খুঁজুন
                               
, ,
           

গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে গতি, ময়মনসিংহ সদরে উদ্বোধন ১১ প্রকল্প

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে গতি, ময়মনসিংহ সদরে উদ্বোধন ১১ প্রকল্প

গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ কমানো এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরসিরতা ও পরানগঞ্জ ইউনিয়নে ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকার সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন করেন। এ সময় উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। গ্রামীণ জনপদে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার এ উদ্যোগকে স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • সড়ক, কালভার্ট, ড্রেন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে গুরুত্ব
  • সড়ক, কালভার্ট, ড্রেন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে গুরুত্ব
  • নানা উদ্যোগ উদ্বোধন করলেন এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ
  • সুফল পাওয়ার প্রত্যাশায় স্থানীয় বাসিন্দারা

সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে একাধিক উদ্যোগ
উদ্বোধন করা প্রকল্পগুলোর বড় অংশই গ্রামীণ সড়ক সংস্কার ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। কোনাপাড়া রফিকুলের বাড়ি থেকে ঈদগাহ মাঠ পর্যন্ত সড়ক, চরখরিচা ঈদগাহ মাঠ থেকে পীরবাড়ী সড়ক ও কালভার্ট এবং খাজা মাঈন উদ্দিনের বাড়ি থেকে আজিজুল হকের বাড়ি পর্যন্ত প্রধান সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সিরতা বাজারের দক্ষিণ পাড়া সড়ক, চরভাবানীপুর পশ্চিমপাড়া মসজিদ থেকে মাহবুব আলমের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা এবং চরখরিচা মেইন রোড থেকে মামুনের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক সংস্কার করা হবে। চরখরিচায় আইন উদ্দীনের বাড়ির পাকা সড়কে হাফ-সলিং এবং চরসিরতা হাজী সুলতান মহিলা মাদরাসার পাকা রাস্তা থেকে দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত সড়ক সলিংয়ের কাজও রয়েছে এ তালিকায়।

পাশাপাশি খালেরপার থেকে কইট্রার মোড় পর্যন্ত সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে চলাচলের ভোগান্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং স্থানীয় বাজারের সঙ্গে যোগাযোগেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।

শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ
যোগাযোগ অবকাঠামোর পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিরতা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্রীদের জন্য নামাজখানা নির্মাণ এবং জামিয়া শাহমুদিয়া চরখরিচা মাদরাসার আসবাবপত্র সংস্কার প্রকল্প এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নত করার ক্ষেত্রে এসব উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য নামাজখানা নির্মাণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের ধর্মীয় অনুশীলনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে।

উন্নয়ন কার্যক্রমে আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা
এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে অবকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হওয়া। গ্রামীণ সড়ক সংস্কার থেকে শুরু করে ড্রেন নির্মাণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুবিধা সম্প্রসারণ—প্রতিটি উদ্যোগই স্থানীয় পর্যায়ে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা বহন করে। প্রকল্পগুলো যথাযথ মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা গেলে এর সুফল দীর্ঘমেয়াদে ভোগ করতে পারবেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এসব অবকাঠামো এলাকার টেকসই উন্নয়নেও অবদান রাখবে।

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান
উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনের কর্মসূচি শেষে বিকেলে চরসিরতা বাজারে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।

সভায় তিনি আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে একটি চক্র অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে পূজামণ্ডপে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে প্রতিটি এলাকার পূজামণ্ডপে বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং উৎসবের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সম্ভাবনাময় গ্রামীণ জনপদ
চরসিরতা ও পরানগঞ্জ ইউনিয়নে একসঙ্গে ১১টি প্রকল্প উদ্বোধন স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশনের সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সংস্কারের মতো কার্যক্রম গ্রামীণ জনপদের অগ্রযাত্রায় সহায়ক হতে পারে।

উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রকল্পগুলোর মানসম্মত বাস্তবায়ন, নিয়মিত তদারকি এবং স্থানীয় চাহিদার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এসব বিষয় নিশ্চিত করা গেলে উদ্যোগগুলো শুধু অবকাঠামোগত পরিবর্তনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা এবং স্থানীয় উন্নয়নের গতি বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে।

কর্মসূচিতে কোতোয়ালি বিএনপির আহ্বায়ক হেলাল আহম্মেদ, সদস্যসচিব আতাহারুল ইসলাম বুলবুল, জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির আহম্মেদ শামীমসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ওয়াইএ/এমএএএমকে

বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের ধরন, প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতেও নতুন ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের ধরন, প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতেও নতুন ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনাকে সমুন্নত রাখা এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সরকার।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সাভার সেনানিবাসে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড (জাতীয় পতাকা) প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ছয়টি ইউনিটকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার এবং সদস্যদের কল্যাণের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, পেশাদারিত্ব ও জনগণের আস্থা ধরে রাখাকেও সমান গুরুত্ব দিতে চায় সরকার।

  • ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার সক্ষমতার গুরুত্ব তুলে ধরে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
  • ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন
  • পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

অস্ত্রের শক্তির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শৃঙ্খলা ও নেতৃত্ব
আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা মূল্যায়নে কেবল অস্ত্র, সরঞ্জাম কিংবা জনবলের পরিমাণ যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, একটি বাহিনীর প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে প্রশিক্ষণ, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, পেশাদারিত্ব এবং জনগণের আস্থার ওপর। একই সঙ্গে সামরিক বাহিনীর কার্যকর পরিচালনায় চেইন অব কমান্ডের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম বা জনবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ ও জনগণের আস্থার মধ্যে; সর্বোপরি চেইন অব কমান্ডের ওপর।’ অর্থাৎ প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নকে শুধু অস্ত্র ও প্রযুক্তি সংগ্রহের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না সরকার। বরং বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা, সাংগঠনিক সংহতি, দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদানকে এ ক্ষেত্রে একটি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি ইউনিটের পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়; এটি ওই ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারিত্ব ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই পতাকা অর্জনের অর্থ হলো অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নতুন শপথ। পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।’

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকা
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্ম হয়েছে।’

১৯৭১ সালের মার্চে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে বাঙালি সেনাসদস্যদের সশস্ত্র প্রতিরোধের ইতিহাস তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, ২৫ মার্চ রাতে বর্বরোচিত হামলা শুরু হলে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা করেন। এরপর তিনি রেজিমেন্টের বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিকদের একত্র করে সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে জিয়াউর রহমান ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা, জেসিও ও সৈনিকদের সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাংলাভাষী সেনাসদস্যরা সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। পরদিন ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ এবং ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনাকর্মকর্তার এমন ঐতিহাসিক ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গৌরব ও অনুপ্রেরণার উৎস। এ কারণেই স্বাধীনতাপ্রিয় দেশপ্রেমিক জনগণ সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যকে বাংলাদেশের সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করে।’ বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের উল্লেখের মধ্য দিয়ে সামরিক বাহিনীর পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে এর সম্পর্কও সামনে এসেছে। একই সঙ্গে বাহিনীর ভাবমূর্তি, জনগণের আস্থা এবং ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার রক্ষার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা: ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার সক্ষমতা
বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের ধরন ও কৌশল দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রচলিত স্থল, সমুদ্র ও আকাশভিত্তিক প্রতিরক্ষার পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা এখন জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই পরিবর্তন বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু প্রচলিত সামরিক সরঞ্জামের আধুনিকায়ন যথেষ্ট নয়; প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রশিক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ও প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এ বাস্তবতার স্বীকৃতি রয়েছে। তিনি জানান, পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

তবে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মধ্যেও মানবসম্পদের গুরুত্বকে উপেক্ষা না করার ওপর জোর দেন তিনি। প্রযুক্তি কখনো মানুষের বিকল্প হতে পারে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী যেন প্রয়োজনের মুহূর্তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যে সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এখানে প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে—একদিকে প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের উন্নয়ন, অন্যদিকে বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয়, দক্ষ জনবল এবং কার্যকর পরিচালনব্যবস্থা গড়ে তোলা।

দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব
সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সেনাবাহিনীর সর্বক্ষেত্রে আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশেই উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং স্থানীয় প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ, গবেষণা ও উন্নয়ন, দক্ষ জনবল, মান নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উঠে এসেছে। এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা খাতকে শুধু সামরিক প্রস্তুতির ক্ষেত্র হিসেবে নয়, প্রযুক্তি ও শিল্প সক্ষমতা বিকাশের সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবেও বিবেচনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

দুর্যোগ মোকাবিলা থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন
সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্ব শুধু দেশের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড এবং অন্যান্য জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পাশাপাশি বিদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও তারা সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

এই বহুমাত্রিক ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীকে জাতীয় সংকট মোকাবিলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। বিশেষ করে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত মোতায়েন, লজিস্টিক সহায়তা এবং সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা দেশের সামগ্রিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি, পেশাগত দক্ষতা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাৎপর্য বহন করে। ফলে সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির আলোচনায় জাতীয় প্রতিরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সামরিক সদস্যদের কল্যাণে বেতন-ভাতা ও পেনশন
প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করতে ‘ওয়ান র্যাং ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা শুধু আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে না; দক্ষ, প্রশিক্ষিত, অনুপ্রাণিত এবং পেশাগতভাবে স্থিতিশীল জনবলও এর অন্যতম ভিত্তি। এ কারণে আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো বাহিনীর সদস্যদের মনোবল এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মদক্ষতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও পেনশনসংক্রান্ত উদ্যোগের বাস্তব সুফল কতটা বিস্তৃতভাবে সদস্যদের কাছে পৌঁছায়, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের কার্যকারিতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনার ওপর।

সংবিধান, আইন ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার
দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সৈনিক সংবিধান, আইন, সামরিক বিধিবিধান এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একটি পেশাদার সামরিক প্রতিষ্ঠানের জন্য শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আইনানুগ দায়িত্ব পালন, নৈতিকতা এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চাও অপরিহার্য। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এই নীতিগুলোর উল্লেখ সশস্ত্র বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব ও পেশাগত মান বজায় রাখার প্রত্যাশাকে সামনে এনেছে। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকারের পাশাপাশি সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর প্রতি আনুগত্যের ওপর জোর দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বশীলতার বিষয়গুলোকে একই আলোচনায় যুক্ত করেছেন তিনি।

ছয় ইউনিট পেল ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড
অনুষ্ঠানে পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম, নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোল্লা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

এনসিএলে বরিশালকে ২২৯ রানে গুটিয়ে দিল রাজশাহী

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
এনসিএলে বরিশালকে ২২৯ রানে গুটিয়ে দিল রাজশাহী

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চার দিনের ম্যাচে রাজশাহী ভেন্যুতে প্রথম ইনিংসে বরিশাল বিভাগকে ২২৯ রানে অলআউট করেছে রাজশাহী বিভাগ। স্বাগতিক দলের বোলার সানজামুল ইসলাম মাত্র ১৫ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে বরিশালের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বরিশাল বিভাগ। তবে ব্যাটসম্যানদের কেউই বড় ইনিংস খেলতে না পারায় ২২৯ রানেই থামে তাদের প্রথম ইনিংস।

বরিশালের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন আব্দুল্লাহ। এ ছাড়া জাওয়াদ আবরার ৪০ এবং কামরুল রাব্বি ৩৬ রান করেন। রাজশাহীর বোলারদের মধ্যে সানজামুল ইসলাম ১৫ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন। শফিকুল ইসলাম ৬১ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট।

বরিশালের ইনিংস শেষ হওয়ার পর নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় রাজশাহী বিভাগ। দিন শেষে এক উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৪ রান। নাইম আহমেদ ১৩ রান এবং হাবিবুর সোহান ৬ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন এই দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান। প্রথম ইনিংসে বরিশালের সংগ্রহ টপকে লিড নেওয়াই এখন রাজশাহীর সামনে প্রধান লক্ষ্য।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ব্যস্ত জীবনে সুখী থাকার সহজ ১০ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
ব্যস্ত জীবনে সুখী থাকার সহজ ১০ উপায়

কাজের চাপ, পারিবারিক অশান্তি, ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তা কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ—নানা কারণে প্রতিদিনের জীবন হয়ে উঠতে পারে ক্লান্তিকর। ব্যস্ততার মধ্যে অনেক সময় নিজের জন্য একটু সময় বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় হাসিখুশি থাকার অভ্যাস, জমতে থাকে মানসিক চাপ। অথচ প্রতিদিনের ছোট ছোট কিছু অভ্যাসে জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

সবার কাছে সুখের সংজ্ঞা এক নয়। কেউ প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আনন্দ পান, কেউ বই পড়ে কিংবা একা নিরিবিলি সময় কাটিয়ে খুঁজে নেন মানসিক প্রশান্তি। নিজের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী দৈনন্দিন রুটিনে কিছু ইতিবাচক অভ্যাস যোগ করলে মন ভালো রাখা এবং জীবনকে আরও উপভোগ্য করে তোলা সহজ হতে পারে। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইনের বিভিন্ন পরামর্শের আলোকে জেনে নেওয়া যাক, ভালো থাকার জন্য কোন অভ্যাসগুলো গড়ে তুলতে পারেন।

১. প্রতিদিন কিছুটা সময় শরীরচর্চা করুন
ব্যায়াম মানেই জিমে গিয়ে ভারী ওজন তোলা কিংবা কঠিন কোনো শরীরচর্চা করা নয়। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং কিংবা ঘরের আশপাশে কিছুক্ষণ চলাফেরা করাও শরীর ও মনের জন্য উপকারী হতে পারে।

নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম মেজাজ ভালো রাখতে, মানসিক চাপ কমাতে এবং ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে। তবে শুরুতেই শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া উচিত নয়। নিজের শারীরিক সক্ষমতা, সময় ও সুযোগ অনুযায়ী সহজ ব্যায়াম বেছে নিন। নিয়মিত শরীর সচল রাখার অভ্যাসই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

২. পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলুন
রাতে দীর্ঘ সময় ফোনের পর্দায় চোখ রেখে সকালে ক্লান্ত শরীরে কাজে যাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে সারাদিন অবসাদ, বিরক্তি ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ফলে ছোটখাটো সমস্যাও বড় মনে হতে পারে।

সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। ভালো ঘুমের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। ঘুমানোর আগে ফোন ব্যবহার কমিয়ে দিন এবং শোবার ঘর আরামদায়ক রাখুন। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে সতেজ রাখার পাশাপাশি আবেগ ও মানসিক চাপ সামলাতেও সহায়তা করে।

৩. জীবনের ছোট ছোট বিষয়ের জন্য কৃতজ্ঞ থাকুন
আমাদের অনেক সময় কী নেই, কী হারিয়েছি কিংবা কোন প্রত্যাশা পূরণ হয়নি—এসব নিয়েই বেশি ভাবা হয়। অথচ প্রতিদিনের জীবনে এমন অনেক ছোট ঘটনা ঘটে, যেগুলো আনন্দের কারণ হতে পারে। সকালে বারান্দায় বসে এক কাপ চা পান করা, প্রিয় মানুষের সঙ্গে কিছুক্ষণ গল্প করা কিংবা অপরিচিত কারও মুখে হাসি দেখা—এসব মুহূর্তও জীবনের সৌন্দর্য বাড়ায়।

প্রতিদিন এমন তিনটি বিষয় লিখে রাখতে পারেন, যেগুলোর জন্য আপনি কৃতজ্ঞ। চাইলে নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন। এই অভ্যাস জীবনের ইতিবাচক দিকগুলো খেয়াল করতে সাহায্য করে। তবে কৃতজ্ঞ থাকার অর্থ নিজের কষ্ট বা সমস্যাকে অস্বীকার করা নয়; বরং কঠিন সময়ের মধ্যেও ভালো দিকগুলো খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করা।

৪. ঘর ও কাজের জায়গা গোছানো রাখুন
অগোছালো ঘর, ছড়িয়ে থাকা কাপড় কিংবা এলোমেলো কাজের টেবিল অনেক সময় অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাই প্রতিদিন অল্প কিছু সময় নিজের আশপাশ গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করুন। ছুটির দিনে আলমারি, ড্রয়ার কিংবা পড়ার টেবিল পরিষ্কার করতে পারেন। অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় রাখুন। একসঙ্গে সবকিছু করার প্রয়োজন নেই; প্রতিদিন ১০ মিনিট সময় দিলেও ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে পারে। পরিচ্ছন্ন ও গোছানো পরিবেশ কাজের মনোযোগ বাড়াতে এবং দৈনন্দিন জীবনকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে সহায়তা করতে পারে।

৫. প্রিয় মানুষদের জন্য সময় রাখুন
কাজের ব্যস্ততায় অনেক সময় বন্ধু, পরিবারের সদস্য কিংবা কাছের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যায়। অথচ আন্তরিক সম্পর্ক মানুষের মানসিক সুস্থতা ও ভালো থাকার অনুভূতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন সম্ভব না হলেও সপ্তাহে অন্তত একদিন প্রিয় কারও সঙ্গে কথা বলার বা দেখা করার পরিকল্পনা করতে পারেন। একসঙ্গে চা পান, কফিশপে আড্ডা কিংবা পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার মতো সাধারণ আয়োজনও সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে। তবে সবার সামাজিক চাহিদা এক নয়। কেউ মানুষের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আনন্দ পান, আবার কেউ নিরিবিলি থাকতে পছন্দ করেন। নিজের প্রয়োজন বুঝে সম্পর্কের জন্য সময় রাখুন, পাশাপাশি অন্যের সঙ্গেও আন্তরিক যোগাযোগ বজায় রাখুন।

৬. প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটান
একটানা ঘরের ভেতরে কিংবা কর্মস্থলে সময় কাটাতে কাটাতে মন ক্লান্ত হয়ে যেতে পারে। এমন সময়ে কিছুক্ষণ বাইরে বের হওয়া, পার্কে হাঁটা কিংবা গাছপালায় ঘেরা জায়গায় বসে থাকা স্বস্তি দিতে পারে।

সম্ভব হলে সপ্তাহে একদিন কোনো পার্ক, নদীর তীর কিংবা সবুজ পরিবেশে কিছুটা সময় কাটান। খোলা আকাশ দেখা, পাখির ডাক শোনা কিংবা নির্মল বাতাসে হাঁটার মতো সাধারণ অভিজ্ঞতাও মানসিক চাপ সামলাতে সাহায্য করতে পারে। দূরে কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বাড়ির ছাদে গাছের পরিচর্যা করা, বারান্দায় বসা কিংবা কাছের কোনো সবুজ জায়গায় হাঁটাও হতে পারে প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর সহজ উপায়।

৭. অন্যের জন্য ভালো কিছু করুন
অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেও আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায়। সামর্থ্য অনুযায়ী কাউকে সাহায্য করা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো কিংবা প্রিয়জনকে ছোট কোনো উপহার দেওয়া—এ ধরনের কাজ সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়ায় এবং নিজের মধ্যেও ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

এর জন্য বড় আয়োজন বা প্রচুর অর্থের প্রয়োজন নেই। কারও কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, বিপদে বন্ধুর পাশে দাঁড়ানো কিংবা পরিবারের কাজে সহযোগিতা করাও গুরুত্বপূর্ণ।তবে অন্যকে সাহায্য করতে গিয়ে নিজের সামর্থ্য ও সীমাবদ্ধতার কথাও মনে রাখা প্রয়োজন। নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ না নিয়ে আন্তরিকভাবে ভালো কিছু করার চেষ্টা করুন।

৮. নিজের পছন্দের কাজে সময় দিন
সব সময় অন্যের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা কাজের মধ্যে ডুবে থাকা প্রয়োজন নেই। নিজের জন্যও কিছুটা সময় রাখা জরুরি। এই সময়টুকুতে এমন কিছু করুন, যা আপনাকে আনন্দ দেয় এবং মানসিকভাবে সতেজ করে।

পছন্দের বই পড়া, সিনেমা দেখা, গান শোনা, রান্না করা কিংবা নিজের পছন্দের কোনো জায়গায় ঘুরতে যাওয়া হতে পারে সেই কাজের অংশ। চাইলে একা কোনো রেস্তোরাঁয় বসে পছন্দের খাবারও খেতে পারেন।নিজের সঙ্গে সময় কাটানো মানে একাকিত্বে ডুবে থাকা নয়। বরং নিজের পছন্দ, অনুভূতি ও প্রয়োজন বোঝার জন্য কিছুটা অবকাশ তৈরি করা।

৯. চিন্তা ও অনুভূতি লিখে রাখুন
কোনো বিষয় নিয়ে বারবার ভাবতে থাকলে মন অস্থির হয়ে উঠতে পারে। এমন সময়ে নিজের চিন্তা ও অনুভূতিগুলো কাগজে লিখে রাখা উপকারী হতে পারে।

দিনের শুরুতে কিংবা ঘুমানোর আগে কয়েক মিনিট সময় নিয়ে লিখুন—কী নিয়ে চিন্তা করছেন, কোন কাজগুলো করতে চান এবং কোন বিষয়গুলো আপনাকে আনন্দ দিয়েছে। সামনের দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজের একটি ছোট তালিকাও তৈরি করতে পারেন।

এতে চিন্তাগুলো গুছিয়ে নেওয়া এবং কোন বিষয়টি আগে সামলানো প্রয়োজন, তা বুঝতে সুবিধা হতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে অপেক্ষা করছেন এমন আনন্দের মুহূর্ত কিংবা জীবনের সুন্দর স্মৃতিগুলোও লিখে রাখতে পারেন।

১০. নিজের শরীর ও মনের যত্ন নিন
ভালো থাকার জন্য শুধু ইতিবাচক চিন্তা করাই যথেষ্ট নয়। শারীরিক সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের অভ্যাস একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত।

সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং প্রয়োজনমতো বিশ্রামের দিকে মনোযোগ দিন। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন এবং দীর্ঘদিন ধরে কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

একইভাবে নিজের মানসিক অবস্থাকেও গুরুত্ব দিন। দীর্ঘস্থায়ী মন খারাপ, উদ্বেগ কিংবা দৈনন্দিন কাজ সামলাতে অসুবিধা হলে বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলুন এবং প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিন। সব সমস্যার সমাধান একা করতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

ভালো থাকার শুরু ছোট অভ্যাস থেকেই
সুখী থাকার জন্য জীবনে সবকিছু নিখুঁত হতে হবে, এমন নয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট মুহূর্ত উপভোগ করা, নিজের শরীর ও মনের প্রয়োজন বোঝা এবং প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার মধ্য দিয়েও ভালো থাকার পথ তৈরি হতে পারে।

একসঙ্গে সব অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা না করে প্রথমে নিজের পছন্দমতো দু-একটি অভ্যাস বেছে নিন। ধীরে ধীরে সেগুলো দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলুন। মনে রাখবেন, অন্যের কাছে সুখের যে সংজ্ঞা, আপনার কাছে তা একই রকম না-ও হতে পারে। তাই নিজের প্রয়োজন বুঝে নিজের মতো করে ভালো থাকার চেষ্টা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এএএন/এসএ