খুঁজুন
                               
, ,
           

‘ক্যারিয়ার শেষ’ বলে কটাক্ষ, চার বছর পর পর্দায় ফিরছেন রেশমি দেশাই

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
‘ক্যারিয়ার শেষ’ বলে কটাক্ষ, চার বছর পর পর্দায় ফিরছেন রেশমি দেশাই
টেলিভিশনে দীর্ঘদিন কাজ করলেই কি একজন অভিনেত্রীর ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়? পর্দা থেকে কিছুদিন দূরে থাকলেই কি তাঁকে ‘ওভারএক্সপোজড’ বলে দাগিয়ে দেওয়া যায়? এমন প্রশ্ন তুলে নিজের ক্যারিয়ারের কঠিন সময় নিয়ে মুখ খুলেছেন ভারতীয় টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রেশমি দেশাই। দীর্ঘ চার বছর পর ছোট পর্দায় ফিরতে যাওয়ার আগে তিনি জানিয়েছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে বিরতি নেওয়ার পরও কীভাবে তাঁকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছিল।

চার বছরের বিরতি, এবার নতুন শোতে প্রত্যাবর্তন

স্টার প্লাসের নতুন শো ‘সায়োনি’র মাধ্যমে ছোট পর্দায় ফিরতে চলেছেন রেশমি দেশাই। প্রত্যাবর্তনের আগে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের বিরতির সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী।

রেশমির ভাষ্য, টেলিভিশনে কাজ করার জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন হয়। তাই অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে নিজের জন্য সময় বের করতে চেয়েছিলেন তিনি। নতুন কিছু শেখা এবং নিজের দক্ষতা ও ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।

কিন্তু তাঁর এই সিদ্ধান্তকে সবাই ইতিবাচকভাবে দেখেননি। অনেকে ধরে নিয়েছিলেন, অভিনয়জগতে তাঁর সময় ফুরিয়ে এসেছে।

‘মানুষ ভেবেছিল আমার ক্যারিয়ার শেষ’

বিরতি নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে রেশমি বলেন, ‘আমি ইচ্ছে করেই বিরতি নিয়েছিলাম। কারণ টিভি একটানা দীর্ঘ প্রতিশ্রুতির ব্যাপার। আমি চেয়েছিলাম কিছু বিষয় নতুনভাবে শিখতে, নিজের ওপর কাজ করতে। কিন্তু মানুষ ভুল বুঝে ভেবেছিল আমার ক্যারিয়ার শেষ।’

অভিনেত্রীর দাবি, এই বিরতির সময় তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছে। কেউ কেউ সরাসরি তাঁকে ‘ওভারএক্সপোজড’ মুখ বলে মন্তব্য করেছেন। এমনকি তাঁর ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে বলেও অনেকে মনে করতেন।

রেশমির মতে, একজন শিল্পীর কাজের মূল্যায়ন শুধু পর্দায় তাঁর উপস্থিতির সংখ্যা দিয়ে করা উচিত নয়। ব্যক্তিগত উন্নতি, নতুন কিছু শেখা কিংবা নিজের মতো করে সময় কাটানোর জন্য বিরতি নেওয়া মানেই পেশাগত জীবনে পিছিয়ে পড়া নয়।

টেলিভিশন অভিনেতাদের নিয়ে কেন এত স্টেরিওটাইপ?

টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করা শিল্পীদের নিয়ে প্রচলিত ধারণারও সমালোচনা করেছেন রেশমি। তাঁর মতে, টেলিভিশন অভিনেতারা বিপুল দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পেলেও তাঁদের নানা ধরনের পূর্বধারণা ও নেতিবাচক তকমার মুখোমুখি হতে হয়।

রেশমি বলেন, ‘অনেকে আমাকে সরাসরি বলেছে, তুমি তো একটা ওভারএক্সপোজড মুখ, তোমার ক্যারিয়ার শেষ। মানুষ ভুলে যায় যে টেলিভিশন আমাদের একটা বিশাল বড় প্ল্যাটফর্ম দেয়, যা অন্য কোনো মাধ্যম পারে না। অথচ টিভি অভিনেতাদের নানা ট্যাবু ও স্টেরিওটাইপের শিকার হতে হয়।’

তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে টেলিভিশন অভিনেতাদের পেশাগত অবস্থান নিয়ে সমাজ ও বিনোদনজগতের একাংশের দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি। দীর্ঘদিন কোনো মাধ্যমে কাজ করাকে অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখার বদলে অনেক সময় সেটিকেই নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয় বলে মনে করেন তিনি।

নারীদের শুধু সৌন্দর্য দিয়ে বিচার করার বিরোধিতা

শোবিজে নারী শিল্পীদের উপস্থাপনের ধরন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রেশমি দেশাই। তাঁর মতে, অনেক প্রকল্পে নারীদের অভিনয়দক্ষতা কিংবা চরিত্রের গুরুত্বের চেয়ে তাঁদের সৌন্দর্য ও গ্ল্যামারকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়।

রেশমির ভাষায়, ‘অনেক প্রোজেক্টেই নারীদের শুধু সেক্সি বা সুন্দর দেখানোর জন্য ব্যবহার করা হয়—যা অত্যন্ত ভুল। একজন নারী শিল্পী এর চেয়ে অনেক বেশি কিছু। কঠোর পরিশ্রম করে যারা নিজেদের জায়গা তৈরি করেন, তাঁদের সঠিক সম্মান দেওয়া উচিত।’

একজন অভিনেত্রীর পরিচয় শুধু তাঁর বাহ্যিক সৌন্দর্য কিংবা পর্দায় উপস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না—এমন অবস্থানই তুলে ধরেছেন তিনি। অভিনয়শিল্পীদের শ্রম, দক্ষতা ও পেশাগত অবদানকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

নতুন অধ্যায় শুরু করতে প্রস্তুত রেশমি

দীর্ঘ বিরতির পর ‘সায়োনি’র মাধ্যমে ছোট পর্দায় ফিরছেন রেশমি দেশাই। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন শুধু নতুন একটি কাজ শুরু করার বিষয় নয়; বরং বিরতি ও নেতিবাচক মন্তব্যের পর আবারও দর্শকের সামনে হাজির হওয়ার উপলক্ষ।

ক্যারিয়ারের কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে রেশমি বুঝিয়ে দিয়েছেন, একজন শিল্পীর পথচলা সব সময় সরলরেখায় এগোয় না। কখনো বিরতি, কখনো নতুন করে শেখা, আবার কখনো প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোও সেই যাত্রার অংশ। এবার নতুন শোতে তাঁর অভিনয় দর্শকের কাছে কেমন সাড়া পায়, সেটিই দেখার অপেক্ষা।

কালের আলো/জেএন/এসএ

সাংবাদিকের নিরাপত্তা কোথায়? আলিফ হত্যা নিয়ে উদ্বেগ আসকের

নেত্রকোনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
সাংবাদিকের নিরাপত্তা কোথায়? আলিফ হত্যা নিয়ে উদ্বেগ আসকের

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হত্যার ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিবৃতিতে আসক এ দাবি জানায়। সংস্থাটি বলেছে, সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের প্রাণঘাতী হামলা শুধু একজন মানুষের জীবনের অধিকার কেড়ে নেয় না, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের জানার অধিকারের জন্যও গুরুতর হুমকি তৈরি করে।

আগেও হামলার শিকার হয়েছিলেন আলিফ

আসকের বিবৃতিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, গত ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া এলাকায় সাংবাদিক আলিফ ফকিরকে গুলি করা হয়। তিনি বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে আলিফ ফকির এর আগেও হামলার শিকার হয়েছিলেন। আগের হামলার পরও একজন সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে তাঁকে গুলি করে হত্যার ঘটনা গভীর উদ্বেগের। আসকের মতে, কোনো সাংবাদিক আগে হামলার শিকার হওয়ার পরও তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকে গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনা যথাযথভাবে তদন্ত করা এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের হামলা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সাংবাদিক হত্যা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি

আসক মনে করে, একজন সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করা কেবল ব্যক্তির জীবনের ওপর আঘাত নয়; এটি সমাজে স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের পরিবেশকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ ধরনের ঘটনায় যথাযথ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না হলে সাংবাদিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ, অনিয়ম তুলে ধরা এবং ক্ষমতাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রচেষ্টায়। ভয়ভীতি ও সহিংসতার আশঙ্কায় সাংবাদিকেরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধার মুখে পড়লে জনগণের তথ্য জানার সুযোগও সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সংস্থাটি বলেছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে গণতান্ত্রিক জবাবদিহি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সংবিধান ও আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সুরক্ষিত অধিকার

বিবৃতিতে বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ ও ৩৯ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেছে আসক। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকার এবং ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা, বিবেক, বাক্‌স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সুরক্ষিত হয়েছে। এ ছাড়া নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি—আইসিসিপিআরের ৬ ও ১৯ অনুচ্ছেদে যথাক্রমে জীবনের অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার স্বীকৃতি রয়েছে। আসকের বক্তব্য, এসব অধিকার সুরক্ষিত রাখতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের ওপর সংঘটিত সহিংসতার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি।

তদন্তে প্রভাব বা পক্ষপাতের সুযোগ থাকা উচিত নয়

সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার প্রসঙ্গে আসকের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান বলেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কোনো অবহেলা, প্রভাব বা পক্ষপাতের সুযোগ থাকা উচিত নয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সংস্থাটি তদন্তপ্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং অপরাধে জড়িতদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান

বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসক বলেছে, সাংবাদিকেরা যাতে কোনো ধরনের হুমকি বা আশঙ্কা ছাড়াই তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সংস্থাটির মতে, স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষা কোনো নির্দিষ্ট পেশাজীবী গোষ্ঠীর স্বার্থের বিষয় নয়। এটি গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

 

বিএসএফের হাতে আটক ২ পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে আনল বিজিবি

কুমিল্লা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
বিএসএফের হাতে আটক ২ পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে আনল বিজিবি

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে আটক বাংলাদেশ পুলিশের দুই সদস্যকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠকের পর তাঁদের হস্তান্তর করা হয়। ফেরত আসা দুই পুলিশ সদস্য হলেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ইমরান হোসেন। বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

পতাকা বৈঠকে হস্তান্তর, পরে পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেয় বিজিবি

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল সীমান্তের মেইন পিলার ২০৫৯-এর কাছে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিজিবির সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) এবং বিএসএফের ৪৯ ব্যাটালিয়নের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের ওই বৈঠকে বিএসএফ আটক দুই পুলিশ সদস্যকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে বিজিবি তাঁদের বাংলাদেশ পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেয়। বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এতে সীমান্তে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে অল্প সময়ের মধ্যেই দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

মাদক উদ্ধারের অভিযানে গিয়ে সীমান্ত অতিক্রম

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ী সীমান্ত এলাকায় মাদক উদ্ধারের অভিযান চালাচ্ছিলেন পুলিশের সদস্যরা। এ সময় সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকায় এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করতে গিয়ে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। পরে ভারতীয় নাগরিকেরা তাঁকে আটক করেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

সহকর্মীকে ছাড়াতে গিয়ে আটক হন এএসআই ইমরান

কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান আটক হওয়ার পর তাঁকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করতে গিয়ে এএসআই মো. ইমরান হোসেনও আটক হন। এরপর দুই পুলিশ সদস্যকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়। আটক দুই সদস্যকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দুই বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুরে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং বৈঠক শেষে তাঁদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে দুই পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি জানিয়েছেন। সীমান্তে দায়িত্ব পালনকালে কোনো সদস্য সীমান্ত অতিক্রম করে অন্য দেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে এ ধরনের ঘটনা দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

মহাকাশের ‘খালি’ অঞ্চলে রহস্যময় সংকেত

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
মহাকাশের ‘খালি’ অঞ্চলে রহস্যময় সংকেত
মহাকাশের এমন একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলে রহস্যময় সংকেত শনাক্ত করেছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ, যেখানে দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণ চালিয়েও ওই সংকেতের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো দৃশ্যমান উৎস খুঁজে পাননি বিজ্ঞানীরা। প্রায় তিন মাসের ব্যবধানে দুই দফা পর্যবেক্ষণে সংকেতটি ধরা পড়ে। কিন্তু কোথা থেকে এটি এসেছে, কী কারণে তৈরি হয়েছে কিংবা এর পেছনে কোন মহাজাগতিক ঘটনা কাজ করছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, সংকেতটি মহাকাশের এমন একটি অঞ্চলে পাওয়া গেছে, যা আগে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ দিয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী অবলোহিত প্রযুক্তি ব্যবহার করেও সেখানে এর কোনো সুস্পষ্ট উৎস শনাক্ত করা যায়নি। ফলে নতুন এই সংকেত নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে।

যে অঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার ছায়াপথের সন্ধান মিলেছিল

রহস্যময় সংকেতটির অবস্থান দক্ষিণ আকাশের ফর্নাক্স নক্ষত্রমণ্ডলে, ‘হাবল আল্ট্রা ডিপ ফিল্ড’ নামে পরিচিত মহাকাশের একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলে। মহাবিশ্বের গভীরতম পর্যবেক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম এই অঞ্চলটি। দূরবর্তী ও ক্ষীণ ছায়াপথের সন্ধানে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ এখানে ২৭০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পর্যবেক্ষণ চালিয়েছিল।

সেই পর্যবেক্ষণে প্রায় ১০ হাজার ছায়াপথের সন্ধান পাওয়া যায়। অর্থাৎ, খালি চোখে প্রায় শূন্য বলে মনে হওয়া মহাকাশের ওই ক্ষুদ্র অংশেও অসংখ্য ছায়াপথের অস্তিত্ব রয়েছে।

পরে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ আরও সংবেদনশীল অবলোহিত যন্ত্র দিয়ে একই অঞ্চল পর্যবেক্ষণ শুরু করে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা আগের পর্যবেক্ষণে শনাক্ত করা কঠিন ছিল—এমন দূরবর্তী ও ক্ষীণ মহাজাগতিক বস্তুর আলো বিশ্লেষণ করার সুযোগ পান।

কিন্তু সেই পর্যবেক্ষণেই সামনে আসে অপ্রত্যাশিত এক সংকেত, যার পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

পরিচিত বস্তুর বদলে অজানা সংকেতের খোঁজ

মিনেসোটা ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী মেসন হুবার্টির নেতৃত্বে গবেষকেরা জেমস ওয়েবের নিয়ার-ইনফ্রারেড স্পেকট্রোগ্রাফ বা এনআইআরস্পেক যন্ত্র ব্যবহার করে সংকেতটি শনাক্ত করেন।

সাধারণত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আগে থেকে পরিচিত কোনো ছায়াপথ, নক্ষত্র কিংবা অন্য মহাজাগতিক বস্তুকে লক্ষ্য করে টেলিস্কোপের সাহায্যে পর্যবেক্ষণ চালান। কিন্তু এই গবেষণায় পদ্ধতিটি ছিল কিছুটা ভিন্ন। গবেষকেরা যন্ত্রটির প্রায় সব ক্ষুদ্র শাটার খুলে রেখে সংগৃহীত আলোর বর্ণালি বিশ্লেষণ করেন।

এই পদ্ধতিতে আগে থেকে নির্দিষ্ট করে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন না করেও বিভিন্ন উৎস থেকে আসা আলো শনাক্ত করা সম্ভব। ফলে পরিচিত মহাজাগতিক বস্তুর পাশাপাশি অজানা বা আগে শনাক্ত না হওয়া কোনো উৎসের সংকেতও সামনে আসতে পারে।

গবেষকেরা প্রথমে ছয়টি সংকেতকে আগে থেকে পরিচিত দূরবর্তী ছায়াপথের সঙ্গে মেলাতে সক্ষম হন। কিন্তু সপ্তম সংকেতটির ক্ষেত্রে একই ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এর বৈশিষ্ট্য অন্য সংকেতগুলোর তুলনায় আলাদা হওয়ায় সেটিই বিজ্ঞানীদের বিশেষভাবে ভাবিয়ে তোলে।

৮৮ দিনের ব্যবধানে দুবার ধরা পড়ল সংকেত

গবেষণায় ২০২৩ সালের আগস্ট ও নভেম্বরে দুই দফা পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। এই দুই পর্যবেক্ষণের মধ্যে ব্যবধান ছিল ৮৮ দিন।

দুই দফায় পর্যবেক্ষণের দিকও আলাদা রাখা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল, কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা যন্ত্রের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের কারণে তৈরি সংকেতকে প্রকৃত মহাজাগতিক ঘটনা বলে ভুল করার ঝুঁকি কমানো।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রহস্যময় সংকেতটি দুই দফার পর্যবেক্ষণেই শনাক্ত হয়। এমনকি চারটি সম্মিলিত এক্সপোজারেও এর উপস্থিতি ছিল সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এ কারণে সংকেতটিকে নিছক যন্ত্রের ত্রুটি বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন বলে মনে করছেন গবেষকেরা। তবে একই সংকেত একাধিকবার পাওয়া গেলেই তার প্রকৃত উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না। সেটি শনাক্ত করতে আরও পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

১.৬ মাইক্রোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যে উজ্জ্বল রেখা

রহস্যময় সংকেতটির অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, এটি প্রায় ১ দশমিক ৬ মাইক্রোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যে শনাক্ত হয়েছে। আলোর বর্ণালিতে এটি একটি উজ্জ্বল নির্গমন রেখা হিসেবে দেখা গেছে।

মহাজাগতিক বস্তু থেকে আসা আলোকে বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে বিশ্লেষণ করলে তার রাসায়নিক উপাদান, ভৌত অবস্থা এবং দূরত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু পরমাণু ও আয়ন নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যে আলো নির্গত করে। তাই একটি নির্গমন রেখার পরিচয় নিশ্চিত করতে বিজ্ঞানীরা সাধারণত বর্ণালিতে অন্য রেখাগুলোর উপস্থিতিও খতিয়ে দেখেন।

কিন্তু এই সংকেতের ক্ষেত্রে সমস্যাটি হলো, এর সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য কোনো নির্গমন রেখা পাওয়া যায়নি। ফলে সংকেতটির পরিচয় নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সূত্র সীমিত হয়ে পড়েছে।

আরও বিস্ময়কর বিষয়, হাবল ও জেমস ওয়েবের আগের পর্যবেক্ষণেও ওই অবস্থানে কোনো দৃশ্যমান উৎস শনাক্ত হয়নি। অর্থাৎ, সংকেতটি যে বস্তু থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তার অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো পরিচিত তথ্য নেই।

আগে ছিল না, পরে হঠাৎ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল?

সংকেতটির প্রকৃতি সম্পর্কে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গেছে আগের পর্যবেক্ষণের তথ্য থেকে।

গবেষকদের মতে, সংকেতটি এতটাই উজ্জ্বল ছিল যে ২০২২ সালের অক্টোবরে পরিচালিত জেডেস জরিপের সময় একই অবস্থায় উপস্থিত থাকলে সেটি শনাক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু ওই পর্যবেক্ষণে সংকেতটির কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, সংকেতটির উৎস হয়তো স্থায়ীভাবে উজ্জ্বল ছিল না। বরং কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সেটি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল, পরে আবার ক্ষীণ হয়ে যেতে পারে। তবে এই ব্যাখ্যাও এখনো নিশ্চিত নয়।

মহাকাশে কিছু ঘটনা অল্প সময়ের জন্য উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। কোনো নক্ষত্রের বিস্ফোরণ, ঘন মহাজাগতিক বস্তুর আশপাশে পদার্থের আচরণ কিংবা অন্য কোনো ক্ষণস্থায়ী ঘটনা থেকে এমন সংকেত তৈরি হতে পারে। কিন্তু বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে এই সম্ভাবনাগুলোর কোনো একটিকে রহস্যময় সংকেতটির নিশ্চিত উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।

তাই সংকেতটি কোনো পরিচিত মহাজাগতিক ঘটনার ফল, নাকি এর পেছনে রয়েছে এখনো অজানা কোনো প্রক্রিয়া—তা জানতে আরও গবেষণার প্রয়োজন।

রহস্যের সমাধানে প্রয়োজন আরও পর্যবেক্ষণ

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ মহাবিশ্বের দূরবর্তী ও ক্ষীণ বস্তু শনাক্ত করার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এর উন্নত অবলোহিত যন্ত্রের সাহায্যে বিজ্ঞানীরা এমন সব সংকেতও খুঁজে পাচ্ছেন, যেগুলো আগের পর্যবেক্ষণে শনাক্ত করা কঠিন ছিল।

তবে কোনো সংকেত শনাক্ত করা এবং তার উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া এক বিষয় নয়। নতুন এই সংকেতের ক্ষেত্রেও বিজ্ঞানীদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর বর্ণালিগত বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা এবং সম্ভাব্য উৎসের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা।

এ বিষয়ে গবেষণাপত্রটি দ্য অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নাল-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার ফল মহাকাশের অজানা ও ক্ষণস্থায়ী সংকেত অনুসন্ধানে নতুন প্রশ্ন সামনে এনেছে।

এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যায়, সংকেতটি দুই দফা পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে এবং এর উৎস শনাক্ত করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য বিজ্ঞানীদের হাতে নেই। রহস্যের সমাধান পেতে ভবিষ্যতে আরও পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

কালের আলো/জেএন/এসএ