খুঁজুন
                               
, ,
           

জাতিসংঘে ভারত-পাকিস্তান বাকযুদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৬ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘে ভারত-পাকিস্তান বাকযুদ্ধ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনকে ঘিরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে। কাশ্মীর, সন্ত্রাসবাদ, মানবাধিকার, ধর্মীয় সহনশীলতা ও সিন্ধু পানি চুক্তি—বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের প্রতিনিধিরা পরস্পরের বিরুদ্ধে তীব্র বক্তব্য দিয়েছেন।

শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক, কাশ্মীর ও সিন্ধু পানি চুক্তির বিষয়টি তুলে ধরেন। ২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়োচিত হস্তক্ষেপের কারণে ওই সংঘাত থেমেছিল।

শরিফ বলেন, দক্ষিণ এশিয়া যেন ২০২৫ সালের মতো ভয়াবহ সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে আর কখনো না পৌঁছায়, সে জন্য কাশ্মীর সমস্যার একটি ন্যায্য ও সুষ্ঠু সমাধান প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি সিন্ধু পানি চুক্তি পুনরায় কার্যকর করার দাবি জানান।

এ ছাড়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার ও ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়েও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

এর জবাবে শনিবার জাতিসংঘে ‘রাইট অব রিপ্লাই’ বা জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে পাকিস্তানের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন ভারতের কূটনীতিক পেটাল গেহলট। তিনি শেহবাজ শরিফের বক্তব্যকে ‘অদ্ভুত, হাস্যকর ও ভণ্ডামিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন।

ভারতীয় প্রতিনিধি সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগগুলো তুলে ধরেন। তিনি জাতিসংঘকে স্মরণ করিয়ে দেন, ৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে পাকিস্তানি সামরিক একাডেমির কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন।

পেটাল গেহলট বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এই মাত্র ৯/১১ হামলার বার্ষিকী পালন করল। আর সেই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান একাডেমির একেবারে দোরগোড়ায় বসবাস করছিলেন।’

পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদবিরোধী অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর ভাষায়, পাকিস্তান দিনে নিরাপত্তা বজায় রাখার দাবি করে, আর রাতের আঁধারে সন্ত্রাসবাদ ছড়ায়।

ভারতীয় প্রতিনিধি আরও বলেন, গত বছর ভারত প্রমাণ করেছে যে সন্ত্রাসীদের পালানোর কোনো পথ নেই এবং লুকিয়ে থাকারও কোনো জায়গা নেই। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করার অধিকার ভারত প্রয়োগ করবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

২০২৫ সালের পেহেলগাম হামলার প্রসঙ্গও ভারতের বক্তব্যে উঠে আসে। ভারতীয় পক্ষের দাবি, ওই হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করা হয়।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সংঘাত থামাতে তাঁর ভূমিকা ছিল। তবে ভারত সরকার বরাবরই কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার বিষয়টি অস্বীকার করে এসেছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ভারতীয় প্রতিনিধি বলেন, পাকিস্তান ও দেশটির নীতিকে তাদের প্রতিনিধিরা যেভাবে উপস্থাপন করেন, সেভাবে নয়; বরং তাদের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত।

পেটাল গেহলট বলেন, বছরের পর বছর একই ধরনের বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করলেই তা সত্য হয়ে যায় না। পাকিস্তানের ‘দ্বিমুখী নীতি’ ও ‘প্রতারণা’ তাদের নিজেদের কিংবা বিশ্বের কোনো উপকারে আসবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কাশ্মীর ও মানবাধিকার নিয়ে পাল্টাপাল্টি

জাতিসংঘে ভারতের বক্তব্যে জম্মু ও কাশ্মীরের অবস্থানও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। ভারতীয় প্রতিনিধি জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের ‘অবিচ্ছেদ্য ও অপরিবর্তনীয় অংশ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

একই সঙ্গে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। রাওলাকোটের জনগণের কাছে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে কথিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে আহ্বান জানান।

পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন ভারতীয় প্রতিনিধি। তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর প্রভাবই রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রধান ভূমিকা পালন করে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিবর্তিত হলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ সেনাবাহিনীর হাতেই থাকে—এমন দাবি করেন তিনি।

ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে শেহবাজ শরিফের বক্তব্যের জবাবেও পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি ও ব্লাসফেমি আইন নিয়ে প্রশ্ন তোলে ভারত।

এর আগে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলেও দুই দেশের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী পাকিস্তানকে অন্য দেশের ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা কিংবা সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের পরিবর্তে নিজেদের অর্থনৈতিক সমস্যার দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া এবং হাফিজ সাঈদের বিচার নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। তিনি এসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি।

শুক্রবার এক পাকিস্তানি সাংবাদিক ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কাছে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করার বিষয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে জয়শঙ্কর পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘একটি সন্ত্রাসী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে?’

সব মিলিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চে সামনে এসেছে। কাশ্মীর থেকে সন্ত্রাসবাদ এবং সিন্ধু পানি চুক্তি থেকে মানবাধিকার—বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান যে এখনো ব্যাপকভাবে পরস্পরবিরোধী, এবারের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

কালের আলো/এসএ

এলপিজির সংকট কোথায়—আমদানিতে নাকি দামে?

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৬ অপরাহ্ণ
এলপিজির সংকট কোথায়—আমদানিতে নাকি দামে?

বাজারে এলপিজি আছে, কিন্তু চাহিদার তুলনায় অর্ধেক। সিলিন্ডারের জন্য দোকানে দোকানে ঘুরছেন ভোক্তা! কোথাও পাওয়া গেলেও দিতে হচ্ছে বাড়তি দাম। আর এই সংকটের নেপথ্যে উঠে আসছে আমদানির খরচের বড় পরিবর্তন। এলপিজি আমদানিতে টনপ্রতি প্রিমিয়াম এক লাফে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৩০০ ডলারে উঠেছে। অথচ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামে সেই বাড়তি ব্যয় সমন্বয়ের সুযোগ নেই। ফলে অনেক আমদানিকারক নতুন করে এলপিজি আনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

  • বাজারে চাহিদার অর্ধেক সরবরাহ
  • প্রিমিয়াম দ্বিগুণ হলেও নির্ধারিত দামে সমন্বয় নেই
  • মুখোমুখি বিইআরসি–আমদানিকারক

খুচরা বাজারে এর প্রভাব ইতিমধ্যে স্পষ্ট। ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। গত দুই মাস ধরে বাজারে এটি প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হলেও গত কয়েক দিনে দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১৫০ টাকায়। অর্থাৎ প্রচলিত বাজারদরের তুলনায় বেড়েছে সর্বোচ্চ ৩৫০ টাকা; আর সরকারি দামের তুলনায় বেশি দিতে হচ্ছে ৫৬৫ টাকা পর্যন্ত।

চাহিদা ২০০, সরবরাহ ১০০
রাজধানীর খুচরা বাজারে সংকটের চিত্র পাওয়া যাচ্ছে সরবরাহের হিসাবেই। বনশ্রী সি ব্লকের এক বিক্রেতা জানান, ২০০ সিলিন্ডারের অর্ডার দিলে এক সপ্তাহ পর পাওয়া যাচ্ছে ১০০টি। অর্থাৎ চাহিদার অর্ধেকও পূরণ হচ্ছে না। রামপুরার বাসিন্দা আনিসুর রহমান জানান, গত মাসেও ১ হাজার ৮০০ টাকায় একটি সিলিন্ডার কিনেছেন। বুধবার একই সিলিন্ডারের জন্য তাকে দিতে হয়েছে ২ হাজার ১৫০ টাকা। বাড়তি দামের কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতা জানিয়েছেন, কোম্পানি থেকেই দাম বেড়েছে।

খুচরা পর্যায়ের এই সংকটকে শুধু বাজার কারসাজি হিসেবে দেখলে সমস্যার মূল জায়গাটি বাদ পড়ে যায়। কারণ সরবরাহ কমার সঙ্গে আমদানিকারকদের নতুন চালান আনার অনাগ্রহের সম্পর্ক রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

প্রিমিয়ামই বড় বাধা
টিএমএসএস এলপিজির কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, গত মাসেও এলপিজি আমদানিতে টনপ্রতি প্রিমিয়াম ছিল ১২০ থেকে ১৬০ ডলারের মধ্যে। এখন তা বেড়ে প্রায় ৩০০ ডলারে উঠেছে। এই প্রিমিয়াম মূলত জাহাজভাড়া ও ট্রেডারের বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল দাম অপরিবর্তিত থাকলেও দেশে পৌঁছানোর আগেই আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

সমস্যা হচ্ছে, বিইআরসি মাসের শুরুতে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দেয়। চলতি মাসের দামও ২ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলে সেই বাড়তি খরচ তাৎক্ষণিকভাবে খুচরা দামে সমন্বয়ের সুযোগ থাকে না। ফলে আমদানিকারকের সামনে তৈরি হচ্ছে কঠিন হিসাব—বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়ে এলপিজি আনলে নির্ধারিত দামে বিক্রি করে লোকসানের ঝুঁকি, আর না আনলে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা।

আমদানি থাকলেও সংকট
বিইআরসি অবশ্য বাজারে সরবরাহ সংকটের কথা মানতে নারাজ। সংস্থাটির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার টন এলপিজি এসেছে। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত এসেছে ১ লাখ ১৯ হাজার টন। আগের মাসগুলোতেও ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে।

তার বক্তব্য, আমদানির এই পরিমাণ বিবেচনায় বাজারে সংকট থাকার কথা নয়। আমদানিকারকেরা যে পরিমাণ প্রিমিয়াম বৃদ্ধির কথা বলছেন, সেটিও বিইআরসির কাছে অতিরিক্ত বলে মনে হচ্ছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে প্রিমিয়াম ছিল ১৬০ ডলার; এখন আমদানিকারকেরা ৩০০ ডলার চাইছেন।

এখানেই সংকটের দুটি ভিন্ন ছবি সামনে আসছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার হিসাবে দেশে পর্যাপ্ত এলপিজি আসছে। অন্যদিকে খুচরা বাজার বলছে, চাহিদা অনুযায়ী পণ্য মিলছে না। আর আমদানিকারকদের যুক্তি—বাড়তি প্রিমিয়ামের কারণে নতুন চালান আনা অর্থনৈতিকভাবে কঠিন হয়ে পড়েছে।

দামের হিসাবেও ফাঁক
বিইআরসি প্রতি মাসে সৌদি আরামকোর নির্ধারিত প্রোপেন ও বিউটেনের দাম, জাহাজভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম বিবেচনায় নিয়ে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। দেশে আমদানি করা এলপিজিতে প্রোপেন ও বিউটেনের অনুপাত ৩৫:৬৫।

গত মাসের সৌদি সিপি অনুযায়ী প্রোপেনের দাম ছিল টনপ্রতি ৬২৫ ডলার এবং বিউটেন ৬৬০ ডলার। গড় দাম দাঁড়ায় ৬৪৭ দশমিক ৭৫ ডলার। এর সঙ্গে টনপ্রতি ১৬০ ডলার জাহাজভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম এবং ডলারের ১২৩ দশমিক ৩০ টাকা বিনিময় হার ধরে সেপ্টেম্বরের দাম নির্ধারণ করা হয়।

কিন্তু বাজারের বাস্তবতা যদি ১৬০ ডলারের জায়গায় ৩০০ ডলারের প্রিমিয়াম দাবি করে, তাহলে নির্ধারিত মূল্য ও আমদানি ব্যয়ের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়। এই ব্যবধানই শেষ পর্যন্ত সরবরাহে প্রভাব ফেলছে কি না, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।

সংকট ঘনীভূত হওয়ার শঙ্কা
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, আমদানিকারকদের কয়েকজন ইতিমধ্যে বিইআরসিকে জানিয়েছেন, আগামী মাসের এলপিজি আনার জন্য তারা জাহাজ পাচ্ছেন না। অর্থাৎ বর্তমান সংকট কেবল খুচরা বাজারের সাময়িক ঘাটতি নয়; আমদানি ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে আগামী মাসে সরবরাহ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দেশে এক কোটির বেশি পরিবার এলপিজি ব্যবহার করে। প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ সীমিত হওয়া এবং জ্বালানি কাঠের দাম বাড়ার কারণে আবাসিক বাজারে এলপিজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। একই সঙ্গে পরিবহন ও শিল্পেও এর ব্যবহার বাড়ছে। তাই এলপিজির সংকট মানে শুধু একটি সিলিন্ডারের দাম বাড়া নয়; এর প্রভাব পড়তে পারে কোটি মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ে।

কালের আলো/আরআই/এমকে

এফবিআই কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১১ অপরাহ্ণ
এফবিআই কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের শঙ্কা

হ্যাকিংয়ের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (এফবিআই) কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ও গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সংস্থাটির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। হ্যাকারদের হাতে থাকা তথ্য অনলাইনে প্রকাশ হলে কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

এফবিআইয়ের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা বিবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, হ্যাকারদের হাতে যদি কর্মকর্তাদের নাম, বাড়ির ঠিকানা, ফোন নম্বর, পরিচয়পত্রের তথ্য এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি চলে যায়, তাহলে এসব তথ্য ব্যবহার করে প্রতারণা, হয়রানি, ভয় দেখানো কিংবা শারীরিক হামলার চেষ্টা হতে পারে।

এফবিআইয়ের এক সাবেক সাইবার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি বিশেষ করে ছদ্মবেশী কর্মকর্তাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য অপরাধী ও বিদেশি শত্রুভাবাপন্ন হ্যাকারদের হাতে চলে গেলে তা ব্যবহার করে খুব বিশ্বাসযোগ্য ফিশিং বার্তা ও প্রতারণার কৌশল তৈরি করা সম্ভব।

এমনকি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ঘুষ বা অর্থ আদায়ের চেষ্টাও হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। একই সঙ্গে অতীতে যেসব অপরাধীর বিরুদ্ধে কর্মকর্তারা তদন্ত করেছেন, তাঁদের কেউ ফাঁস হওয়া তথ্য ব্যবহার করে কর্মকর্তা বা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করতে পারেন।

হাজারো কর্মকর্তার তথ্য চুরির দাবি

‘শাইনিহান্টার্স’ নামের একটি হ্যাকিং গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারা এফবিআইয়ের সিস্টেমে ঢুকে বিপুল পরিমাণ তথ্য চুরি করেছে। গোষ্ঠীটি চুরি করা তথ্য ও নথি চার দিনের মধ্যে প্রকাশ করার হুমকি দিয়েছে।

তবে এর আগে এফবিআইকে তাদের একটি দাবি মেনে নিতে হবে বলেও জানিয়েছে হ্যাকাররা। শাইনিহান্টার্স সাংবাদিকদের চুরি করা তথ্যের কিছু নমুনাও দিয়েছে। এসব নমুনা আসল বলে মনে হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

নমুনা তথ্যের মধ্যে কর্মকর্তাদের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, পরিচয়পত্রের নম্বর, পদবি এবং স্বামী বা স্ত্রীর বিষয়ে তথ্য রয়েছে। চুরি হওয়া তথ্যের মধ্যে হাজারো এফবিআই কর্মকর্তার তথ্য রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংস্থাটির উপপরিচালকের মতো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের তথ্যও এতে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়গুলোর একটি হলো, হাজারো বিশেষ এজেন্টের চিকিৎসাসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্যও হ্যাকারদের হাতে চলে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিবিসি চুরি হওয়া তথ্যের মধ্যে এফবিআই কর্মকর্তাদের কাজের উপযোগিতা যাচাইয়ের জন্য করা কিছু চিকিৎসা পরীক্ষার নথি দেখেছে। এসব নথিতে রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষার ফলাফল এবং চিকিৎসকদের বিভিন্ন নোট রয়েছে। কিছু নথিতে খাবারে অ্যালার্জি, প্রস্রাবে রক্ত এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো শারীরিক সমস্যার তথ্যও রয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ফলে কিছু কর্মকর্তার পুরো নাম, বাড়ির ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্যের পাশাপাশি তাঁদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ব্যক্তিগত তথ্যও হ্যাকারদের হাতে রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঝুঁকিতে কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও

এফবিআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা মাইকেল ম্যাকফারসন বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান রিলিয়াকোয়েস্টের নিরাপত্তা কার্যক্রমের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, এই ঘটনা কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ম্যাকফারসনের মতে, এফবিআই কর্মকর্তারা তাঁদের পেশার কারণে কিছুটা ঝুঁকি থাকার বিষয়টি জানেন। কিন্তু বাড়ির ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত চিকিৎসা তথ্যও যদি প্রকাশ পায়, তাহলে পরিস্থিতি আলাদা হয়ে যায়। এ ধরনের তথ্য কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদেরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।

এফবিআইয়ের সাইবার বিভাগের সাবেক উপপরিচালক সিনথিয়া কাইজার বলেন, শাইনিহান্টার্স এরই মধ্যে চুরি করা তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে বলে মনে হচ্ছে। এসব তথ্য সাইবার নিরাপত্তা গবেষকদের বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপেও ছড়িয়ে পড়ছে বলে তিনি জানান।

কাইজারের মতে, তথ্য একবার অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে তা পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা কঠিন। অতীতেও এফবিআইয়ের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় দেখা গেছে, চুরি হওয়া তথ্য বহু বছর ধরে ডার্ক ওয়েবে ঘুরে বেড়িয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ

এই হ্যাকিংয়ের প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ফাঁস হওয়া তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে গেলে এফবিআই কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে যোগাযোগ বা নিয়োগের চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কোনো কর্মকর্তার ব্যক্তিগত দুর্বলতা, পারিবারিক তথ্য কিংবা যোগাযোগের মাধ্যম সম্পর্কে জানা থাকলে তাঁকে লক্ষ্য করে চাপ তৈরির সুযোগও বাড়তে পারে।

হামলার কারণে আতঙ্কের পাশাপাশি এফবিআইয়ের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিবিসির সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন, এত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কীভাবে হ্যাকারদের হাতে গেল।

প্রযুক্তিগত দিক থেকেও ঘটনাটি এফবিআইয়ের জন্য উদ্বেগের বলে মনে করছেন সাবেক কর্মকর্তারা। তাঁদের কেউ কেউ বলছেন, শাইনিহান্টার্সকে সবচেয়ে দক্ষ বা অত্যাধুনিক হ্যাকিং গোষ্ঠীগুলোর একটি হিসেবে সাধারণত বিবেচনা করা হয় না। তাই এই ঘটনায় এফবিআইয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থায় দুর্বলতা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠায় কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

তদন্ত শুরু করেছে এফবিআই

শাইনিহান্টার্স সোমবার এফবিআইয়ের সিস্টেমে ঢোকার দাবি করার পর নিজেদের ডার্কনেট সাইটে হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে। তবে গোষ্ঠীটির সব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এফবিআই প্রথমে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। পরে বুধবার সংস্থাটি হ্যাকিংয়ের ঘটনা স্বীকার করে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে ‘জোরালোভাবে তদন্ত’ করা হচ্ছে।

তথ্য ফাঁসের আশঙ্কায় কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ইন্টারনেট থেকে সরাতে সাহায্য করে এমন ‘ডিলিটমি’ নামের একটি সেবায় নিবন্ধনের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে বলে জানান এক সাবেক কর্মকর্তা। তবে তাঁর মতে, এত বড় ঘটনার ক্ষেত্রে শুধু এই ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়।

শাইনিহান্টার্স জানিয়েছে, তারা নিজেদের ডার্কনেট সাইটে চুরি করা তথ্য প্রকাশ করবে। এবার গোষ্ঠীটি সরাসরি অর্থ বা মুক্তিপণ দাবি করেনি। তারা মে মাসে এফবিআই প্রকাশ করা একটি সতর্কবার্তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। হ্যাকারদের দাবি, ওই সতর্কবার্তায় তাদের ‘অপমান’ করা হয়েছিল।

গোষ্ঠীটিকে তরুণ ইংরেজিভাষী সাইবার অপরাধীদের একটি সক্রিয় নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর সাইবার হামলা চালানোর অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

এখন চুরি করা তথ্য প্রকাশের হুমকির পর পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, সেটিই এফবিআইয়ের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথ্য সত্যিই ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হলে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, তাঁদের পরিবারের সুরক্ষা এবং সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম—তিন ক্ষেত্রেই নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাবেক কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এসএ

চ্যাটজিপিটির ৫৩ ব্যক্তিগত ছবি অনুমতি ছাড়া প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
চ্যাটজিপিটির ৫৩ ব্যক্তিগত ছবি অনুমতি ছাড়া প্রকাশ

ওপেনএআইয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্টের মাধ্যমে চ্যাটজিপিটির ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীদের ৫৩টি ছবি অনুমতি ছাড়া বাইরের বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের জুলাইয়ে। ওই সময় ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্টগুলো এআই প্রযুক্তি শেয়ার করার প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসের একটি ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। এতে প্রায় ৭০০ এআই এজেন্ট জড়িত ছিল বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে ওপেনএআই। তদন্ত শেষে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ওই ঘটনায় চ্যাটজিপিটির ব্যবহারকারীদের ৫৩টি ছবি বাইরের বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশিত হয়েছিল। তবে এসব ছবি কী ধরনের ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তারা।

ফাঁস হওয়া ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি ছিল, নাকি বাস্তব মানুষের এমন ছবি ছিল যেখান থেকে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব—এ বিষয়েও পরিষ্কার কোনো তথ্য দেয়নি ওপেনএআই। ছবিগুলো কখন প্রকাশ করা হয়েছিল এবং ঠিক কীভাবে এআই এজেন্টগুলোর মাধ্যমে সেগুলো বাইরে চলে গেল, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।

ওপেনএআই জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া বেশির ভাগ ছবি ইতিমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বাকি ছবিগুলোও সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের মালিক ও ব্যক্তিদের অনুরোধ করা হচ্ছে।

ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারে নতুন উদ্বেগ

রয়টার্সসহ বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এআই মডেল প্রশিক্ষণের সময় ওপেনএআই ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীদের এমন কিছু তথ্য ব্যবহার করে, যেগুলো থেকে সরাসরি তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা যায় না। কোনো ব্যবহারকারী আলাদাভাবে এই সুবিধা বন্ধ না করলে তাঁর কিছু তথ্য এআই মডেল প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।

তথ্য থেকে ব্যক্তির সরাসরি পরিচয় সরিয়ে নেওয়া হলেও এ ধরনের ব্যবস্থায় ঝুঁকি রয়েছে বলে প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন। তাঁদের মতে, আলাদা আলাদা তথ্য একসঙ্গে মিলিয়ে কোনো ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। আবার তথ্য থেকে পরিচয় মুছে ফেলার আগেই সেটি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

সর্বশেষ ঘটনাটি এআই এজেন্টের কার্যক্রম কতটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, তা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। সাধারণ চ্যাটবটের তুলনায় এআই এজেন্ট অনেক বেশি কাজ করতে পারে। ব্যবহারকারীর নির্দেশ অনুযায়ী তারা বিভিন্ন অনলাইন ব্যবস্থা বা সফটওয়্যারে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম।

তবে এই অতিরিক্ত সক্ষমতার সঙ্গে নতুন ধরনের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। একটি এআই এজেন্ট কীভাবে কোনো নির্দেশ বাস্তবায়ন করবে কিংবা কোনো অনলাইন ব্যবস্থায় প্রবেশের পর কী ধরনের কাজ করবে, তা সব সময় আগে থেকে অনুমান করা কঠিন হতে পারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের ঘটনাটি নিজেদের তৈরি এআই এজেন্টের আচরণ ও কার্যক্রম পুরোপুরি অনুমান বা নিয়ন্ত্রণ করা ওপেনএআইয়ের জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে দেখিয়েছে। এআই যত বেশি কাজ নিজে থেকে সম্পন্ন করতে পারছে, নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের জন্য তার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করাও তত জটিল হয়ে উঠছে।

তদন্ত নিয়ে গোপনীয়তার অভিযোগ

রয়টার্স জানিয়েছে, ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্টদের কর্মকাণ্ড নিয়ে হওয়া তদন্ত সম্পর্কে জানেন এমন দুই ব্যক্তি বলেছেন, পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোম্পানির আইনজীবীদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব ছিল।

তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোম্পানির পরিস্থিতি বিবেচনায় তদন্তটি অস্বাভাবিক মাত্রায় গোপন রাখা হয়েছিল। ফলে ৫৩টি ছবি কীভাবে বাইরে চলে গেল, কখন সেগুলো প্রকাশ হলো এবং এ ঘটনায় ঠিক কোন ধরনের নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজ করেছে—এসব প্রশ্নের অনেকগুলোর উত্তর এখনো পরিষ্কার হয়নি।

ঘটনাটি শুধু ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েই নয়, এআই এজেন্টের কাজের সীমা, ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবহারের নিয়ম এবং এ ধরনের প্রযুক্তির ওপর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর—এসব বিষয় নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

এআই এজেন্টকে আরও বেশি স্বয়ংক্রিয় ও সক্ষম করে তোলার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীর তথ্যের নিরাপত্তা এবং এজেন্টের কর্মকাণ্ডের ওপর কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

কালের আলো/এসএ