খুঁজুন
                               
, ,
           

বলিউডে জনপ্রিয়, তবু ভারতীয় নন: কার নাগরিকত্ব কোথায়?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
বলিউডে জনপ্রিয়, তবু ভারতীয় নন: কার নাগরিকত্ব কোথায়?

বলিউডে অভিনয় করে পেয়েছেন তারকাখ্যাতি, অসংখ্য ভক্তের ভালোবাসা এবং আন্তর্জাতিক পরিচিতি। তাঁদের সিনেমা বক্স অফিসে সাফল্য পেয়েছে, গান ও নাচ মাতিয়েছে দর্শকদের। কিন্তু জনপ্রিয় এই তারকাদের সবাই ভারতের নাগরিক নন। কেউ ব্রিটিশ, কেউ মার্কিন, কেউ কানাডীয়, আবার কেউ শ্রীলঙ্কা বা ফ্রান্সের নাগরিক। ভারতীয় চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েও বিদেশি নাগরিকত্ব ধরে রাখা এসব তারকাকে নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলও কম নয়।

আলিয়া ভাট: মুম্বাইয়ে জন্ম, নাগরিকত্ব ব্রিটিশ

Alia Bhatt makes it to the list of Impactful International women of 2023

বলিউডের বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। ভারতের মুম্বাইয়ে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রীর নাগরিকত্ব ব্রিটিশ। তাঁর মা সোনি রাজদানের জন্ম যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে। পারিবারিক সূত্রেই আলিয়ার ব্রিটিশ নাগরিকত্বের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

২০১২ সালে করণ জোহরের ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় আলিয়ার। এরপর ‘হাইওয়ে’, ‘রাজি’, ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’ এবং ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’র মতো সিনেমায় অভিনয় করে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। অভিনয়ের জন্য প্রশংসা ও পুরস্কারও পেয়েছেন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর শক্ত অবস্থান থাকলেও নাগরিকত্বের কারণে তিনি প্রায়ই আলোচনায় আসেন।

ক্যাটরিনা কাইফ: বলিউডের জনপ্রিয় মুখ, ব্রিটিশ নাগরিক

‘Swag Se Swagat’ Song From ‘Tiger Zinda Hai’

বলিউডের বাণিজ্যিক সিনেমার অন্যতম সফল অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ। হংকংয়ে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী ব্রিটিশ নাগরিক। ২০০৩ সালে ‘বুম’ সিনেমার মাধ্যমে হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তাঁর।

এরপর ‘নমস্তে লন্ডন’, ‘এক থা টাইগার’, ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ এবং ‘ধুম থ্রি’র মতো সিনেমায় অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন ক্যাটরিনা। নাচ, পর্দায় উপস্থিতি ও অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে অভিনয়ের কারণে তাঁর আলাদা পরিচিতি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও তাঁর নাগরিকত্ব যুক্তরাজ্যের।

জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ: জন্ম বাহরাইনে, নাগরিকত্ব শ্রীলঙ্কার

Jacqueline's DAZZLING Smile - Rediff.com movies

জ্যাকলিন ফার্নান্দেজের জন্ম বাহরাইনে। তিনি শ্রীলঙ্কার নাগরিক এবং মডেলিংয়ের মাধ্যমে বিনোদনজগতে পরিচিতি পান। পরে বলিউডে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

‘মার্ডার টু’, ‘কিক’, ‘হাউসফুল টু’ এবং ‘রেস থ্রি’র মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। সিনেমার পাশাপাশি বিভিন্ন জনপ্রিয় গানের দৃশ্যে নাচ ও পারফরম্যান্সের মাধ্যমেও দর্শকদের নজর কেড়েছেন জ্যাকলিন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে পরিচিত মুখ হলেও তাঁর নাগরিকত্ব শ্রীলঙ্কার।

নোরা ফাতেহি: কানাডা থেকে বলিউডে জনপ্রিয়তা

International Dance Day: 9 Actors Who Have Impressed Audience With Different Dance Styles

নাচের দক্ষতা ও পর্দায় আকর্ষণীয় উপস্থিতির কারণে বলিউডে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছেন নোরা ফাতেহি। কানাডার টরন্টোতে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী কানাডীয় নাগরিক। মরক্কীয় বংশোদ্ভূত নোরা নাচ ও অভিনয়ের মাধ্যমে ভারতীয় বিনোদনজগতে নিজের জায়গা করে নেন।

‘দিলবার’ ও ‘ও সাকি সাকি’র মতো গানে তাঁর পারফরম্যান্স ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। হিন্দি সিনেমার পাশাপাশি বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও কাজ করেছেন তিনি। ভারতীয় সিনেমার গানে নাচের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছেও পরিচিতি পেয়েছেন নোরা। তবে তাঁর নাগরিকত্ব কানাডার।

ইমরান খান: ভারতীয় বংশোদ্ভূত, মার্কিন নাগরিক

Imran Khan turns director - The Tribune

‘জানে তু ইয়া জানে না’ সিনেমার মাধ্যমে তরুণ দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাওয়া অভিনেতা ইমরান খান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তাঁর জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের ম্যাডিসনে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই অভিনেতা ২০০৮ সালে বলিউডে অভিষেকের পর দ্রুত পরিচিতি পান।

‘আই হেট লাভ স্টোরিজ’, ‘দিল্লি বেলি’ ও ‘মেরে ব্রাদার কি দুলহান’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন ইমরান। বিশেষ করে রোমান্টিক ও কমেডি চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। ভারতীয় চলচ্চিত্রে কাজ করে জনপ্রিয়তা পেলেও তাঁর নাগরিকত্ব যুক্তরাষ্ট্রের।

নার্গিস ফাখরি: নিউইয়র্কে জন্ম, নাগরিকত্ব মার্কিন

Ranbir Kapoor's Rockstar Co-star Nargis Fakhri Says Bollywood Called Her Immature For Honesty & Authenticity

মার্কিন নাগরিক নার্গিস ফাখরির জন্ম নিউইয়র্কের কুইন্সে। মডেলিংয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়ার পর ২০১১ সালে ইমতিয়াজ আলীর ‘রকস্টার’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তাঁর। সিনেমাটিতে রণবীর কাপুরের বিপরীতে অভিনয় করে দর্শকের নজরে আসেন তিনি।

পরে ‘মাদ্রাজ ক্যাফে’, ‘ম্যায় তেরা হিরো’ ও ‘হাউসফুল থ্রি’র মতো সিনেমায় কাজ করেন নার্গিস। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিত্ব ও ফ্যাশন নিয়েও ভক্তদের আগ্রহ রয়েছে। ভারতীয় চলচ্চিত্রে কাজ করলেও তাঁর নাগরিকত্ব যুক্তরাষ্ট্রের।

অ্যামি জ্যাকসন: ব্রিটিশ অভিনেত্রীর ভারতীয় সিনেমায় যাত্রা

File:Amy Jackson headshot.jpg - Wikimedia Commons

ব্রিটিশ অভিনেত্রী অ্যামি জ্যাকসন ভারতীয় চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন। তামিল, তেলুগু ও হিন্দি ভাষার সিনেমায় কাজ করে নিজের অভিনয়জীবন বিস্তৃত করেছেন তিনি।

‘এক দিওয়ানা থা’ ও ‘সিং ইজ ব্লিং’-এর মতো হিন্দি সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন অ্যামি। ভারতীয় চলচ্চিত্রের বিভিন্ন ভাষার সিনেমায় তাঁর উপস্থিতি তাঁকে একাধিক অঞ্চলের দর্শকের কাছে পরিচিত করেছে। তবে তাঁর নাগরিকত্ব ব্রিটিশ।

কল্কি কোয়েচলিন: ভারতে জন্ম, ফরাসি নাগরিকত্ব

Zindagi Na Milegi Dobara (2011) - Kalki Koechlin as Natasha Arora - IMDb

ভারতে জন্ম নেওয়া অভিনেত্রী কল্কি কোয়েচলিন ফরাসি নাগরিক। ২০০৯ সালে ‘দেব ডি’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বলিউডে পরিচিতি পান তিনি। প্রচলিত ধারার বাইরের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত কল্কি।

‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’, ‘ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’ এবং ‘গলি বয়’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। মূলধারার সিনেমার পাশাপাশি স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্র ও ওয়েব সিরিজেও কাজ করেছেন কল্কি। ভারতীয় চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিন কাজ করলেও তাঁর নাগরিকত্ব ফরাসি।

অক্ষয় কুমার: কানাডার নাগরিকত্ব ছেড়ে ভারতীয় নাগরিক

Baby review: New-age patriotism in a gripping thriller | Entertainment News

একসময় কানাডার নাগরিকত্বের কারণে আলোচনায় ছিলেন বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমার। তবে অন্যদের থেকে তাঁর ঘটনা আলাদা। ২০২৩ সালে তিনি ভারতের নাগরিকত্ব ফিরে পান। এর আগে তাঁর কানাডীয় নাগরিকত্ব ছিল।

‘খিলাড়ি’, ‘হেরা ফেরি’, ‘ভুলভুলাইয়া’, ‘টয়লেট: এক প্রেম কথা’সহ নানা ঘরানার সিনেমায় অভিনয় করে বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন অক্ষয়। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। তাঁর নাগরিকত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি ভারতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

বলিউডে তারকাখ্যাতি, নাগরিকত্বে বৈচিত্র্য

বলিউডের জনপ্রিয়তা শুধু ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন দেশ ও সাংস্কৃতিক পটভূমি থেকে আসা শিল্পীরা হিন্দি চলচ্চিত্রে কাজ করে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছেন। তাঁদের কারও জন্ম ভারতে, কারও জন্ম অন্য দেশে; আবার নাগরিকত্বও একেকজনের একেক রকম।

একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—কোনো দেশের নাগরিকত্ব থাকা আর সেই দেশের চলচ্চিত্রশিল্পে কাজ করা এক বিষয় নয়। বলিউডে জনপ্রিয়তা অর্জন করলেই কেউ ভারতীয় নাগরিক হয়ে যান না। একইভাবে বিদেশি নাগরিকত্ব থাকলেও ভারতীয় চলচ্চিত্রে কাজ করতে বাধা নেই। অভিনয়, নাচ ও পর্দায় উপস্থিতির মাধ্যমে এসব শিল্পী প্রমাণ করেছেন, চলচ্চিত্রের জগতে পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কালের আলো/জেএন/এসএ

ইংল্যান্ড নারী কাবাডি দলের অধিনায়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আনিসা খান

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
ইংল্যান্ড নারী কাবাডি দলের অধিনায়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আনিসা খান
ইংল্যান্ড নারী জাতীয় কাবাডি দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ তরুণী আনিসা খান। ব্যবসা ও টেলিভিশনের জগতে পরিচিতি অর্জনের পর এবার আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দায়িত্ব নিয়ে আলোচনায় এসেছেন মৌলভীবাজারের পারিবারিক শিকড় থাকা এই তরুণী। আগামী ২৩ অক্টোবর ভারতের আহমেদাবাদে শুরু হতে যাওয়া কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে ইংল্যান্ড দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা তাঁর।

আনিসা নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অধিনায়ক হওয়ার খবর জানিয়েছেন। তাঁর বাবা ইয়াওর খানও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আনিসা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন একটি খেলা হিসেবে কাবাডি শেখার মধ্য দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা তাঁকে আজ জাতীয় দলের নেতৃত্বের জায়গায় নিয়ে এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কাবাডি থেকে জাতীয় দলের অধিনায়ক

অধিনায়ক হওয়ার আনন্দ প্রকাশ করে আনিসা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে ইংল্যান্ড নারী কাবাডি দলের অধিনায়ক হয়েছি। ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাবাডি সোসাইটিতে যোগ দেওয়ার সময় এই খেলায় আমি ছিলাম সম্পূর্ণ নতুন। কখনো কল্পনাও করিনি, নতুন একটি খেলা শেখার সিদ্ধান্ত আমাকে আজ এই অবস্থানে নিয়ে আসবে।’

আনিসার এই বক্তব্যে উঠে এসেছে কাবাডিতে তাঁর দীর্ঘ পথচলার গল্প। বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তোলেন তিনি। একপর্যায়ে জায়গা করে নেন ইংল্যান্ড নারী জাতীয় দলে। ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান বিচ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপেও ইংল্যান্ডের দলে ছিলেন তিনি।

এবার জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় তাঁর ক্যারিয়ারে যুক্ত হলো নতুন অর্জন। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দলের নেতৃত্ব দেওয়া তাঁর জন্য যেমন গর্বের, তেমনি নিজের দক্ষতা ও নেতৃত্বের সামর্থ্য প্রমাণেরও বড় সুযোগ।

মৌলভীবাজারের রাজনগরে আনিসার পারিবারিক শিকড়

আনিসা খানের পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার আকুয়া গ্রামে। তাঁর বাবা ইয়াওর খান ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানে প্রথমে রেস্তোরাঁ ব্যবসায় যুক্ত হন তিনি। পরে আবাসন ব্যবসায়ও নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

ইয়াওর খান যুক্তরাজ্যে পরিচিত ব্যবসায়ী এবং ‘এশিয়ান কারি অ্যাওয়ার্ডস’-এর প্রতিষ্ঠাতা। চার ভাই-বোনের মধ্যে আনিসা সবার ছোট। যুক্তরাজ্যে বেড়ে উঠলেও তাঁর পারিবারিক শিকড় বাংলাদেশে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর নতুন দায়িত্বের খবর তাই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে।

এলএসইতে পড়াশোনা, অ্যাকসেঞ্চারে চাকরি

কাবাডির পাশাপাশি পড়াশোনা ও পেশাগত জীবনেও এগিয়েছেন আনিসা। তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস (এলএসই) থেকে ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। পরে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাকসেঞ্চারে কাজ করেন।

চাকরির পাশাপাশি নিজের ব্যবসা গড়ে তোলার আগ্রহ থেকে করোনা মহামারির সময় খাবারের ব্যবসা ‘বোম্বে পিৎজা’ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। পেশাগত দায়িত্ব, ব্যবসা পরিচালনা এবং খেলাধুলা—সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য রেখে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন আনিসা।

তাঁর জীবনযাত্রার এই বৈচিত্র্যই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা, করপোরেট চাকরি, উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ এবং আন্তর্জাতিক কাবাডি—ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা দেখিয়েছেন তিনি।

‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এ রানারআপ হয়ে পরিচিতি

২০২৫ সালে বিবিসি ওয়ানের জনপ্রিয় ব্যবসাভিত্তিক রিয়েলিটি শো ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এ অংশ নিয়ে যুক্তরাজ্যে ব্যাপক পরিচিতি পান আনিসা। ব্রিটিশ ব্যবসায়ী লর্ড অ্যালান সুগারের আড়াই লাখ পাউন্ডের ব্যবসায়িক বিনিয়োগ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় রানারআপ হন তিনি।

এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, উদ্যোক্তা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নিজের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ পান আনিসা। টেলিভিশনের পর্দায় পরিচিতি বাড়লেও কাবাডির প্রতি তাঁর আগ্রহ কমেনি।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আনিসা জানিয়েছেন, এলএসইতে পড়াশোনা শেষ করা, অ্যাকসেঞ্চারে চাকরি, বোম্বে পিৎজা প্রতিষ্ঠা এবং ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এ অংশ নেওয়ার মতো নানা অভিজ্ঞতার মধ্যেও কাবাডি তাঁর জীবনের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

১৪ দেশের প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেবেন আনিসা

আগামী ২৩ অক্টোবর ভারতের আহমেদাবাদে শুরু হতে যাওয়া কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে ইংল্যান্ড নারী দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা আনিসার। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ডসহ ১৪টি দেশের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে এটি তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দলের খেলোয়াড়দের সমন্বয়, কৌশল বাস্তবায়ন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে তাঁকে।

মৌলভীবাজারের পারিবারিক শিকড় থেকে যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও টেলিভিশন জগৎ পেরিয়ে আন্তর্জাতিক কাবাডির নেতৃত্ব—আনিসা খানের পথচলা নানা অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। এবার কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপে তাঁর নেতৃত্বে ইংল্যান্ড দল কেমন পারফরম্যান্স করে, সেদিকেই থাকবে ক্রীড়াপ্রেমীদের নজর।

কালের আলো/জেএন/এসএ

অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের তাগিদ বিমানমন্ত্রীর

জামালপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ
অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের তাগিদ বিমানমন্ত্রীর

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, অপতথ্য মোকাবিলায় গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বর্তমানে কিছু নিষিদ্ধ গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে অপতথ্যের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীদের এগিয়ে আসতে হবে এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। তিনি দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে সংবাদমাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

বিএনপি সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করার রাজনীতি করে উল্লেখ করে বিমানমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে দিনরাত কাজ করছে। তবে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টার পাশাপাশি দেশের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন। দেশের জনশক্তিকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত।” এই ৪০ কোটি হাত দেশের জন্য কাজ করলে অচিরেই বাংলাদেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বহির্বিশ্বে বর্তমান সরকারের যথেষ্ট সমর্থন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাক্ষাৎ হয়েছে। ওই সাক্ষাতে ট্রাম্প বাংলাদেশের পোশাক খাতের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বলেও জানান তিনিশারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মচারীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান বিমানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। কিশোর-কিশোরীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে হবে। একই সঙ্গে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সরকারি সহায়তা ও অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধন এবং গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে অসহায় ও দরিদ্র ব্যক্তিদের মধ্যে আর্থিক অনুদানের চেক দেওয়া হয়। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ঢেউটিন ও আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদেরও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

‘ক্যারিয়ার শেষ’ বলে কটাক্ষ, চার বছর পর পর্দায় ফিরছেন রেশমি দেশাই

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
‘ক্যারিয়ার শেষ’ বলে কটাক্ষ, চার বছর পর পর্দায় ফিরছেন রেশমি দেশাই
টেলিভিশনে দীর্ঘদিন কাজ করলেই কি একজন অভিনেত্রীর ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়? পর্দা থেকে কিছুদিন দূরে থাকলেই কি তাঁকে ‘ওভারএক্সপোজড’ বলে দাগিয়ে দেওয়া যায়? এমন প্রশ্ন তুলে নিজের ক্যারিয়ারের কঠিন সময় নিয়ে মুখ খুলেছেন ভারতীয় টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রেশমি দেশাই। দীর্ঘ চার বছর পর ছোট পর্দায় ফিরতে যাওয়ার আগে তিনি জানিয়েছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে বিরতি নেওয়ার পরও কীভাবে তাঁকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছিল।

চার বছরের বিরতি, এবার নতুন শোতে প্রত্যাবর্তন

স্টার প্লাসের নতুন শো ‘সায়োনি’র মাধ্যমে ছোট পর্দায় ফিরতে চলেছেন রেশমি দেশাই। প্রত্যাবর্তনের আগে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের বিরতির সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী।

রেশমির ভাষ্য, টেলিভিশনে কাজ করার জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন হয়। তাই অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে নিজের জন্য সময় বের করতে চেয়েছিলেন তিনি। নতুন কিছু শেখা এবং নিজের দক্ষতা ও ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।

কিন্তু তাঁর এই সিদ্ধান্তকে সবাই ইতিবাচকভাবে দেখেননি। অনেকে ধরে নিয়েছিলেন, অভিনয়জগতে তাঁর সময় ফুরিয়ে এসেছে।

‘মানুষ ভেবেছিল আমার ক্যারিয়ার শেষ’

বিরতি নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে রেশমি বলেন, ‘আমি ইচ্ছে করেই বিরতি নিয়েছিলাম। কারণ টিভি একটানা দীর্ঘ প্রতিশ্রুতির ব্যাপার। আমি চেয়েছিলাম কিছু বিষয় নতুনভাবে শিখতে, নিজের ওপর কাজ করতে। কিন্তু মানুষ ভুল বুঝে ভেবেছিল আমার ক্যারিয়ার শেষ।’

অভিনেত্রীর দাবি, এই বিরতির সময় তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছে। কেউ কেউ সরাসরি তাঁকে ‘ওভারএক্সপোজড’ মুখ বলে মন্তব্য করেছেন। এমনকি তাঁর ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে বলেও অনেকে মনে করতেন।

রেশমির মতে, একজন শিল্পীর কাজের মূল্যায়ন শুধু পর্দায় তাঁর উপস্থিতির সংখ্যা দিয়ে করা উচিত নয়। ব্যক্তিগত উন্নতি, নতুন কিছু শেখা কিংবা নিজের মতো করে সময় কাটানোর জন্য বিরতি নেওয়া মানেই পেশাগত জীবনে পিছিয়ে পড়া নয়।

টেলিভিশন অভিনেতাদের নিয়ে কেন এত স্টেরিওটাইপ?

টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করা শিল্পীদের নিয়ে প্রচলিত ধারণারও সমালোচনা করেছেন রেশমি। তাঁর মতে, টেলিভিশন অভিনেতারা বিপুল দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পেলেও তাঁদের নানা ধরনের পূর্বধারণা ও নেতিবাচক তকমার মুখোমুখি হতে হয়।

রেশমি বলেন, ‘অনেকে আমাকে সরাসরি বলেছে, তুমি তো একটা ওভারএক্সপোজড মুখ, তোমার ক্যারিয়ার শেষ। মানুষ ভুলে যায় যে টেলিভিশন আমাদের একটা বিশাল বড় প্ল্যাটফর্ম দেয়, যা অন্য কোনো মাধ্যম পারে না। অথচ টিভি অভিনেতাদের নানা ট্যাবু ও স্টেরিওটাইপের শিকার হতে হয়।’

তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে টেলিভিশন অভিনেতাদের পেশাগত অবস্থান নিয়ে সমাজ ও বিনোদনজগতের একাংশের দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি। দীর্ঘদিন কোনো মাধ্যমে কাজ করাকে অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখার বদলে অনেক সময় সেটিকেই নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয় বলে মনে করেন তিনি।

নারীদের শুধু সৌন্দর্য দিয়ে বিচার করার বিরোধিতা

শোবিজে নারী শিল্পীদের উপস্থাপনের ধরন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রেশমি দেশাই। তাঁর মতে, অনেক প্রকল্পে নারীদের অভিনয়দক্ষতা কিংবা চরিত্রের গুরুত্বের চেয়ে তাঁদের সৌন্দর্য ও গ্ল্যামারকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়।

রেশমির ভাষায়, ‘অনেক প্রোজেক্টেই নারীদের শুধু সেক্সি বা সুন্দর দেখানোর জন্য ব্যবহার করা হয়—যা অত্যন্ত ভুল। একজন নারী শিল্পী এর চেয়ে অনেক বেশি কিছু। কঠোর পরিশ্রম করে যারা নিজেদের জায়গা তৈরি করেন, তাঁদের সঠিক সম্মান দেওয়া উচিত।’

একজন অভিনেত্রীর পরিচয় শুধু তাঁর বাহ্যিক সৌন্দর্য কিংবা পর্দায় উপস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না—এমন অবস্থানই তুলে ধরেছেন তিনি। অভিনয়শিল্পীদের শ্রম, দক্ষতা ও পেশাগত অবদানকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

নতুন অধ্যায় শুরু করতে প্রস্তুত রেশমি

দীর্ঘ বিরতির পর ‘সায়োনি’র মাধ্যমে ছোট পর্দায় ফিরছেন রেশমি দেশাই। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন শুধু নতুন একটি কাজ শুরু করার বিষয় নয়; বরং বিরতি ও নেতিবাচক মন্তব্যের পর আবারও দর্শকের সামনে হাজির হওয়ার উপলক্ষ।

ক্যারিয়ারের কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে রেশমি বুঝিয়ে দিয়েছেন, একজন শিল্পীর পথচলা সব সময় সরলরেখায় এগোয় না। কখনো বিরতি, কখনো নতুন করে শেখা, আবার কখনো প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোও সেই যাত্রার অংশ। এবার নতুন শোতে তাঁর অভিনয় দর্শকের কাছে কেমন সাড়া পায়, সেটিই দেখার অপেক্ষা।

কালের আলো/জেএন/এসএ