানির মাধ্যমে ২০১৩ সালে ১২ দশমিক ৪ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে ফ্ল্যাটটি কেনেন। বর্তমানে সম্পত্তিটির মূল্য প্রায় ১৫ মিলিয়ন পাউন্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছর এনসিএ তাঁকে ফ্ল্যাটটি কেনার অর্থের বৈধ উৎস ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে তিনি অর্থের উৎস প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন বলে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যের দুর্নীতিবিরোধী আইনের আওতায় এ পরিস্থিতিতে সম্পত্তিটি অবৈধভাবে অর্জিত হয়ে থাকতে পারে বলে বিবেচনা করা হয়।

মাত্র ১ পাউন্ডে মালিকানা হস্তান্তরের চেষ্টা
তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, ফ্ল্যাটটির প্রকৃত মালিকানা গোপন করা এবং তদন্ত এড়ানোর উদ্দেশ্যে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মাত্র ১ পাউন্ডের বিনিময়ে সম্পত্তিটি তৃতীয় পক্ষের নামে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে তদন্তে এমন একটি পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া যায়, যার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত সম্পত্তিটির নিয়ন্ত্রণ আনিসুজ্জামান চৌধুরীর স্ত্রী ও দুই মেয়ের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তরসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এবং মার্কিন সংগীতশিল্পী ক্রিস ব্রাউনের ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নথি ও দলিলে এসব স্বাক্ষর ব্যবহারের বিষয়টি জালিয়াতির তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সম্পত্তির অর্থের উৎস নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ
মামলার শুনানিতে বিচারপতি কারেন স্টেইন বলেন, সম্পত্তিটির অর্থের উৎস অবৈধ বলে বিবেচনা করার পক্ষে যথেষ্ট যুক্তিসংগত প্রমাণ রয়েছে। এর ভিত্তিতে ফ্ল্যাটটি বিক্রি বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। আদালতের এ আদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে সম্পত্তিটি বিক্রি বা মালিকানা পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত হলো। তবে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও সম্পত্তি জব্দের আদেশকে ফৌজদারি মামলায় চূড়ান্ত দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

অভিযোগ অস্বীকার আনিসুজ্জামানের
আনিসুজ্জামান চৌধুরীর আইনজীবীরা আদালতে সম্পত্তি জব্দের আবেদনের বিরোধিতা করেননি। তবে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে আনিসুজ্জামান বলেন, আইনি পরামর্শের ভিত্তিতেই তিনি ওই আবেদনের বিরোধিতা করেননি। তাঁর দাবি, তিনি কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। এনসিএ দেওয়ানি মামলা করলে তিনি আইনগতভাবে লড়াই করবেন বলেও জানান। অর্থাৎ, তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগের পাশাপাশি আনিসুজ্জামানের বক্তব্যও রয়েছে। অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও পরিবারের সম্পদ নিয়ে তদন্ত
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্ত এবং দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ জোরদার করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর অংশ হিসেবে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের বিদেশে সম্পদ অর্জন নিয়েও তদন্ত চলছে।

এনসিএর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯২ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিদেশি সম্পত্তির মূল্য প্রায় ২৯৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। চলমান দেওয়ানি তদন্তের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাজ্যের এনসিএ সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন প্রায় ১৮৫ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের সম্পত্তিও জব্দ করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

পূজার ছুটিতে পঞ্চগড়ে পর্যটকের ঢল, অধরা কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য

পঞ্চগড় সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
পূজার ছুটিতে পঞ্চগড়ে পর্যটকের ঢল, অধরা কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য

হিমালয়ের দ্বিতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে পঞ্চগড়ে ছুটে এসেছেন হাজারো পর্যটক। পূজার ছুটিকে কেন্দ্র করে হিমালয়কন্যা হিসেবে পরিচিত এই জেলার হোটেল, হোমস্টে ও তেঁতুলিয়ার ডাকবাংলোয় বেড়েছে পর্যটকদের ভিড়। কিন্তু মেঘ ও কুয়াশার কারণে কাঙ্ক্ষিত কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন অনেকে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোর থেকেই উত্তর আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন পর্যটকেরা। আশা ছিল, সূর্যের প্রথম আলোয় পাহাড়ের চূড়ায় দেখা মিলবে রঙের অপূর্ব খেলার। কেউ এসেছেন জীবনসঙ্গীকে নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। কিন্তু মেঘ ও কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে থাকায় অনেকেরই সেই অপেক্ষা পূরণ হয়নি।

ভোর থেকে অপেক্ষা, তবু দেখা মেলেনি কাঞ্চনজঙ্ঘার
পর্যটকদের প্রত্যাশা ছিল, ভোরের আলোয় পরিষ্কার আকাশের পটভূমিতে কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করবেন তাঁরা। এ জন্য ভোর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন অনেকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা পাওয়ার আশা করলেও শেষ পর্যন্ত অনেক পর্যটককে হতাশ হতে হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে আসা রাইসুল ইসলাম বলেন, প্রথমবার নিজ দেশের মাটি থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আশায় এসেছেন তিনি। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখতে না পেরে বড়ই হতাশ হয়েছেন।

ঢাকা থেকে আসা শহিদুল ইসলাম শামু বলেন, কাঞ্চনজঙ্ঘা প্রতিদিন দেখা যাবে, এমন নয়। আকাশ পরিষ্কার থাকলে হয়তো দেখা পাওয়া যেত। তবে তিনি আশা ছাড়েননি। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে না পেলেও পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে তাঁর ভালো লাগছে। ঢাকা থেকে আসা রুবাইয়া শায়েরা জানান, ভোর থেকে অপেক্ষা করেও কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পাননি। তবে পঞ্চগড়ের আগাম শীতের আমেজ তিনি বেশ উপভোগ করছেন।

কাঞ্চনজঙ্ঘা অধরা হলেও প্রকৃতির টানে পর্যটকেরা
কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা না গেলেও পঞ্চগড়ের প্রকৃতির সৌন্দর্য পর্যটকদের আনন্দে ভাটা পড়তে দেয়নি পুরোপুরি। হালকা শীতের আমেজ, সবুজ চা-বাগান, গ্রামীণ পরিবেশ, নদীপথ ও বিস্তীর্ণ মাঠঘাট ঘুরে সময় কাটাচ্ছেন অনেকে। পর্যটকেরা ঘুরে দেখছেন জেলার সমতলের চা-বাগান, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, মহারাজার দিঘী, ভিতরগড় দুর্গনগরী, মির্জাপুর শাহী মসজিদ ও বোদেশ্বরী পীঠমন্দিরসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো এবং গ্রামবাংলার সবুজ সৌন্দর্য উপভোগ করাও তাঁদের ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

পর্যটকে সরগরম তেঁতুলিয়া, আবাসনে সংকট
স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল ইসলাম বলেন, গত কয়েক দিনে তেঁতুলিয়ায় হাজার হাজার পর্যটক এসেছেন। পর্যটন এলাকা, হোটেল, হোমস্টে ও খাবারের হোটেলগুলোতে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়ত বলে মনে করেন তিনি। তবে তাঁর মতে, এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো। পূজার ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পঞ্চগড়ের পর্যটন খাত বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে। তবে পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের ব্যবস্থা না থাকাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন বলেন, জেলার পর্যটনশিল্পের অন্যতম সমস্যা আবাসন সংকট। সরকারি ও বেসরকারিভাবে এই সংকট দূর করার জন্য কাজ চলছে। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।

আবহাওয়া বদলালে দেখা মিলতে পারে কাঞ্চনজঙ্ঘার
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হয়ে গেলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হতে পারে। অক্টোবরের শেষ ভাগ ও নভেম্বরের শুরুর দিকে পর্বতশৃঙ্গটি ভালোভাবে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। ফলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসা পর্যটকদের আশা এখন আবহাওয়ার দিকে। আকাশ পরিষ্কার হলে আবারও দেখা মিলতে পারে হিমালয়ের বরফঢাকা এই পর্বতশৃঙ্গের। ততক্ষণ পর্যন্ত পঞ্চগড়ের চা-বাগান, শীতের আমেজ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেই সময় কাটাচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

ভাঙা সেতু খালে, ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোয় পারাপার হাজারো মানুষের

খুলনা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
ভাঙা সেতু খালে, ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোয় পারাপার হাজারো মানুষের

খুলনার কয়রা উপজেলার একটি সেতু ভেঙে পড়েছে ছয় বছর আগে। এরপরও সেখানে নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়ায় বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষ। শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী, ব্যবসায়ী ও বয়স্কদের প্রতিদিনই এই সাঁকো পার হতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন অসুস্থ ব্যক্তি ও প্রসূতিরা। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যাওয়ার ক্ষেত্রেও পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। কয়রা সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর কয়রা-ওড়াতলা খালের ওপর সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগ চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

সেতুর অধিকাংশই খালে, ভরসা বাঁশের সাঁকো
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩-১৪/১ নম্বর পোল্ডারের আওতায় ২ নম্বর কয়রা-ওড়াতলা খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর ২০২০ সালে সেতুটি ধসে পড়ে। এরপর থেকে এলাকাটির স্থায়ী যোগাযোগব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে। সেতু ভেঙে যাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন নিজেদের উদ্যোগে খালের ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। সেই সাঁকোই এখন ২ নম্বর কয়রা, ওড়াতলা, গোবরা, হরিণখোলা ও পূর্বচকসহ আশপাশের গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা। দীর্ঘ ছয় বছরেও স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাঁদের।

একটু অসাবধান হলেই খালে পড়ে যাওয়ার ভয়
ওড়াতলা গ্রামের খালপাড়ের বাসিন্দা রিপন আহম্মেদ বলেন, সেতু খালে পড়ে আছে। পাশে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ছেলেমেয়েরা স্কুলে যায়, মানুষ বাজারে যায়। একটু এদিক-ওদিক হলেই খালে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। ছয় বছর ধরে এমন কষ্ট করতে হচ্ছে, কিন্তু সেতু আর নির্মাণ হয়নি।

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর)  দেখা যায়, খালের দুই পাড়ের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করছে একটি বাঁশের সাঁকো। সেটি দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্কুলগামী শিশুরা ভয়ে ভয়ে সাঁকো পার হচ্ছে। বয়স্কদের কেউ কেউ অন্যের সহায়তা নিয়ে পার হচ্ছেন। পাশেই পড়ে আছে ভেঙে যাওয়া সেতুর অবশিষ্টাংশ। সেতুটির প্রায় ৯০ শতাংশ ভেঙে খালে পড়ে রয়েছে।

শিক্ষার্থী ও রোগীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি
সেতু না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য তাঁদের ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে। একটু অসাবধান হলেই পানিতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ২ নম্বর কয়রা গ্রামের বাসিন্দা গফুর সানা বলেন, সাঁকো পার হতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই পিছলে পড়ে যায়। এতে তাদের বই-খাতা পানিতে পড়ে নষ্ট হয়। বর্ষাকালে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। রাতে কোনো রোগী বা প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে স্বজনদের বিপাকে পড়তে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেতু না থাকায় এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। শুধু শিক্ষার্থী নয়, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও ব্যবসায়ীদেরও প্রতিদিন যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সেতুর অভাবে ভ্যান, ইজিবাইক ও পণ্যবাহী যানবাহন নিয়ে সরাসরি চলাচল করা যায় না। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেক দূর ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে সময় ও শ্রম দুটোই বেশি লাগছে।

বারবার দাবি জানিয়েও মেলেনি সমাধান
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকলেও বাস্তব কোনো সমাধান হয়নি। পাঁচ গ্রামের মানুষের যোগাযোগের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, একটি বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করে দীর্ঘদিন একটি জনপদের যোগাযোগব্যবস্থা চালানো সম্ভব নয়। কয়রা সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাসুম বিল্লাহ বলেন, সেতুর অভাবে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সভায় বারবার বিষয়টি তুলে ধরেও সমাধান মেলেনি। দ্রুত সেতু নির্মাণ করে মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা জরুরি।

উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাস
কয়রা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, ভাঙা সেতুর কারণে কয়েকটি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এখন জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ করে সেতুটি নির্মাণ করা প্রয়োজন।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, ছয় বছর ধরে সেতু না থাকায় পাঁচ গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন, যা উদ্বেগজনক। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুধু আশ্বাস নয়, সমস্যাটির বাস্তবসম্মত সমাধানে কী করা যায়, তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করবে। এতে শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন যাতায়াতেও স্বস্তি ফিরবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি